ঢাকা রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০১ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৬ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

অতিরিক্ত তারল্যের চাপে ১০ ব্যাংকে বিনিয়োগে স্থবিরতা


অতিরিক্ত তারল্যের চাপে ১০ ব্যাংকে বিনিয়োগে স্থবিরতা

বাজারভিত্তিক সুদহার চালুর পর কিছু ব্যাংকে আমানতের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ঋণ ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা তেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এর ফলে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের অভাব থাকায় ব্যাংকগুলো প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে অর্থ বিনিয়োগ করছে। তারা সহজ পন্থা হিসেবে সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ড, কলমানি এবং অন্যান্য ব্যাংকে আমানত হিসেবে অর্থ রাখছে। কিন্তু তাতেও বড় অঙ্কের উদ্বৃত্ত অর্থ রয়ে যাচ্ছে। যা ব্যাংকগুলোকে সমস্যায় ফেলছে। ফলে এসব ব্যাংক নতুন আমানত সংগ্রহে নিরুৎসাহিত করছে এবং সুদহার ব্যাপকভাবে কমিয়ে দিয়েছে।

অতিমাত্রায় তারল্য থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক সবচেয়ে বেশি উদ্বৃত্ত তারল্য নিয়ে রয়েছে। এই ব্যাংকের উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ৮৮ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে পূবালী ব্যাংক, যার উদ্বৃত্ত তারল্য ৩২ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থানে ব্র্যাক ব্যাংক রয়েছে, যার অতিরিক্ত তারল্য ২৯ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। চতুর্থ স্থানে অগ্রণী ব্যাংক, যার উদ্বৃত্ত তারল্য ২৯ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। আর শীর্ষ পাঁচে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, যার অতিরিক্ত তারল্য ২৮ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা।

এছাড়া সিটি ব্যাংকের ২৩ হাজার ৯৮৪ কোটি, ব্যাংক এশিয়ার ২৩ হাজার ৫১৮ কোটি, যমুনা ব্যাংকের ২২ হাজার ৪৬৯ কোটি, ইস্টার্ন ব্যাংকের ১৭ হাজার ৫৪৪ কোটি এবং প্রাইম ব্যাংকের ১৬ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলা কিউআরে নতুন ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা যুক্ত

গত আগস্ট শেষে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এই ১০ ব্যাংকের কাছে ৩ লাখ ১২ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা ছিল।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঋণ ও আমানতের সুদহার নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখা হয়েছিল। সরকার পতনের পর সেই সীমা তুলে দিয়ে সুদহার বাজারভিত্তিক করা হয়। ফলে দুর্বল ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহ করলেও ভালো ব্যাংকগুলো তুলনামূলক কম সুদে আমানত পাচ্ছে। কারণ, আমানতকারীরা বেশি সুদের চেয়ে টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে ভালো ব্যাংকগুলোয় আমানত বাড়লেও তারা সেই অর্থ বিনিয়োগ করতে পারছে না। মূলত গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা কারণে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এর ফলে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত তারল্য রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন মন্তব্য করেন, ‘উদ্বৃত্ত তারল্যের সবটাই ট্রেজারি বিল বা বন্ড, অন্য ব্যাংকের চালু করা বন্ড, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রি-ফাইন্যান্স প্যাকেজ এবং অন্য ভালো ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিটে প্লেসমেন্টের মতো খাতে লাভজনকভাবে ও নিরাপদে বিনিয়োগ করা আছে। যেহেতু এসব বিনিয়োগ লাভজনক, তাই আমানতকারীদের সুদ পরিশোধে কোনো বাড়তি চাপ নেই। থাকার প্রশ্নও আসে না। আর এগুলো সব ভালো ব্যাংক। প্রত্যেকটির ব্যালান্সশিট বেশ ভালোভাবে ভারসাম্যপূর্ণ।’

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য ঋণ হিসেবে বিতরণ না হলেও অলস পড়ে নেই। এসব অর্থের একটি বড় অংশ বিভিন্ন সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো সতর্কতার সঙ্গে ঋণ বিতরণ করছে। অতীতে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ঋণ বিতরণের কারণে বর্তমানে খেলাপি ঋণের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আশা করা যায়, আগামী বছর থেকে ব্যাংকগুলো নতুন করে বিনিয়োগে ফিরবে।

আরও পড়ুন: চলতি অর্থবছরে আগের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে

তবে তারল্য নিয়ে সব ব্যাংকের পরিস্থিতি এক নয়। অনেক ব্যাংক প্রয়োজনীয় তারল্য রাখতে পারছে না। তথ্যানুযায়ী, গত আগস্ট শেষে ন্যাশনাল ব্যাংকের তারল্য ঘাটতি ৪ হাজার ২২৭ কোটি টাকা এবং এবি ব্যাংকের ৩ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এক হাজার ৮৮ কোটি, ইউনিয়ন ৭৬৭ কোটি, পদ্মা ৬০০ কোটি, প্রিমিয়ার ব্যাংক ৬২৫ কোটি, বাংলাদেশ কমার্স ৫২৫ কোটি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ৩১৯ কোটি, গ্লোবাল ৩৮৭ কোটি এবং আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক ৩৮ কোটি টাকার তারল্য ঘাটতিতে রয়েছে।

আমানতের সুদহার কমাচ্ছে ব্যাংকগুলো

অতিরিক্ত তারল্যের চাপে শীর্ষ পর্যায়ের ব্যাংকগুলো গত দুই মাসে দুই দফায় আমানতের সুদহার কমিয়েছে। একাধিক ব্যাংক তাদের মেয়াদি আমানতের সুদহার ৫০ থেকে ১০০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত কমিয়েছে। গত জুলাইয়ে এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার যেখানে ৯ থেকে ১০.১৫ শতাংশ ছিল, আগস্টে তা কমে সাড়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশে নেমে আসে। সম্প্রতি তা আরো কমে সাড়ে ৭ থেকে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে পূবালী ব্যাংকের এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার ছিল ৮.৩৪ শতাংশ। এর চেয়ে বেশি মেয়াদের আমানতে সুদহার ছিল ৮.৪৪ শতাংশ। আগস্টে তা কমে যথাক্রমে ৮.২১ শতাংশ ও ৮.৪১ শতাংশ হয়।

আরও পড়ুন: চামড়া শিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনআরবিসি ব্যাংকের চুক্তি

ব্র্যাক ব্যাংকের এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার জুলাইয়ে ছিল ৮.৩৫ শতাংশ এবং এর চেয়ে বেশি মেয়াদের আমানতে ছিল ৯.২৬ শতাংশ। পরে তা কমে যথাক্রমে ৮.১৭ শতাংশ ও ৯.১৮ শতাংশ হয়। ব্যাংক এশিয়ার এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার জুলাইয়ে ছিল ৯.৪২ শতাংশ, আগস্টে তা কমে ৮.৯৮ শতাংশ হয়। যমুনা ব্যাংকের এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার জুলাইয়ে ৯.৬৩ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে ৯.৫৯ শতাংশ হয়। এর চেয়ে বেশি মেয়াদের আমানতের সুদহার ৯.২৬ শতাংশ থেকে কমে ৯.২০ শতাংশ হয়েছে।

ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা জানান, ‘আমানত সংগ্রহ এখন অনেক ব্যাংকের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমানতের সুদ ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলে ব্যাংকের তেমন লাভ থাকছে না। কারণ, বিনিয়োগের উপযুক্ত ক্ষেত্র পাওয়া যাচ্ছে না। আবার আমানতকারীরা টাকা রাখতে এলে তাদের ফিরিয়েও দেওয়া যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত তারল্য থাকা ব্যাংকগুলো আমানতের সুদহার কমাতে শুরু করেছে।’

ঋণ বিতরণে মন্দায় জমছে উদ্বৃত্ত তারল্য।

টানা ছয় মাসের বেশি সময় ধরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতার চিত্র ফুটে উঠেছে। ঋণ নেওয়ার মতো নির্ভরযোগ্য ও ভালো গ্রাহক না পাওয়ায় ব্যাংকগুলোর হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ জমে থাকছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪.৭৫ শতাংশে।

আরও পড়ুন: অক্টোবরেও অব্যাহত রেমিট্যান্সের সুবাতাস, প্রবাসীরা পাঠালেন ২৮৭ কোটি ৩৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক বরকত-এ-খোদা মন্তব্য করেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে তারল্য নিয়ে এক ধরনের বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। একদিকে কিছু দুর্বল ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক তীব্র তারল্যসংকটে ভুগছে, অন্যদিকে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণ অর্থ অলস পড়ে রয়েছে। ব্যাংকগুলো আমানতের বিপরীতে উচ্চ সুদ পরিশোধ করলেও সেই অর্থ বিনিয়োগের উপযুক্ত ক্ষেত্র পাচ্ছে না। বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কম থাকায় ব্যাংকের হাতে থাকা অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার হচ্ছে না। এতে একদিকে ব্যাংকের আমানত ব্যবস্থাপনার ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত তারল্য থেকে কাঙ্ক্ষিত আয় করতে পারছে না ব্যাংকগুলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কেন লড়ছেন আল-সাইয়েদসহ ট্রাম্পবিরোধী চিকিৎসকেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৬ এম


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কেন লড়ছেন আল-সাইয়েদসহ ট্রাম্পবিরোধী চিকিৎসকেরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের আসনের জন্য চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি নতুন দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এ দলের অধিকাংশ সদস্য ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি এবং স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে মানুষের অসন্তোষকে কাজে লাগাতে চাইছেন তারা।

ক্যালিফোর্নিয়ার শিশু চিকিৎসক রিচার্ড প্যানের নির্বাচনি প্রচারের ওয়েবসাইটের প্রথম পাতায় বড় করে লেখা রয়েছে তিনটি শব্দ—‘জনস্বাস্থ্যের নায়ক’। মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের আসন পেতে প্যানের মতো আরও অনেক জনস্বাস্থ্য পেশাজীবী লড়াই করছেন।

আমেরিকান কলেজ অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির এক হিসাব অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২৫ জন চিকিৎসক কংগ্রেসের সদস্য নির্বাচিত হতে পারেন। যদি এমনটি ঘটে, তাহলে কংগ্রেসে চিকিৎসক আইনপ্রণেতাদের একটি নতুন প্রজন্মের আবির্ভাব ঘটবে। তবে বর্তমানে কংগ্রেসে থাকা চিকিৎসক আইনপ্রণেতাদের মধ্যে অনেকেই রিপাবলিকান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রার্থী হওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এবারের সবচেয়ে আলোচিত কয়েকটি আসনেও লড়ছেন চিকিৎসকেরা। মিশিগানের শূন্য হয়ে যাওয়া সিনেট আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করছেন চিকিৎসক ও সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুল আল-সাইয়েদ। অন্যদিকে, দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় শিশু চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজের প্রার্থিতার কারণে রিপাবলিকানদের জন্য সাধারণত নিরাপদ বলে বিবেচিত একটি সিনেট আসনও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন অধিকারকর্মী সংগঠনের মতে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তাদের অসন্তোষ।

তাদের মতে, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিজ্ঞানবিরোধী বলে বিবেচিত নীতির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা।

মহামারি বিশেষজ্ঞ এরিক ফেইগল-ডিং বলেন, বিজ্ঞানীরা নিজেরাও এখন সচেতন হয়ে উঠেছেন। ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার ঠেকাতে তারা আর জনপরিসর ছেড়ে দিতে চান না। তিনি ‘ভ্যাক্স পিএসি’ নামের একটি রাজনৈতিক অধিকারকর্মী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। সংগঠনটি দায়িত্বশীল টিকানীতির পক্ষে থাকা প্রার্থীদের সমর্থন দেয়।

ফেইগল-ডিংয়ের মতে, চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য পেশাজীবীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ কোনো দলীয় অবস্থান নেওয়ার বিষয় নয়। বরং এর মাধ্যমে তারা দায়িত্বশীল স্বাস্থ্যনীতির পক্ষে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য খাত রাজনীতির নোংরা জায়গায় নেমে হাতা গুটিয়ে কাজ করছে না। বরং আমরা রাজনীতির প্রভাব থেকে নিজেদের সুরক্ষিত করছি।’

স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক বিভাজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত বিষয়গুলো বরাবরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে স্বাস্থ্যসেবাও তাদের বড় উদ্বেগের একটি। গত ৮ অক্টোবর পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন ভোটারদের কাছে নির্বাচনের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু স্বাস্থ্যসেবা। এর আগে রয়েছে অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ।

ডেমোক্র্যাট ভোটারদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জরিপে তাদের ৮২ শতাংশ বলেছেন, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ হার ৫৩ শতাংশ।

বস্টন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব পাবলিক হেলথের নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ম্যাট মোত্তার মতে, স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে রাজনীতি নতুন নয়। তবে সময়ের সঙ্গে এর ধরন বদলেছে। আগে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকলেও তা সব সময় দলীয় বিভাজনে রূপ নিত না। এখন বিষয়টি আগের চেয়ে অনেক বেশি বিভক্তিমূলক হয়ে উঠেছে।

আলজাজিরাকে মোত্তা বলেন, ‘স্বাস্থ্য সব সময়ই রাজনৈতিক বিষয় ছিল। কিন্তু সব সময় তা দলীয় বিভাজনের বিষয় ছিল না। এখন আমাদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ভাবনাও ক্রমেই দলীয় পরিচয় অনুযায়ী বিভক্ত হয়ে পড়ছে।’

স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে এই বিভাজনের শুরুর দিকের একটি উদাহরণ ১৯৯৪ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন। ওই নির্বাচনের আগের বছর ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের প্রশাসন স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের জন্য কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু রিপাবলিকান নেতা নিউট গিংরিচসহ দলের অন্য নেতারা ওই উদ্যোগকে ‘সমাজতন্ত্র’ হিসেবে তুলে ধরেন। ওই বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পায় রিপাবলিকানরা। নির্বাচনটি ‘রিপাবলিকান বিপ্লব’ নামে পরিচিতি পায়।

২০১০ সালে ডেমোক্র্যাট নেতা বারাক ওবামার প্রেসিডেন্সির সময় সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইন (এসিএ) পাস হওয়াও এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এরপর থেকে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর অনুষ্ঠিত প্রায় প্রতিটি মধ্যবর্তী নির্বাচনেই স্বাস্থ্যসেবা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন মোত্তা।

২০১০ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা সদ্য পাস হওয়া সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনের বিরোধিতা করে প্রচার চালান। ২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ডেমোক্র্যাটরা তার ওই আইন বাতিল বা সংশোধনের উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রচার চালান। আর ২০২২ সালের নির্বাচনে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় নেওয়া বিধিনিষেধকে পুঁজি করে রিপাবলিকানরা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সমালোচনা করেন।

ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন’ কর্মসূচির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া?

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প নিজেই সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইপসোসের অক্টোবরের শেষ দিকের এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার কমে ৩১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটি তার প্রেসিডেন্সির সর্বনিম্ন।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে সন্দিহান ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প। কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকেই চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য গবেষকদের ওপর মানুষের আস্থা কমছিল। এই প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে টিকাবিরোধী মনোভাবের জন্য পরিচিত রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রকে নিজের নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত করেন ট্রাম্প।

কেনেডি ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন’ বা ‘আমেরিকাকে আবার সুস্থ করে তুলি’ স্লোগানে সমর্থকদের সংগঠিত করেন। এটি ছিল ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানের আদলে তৈরি। নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরলে কেনেডিকে স্বাস্থ্য খাতে ‘যা খুশি করার’ সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পুনর্নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পরই তিনি কেনেডিকে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের মন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেন।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে কেনেডি কেন্দ্রীয় সরকারের টিকাদানসংক্রান্ত নির্দেশনা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি বৈজ্ঞানিক ঐকমত্যের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন। এ ছাড়া রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের (এনআইএইচ) মতো সংস্থার বাজেট কমানোর পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে গত বছর ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’ আইন পাসে রিপাবলিকানদের একজোট করেন ট্রাম্প। এর ফলে স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় কমানো হয়েছে। ওই আইনের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যবিমায় ভর্তুকির মেয়াদও শেষ হতে দেয় রিপাবলিকানরা। এতে লাখ লাখ মার্কিন নাগরিকের স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম বা কিস্তির খরচ বেড়েছে।

ম্যাট মোত্তার মতে, নতুন প্রজন্মের ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক প্রার্থীরা এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে মানুষের অসন্তোষকে নির্বাচনি প্রচারে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।

দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ তার রাজ্যে হামের প্রাদুর্ভাবকে ট্রাম্পের স্বাস্থ্যনীতির ব্যর্থতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন। ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ওই রাজ্যে হামে আক্রান্তের আনুমানিক ৯৯৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে এ প্রাদুর্ভাব নিয়ে লেখা এক নিবন্ধে অ্যান্ড্রুজ বলেন, ‘আমরা আবারও এক পুরোনো প্রাণঘাতী রোগের ফিরে আসার ঝুঁকি তৈরি করছি। বিজ্ঞানের পরিবর্তনের কারণে নয়, ভাইরাসটির নিজের কোনো পরিবর্তনের কারণেও নয়; বরং আমাদের রাজনীতি বদলে যাওয়ায় এমনটি হচ্ছে।’

তিনি আরো লেখেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমরা দেখেছি, চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞদের মতামত সরিয়ে রাখা হচ্ছে, আর ষড়যন্ত্রতত্ত্বকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’

মিশিগানের প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদও নিজের চিকিৎসাবিষয়ক অভিজ্ঞতাকে প্রচারে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি সাইক্লোস্পোরা নামের এক পরজীবীর সংক্রমণ বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এই পরজীবীর কারণে ডায়রিয়া হতে পারে। লেটুসপাতার মতো তাজা খাবারের মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে।

গত সেপ্টেম্বরে নির্বাচনি প্রচারের এক অনুষ্ঠানে আল-সাইয়েদ বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক হব।’

তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে লেটুসপাতা এড়িয়ে চলতে চলতে যদি আপনারা ক্লান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে আমরা সবাই একমত হতে পারি যে এই মুহূর্তে সিনেটে একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন।’

ট্রাম্প প্রশাসনের বাজেট কমানোর কারণে খাদ্য পরিদর্শনে কেন্দ্রীয় সরকারের সক্ষমতা কমেছে। আল-সাইয়েদসহ অন্য ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাষ্ট্রে ওই পরজীবীর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার জন্য এ ঘাটতিকে দায়ী করছেন।

‘ইতিহাসে এমন ঘটনা কতবার ঘটেছে?’

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে কর্মরত চিকিৎসকদের বেশির ভাগই রিপাবলিকান। এর মধ্যে আগে সিনেটে নির্বাচিত হওয়া চারজন চিকিৎসকই রিপাবলিকান দলের। তবে দলীয় এই চিত্র বদলে যেতে পারে। রিপাবলিকান দলের আলোচিত চিকিৎসক ও সিনেটর বিল ক্যাসিডি এবার সরে দাঁড়াচ্ছেন। কানসাসের সিনেটর রজার মার্শালের মতো অন্য কয়েকজন রিপাবলিকানও পুনর্নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছেন।

অন্যদিকে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কংগ্রেসের ১২০তম অধিবেশনে যোগ দিতে অন্তত পাঁচজন নতুন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাদের চিকিৎসাবিষয়ক ডিগ্রি রয়েছে। নার্সদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। নার্সদের বিষয়ভিত্তিক প্রকাশনা ‘নার্স ডট অর্গ’-এর তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে অন্তত ১০ জন ডেমোক্র্যাট নার্স কংগ্রেসের আসনে লড়ছেন। রিপাবলিকান নার্স প্রার্থীর সংখ্যা চার।

তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব স্বাস্থ্য পেশাজীবী স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে একই মত পোষণ করেন না। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার অ্যানি অ্যান্ড্রুজ নিউজ নেশনকে বলেছেন, সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রস্তাব ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ একটি ‘সেকেলে ও বাস্তবসম্মত নয়’ এমন নীতি। অন্যদিকে আবদুল আল-সাইয়েদ এ নীতির জোরালো সমর্থক। এ বিষয়ে তিনি ‘মেডিকেয়ার ফর অল: আ সিটিজেনস গাইড’ নামে একটি বইও সহলেখক হিসেবে লিখেছেন।

উচ্চ আয়ের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ব্যয় সবচেয়ে বেশি। তাই স্বাস্থ্যসেবাকে সাশ্রয়ী করার বিষয়টি ডেমোক্র্যাট চিকিৎসকদের অনেকের নির্বাচনি প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

অ্যানি অ্যান্ড্রুজ তার রাজনৈতিক কর্মসূচির নাম দিয়েছেন ‘রোগী ও চিকিৎসা ব্যয়ের প্ল্যাটফর্ম’। একই নামে তিনি নিজের রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারও চালিয়েছেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ও চিকিৎসক অ্যামি বেরা আলজাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার জন্য লড়ছেন বেরা। তার প্রচারের অন্যতম বক্তব্য, স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে হবে চিকিৎসক ও রোগীদের। শুধু ব্যয় নিয়ে আলোচনা করলে চলবে না।

বেরা বলেন, ‘চিকিৎসাসেবার খরচ ফেরত পাওয়ার হিসাব নিয়ে কথা না বলে আমরা কেন চিকিৎসাবিদ্যা পড়তে গিয়েছিলাম, তা নিয়ে কথা বলি। আমরা রোগীদের সেবা করতে চেয়েছিলাম।’

তিনি আরো বলেন, ‘যেসব চিকিৎসক বাস্তবে রোগীদের সেবা দিয়েছেন, চিকিৎসাকক্ষে বা অস্ত্রোপচারকক্ষে কাজ করেছেন, রোগীর সেবা সম্পর্কে তাদের বিশেষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারা সেই অভিজ্ঞতা কংগ্রেসে নিয়ে আসতে পারেন।’

এ বছর স্বাস্থ্যসেবাকে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে বেরা ‘ডেমোক্র্যাটিক ডক্টরস পিএসি’ গঠন করতে সহায়তা করেছেন। স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞানভিত্তিক অন্য সংগঠনগুলোও নির্বাচনী প্রচারে অর্থ ও নানা ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। বিজ্ঞানপন্থি অধিকারকর্মী সংগঠন ‘৩১৪ অ্যাকশন’ গত অক্টোবরে জানিয়েছে, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তারা প্রায় তিন কোটি ডলার ব্যয় করেছে।

তবে বেরা আশাবাদী, স্বাস্থ্যসেবা শেষ পর্যন্ত কোনো একটি দলের একক ইস্যু বা দলীয় বিভাজনের কারণ হয়ে থাকবে না। তিনি বলেন, ‘এত দিন আলোচনাটি এমনই ছিল, তাই না? ডেমোক্র্যাটরা সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা আইনকে রক্ষা করেছে, আর রিপাবলিকানরা এর বিরোধিতা করেছে। আমার মনে হয়, এখন পরিস্থিতি এমন এক সংকটময় পর্যায়ে পৌঁছেছে যে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’

ভ্যাক্স পিএসির প্রতিষ্ঠাতা ফেইগল-ডিংও মনে করেন, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন একটি সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি ওহাইওর সাবেক স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক অ্যামি অ্যাকশনের কথা উল্লেখ করেন। অ্যাকশন ডেমোক্র্যাট দলের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এখন তিনি রাজ্যটির গভর্নর পদে লড়ছেন।

মারিস্ট ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, মঙ্গলবারের নির্বাচনের আগে অ্যাকশন তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৭ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। ফেইগল-ডিং এ ফলকে ঐতিহাসিক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘ইতিহাসে কতবার এমন হয়েছে যে স্বাস্থ্য বিভাগের একজন পরিচালক গভর্নর পদে নির্বাচন করে দলের প্রাথমিক নির্বাচনে জিতেছেন এবং এখন গভর্নর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছেন?’

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষাঙ্গনগুলোকে জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার কেন্দ্র করতে আহ্বান ডা. শফিকুরের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫২ এম


শিক্ষাঙ্গনগুলোকে জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার কেন্দ্র করতে আহ্বান ডা. শফিকুরের

বিরোধী দলীয় নেতা এবং জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, অতীতে শিক্ষাঙ্গনগুলো ছিল গণরুম, গেস্টরুম কালচার এবং অপসংস্কৃতির কেন্দ্র। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলো জ্ঞান চর্চা এবং গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। তিনি এগুলোকে স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে চান।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকের সামনে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ কর্মসূচিতে বক্তব্য প্রদান করেন।

জামায়াতে আমির বলেন, আগস্টের পর বাংলাদেশের পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। অন্যরা তার ধারে কাছেও আসতে পারেনি। তিনি প্রশ্ন করেন, কেন ছাত্রশিবিরকে এত ভালোবাসে ছাত্রজনতা? এর একমাত্র কারণ হলো— ছাত্রশিবিরের জ্ঞান, শিক্ষা এবং প্রজ্ঞার প্রতি সম্মান। তিনি উল্লেখ করেন, ইবিতে নির্বাচনে হলে কি চিত্র হতো? নিশ্চয় একই চিত্র দেখা যেত। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

ডা. শফিকুর বলেন, যেসব স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন হয়েছে, সেখান থেকে গণরুমের বিদায় ঘটেছে। এখন ছাত্র-ছাত্রীরা শান্তিতে, মেধার ভিত্তিতে হলগুলোতে সম্মানের সঙ্গে নিরাপত্তা ও গৌরবের সাথে থাকতে পারছে। তারা লেখাপড়ায় মনোযোগী, কারণ মিছিলে অংশগ্রহণ করতে কাউকে বাধ্য করা হয় না।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, তিনি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চান যেখানে সুশিক্ষা নিয়ে আমাদের সন্তানেরা কখনো বেকারের দুঃখ অনুভব করবে না, বরং দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করবে। এই শিক্ষাই তিনি তাদের দিতে চান। যারা এটি চায় না, তারা গণভোটের পুনরাবৃত্তি মানতে চায় না। অন্যায় ও আধিপত্যবাদের কাছে তারা কখনো মাথা নত করবে না এবং মাথা সোজা করে এ জাতি সামনে এগিয়ে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর হামলায় কলম্বিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ৯ সদস্য নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৩ এম


ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর হামলায় কলম্বিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ৯ সদস্য নিহত

ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী দেশটির সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থানরত কলম্বিয়ার বামপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কিছু সদস্যকে হত্যা করেছে। শনিবার একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে বলা হয়েছে, ফান্ডারেডেস নামের একটি এনজিওর পরিচালক হাভিয়ের তারাজোনা এএফপিকে জানান, শুক্রবার ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী দেশটির ভূখণ্ডে অবস্থানরত কলম্বিয়ার ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন) বিদ্রোহীদের একটি শিবিরে হামলা চালায়।

তারাজোনা দাবি করেছেন, কয়েক দশক ধরে সমাজতান্ত্রিক শাসনের অধীনে থাকা ভেনেজুয়েলায় গত জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী অভ্যন্তরে অবস্থানরত ইএলএন বিদ্রোহীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।

বেসরকারি সংস্থাটি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে ভেনেজুেলার আপুরে রাজ্যের প্রত্যন্ত একটি এলাকায় মাটিতে পড়ে থাকা কয়েকটি মরদেহ, উপড়ে পড়া গাছ এবং বিদ্রোহীদের একটি শিবিরের ধ্বংসাবশেষ দেখা যাচ্ছে।

তারাজোনা জানান, সংস্থাটির এক কর্মী ঘটনাস্থলের ভিডিও দেখে অন্তত নয়টি মরদেহ শনাক্ত করেছেন।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে এএফপির পক্ষ থেকে ভেনেজুয়েলা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

২০১৬ সালে কলম্বিয়ার সরকার ও ফার্ক গেরিলা বাহিনীর মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে ইএলএন লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে দুই হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্তবর্তী এলাকায় অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীও সক্রিয় রয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে ফার্কের সেই বিদ্রোহী অংশগুলো, যারা ২০১৬ সালের শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে।

বর্তমানে এসব গোষ্ঠী মাদক পাচার, বিশেষ করে কোকেনের ব্যবসা এবং অবৈধ খনির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতার সরকার অভিযোগ করে আসছিল যে, বামপন্থী ভেনেজুয়েলা কলম্বিয়ার বিদ্রোহীদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে আসছে।

তবে মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বর্তমানে ভেনেজুয়েলা ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে। দেশটির বিপুল তেলসম্পদ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

মানবাধিকারকর্মী ও সামরিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ রোসিও সান মিগেল জানান, শুক্রবারের সেনা হামলার খবর স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথম জানান। তাদের ধারণা, ওই হামলায় ইএলএনের আরও অন্তত ১০ জন যোদ্ধা নিহত হয়ে থাকতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
শাপলা চত্বর গণহত্যা

শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ এম


শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হবে।

আজ রোববার (১ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আজ শুনানি করবে। গত ৭ অক্টোবর এ শুনানির দিন ধার্য ছিল, তবে আসামিপক্ষের সময় আবেদনের কারণে তা পিছিয়ে আজকের তারিখ নির্ধারণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।

মামলায় গ্রেফতার ১১ আসামির মধ্যে রয়েছেন—জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা।

আজ সকালে হাসানুল হক ইনু, দীপু মনি ও শামসুল হক টুকুসহ গ্রেফতার ৯ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। অসুস্থতার কারণে সাবেক আইজিপি শহীদুল হককে আদালতে আনা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, আসামি জিয়াউল আহসান ভার্চুয়ালি হাজিরা দেবেন।

এ মামলার অন্য ৩০ আসামি পলাতক রয়েছে। তাদের মধ্যে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এবং সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া অন্তর্ভুক্ত।

পলাতক আসামিদের তালিকায় আরও রয়েছেন—তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং তৎকালীন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান।

এ ছাড়া সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, মাহবুব হোসেন ও মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি মো. আনোয়ার হোসেন ও আশরাফুজ্জামান, এডিসি এসএম মেহেদী হাসান ও মো. আসাদুজ্জামান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকার ও সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ওসি বিএম ফরমান আলীও এ মামলার পলাতক আসামি।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রসিকিউশনের কাছে নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) দাখিল করেন, জানিয়ে যে তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় খোঁজ করেও পাওয়া যায়নি। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত সময়ে আত্মসমর্পণ না করায় ওই ৩০ জনকে পলাতক ঘোষণা করে তাদের পক্ষে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে গত ২৭ জুলাই ৪১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং কারাগারে থাকা আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আজ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%