বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০২:৫৬ পি.এম
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ এবং সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আবারো অস্ট্রেলিয়ার একটি পুরোনো টাংস্টেন খনি আলোচনাতে এসেছে। বড় যুদ্ধের সময় বারবার চালু হওয়া কিং আইল্যান্ডের ডলফিন খনিতে এবারে পুনরায় উৎপাদন শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধাস্ত্র তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ এই ধাতুর চাহিদা বৃদ্ধির মধ্যে খনিটির ওপর নতুন করে বিনিয়োগ শুরু হয়েছে।
ডলফিন খনিতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টাংস্টেনের মজুত। অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তাপসহনশীল টাংস্টেন মূলত শক্তিশালী বর্মভেদী গোলাবারুদ এবং সামরিক যানবাহনের বর্ম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়, ১৯১৭ সালে ডলফিন খনির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। যুদ্ধের প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ তৈরিতে টাংস্টেন সরবরাহ করাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে যুদ্ধ শেষে চাহিদা কমে যাওয়ায় ১৯২০ সালে খনিটি বন্ধ হয়ে যায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হলে ১৯৩৮ সালে খনিটির কার্যক্রম আবার শুরু হয়। এরপর কোরীয় যুদ্ধ এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ও খনিটি চালু ও বন্ধ হয়েছে। স্নায়ুযুদ্ধের সময় অস্ত্র উৎপাদন বেড়ে যাওয়ার কারণে কিছু সময়ের জন্য এটি সচল ছিল। তবে, ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর আবার বন্ধ হয়ে যায় খনিটি।
প্রায় তিন দশক ধরে খনিটির খোলা অংশ পানিতে ডুবে ছিল। পরে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে এটি পুনরায় চালুর কাজ শুরু হয়। এর কয়েক সপ্তাহ পরই রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে।
এখন ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে টাংস্টেনের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ডলফিন খনিতে উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে খনিটির ভূগর্ভস্থ অংশ থেকে প্রথম দফায় টাংস্টেন আকরিক উত্তোলন ও সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
টাংস্টেনের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে যে প্রতিযোগিতা চলছে, তার সাথে এই উদ্যোগের যোগসূত্র রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি টাংস্টেন উৎপাদন করে চীন। ফলে বেইজিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ধাতুর বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ তৎপর হয়েছে।
চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে এবং তাইওয়ানকে নিজেদের সঙ্গে একীভূত করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ধাতুর সরবরাহ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রও তৎপর হয়েছে। সম্প্রতি কাজাখস্তানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অনাবিষ্কৃত টাংস্টেন মজুত উত্তোলনের জন্য ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করেছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও টাংস্টেন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইরানের সঙ্গে কয়েক মাসের যুদ্ধের পর এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই এমন ঘাটতির কথা অস্বীকার করেছে। একইসাথে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফলে সামরিক অস্ত্রের পাশাপাশি যুদ্ধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাতু উৎপাদন এবং খনি শিল্পেও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজেদের ভোট দিয়েছেন।
সর্বপ্রথম ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, এরপর ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল।
এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টায় শুরু হওয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যার মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ১৯ বারের মতো পিছানোর ঘটনা ঘটেছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ আদালত নির্ধারণ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) তদন্ত সংস্থা পুলিশি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল করতে না পেরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন তারিখটি নির্ধারণ করেন। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র ডিবি পুলিশ জমা দেয়। তবে ইনকিলাব মঞ্চ ওই অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয়।
গত ১২ জানুয়ারি মামলাটির শুনানির দিন নির্ধারিত ছিল। ওই দিন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিনের সময় চান। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেন।
সেদিন ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের। পরবর্তীকালে আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দিয়ে দেন।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গেলে তার উপর হামলা হয়। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসবাসকারী এক আততায়ী গুলি করে।
গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর ওই রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরের দুই দিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। পরে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। এরপর থানা-পুলিশের হাত ঘুরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব হয় ডিবির।
তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলো—প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭), হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে বোঝা গেছে, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে’ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘বাধাগ্রস্ত করতে’ এবং ভোটারদের মধ্যে ‘ভয়ভীতি তৈরি করতেই’ আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়ির ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে মামলা করার আবেদনটি আমলে না নিয়ে খারিজের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা বাদী তামান্না চৌধুরী প্রিয়াঙ্কার জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশটি অপেক্ষমাণ রাখেন।
দুপুর আড়াইটার দিকে আদালত মামলা খারিজের আদেশ দেন। সহকারী বেঞ্চ আবু শাহীন খারিজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলায় ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা ৩-৫ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় অন্তর্ভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ড. রেজওয়ানা হাসান, সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলম, সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী, সাবেক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মাহফুজ আলম, শিক্ষার্থী সমন্বয়ক আক্তার হোসেন, সংসদ সদস্য মো. হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল হান্নান মাসুদ, সারজিস আলম, সামান্তা শারমিন, নুসরাত তাবাসসুম, ডা. তাসনিম জারা, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, আরিফুল ইসলাম আদিব, সালেহ উদ্দিন সিফাত, ইউটিউবার পিনাকী ভট্টাচার্য, ইলিয়াস হোসাইন, কনক সারোয়ার, কর্নেল (অব.) নুরনবী, তাহরিমা জান্নাত সুরভী, বুলডোজার জোগানদাতা মো. মিলন, ফাহিম আল চৌধুরী ও আবুল কালাম আজাদ।
মামলায় অভিযোগ রয়েছে যে, আসামিরা গত বছরের ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখ পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে বেআইনি উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কোনো উসকানি ছাড়া ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ভবনের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর ১ থেকে ৯ নম্বর আসামিদের উসকানি, দায়িত্বহীনতা ও মূল নির্দেশনায় বুলডোজার ব্যবহার করে ভবনে ভাঙচুর চালানো হয়। এর ফলে রাষ্ট্র ও স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল্যবান দলিলপত্র এবং সংগৃহীত স্মৃতিচিহ্নসহ বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে চিরতরে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
বাদীপক্ষ দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ৩৭৯, ৩৮০, ৩৯৫, ৪২৭, ৪৩৫, ৪৩৮, ৪৪৮, ৪২০, ৫০৬ ও ৫০৭ ধারাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩/৪ ধারা এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) প্রধান এবং প্রায় ১০০টি দেশের নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরা বুধবার আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আয়ার্সে মাদক পাচার মোকাবেলার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ল্যাটিন আমেরিকার একাধিক যুক্তরাষ্ট্রপন্থী সরকারের মধ্যে আর্জেন্টিনা অন্যতম, যারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ মাদকচক্রবিরোধী জোটে যুক্ত হয়েছে। পত্রিকা এএফপি এই বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে।
ডিইএ’র পরিচালক টেরেন্স কোলের সঙ্গে বৈঠকের সহ-আযোজক নিরাপত্তামন্ত্রী আলেহান্দ্রা মনতেওলিভা এক্সে বলেছেন, ‘মাদকচক্রের সঙ্গে আলোচনা করা যায় না। দৃঢ়তা, সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর এমন কঠোর নীতির মাধ্যমে তাদের মোকাবিলা করতে হবে।’
আর্জেন্টিনায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার লামেলাস সম্মেলনে উল্লেখ করেছেন, ওয়াশিংটন ‘মাদকচক্র, অপরাধী নেটওয়ার্ক এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা এবং গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করছে।’ এসময় তিনি স্প্যানিশ ভাষায় বলেন, ‘কোনো দেশই এর ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। আর কোনো দেশ একা এই লড়াই করতে পারে না।’
১৯৮৩ সালে ডিইএ’র উদ্যোগে শুরু হওয়া বার্ষিক আন্তর্জাতিক মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্মেলন এবারই প্রথম আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনে মেক্সিকোর আলোচিত নিরাপত্তামন্ত্রী ওমর গার্সিয়া হারফুচও উপস্থিত ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ক্লদিওয়া শেইনবাউমের সরকারের কার্যক্রমের ফলে শক্তিশালী মাদকচক্রগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক ডজন মাদকচক্রের শীর্ষ নেতাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টিও উত্থাপন করেন।
মাদক পাচার দমনে কঠোর অবস্থানের কারণে ‘ব্যাটম্যান’ নামে পরিচিত হারফুচ এক্সে উল্লেখ করেছেন, ‘সমন্বয়, দৃঢ়তা এবং প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধার সঙ্গে কাজ করলে কোনো অপরাধী সংগঠনই রাষ্ট্রগুলোর চেয়ে শক্তিশালী হতে পারে না।’ তিনি সার্বভৌমত্ব নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, এটি বামপন্থী শেইনবাউমের মাদকবিরোধী যুদ্ধে মার্কিন হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্কবার্তার প্রতিধ্বনি।
মেক্সিকো গত মাসে জানিয়েছে, ২০২৪ সালে মাদকসম্রাট ইসমায়েল ‘এল মায়ো’ সাম্বাদাকে গ্রেফতারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। তাঁকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নেয়া হয়েছিল। বর্তমানে তিনি সেখানকার কারাগারে রয়েছেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে ট্রাম্প বারবার অভিযোগ করেছেন, মাদকচক্রগুলো মেক্সিকোকে নিয়ন্ত্রণ করছে। শেইনবাউম মাদকচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সীমান্তের দক্ষিণে মার্কিন সেনা মোতায়েনের হুমকি দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ