০৮:৪৩ পি.এম
শরীয়তপুর, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাকের জন্মশতবর্ষ উদযাপনের জন্য তাঁর জন্মস্থান শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় মাসব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
আজ রোববার থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।
এই উপলক্ষে আজ নড়িয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে লোগো ও মাসকট উন্মোচন, স্মারক, বৃক্ষরোপণ এবং কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাকের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দ্বন্দ্ব, সংবাদ সম্মেলন
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ুম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরন।
এই অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান কিরন আবু ইসহাকের স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে নিজ অর্থায়নে তাঁর একটি মুরাল স্থাপনের ঘোষণা দেন। তিনি আরও জানান, সরকারি অর্থায়নে কথাসাহিত্যিকের বাড়িতে একটি পাঠাগার ও মিলনায়তন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ৫ নভেম্বরের মধ্যে নড়িয়া উপজেলার ১৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে একটি করে কক্ষ ‘প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক’ নামে নামকরণ ও সজ্জিতকরণ। একই সময়ের মধ্যে দেয়ালিকা প্রস্তুত ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
এছাড়া মাসব্যাপী গল্প বলার আসর, দেশীয় খেলাধুলা, পুঁথি পাঠ ও বই প্রদর্শনীর আয়োজন থাকবে। আগামী ২৯ নভেম্বর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মঞ্চনাটক ও রোড সাইন স্থাপন করা হবে। ৩০ নভেম্বর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাসব্যাপী এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে।
আরও পড়ুন: জাতীয় যুব দিবসে শ্রেষ্ঠ আত্মকর্মীর সম্মাননা পেলেন জান্নাতুল নাঈমা!
তাঁর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের এই আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে আবু ইসহাকের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও অবদান তুলে ধরার পাশাপাশি নড়িয়ার সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, আবু ইসহাক ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর নড়িয়া উপজেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কালজয়ী উপন্যাস ‘সূর্য-দীঘল বাড়ী’ রচনার মাধ্যমে তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘পদ্মার পলিদ্বীপ’, ‘জাল’, ‘হারেম’ ও ‘মহাপতঙ্গ’। সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন