প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ এবং সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আবারো অস্ট্রেলিয়ার একটি পুরোনো টাংস্টেন খনি আলোচনাতে এসেছে। বড় যুদ্ধের সময় বারবার চালু হওয়া কিং আইল্যান্ডের ডলফিন খনিতে এবারে পুনরায় উৎপাদন শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধাস্ত্র তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ এই ধাতুর চাহিদা বৃদ্ধির মধ্যে খনিটির ওপর নতুন করে বিনিয়োগ শুরু হয়েছে।
ডলফিন খনিতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টাংস্টেনের মজুত। অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তাপসহনশীল টাংস্টেন মূলত শক্তিশালী বর্মভেদী গোলাবারুদ এবং সামরিক যানবাহনের বর্ম তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়, ১৯১৭ সালে ডলফিন খনির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। যুদ্ধের প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ তৈরিতে টাংস্টেন সরবরাহ করাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে যুদ্ধ শেষে চাহিদা কমে যাওয়ায় ১৯২০ সালে খনিটি বন্ধ হয়ে যায়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হলে ১৯৩৮ সালে খনিটির কার্যক্রম আবার শুরু হয়। এরপর কোরীয় যুদ্ধ এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ও খনিটি চালু ও বন্ধ হয়েছে। স্নায়ুযুদ্ধের সময় অস্ত্র উৎপাদন বেড়ে যাওয়ার কারণে কিছু সময়ের জন্য এটি সচল ছিল। তবে, ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর আবার বন্ধ হয়ে যায় খনিটি।
প্রায় তিন দশক ধরে খনিটির খোলা অংশ পানিতে ডুবে ছিল। পরে ২০২২ সালের জানুয়ারিতে এটি পুনরায় চালুর কাজ শুরু হয়। এর কয়েক সপ্তাহ পরই রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে।
এখন ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে টাংস্টেনের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ডলফিন খনিতে উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে খনিটির ভূগর্ভস্থ অংশ থেকে প্রথম দফায় টাংস্টেন আকরিক উত্তোলন ও সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
টাংস্টেনের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে যে প্রতিযোগিতা চলছে, তার সাথে এই উদ্যোগের যোগসূত্র রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি টাংস্টেন উৎপাদন করে চীন। ফলে বেইজিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ধাতুর বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ তৎপর হয়েছে।
চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে এবং তাইওয়ানকে নিজেদের সঙ্গে একীভূত করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ধাতুর সরবরাহ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রও তৎপর হয়েছে। সম্প্রতি কাজাখস্তানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অনাবিষ্কৃত টাংস্টেন মজুত উত্তোলনের জন্য ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি করেছে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও টাংস্টেন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইরানের সঙ্গে কয়েক মাসের যুদ্ধের পর এসব ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরই এমন ঘাটতির কথা অস্বীকার করেছে। একইসাথে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফলে সামরিক অস্ত্রের পাশাপাশি যুদ্ধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাতু উৎপাদন এবং খনি শিল্পেও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন