ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকা-সিলেটের বিকল্প সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু, দূরত্ব কমবে ৪০ কিলোমিটার


ঢাকা-সিলেটের বিকল্প সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শুরু, দূরত্ব কমবে ৪০ কিলোমিটার

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-সরাইল-নাসিরনগর ও হবিগঞ্জের লাখাই সংকোচিত আঞ্চলিক সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত করার উদ্দেশ্যে প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। এরপর থেকেই দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হয়।

সড়ক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সড়কটির প্রশস্তকরণের কাজ সম্পন্ন হলে বিকল্প এই সড়ক ব্যবহার করে সিলেটের সাথে দূরত্ব অন্তত ৪০ কিলোমিটার কমে যাবে। এর ফলে হাওড়াঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নত হবে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ঢাকা থেকে সিলেটের দূরত্ব ২২০ কিলোমিটার। অন্যদিকে, ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের কোট্টা পাড়ার মোড় পর্যন্ত দূরত্ব অন্তত ১০০ কিলোমিটার। বর্তমানে সরাইলের কোট্টাপাড়া থেকে নাসিরনগর ও হবিগঞ্জের লাখাই হয়ে চলমান ১৫ থেকে ১৮ ফুটের সড়কটি ৩৪ ফুটে উন্নীত করে আঞ্চলিক মহাসড়কে রূপ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: নড়াইলে ঊষার আলো সূর্যসংঘের সম্মেলন ও কমিটি গঠন অনুষ্ঠিত

বর্তমানে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই-হবিগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কটি সংকোচিত হওয়ায় সরাইলের কোট্টাপাড়া মোড়, সদরের উচালিয়া পাড়া, কালিকচ্ছ, নাসিরনগর উপজেলার কলেজ মোড়, লাখাই উপজেলার বাজার বাস স্ট্যান্ড, বামৈ বাজার, বুল্লা বাজার, কালাউক বাজার, লোকড়া বাজার, ধল বাজার ও রিচি বাজারে নিয়মিত যানজট লেগে থাকে।

জানা যায়, সড়কটির প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হলে সরাইল, নাসিরনগর ও লাখাই হবিগঞ্জ হয়ে সিলেটে চলাচলের ক্ষেত্রে অন্তত ৪০ কিলোমিটার সড়ক পথ কমে যাবে। এর ফলে যানবাহন দ্রুত চলবে এবং যাতায়তের ক্ষেত্রে সময় কমবে অন্তত ১ ঘণ্টা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইমরান মন্তব্য করেন, "আমাদের নাসিরনগর হাওড় বিস্তৃত এলাকা। আমরা অনেক অবহেলিত মানুষ। সড়কটির প্রশস্ত করা হলে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাটা অনেক ভালো হবে।"

হাওড়াঞ্চলের বাসিন্দা আতিকুর রহমান জানান, "সড়কটি প্রশস্ত করার মাধ্যমে আমাদের জমিনের উৎপাদিত ফসল আমরা সহজে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যেতে পারবো।"

আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে যানবাহন মেরামতের প্রশিক্ষণ, সনদ পেলেন ১৭ যুবক

সিএনজি অটো রিক্সা চালক রহিম মিয়া বলেন, "রাস্তার যে অবস্থা আছে, এই রাস্তায় সিএনজি অটোরিকশা বা বাস চলাচলের জন্য উপযোগী না। যত দ্রুত সম্ভব এখানে ফোর লেনের কাজটা দ্রুত করা হোক। কারণ প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত প্রচুর জ্যাম লেগে থাকে নাসিরনগর কলেজ মোড় এলাকায়।"

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইউনূস আলী জানিয়েছেন, "সড়কটির প্রশস্ত করা হলে জনসাধারণের ট্রাভেল টাইম কমবে। ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল-কলেজ এবং রোগীদের উন্নত চিকিৎসা সেবা নিতে জেলাশহর কিংবা রাজধানীর হাসপাতালে যাওয়া আসার ক্ষেত্রে সময় কমে আসবে। এছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে।"

সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোফাজ্জল হায়দার বলেন, "এই সড়কটি হওয়ার পরে ঢাকা-সিলেটের এই অঞ্চলে যারা আছেন, নাসিরনগর, সরাইল এবং লাখাইর উপজেলাবাসী যারা আছেন, তাদেরকে আর মূল যে সড়কটি ঢাকা-সিলেটের অংশে ঢুকতে হচ্ছে না। তারা এই সংযোগ সড়ক দিয়ে সহজে সিলেটে চলে যেতে পারবেন। কারণ এটা আঞ্চলিক মহাসড়কে রূপান্তর হবে। ঢাকা সিলেটের যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ কমে আসবে। সময়ও বাঁচবে অন্তত এক ঘণ্টা।"

তিনি আরও জানান, "এই প্রকল্পটির নির্মাণের সময়সীমা ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত। সরাইলের কুট্টা পাড়া থেকে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বলভদ্র সেতু পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়কে ভূমি অধিগ্রহণের ঝামেলা নেই। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মোটামুটি ৯০ থেকে ১০০ ভাগ কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে।"

আরও পড়ুন: জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে মাদকসেবীসহ গ্রেফতার ১৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান বলেন, "এই কাজটা একপাশে করার পর বৃহত্তর সিলেটের সাথে নাসিরনগরের সরাসরি ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে ঢাকা যেতে আমাদের ৪০ কিলোমিটারের দূরত্ব কমে যাবে এবং এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কমে যাবে। আমরা আশা করি আমরা নাসিরনগর থেকে ৩ ঘণ্টা নির্বিঘ্নে রাজধানীর সাথে যোগাযোগ করতে পারব এবং আমাদের জেলা সদরের সাথে নিঃসন্দেহে একটা বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধিত হবে। এটা বৃহত্তর সিলেট থেকে শুরু করে ঢাকা পর্যন্ত সকলে একটা ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হয়ে যাবেন। আশা করছি এই মহাসড়কটি আমাদের দেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে।"

ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে ২৫ কিলোমিটার সড়কটি প্রশস্তকরণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯৬ কোটি টাকা। আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ঠিকাদারির প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন কাজটি শেষ করার কথা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সমান অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান ডিএসসিসি প্রশাসকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২১ পি.এম


ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সমান অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান ডিএসসিসি প্রশাসকের

ঢাকা, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : ধর্মকে রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে, বরং ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার- এই নীতিতে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান-ধর্মীয় পরিচয় যাই হোক, এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা সমান।’

শনিবার রাজধানীর স্বামীবাগ শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দিরে অনুষ্ঠিত বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, সব ধর্মেই মানবিকতা, নৈতিকতা ও ভালো কাজের শিক্ষা বিদ্যমান। শুধু ধর্মীয় বাণী উচ্চারণ করলেই হবে না, বরং সেগুলোকে ব্যক্তিজীবনে চর্চা করতে হবে। সমাজ থেকে অনৈতিকতা, মাদক ও অসহিষ্ণুতা দূর করতে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার বিকল্প নেই।

তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে একটি সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে আবদুস সালাম মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও হিন্দু ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্তন ক্যান্সার, নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশ্বব্যাপী বড় হুমকি: অধ্যাপক সিদ্দিকী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২২ পি.এম


স্তন ক্যান্সার, নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশ্বব্যাপী বড় হুমকি: অধ্যাপক সিদ্দিকী

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী মন্তব্য করেছেন যে, স্তন ক্যান্সার কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং এটি বিশ্বব্যাপী নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুতর হুমকি। প্রতিবছর এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন হাজার হাজার নারী আমাদের দেশে। তবে একটি আশার বিষয় হলো, স্তন ক্যান্সার কোনো অসাধ্য রোগ নয়। যদি প্রাথমিক পর্যায়ে এটি শনাক্ত করা যায়, সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। এ সময় তিনি নারীদের লজ্জা ও দ্বিধা কাটিয়ে ওঠার আহ্বান জানান।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলন হলে ‘স্তন ক্যান্সারের বৈশ্বিক ও জাতীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম এবং বিএমইউর অনকোলজি বিভাগ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে। আলোচনা সভা শেষে শাহবাগ থেকে কাওরানবাজার পর্যন্ত একটি বর্ণাঢ্য গোলাপি শোভাযাত্রা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ২০১৩ সাল থেকে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর বেসরকারিভাবে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। দেশের স্তন ক্যান্সার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের বার্তা নিয়ে এবার ১৪তম স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস পালিত হলো।

বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিনের সঞ্চালনায় সংলাপে বক্তারা সচেতনতার পাশাপাশি সঠিক পরিসংখ্যানের জন্য জনগোষ্ঠীভিত্তিক ক্যান্সার নিবন্ধন, ক্যান্সার স্ক্রিনিং ও চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

মূল বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, ‘এই প্রথম সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ রোগ প্রতিরোধের ওপর প্রাধান্য দিয়ে নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের কথা বলছেন, তাই আমরা আশাবাদী হতে চাই।’ তিনি প্রতিরোধ ও সূচনায় রোগ নির্ণয়ের জন্য স্বাস্থ্য বাজেটের অন্তত শতকরা চল্লিশ ভাগ বরাদ্দের দাবি জানান। পাশাপাশি সরকারি ক্যান্সার চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালে দরিদ্র রোগীদের সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার ও দেশের বিত্তবানদের প্রতি অলাভজনক ও সেবামূলক ক্যান্সার হাসপাতাল গড়ার আহ্বান জানান ডা. রাসকিন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার সংকট বিদ্যমান। তবে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সীমিত সুবিধার মধ্যেই প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় করে অধিক সংখ্যক রোগীর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি ও বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. হালিদা হানুম আখতার, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি অনকোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন ও বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস জোনাকি, সিসিপিপির চেয়ারপারসন মোছাম্মত জাহান সৌরভ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সাল, ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ হুমায়ুন কবীর, হীলের প্রতিষ্ঠাতা জেবুন্নেছা এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকেরসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সংলাপে অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নির্বাচিত হলে সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেলাওয়ারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৩ পি.এম


নির্বাচিত হলে সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেলাওয়ারের

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচিত হলে সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, "সরকারি বরাদ্দের একটি পয়সাও তছরুপ করতে দেওয়া হবে না এবং কোনো বরাদ্দে দলীয়করণ করা হবে না।" তিনি আরও বলেন, দলমত, ধর্মবর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে সমাজের প্রতিটি মানুষ সমানভাবে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবে।

শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের রহিমানপুর ইউনিয়নের ডেবাডাঙ্গী এলাকায় নির্বাচনি উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দেলাওয়ার হোসেন মন্তব্য করেন, অতীতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর অনেকের ক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দ দলীয় বিবেচনায় বণ্টন করার ঘটনা দেখা গেছে। তবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হলে তা হবে জনগণের বিজয়। এর মাধ্যমে সব মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা ছাড়া মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে না। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সমাজের নেতৃত্বে সৎ, যোগ্য, দক্ষ, আদর্শিক ও মানবিক মানুষের প্রয়োজন।

স্থানীয়দের উদ্দেশে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, স্বাধীনতার পর ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিভিন্ন দলের নেতারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও জনগণের অধিকার নিশ্চিত হয়নি। বরং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ নির্যাতন ও জুলুমের শিকার হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারিদের নেতৃত্বে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। যারা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের লালন-পালন করে এবং মাদক ও অস্ত্রের রাজনীতি করে, তাদের নেতৃত্বে জনগণ বারবার শোষণের শিকার হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, শোষণ থেকে মুক্তি পেতে ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত ঠাকুরগাঁও গড়তে স্থানীয়দের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান তুলে ধরে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, "জামায়াতে ইসলামীতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারি নাই। জামায়াতে ইসলামী দলীয়করণে বিশ্বাসী নয়।" তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, দলটি নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতিটি মানুষ নাগরিক হিসেবে সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে।

দলমত, ধর্মবর্ণ ও জাতিগোষ্ঠীর ভিত্তিতে বিভাজনের সুযোগ ইসলামী সমাজব্যবস্থায় নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা আল্লাহকে ভয় করেন, তাঁরা দুর্নীতি, অনিয়ম ও অন্যায় করবেন না এবং অন্যায় হতে দেবেন না। নিজে নির্বাচিত হলে দলমত, ধর্মবর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সমান মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করবেন বলে ঠাকুরগাঁওবাসীকে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

রহিমানপুর ইউনিয়ন আমির মোহাম্মদ আবু হানিফের সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন সেক্রেটারি হাফেজ ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় উঠান বৈঠকে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কফিল উদ্দিন আহাম্মদ। এ সময় জেলা যুব বিভাগের সভাপতি শাহজালাল জুয়েলসহ স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরা সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মদ ও ওষুধ জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৩ পি.এম


সাতক্ষীরা সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মদ ও ওষুধ জব্দ

সাতক্ষীরা, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ : জেলার সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মদ ও ওষুধ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

আজ শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে এই মালামালগুলো জব্দ করা হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাকডাঙ্গা বিওপির দুটি বিশেষ আভিযানিক দল কলারোয়া উপজেলার রাজ্জাকের মোড় ও ভাদিয়ালী নামক স্থান থেকে ভারতীয় মদ ও ওষুধ জব্দ করে।

এছাড়া, মাদরা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল একই উপজেলার রাজপুর নামক স্থান থেকে ভারতীয় মদ জব্দ করেছে।

জব্দকৃত ভারতীয় মালামালের মোট বাজার মূল্য ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। তবে, বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাচালানীরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জব্দকৃত ভারতীয় ওষুধগুলো সাতক্ষীরা কাস্টমসে জমা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসমূহ সাতক্ষীরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে সাধারণ ডায়েরি করে পরবর্তীতে জনসম্মুখে ধ্বংসের জন্য বিজিবি স্টোরে জমা রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%