মাইদুল ইসলাম মামুন নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
১১:০২ এম
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় বালুভর্তি ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে হাসানুর (৭) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে এক লাখ টাকায় সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে। শিশুর মৃত্যুর পর অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার খবরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ঝাঁকুয়াবাড়ি গ্রামের পাকা রাস্তার মাথায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হাসানুর ওই গ্রামের আনিসুর রহমান ও হাসনা বেগমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালুভর্তি একটি ট্রাক্টরের চাকা শিশুটির শরীরের ওপর দিয়ে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাক্টরটির মালিক ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পণ্ডিতপাড়া গ্রামের ফুলবর মিয়া বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে, সাত বছরের শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় পরিবারের সঙ্গে এক লাখ টাকায় সমঝোতার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তাঁদের প্রশ্ন, একটি শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় এভাবে অর্থের বিনিময়ে সমঝোতা কতটা গ্রহণযোগ্য?
সমঝোতার বিষয়ে নিহত শিশুর ফুফা হাছিমুদ্দির সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বসে এক লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফি বলেন,আমি বিষয়টি জেনেছি। পরে স্থানীয় লোকজন এক লাখ টাকায় সমাধান করেছেন।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনার বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক প্রধান জানান, ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতো।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশুটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেও থানায় মামলা বা অভিযোগ না করেই তড়িঘড়ি করে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
হাসানুরের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজনসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় বালুভর্তি ট্রাক্টরের বেপরোয়া ও দ্রুতগতিতে চলাচল বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক বিএনপি নেতা, দীর্ঘ ১৭ বছর একটি মামলা আসামি না, অসুস্থার কথা বলে বেশি ভাগ সময় দেশের বাইরে অবস্থা করা আনিসুল ইসলাম সানি নারায়ণগঞ্জ রেড ক্রিসেন্টের নিবার্চনে ভোট দিতে এসে। নিবার্চনের প্রধান নিবার্চন কমিশন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি আহবায়ক ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের আন্দোলনের প্রথম সারির অন্যতম সহযোদ্ধা নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহামুদকে ব্যর্থ বলে মিডিয়ার সামনে হঠকারী বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।।।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট নগরের অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশদ্বার দক্ষিণ সুরমার চন্ডীপুল সিএনজি স্টেশনে সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও নৈরাজ্যের অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ যাত্রীরা।
যাত্রীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চন্ডীপুল থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত নির্ধারিত অটোরিকশা ভাড়া ৩০ টাকা। কিন্তু বর্তমানে যানজট ও নানাবিধ অজুহাত দেখিয়ে চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ৪০ টাকা করে আদায় করছেন। একই ভাবে চন্ডীপুল থেকে বন্দরবাজার এলাকার নিয়মিত ভাড়া ২৫ টাকা হলেও সেখানে ৩০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিদিন এই রুট গুলোতে যাতায়াতকারী হাজারো যাত্রী, বিশেষ করে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে হাসপাতালে আসা অসুস্থ রোগী ও তাদের স্বজনরা এই অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কোনো যাত্রী নির্ধারিত ভাড়া দিতে চাইলে চালকরা তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করছেন এবং গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো ধরনের প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই চালকরা সিন্ডিকেট করে নিজেদের ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। এ বিষয়ে কোনো প্রতিবাদ করলে অটোরিকশা চালকদের তোপের মুখে পড়তে হয় সাধারণ মানুষ।
এই পরিস্থিতি নিরসনে এবং সিএনজি চালকদের অহেতুক ভাড়া বাড়ানো ও অনিয়ম বন্ধে অতি দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সিলেট দক্ষিণ সুরমা থানার দায়িত্বরত প্রশাসন ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন সাধারণ যাত্রীরা। দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ পুলিশি তদারকি বাড়ানো না হলে এ ভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুইজারল্যান্ডের আর্গাউ ক্যান্টনের স্টাইন এলাকার রাইন নদীর তীর থেকে পুলিশ একটি ব্যক্তির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী একজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি নিহতের সঙ্গে একই কক্ষে বসবাস করতেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি বুরুন্ডির নাগরিক। ২৪ অক্টোবর তার নিখোঁজ হওয়ার খবর পরিচিতজনেরা পুলিশকে জানান। এরপর ২৫ অক্টোবর রাইন নদীর তীর থেকে লাশের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলটি তাদের বসবাসের আশ্রয়কেন্দ্রের নিকটবর্তী।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেহের বিভিন্ন অংশ কেটে আলাদা করা হয়েছিল। সেগুলো আবর্জনার ব্যাগে ভরে রাইন নদীতে এবং নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। ফরেনসিক মেডিসিন ইনস্টিটিউট পরে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
আর্গাউ ক্যান্টন পুলিশ এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করে। আশ্রয়কেন্দ্রের কিছু বাসিন্দার আচরণ তদন্তকারীদের সন্দেহের জন্ম দেয়। বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় আশ্রয়কেন্দ্র এবং লাশ উদ্ধারের আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়।
তদন্তে পাওয়া আলামতের ভিত্তিতে ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে সন্দেহ জোরালো হয়। তিনি নিহতের সঙ্গে একই কক্ষে বসবাস করতেন। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
রাইনফেলডেন-লাউফেনবুর্গ জেলা অ্যাটর্নি কার্যালয় এই ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক রাখার আবেদনও করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা, সময়ক্রম এবং উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। এ ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কোনো উদ্দেশ্য জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সন্দেহভাজন ব্যক্তির মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যার কিছু লক্ষণ দেখা গেছে। তবে এসব সমস্যার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন।
আইনের দৃষ্টিতে আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা হবে।
সূত্র: ব্লু নিউজ
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাজারভিত্তিক সুদহার চালুর পর কিছু ব্যাংকে আমানতের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ঋণ ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা তেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এর ফলে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের অভাব থাকায় ব্যাংকগুলো প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে অর্থ বিনিয়োগ করছে। তারা সহজ পন্থা হিসেবে সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ড, কলমানি এবং অন্যান্য ব্যাংকে আমানত হিসেবে অর্থ রাখছে। কিন্তু তাতেও বড় অঙ্কের উদ্বৃত্ত অর্থ রয়ে যাচ্ছে। যা ব্যাংকগুলোকে সমস্যায় ফেলছে। ফলে এসব ব্যাংক নতুন আমানত সংগ্রহে নিরুৎসাহিত করছে এবং সুদহার ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
অতিমাত্রায় তারল্য থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক সবচেয়ে বেশি উদ্বৃত্ত তারল্য নিয়ে রয়েছে। এই ব্যাংকের উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ৮৮ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে পূবালী ব্যাংক, যার উদ্বৃত্ত তারল্য ৩২ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থানে ব্র্যাক ব্যাংক রয়েছে, যার অতিরিক্ত তারল্য ২৯ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। চতুর্থ স্থানে অগ্রণী ব্যাংক, যার উদ্বৃত্ত তারল্য ২৯ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। আর শীর্ষ পাঁচে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, যার অতিরিক্ত তারল্য ২৮ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা।
এছাড়া সিটি ব্যাংকের ২৩ হাজার ৯৮৪ কোটি, ব্যাংক এশিয়ার ২৩ হাজার ৫১৮ কোটি, যমুনা ব্যাংকের ২২ হাজার ৪৬৯ কোটি, ইস্টার্ন ব্যাংকের ১৭ হাজার ৫৪৪ কোটি এবং প্রাইম ব্যাংকের ১৬ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে।
গত আগস্ট শেষে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এই ১০ ব্যাংকের কাছে ৩ লাখ ১২ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা ছিল।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঋণ ও আমানতের সুদহার নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখা হয়েছিল। সরকার পতনের পর সেই সীমা তুলে দিয়ে সুদহার বাজারভিত্তিক করা হয়। ফলে দুর্বল ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহ করলেও ভালো ব্যাংকগুলো তুলনামূলক কম সুদে আমানত পাচ্ছে। কারণ, আমানতকারীরা বেশি সুদের চেয়ে টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে ভালো ব্যাংকগুলোয় আমানত বাড়লেও তারা সেই অর্থ বিনিয়োগ করতে পারছে না। মূলত গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা কারণে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এর ফলে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত তারল্য রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন মন্তব্য করেন, ‘উদ্বৃত্ত তারল্যের সবটাই ট্রেজারি বিল বা বন্ড, অন্য ব্যাংকের চালু করা বন্ড, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রি-ফাইন্যান্স প্যাকেজ এবং অন্য ভালো ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিটে প্লেসমেন্টের মতো খাতে লাভজনকভাবে ও নিরাপদে বিনিয়োগ করা আছে। যেহেতু এসব বিনিয়োগ লাভজনক, তাই আমানতকারীদের সুদ পরিশোধে কোনো বাড়তি চাপ নেই। থাকার প্রশ্নও আসে না। আর এগুলো সব ভালো ব্যাংক। প্রত্যেকটির ব্যালান্সশিট বেশ ভালোভাবে ভারসাম্যপূর্ণ।’
অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য ঋণ হিসেবে বিতরণ না হলেও অলস পড়ে নেই। এসব অর্থের একটি বড় অংশ বিভিন্ন সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো সতর্কতার সঙ্গে ঋণ বিতরণ করছে। অতীতে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ বিতরণের কারণে বর্তমানে খেলাপি ঋণের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আশা করা যায়, আগামী বছর থেকে ব্যাংকগুলো নতুন করে বিনিয়োগে ফিরবে।
তবে তারল্য নিয়ে সব ব্যাংকের পরিস্থিতি এক নয়। অনেক ব্যাংক প্রয়োজনীয় তারল্য রাখতে পারছে না। তথ্যানুযায়ী, গত আগস্ট শেষে ন্যাশনাল ব্যাংকের তারল্য ঘাটতি ৪ হাজার ২২৭ কোটি টাকা এবং এবি ব্যাংকের ৩ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এক হাজার ৮৮ কোটি, ইউনিয়ন ৭৬৭ কোটি, পদ্মা ৬০০ কোটি, প্রিমিয়ার ব্যাংক ৬২৫ কোটি, বাংলাদেশ কমার্স ৫২৫ কোটি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ৩১৯ কোটি, গ্লোবাল ৩৮৭ কোটি এবং আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ৩৮ কোটি টাকার তারল্য ঘাটতিতে রয়েছে।
আমানতের সুদহার কমাচ্ছে ব্যাংকগুলো
অতিরিক্ত তারল্যের চাপে শীর্ষ পর্যায়ের ব্যাংকগুলো গত দুই মাসে দুই দফায় আমানতের সুদহার কমিয়েছে। একাধিক ব্যাংক তাদের মেয়াদি আমানতের সুদহার ৫০ থেকে ১০০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত কমিয়েছে। গত জুলাইয়ে এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার যেখানে ৯ থেকে ১০.১৫ শতাংশ ছিল, আগস্টে তা কমে সাড়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশে নেমে আসে। সম্প্রতি তা আরো কমে সাড়ে ৭ থেকে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে পূবালী ব্যাংকের এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার ছিল ৮.৩৪ শতাংশ। এর চেয়ে বেশি মেয়াদের আমানতে সুদহার ছিল ৮.৪৪ শতাংশ। আগস্টে তা কমে যথাক্রমে ৮.২১ শতাংশ ও ৮.৪১ শতাংশ হয়।
ব্র্যাক ব্যাংকের এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার জুলাইয়ে ছিল ৮.৩৫ শতাংশ এবং এর চেয়ে বেশি মেয়াদের আমানতে ছিল ৯.২৬ শতাংশ। পরে তা কমে যথাক্রমে ৮.১৭ শতাংশ ও ৯.১৮ শতাংশ হয়। ব্যাংক এশিয়ার এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার জুলাইয়ে ছিল ৯.৪২ শতাংশ, আগস্টে তা কমে ৮.৯৮ শতাংশ হয়। যমুনা ব্যাংকের এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার জুলাইয়ে ৯.৬৩ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে ৯.৫৯ শতাংশ হয়। এর চেয়ে বেশি মেয়াদের আমানতের সুদহার ৯.২৬ শতাংশ থেকে কমে ৯.২০ শতাংশ হয়েছে।
ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা জানান, ‘আমানত সংগ্রহ এখন অনেক ব্যাংকের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমানতের সুদ ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলে ব্যাংকের তেমন লাভ থাকছে না। কারণ, বিনিয়োগের উপযুক্ত ক্ষেত্র পাওয়া যাচ্ছে না। আবার আমানতকারীরা টাকা রাখতে এলে তাদের ফিরিয়েও দেওয়া যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত তারল্য থাকা ব্যাংকগুলো আমানতের সুদহার কমাতে শুরু করেছে।’
ঋণ বিতরণে মন্দায় জমছে উদ্বৃত্ত তারল্য।
টানা ছয় মাসের বেশি সময় ধরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতার চিত্র ফুটে উঠেছে। ঋণ নেওয়ার মতো নির্ভরযোগ্য ও ভালো গ্রাহক না পাওয়ায় ব্যাংকগুলোর হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ জমে থাকছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪.৭৫ শতাংশে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক বরকত-এ-খোদা মন্তব্য করেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে তারল্য নিয়ে এক ধরনের বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। একদিকে কিছু দুর্বল ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক তীব্র তারল্যসংকটে ভুগছে, অন্যদিকে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণ অর্থ অলস পড়ে রয়েছে। ব্যাংকগুলো আমানতের বিপরীতে উচ্চ সুদ পরিশোধ করলেও সেই অর্থ বিনিয়োগের উপযুক্ত ক্ষেত্র পাচ্ছে না। বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কম থাকায় ব্যাংকের হাতে থাকা অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হচ্ছে না। এতে একদিকে ব্যাংকের আমানত ব্যবস্থাপনার ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত তারল্য থেকে কাঙ্ক্ষিত আয় করতে পারছে না ব্যাংকগুলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ