প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচিত হলে সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, "সরকারি বরাদ্দের একটি পয়সাও তছরুপ করতে দেওয়া হবে না এবং কোনো বরাদ্দে দলীয়করণ করা হবে না।" তিনি আরও বলেন, দলমত, ধর্মবর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে সমাজের প্রতিটি মানুষ সমানভাবে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবে।
শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের রহিমানপুর ইউনিয়নের ডেবাডাঙ্গী এলাকায় নির্বাচনি উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেলাওয়ার হোসেন মন্তব্য করেন, অতীতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর অনেকের ক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দ দলীয় বিবেচনায় বণ্টন করার ঘটনা দেখা গেছে। তবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হলে তা হবে জনগণের বিজয়। এর মাধ্যমে সব মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা ছাড়া মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে না। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সমাজের নেতৃত্বে সৎ, যোগ্য, দক্ষ, আদর্শিক ও মানবিক মানুষের প্রয়োজন।
স্থানীয়দের উদ্দেশে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, স্বাধীনতার পর ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিভিন্ন দলের নেতারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও জনগণের অধিকার নিশ্চিত হয়নি। বরং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ নির্যাতন ও জুলুমের শিকার হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারিদের নেতৃত্বে সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। যারা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের লালন-পালন করে এবং মাদক ও অস্ত্রের রাজনীতি করে, তাদের নেতৃত্বে জনগণ বারবার শোষণের শিকার হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, শোষণ থেকে মুক্তি পেতে ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত ঠাকুরগাঁও গড়তে স্থানীয়দের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান তুলে ধরে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, "জামায়াতে ইসলামীতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারি নাই। জামায়াতে ইসলামী দলীয়করণে বিশ্বাসী নয়।" তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, দলটি নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতিটি মানুষ নাগরিক হিসেবে সমান সুযোগ-সুবিধা পাবে।
দলমত, ধর্মবর্ণ ও জাতিগোষ্ঠীর ভিত্তিতে বিভাজনের সুযোগ ইসলামী সমাজব্যবস্থায় নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা আল্লাহকে ভয় করেন, তাঁরা দুর্নীতি, অনিয়ম ও অন্যায় করবেন না এবং অন্যায় হতে দেবেন না। নিজে নির্বাচিত হলে দলমত, ধর্মবর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সমান মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করবেন বলে ঠাকুরগাঁওবাসীকে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
রহিমানপুর ইউনিয়ন আমির মোহাম্মদ আবু হানিফের সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন সেক্রেটারি হাফেজ ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় উঠান বৈঠকে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কফিল উদ্দিন আহাম্মদ। এ সময় জেলা যুব বিভাগের সভাপতি শাহজালাল জুয়েলসহ স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন