ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মিয়ানমারের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বদলাচ্ছে, কীসের ইঙ্গিত?


মিয়ানমারের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি বদলাচ্ছে, কীসের ইঙ্গিত?

যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের সামরিক শাসকদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্ব কমিয়ে নতুন করে যোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে মিয়ানমারের সামরিক নেতা মিন অং হ্লাইংয়ের বৈঠক এবং দেশটির কিছু ব্যবসায়ীর ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনায় ওয়াশিংটনের নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে সরে এসে মিয়ানমারের সঙ্গে ব্যবসায়িক ও কৌশলগত স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন কি না ট্রাম্প।

২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ছিল খুবই সীমিত। জান্তা সরকারকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা সেই নীতিতে পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।

গত ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে দেশটির সামরিক নেতা মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গোয়েন্দা ও গবেষণাবিষয়ক সহকারী সচিব মাইকেল ভ্যান্স। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তিনি।

আরও পড়ুন: আবারও সাংবাদিকের ওপর খেপলেন ট্রাম্প, নেপথ্যে স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন

বৈঠকের ঘোষিত উদ্দেশ্য ছিল, ইয়াঙ্গুনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে বিরোধের জেরে জুন মাসে আটক মার্কিন নাগরিক অ্যাডাম কাস্তিয়োকে মুক্ত করা। তবে দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভ্যান্স এর আগে জুন মাসে টোকিওতে মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। চলতি মাসেও টোকিওতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি সামরিক শাসনের বিরোধী পক্ষগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার আলোচনা হয়েছে।

এতে বোঝা যাচ্ছে, মিয়ানমারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগের পরিধি বাড়ছে। তবে এই যোগাযোগকে দেশটির সামরিক সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সমতুল্য মনে করার সুযোগ নেই।

মিয়ানমারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তনের আভাস গত বছর থেকেই পাওয়া যাচ্ছিল। সে সময় ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছিল।

আরও পড়ুন: এডেন বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দায় স্বীকার করেছে বিদ্রোহীরা

ট্রাম্প মিয়ানমারসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নেতাদের ব্যক্তিগত চিঠি পাঠিয়ে সতর্ক করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির কারণে তাঁদের দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। মিয়ানমারের জন্য প্রস্তাবিত শুল্কের হার ছিল ৪০ শতাংশ।

তবে মিন অং হ্লাইং ট্রাম্পের চিঠির জবাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ অব্যাহত রাখার উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসাও করেন তিনি।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এ ধরনের যোগাযোগ ছিল গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া এবং অং সান সু চিকে কারাবন্দি করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়ে জান্তা সরকার। বিশ্বের অধিকাংশ দেশই মিন অং হ্লাইংয়ের সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকে। রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে ঘনিষ্ঠ ছিল।

আরও পড়ুন: ডেটা সেন্টার নির্মাণে স্থানীয়দের লভ্যাংশ দিতে আহ্বান ট্রাম্পের

মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পেছনে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ কাজ করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। বিশেষ করে বিরল মৃত্তিকা খনিজের ওপর চীনের নিয়ন্ত্রণ কমানোর আগ্রহ ওয়াশিংটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চীন বিরল মৃত্তিকা খনিজের রপ্তানি সীমিত করার পদক্ষেপ নেওয়ার পর এসব গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। আধুনিক প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিকস ও বিভিন্ন শিল্পে এসব খনিজের ব্যবহার রয়েছে।

মিয়ানমারে বিরল মৃত্তিকা খনিজের বড় মজুত রয়েছে। তবে এসব খনিজের বেশির ভাগই এমন এলাকায় পাওয়া যায়, যেখানে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংঘাত চলছে। বর্তমানে চীনা কোম্পানিগুলো সেখানে খনিজ উত্তোলন করে প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য চীনে নিয়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা সহজ হবে না। কারণ, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং চীনা কোম্পানিগুলোর দীর্ঘদিনের কার্যক্রম বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যে নতুন গ্যাসক্ষেত্রে খননকাজের অনুমোদন, কর্মসংস্থান সুরক্ষার আশা

মিয়ানমারের সামরিক সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে লবিং কার্যক্রমও জোরদার করেছে। দেশটির শাসকগোষ্ঠী ওয়াশিংটনভিত্তিক লবিং প্রতিষ্ঠান ডিসিআইয়ের সঙ্গে ৩০ লাখ ডলারের একটি চুক্তি করে। এর আগে ২০০২ সালে মিয়ানমারের সামরিক সরকার নিজেদের ভাবমূর্তি উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সহায়তা নিয়েছিল।

এ ছাড়া ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বিতর্কিত লবিস্ট রজার স্টোনকেও নিয়োগ দেয় জান্তা সরকার। তাকে মাসে ৫০ হাজার ডলার পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাবেক মার্কিন মেরিন সেনা ও ট্রাম্প-সমর্থক অ্যাডাম কাস্তিয়োও মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, সামরিক জান্তাকে বিচ্ছিন্ন রাখতে নিষেধাজ্ঞার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি।

কাস্তিয়ো যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ, মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং চীনের প্রভাব কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দলের সঙ্গে আলোচনা করেন।

আরও পড়ুন: সুদান-দক্ষিণ সুদানের বিতর্কিত এলাকায় ড্রোন হামলায় নিহত ৫৩

মিয়ানমারের সামরিক সরকার ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করে। ওই নির্বাচনের মাধ্যমে অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং সামরিক শাসক থেকে নামমাত্র বেসামরিক প্রেসিডেন্টে পরিণত হন।

নির্বাচনটি অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে পশ্চিমা দেশগুলোর অনেকে সমালোচনা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আগের মতো জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে আসা ওয়াশিংটনের এ নীরবতা নীতিগত পরিবর্তনের আলোচনাকে আরো জোরালো করেছে।

এ ছাড়া সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা মিয়ানমারের কয়েকজন ব্যক্তির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের মিয়ানমারবিষয়ক উপদেষ্টা রিচার্ড হর্সির মতে, শিরোনামে যতটা পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে পরিবর্তন তার চেয়ে কম। মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর এখনো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

আরও পড়ুন: সৌদির দাবি, ৫ ড্রোন ধ্বংসের মধ্যে ৪টি মদিনার দিকে ছিল

হর্সির মতে, নতুন বিষয়টি হলো দুই পক্ষের যোগাযোগের মাত্রা এবং বৈঠকের স্থান। নেপিদোতে মার্কিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি মিন অং হ্লাইংয়ের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। তবে তার পরবর্তী লক্ষ্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, যা অর্জন করা অনেক কঠিন হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তনের আলোচনা ছাড়াও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ইউএসএআইডি বিলুপ্তির সিদ্ধান্তে মিয়ানমারের বিরোধী গোষ্ঠী, স্বাধীন গণমাধ্যম ও শরণার্থীদের জন্য বরাদ্দ সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের প্রায় চার হাজার নাগরিকের অস্থায়ী সুরক্ষার মর্যাদা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও সমালোচনার মুখে পড়েছে। তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হলে কেউ কেউ কারাবন্দি হওয়া বা আরো গুরুতর পরিণতির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে সক্রিয় প্রতারণা চক্র দমনে জান্তা সরকারের সহযোগিতা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। বড় ধরনের কয়েকটি অভিযানের পর এসব চক্র প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর মিত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

লোয়ি ইনস্টিটিউটের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক পরিচালক হান্টার মার্সটনের মতে, নেপিদোর সঙ্গে আলোচনা করাটাই ভুল নয়। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এই যোগাযোগের বিনিময়ে ওয়াশিংটন কী অর্জন করতে চাইছে এবং কী ছাড় দিচ্ছে।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত এ যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করা, বেসামরিক মানুষের ওপর বিমান হামলা বন্ধে চাপ দেওয়া এবং মিয়ানমারের বিরোধী পক্ষ ও জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা। প্রতারণা চক্রগুলোর অর্থের প্রবাহ বন্ধ করতে চীনসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ও জরুরি।

সম্পর্কের বরফ গলছে, কিন্তু কতটা?

মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ বৃদ্ধি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্ন রাখার নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিরল মৃত্তিকা খনিজ, প্রতারণা চক্র দমন এবং মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তার মতো বিষয় এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে যোগাযোগ বাড়লেও দুই দেশের সম্পর্কের মৌলিক পরিবর্তন এখনো সীমিত। মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও কাটেনি।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসন মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আদর্শিক অবস্থানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কিন্তু এই যোগাযোগের ফলে মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয় কি না, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের এক কণাও দেশের বাইরে যাবে না : ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫২ পি.এম


সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের এক কণাও দেশের বাইরে যাবে না : ইরান

মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই, যিনি ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান, বলেছেন যে দেশের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানে থাকবে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, "কোনো অবস্থাতেই এর এক কণাও বিদেশে পাঠানো হবে না।" রেজাই জানান, এই পারমাণবিক উপাদান ইরানের জনগণের জাতীয় সম্পদ।

তিনি মঙ্গলবার তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকের সময় এসব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হবে না যতক্ষণ না দেশটি ইরানের আস্থা পুনর্গঠনে শর্তগুলো পূরণ করে।

এদিকে, মুনির জানান যে, ইরান-পাকিস্তান সীমান্ত সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং মঙ্গলবার সকাল থেকে সীমান্ত পারাপার পুনরায় চালু হয়েছে। তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরোধক্ষমতার প্রশংসা করেন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে তেহরান এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার বজায় রাখার কথা বলছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ৪০ দিনের যুদ্ধের পরও দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সূত্র: প্রেস টিভি

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বার্সার বিপক্ষে জয়ের পর পিএসজির দুশ্চিন্তা বেড়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ পি.এম


বার্সার বিপক্ষে জয়ের পর পিএসজির দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বার্সেলোনার বিরুদ্ধে জয়ের উল্লাসের মধ্যেই পিএসজি একটি গুরুতর সমস্যা মোকাবেলা করছে। দলের জর্জিয়ান উইঙ্গার খভিচা কোয়ারাতসখেলিয়া হাঁটুতে আঘাত পেয়েছেন। ফরাসি ক্লাবটি তার অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে পিএসজি বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে পরাজিত করে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বার্সেলোনার রাইটব্যাক জাভি এসপার্তের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ের সময় কোয়ারাতসখেলিয়া ডান হাঁটুতে আঘাত পান। ব্যথায় কাতর অবস্থায় এই উইঙ্গারকে সতীর্থ ও চিকিৎসাকর্মীদের সহায়তায় মাঠ থেকে বের হতে হয়। তিনি ঠিকমতো পায়ে ভর দিতে পারছিলেন না।

ফরাসি সংবাদমাধ্যম এল’ইকিপের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পরীক্ষায় এসিএল চোটের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) এমআরআই পরীক্ষার মাধ্যমে চোটের প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে। তবে পিএসজি এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কিছু জানায়নি।

২৫ বছর বয়সি এই ফুটবলার যদি এসিএল চোটে আক্রান্ত হন, তাহলে তাকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। এমনকি মৌসুমের বাকি অংশেও তাকে না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত, দক্ষিণ আমেরিকায় ৩ মাসে বিপুল আয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ পি.এম


রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত, দক্ষিণ আমেরিকায় ৩ মাসে বিপুল আয়

দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রচলিত বাজারের বাইরে রপ্তানি সম্প্রসারণের চেষ্টা জোরদার করা হয়েছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ আমেরিকার ১১টি দেশে ১৯ কোটি ৫১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এ অঞ্চলে ব্রাজিল, চিলি ও পেরু বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে ব্রাজিলে ৭ কোটি ৮ লাখ ২০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। চিলিতে রপ্তানি হয়েছে ৫ কোটি ১৮ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পণ্য। আর পেরুতে রপ্তানির পরিমাণ ২ কোটি ৪২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এছাড়া কলম্বিয়ায় ১ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার, উরুগুয়েতে ১ কোটি ১৬ লাখ ৩০ হাজার এবং আর্জেন্টিনায় ১ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

দক্ষিণ আমেরিকায় রপ্তানি সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে, যা ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার প্রচলিত বাজারের বাইরে। তৈরি পোশাক এখনও এ অঞ্চলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস হলেও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, গৃহসজ্জার সামগ্রী, হস্তশিল্প ও জীবনযাপন-সংশ্লিষ্ট পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে গত ১১ থেকে ১৩ আগস্ট ব্রাজিলের সাও পাওলোতে অনুষ্ঠিত ‘হোম শো ব্রাজিল ২০২৬’ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করেছে। ইপিবির আর্থিক সহায়তায় এবং ব্রাসিলিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় এ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— জিহান প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ, মাদার ট্যানারি, রেইনবো জুট ও ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস। প্রদর্শনীতে পাঁচটি বুথে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পণ্য তুলে ধরে।

প্রদর্শনীতে পাটজাত পণ্য, ব্যাগ, চামড়াজাত সামগ্রী, প্রাকৃতিক তন্তুর তৈরি ঝুড়ি, গৃহসজ্জার উপকরণ, বাঁশের পণ্য, টেরাকোটা, মাটির তৈরি সামগ্রী ও নকশিকাঁথা প্রদর্শন করা হয়।

বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্য ও সম্ভাবনাময় খাত সম্পর্কে বিদেশি ক্রেতাদের জানাতে ইপিবি ও বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকেও একটি প্রচারমূলক বুথ স্থাপন করা হয়।

প্রদর্শনী চলাকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। সম্ভাব্য ক্রেতারা বাংলাদেশের স্টল পরিদর্শন করে প্রদর্শিত পণ্যের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের গৃহসজ্জা ও জীবনযাপন-সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি নিয়ে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে ব্রাজিলের ব্যবসায়ী সংগঠন ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের পণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, "বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং উদীয়মান আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে ইপিবি কাজ করছে। এজন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় আরও পরিকল্পিত ও পেশাদারভাবে অংশ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।"

তিনি আরও বলেন, "তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং অল্প কয়েকটি রপ্তানি বাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের রপ্তানি আয়কে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। এ কারণে নতুন পণ্য ও নতুন বাজার খুঁজে বের করা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।"

মোহাম্মদ হাসান আরিফ আরও বলেন, "আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বাজারের চাহিদা, ভোক্তার পছন্দ, পণ্যের দাম, প্রতিযোগিতা ও ব্যবসায়িক রীতিনীতি সম্পর্কে আগাম গবেষণা করা প্রয়োজন।"

এতে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের সুফল বাড়বে। একইসঙ্গে জাতীয় প্যাভিলিয়নের ব্র্যান্ডিং জোরদার, রপ্তানিকারকদের প্রস্তুতি উন্নত করা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। এর মাধ্যমে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সুযোগে রূপ দেওয়া সম্ভব হবে।

ইপিবির পণ্যভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আমেরিকার ১১টি দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি এখনও মূলত তৈরি পোশাকনির্ভর। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ওভেন কাপড়ের পোশাক ও পোশাকের আনুষঙ্গিক পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৪৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার। একই সময়ে নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ ডলারের।

এ দুই শ্রেণির পণ্য মিলিয়ে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা ওই ১১টি দেশে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৭৯ দশমিক ২ শতাংশ।

এ সময়ে ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৬৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার। জুতা ও সংশ্লিষ্ট পণ্য রপ্তানি থেকে এসেছে প্রায় ৫৭ লাখ ১০ হাজার ডলার। এ ছাড়া অন্যান্য বস্ত্রপণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী ও ভ্রমণসামগ্রীও রপ্তানি তালিকায় রয়েছে। এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে দক্ষিণ আমেরিকায় বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়িতে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ রয়েছে।

রপ্তানির হিসাবে ব্রাজিল ও চিলি একত্রে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৬২ দশমিক ৯ শতাংশ জোগান দিয়েছে। দেশ দুটিতে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার। ফলে বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় ব্রাজিল ও চিলি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি পেরু ও কলম্বিয়ায় ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়িয়েও বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। সূত্র: বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৪ হামলায় নিহত ২০০ হুথি যোদ্ধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৯ পি.এম


ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৪ হামলায় নিহত ২০০ হুথি যোদ্ধা

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী দাবি করেছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ৭৪৪টি হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। এসব হামলায় প্রায় ২০০ হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। আরও জানানো হয়েছে যে, গোষ্ঠীটির ৯০টি সামরিক যান এবং সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল-নুজাইলি এসব তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’-এর আওতায় এই অভিযানগুলো পরিচালিত হয়েছে।

আল-নুজাইলি বলেন, অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, রকেট উৎক্ষেপণব্যবস্থা এবং স্নাইপার ইউনিট অংশগ্রহণ করেছে। হামলাগুলো হুথিদের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, সুরক্ষিত সামরিক অবস্থান, গোলাবর্ষণের স্থান, যোদ্ধাদের সমাবেশস্থল এবং রসদ সরবরাহের পথগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়।

তিনি দাবি করেন যে, তাইজ প্রদেশে সরকারি বাহিনীর অভিযান জোরদার হওয়ায় হুথি যোদ্ধারা কয়েকটি অবস্থান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া পূর্ব, দক্ষিণ এবং পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন রণাঙ্গনে সমন্বিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

আল-নুজাইলি আরও বলেন, এসব অভিযানের ফলে হুথিদের রিজার্ভ বাহিনী স্থানান্তর ও নতুন করে শক্তি সঞ্চয়ের সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে। পশ্চিম উপকূল এবং কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালীর কাছাকাছি এলাকাতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্রের দাবি, হামলাগুলো নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বেসামরিক নাগরিক এবং অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। তবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

এর আগে সোমবার, আগের ২৪ ঘণ্টায় ১,১৬৪টি হামলা চালানোর দাবি করেছিল ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী। ওই অভিযানে ৫৫৮ জন হুথি যোদ্ধা নিহত বা নিষ্ক্রিয় হয়েছেন এবং ১৩৫টি সামরিক যান ও সরঞ্জাম ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন আল-নুজাইলি।

২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখলের পর থেকে ইয়েমেনে সংঘাত চলছে। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে দেশটির অবকাঠামো ও অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংঘাতের কারণে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সেবার সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

সূত্র: আল আরাবিয়া, আরব নিউজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%