ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্ন দেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা করুন: গাজীপুরের ডিসি


ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্ন দেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা করুন: গাজীপুরের ডিসি

মেয়েদের নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা, শৃঙ্খলা ও আত্মনির্ভরশীলতার বিকাশে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ অ্যাসোসিয়েশনের ১৩তম জাতীয় গাইড ক্যাম্প-২০২৬ দীর্ঘ ১১ বছর পর শুরু হয়েছে। এই ক্যাম্পটি ৩ থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী প্রকৃতির মাঝে তাঁবু বাস ও বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আজ রবিবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বাড়ইপাড়ার জাতীয় ক্যাম্পে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া পরিবেশ সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাংলাদেশ একদিন সবুজে ভরে উঠবে, হবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।" জেলা প্রশাসক হিসেবে তিনি গার্লস গাইডদের চলমান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক দূষণ রোধে আলোচনা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সরকার ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। গাজীপুর জেলায় এই কার্যক্রমে তোমরা গার্লস গাইডরা নেতৃত্ব দেবে এই প্রত্যাশা রাখি। সবুজের বাংলাদেশ বিনির্মাণে গার্লস গাইডরা হবে গ্রীন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর।"

জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, "প্রতি বছরই এরকম জাতীয় গাইড ক্যাম্প হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে ও প্রতিকূল পরিবেশের জন্য সেটা হয়নি। আমরা সৌভাগ্যবান, দীর্ঘ ১১ বছর পর এবার গাজীপুরে এই জাতীয় গাইড ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গার্ল গাইডদের যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেই গাইডরা, আঞ্চলিক ও কেন্দ্রীয় কমিশনারবৃন্দ, মেয়েদের মায়েরা এসেছেন, শিক্ষকরা এসেছেন। আগামী ৭ দিন তারা বিভিন্ন বিষয়ে শিখবে।"

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় কমিশনার ও সাবেক গ্রেড-১ কর্মকর্তা কাজী জেবুন্নেছা বেগম সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এম. রকিবুল হাসান। অনুষ্ঠানে ডেপুটি জাতীয় কমিশনার প্রফেসর ড. ইয়াসমিন আহমেদ, জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাগণও উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানীসহ দেশের ১০টি অঞ্চল থেকে প্রায় ৬০০ গাইড, গাইডার ও কমিশনার এই ক্যাম্পে অংশ নিচ্ছেন। প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে চলা, দলগত কাজ, নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন এবং সৃজনশীলতা বিকাশের মাধ্যমে কিশোরীদের আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই এই ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: কাউখালীতে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় ১৮ পদে ১৪২ জন নিয়োগ, ৮ম শ্রেণি পাসেও আবেদনের সুযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪২ পি.এম


বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় ১৮ পদে ১৪২ জন নিয়োগ, ৮ম শ্রেণি পাসেও আবেদনের সুযোগ

বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা (বিওএফ) জনবল নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। কারখানাটি ১৮টি পদে মোট ১৪২ জনকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত। আবেদন করার জন্য সময়সীমা মাত্র দু’দিন রয়েছে। যারা এখনো আবেদন করেননি, তাদের দ্রুত আবেদন করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানের নাম : বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা (বিওএফ)

পদের সংখ্যা : ১৮ পদে ১৪২ জন

পদের বিবরণ

চাকরির ধরন : স্থায়ী

কর্মস্থল : গাজীপুর

প্রার্থীর ধরন : নারী-পুরুষ

বয়সের সীমা : ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে ১, ২, ৪, ৫, ৬, ৭, ৯, ১০, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর পদের জন্য বিভাগীয় প্রার্থীদের বয়স ৪০ বছর পর্যন্ত এবং ৩, ৮, ১১ ও ১৬ নম্বর পদের জন্য ৪৫ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না।

আবেদন ফি : টেলিটক সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি হিসেবে ১ নম্বর পদের জন্য ১৬৮ টাকা, ২-৮ নম্বর পদের জন্য ১১২ টাকা এবং ৯-১৮ নম্বর পদের জন্য ৫৬ টাকা অফেরতযোগ্যভাবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে।

আবেদনের প্রক্রিয়া : আগ্রহী প্রার্থীরা বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার (বিওএফ) ওয়েবসাইট https://bof.teletalk.com.bd/ এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

করণীয় : আবেদনপত্রের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি এবং ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না।

আবেদনের সময়সীমা : আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৬ অক্টোবর, ২০২৬ ইং তারিখ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এলপিজির দাম ২৫২ টাকা বেড়ে ১,৮৩৭ টাকা, আজ থেকেই কার্যকর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪২ পি.এম


এলপিজির দাম ২৫২ টাকা বেড়ে ১,৮৩৭ টাকা, আজ থেকেই কার্যকর

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) তরলীকৃত পেট্রলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বৃদ্ধি করেছে। অক্টোবর মাসের জন্য আজ রবিবার নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে বিইআরসি।

নতুন মূল্য নির্ধারণ অনুযায়ী, ১২ কেজি এলজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বৃদ্ধি করে এক হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়েছে। আজ রবিবার থেকেই এই নতুন দাম কার্যকর হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতক্ষীরায় মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট, আটক ২ যুবক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


সাতক্ষীরায় মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট, আটক ২ যুবক

সাতক্ষীরা সদরে দুই সহোদরের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে, যাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা মাদক কিনতে আসা দুই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে ফিংড়ী ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে ফটিক ফকিরের ছেলে ফজর আলী ও আইয়ুব আলীর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফজর আলী ও আইয়ুব আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাদের কারণে এলাকার যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুক্রবার রাতে গাঁজা কিনতে আসা দুই যুবকের সঙ্গে স্থানীয়দের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের মকবুল জমাদারের ছেলে খুরশিদ আলমকে টর্চলাইটের আলো দেখানো নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

শনিবার রাতে ২০০ থেকে ৩০০ জনের মতো বিভিন্ন বয়সী মানুষ ‘নারায় তাকবীর’ স্লোগান দিতে দিতে ফজর আলী ও আইয়ুব আলীর বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ফজর আলীর স্ত্রী মমতাজ খাতুন অভিযোগ করেছেন, রাস্তায় কয়েকজনের সঙ্গে তার স্বামীর বিরোধের কারণে লোকজন বাড়িতে এসে ভাঙচুর চালায়। এ সময় ঘরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র নষ্ট করার পাশাপাশি নগদ টাকা এবং ফ্রিজে থাকা ডিম, খাবারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়।

গাঁজা কিনতে আসার অভিযোগে আটক দুই যুবক হলেন ধুলিহর ইউনিয়নের কাশীনাথপুর গ্রামের সুজয় সরকারের ছেলে তপন সরকার (২৭) এবং একই ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের বিশ্ব সরকারের ছেলে সাগর সরকার (২৩)। স্থানীয়রা তাদের আটক করে রাখার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হাবিবুর রহমান হাবিব বলেছেন, ‘দুই ব্যক্তি গাঁজা কিনতে এসেছিলেন—এমন অভিযোগে স্থানীয়রা তাদের আটক করে রাখে। পরে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষক পেশার মর্যাদা ও সংকট: আমাদের শেকড় বাঁচানোর লড়াই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


শিক্ষক পেশার মর্যাদা ও সংকট: আমাদের শেকড় বাঁচানোর লড়াই

ভোরবেলার কুয়াশা ভেদ করে কিংবা দুপুরের চড়া রোদে একজন ব্যক্তি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাসরুমে প্রবেশ করেন। তার হাতে থাকে চকবোর্ড বা মার্কার, আর চোখে থাকে তরুণদের মনের কৌতূহল মেটানোর অদ্ভুত আলো। এই ব্যক্তিকে আমরা শিক্ষক বলে জানি। কিন্তু সমাজ হিসেবে কি আমরা কখনো আয়নায় নিজেদের মুখ ফিরিয়ে দেখেছি যে, আমরা এই ব্যক্তির সঙ্গে কেমন আচরণ করছি? বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য—‘পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষক পেশার মর্যাদা রক্ষা এবং এগিয়ে নেওয়া’—যেন আমাদের আত্মোপলব্ধির আয়নাটিকে আরেকবার পরিষ্কার করে দেয়।

আজকের পৃথিবী আগের মতো নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অ্যালগরিদম এবং প্রযুক্তির ঝড়ে সবকিছু বদলে যাচ্ছে চোখের পলকে। তথ্য এখন আর কেবল শিক্ষকের মুখস্থ বলা বুলিতে সীমাবদ্ধ নয়; স্মার্টফোনের মাধ্যমে মহাবিশ্বের জ্ঞান পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় শিক্ষকের ভূমিকা পরিবর্তিত হচ্ছে, এটি সত্য। শিক্ষক এখন আর কেবল তথ্যদাতা নন, তিনি নির্দেশক এবং পথপ্রদর্শক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রযুক্তির এই বাজারে আমরা কি শিক্ষকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা টিকিয়ে রাখতে পেরেছি? নাকি তাকে দিন দিন কোণঠাসা ও প্রান্তিক চরিত্রে পরিণত করছি?

বাস্তবতার নির্মম চিত্র আমাদের আশপাশে ছড়িয়ে আছে। অথচ আমাদের সমাজে একটি অদ্ভুত দ্বিচারিতা বিদ্যমান। আমরা কথায় কথায় বলি, ‘শিক্ষকরা জাতির মেরুদণ্ড।’ কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে ওই মেরুদণ্ডকেই সবচেয়ে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষকের সামাজিক সম্মান আজ কেবল মুখের বুলিতে টিকে আছে, বাস্তব জীবনে নয়। একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন নন-এমপিও শিক্ষক মাসের পর মাস যে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটান, তা কি কোনো সভ্য সমাজের জন্য গৌরবের? যখন একজন মেধাবী তরুণ বা তরুণী দেখে যে, তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী শিক্ষক সমাজের অন্যান্য পেশার মানুষের তুলনায় চরম আর্থিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন, তখন সে কি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে উৎসাহী হবে? মেধার এই উল্টো স্রোত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ভিতটাই ধসিয়ে দিচ্ছে।

শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য আমরা কত কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করি, কত নতুন কারিকুলাম তৈরি করি, বিদেশ থেকে বড় বড় কনসালট্যান্ট এনে ওয়ার্কশপ করি। কিন্তু যার ওপর দাঁড়িয়ে এই পুরো ইমারত তৈরি হবে, সেই শিক্ষকের পেটে যদি ক্ষুধা থাকে এবং মনে যদি দুশ্চিন্তা থাকে, তবে কোনো কারিকুলামই কার্যকর হবে না। একটি ভালো গাড়ি চালানোর জন্য যেমন ভালো চালক এবং তার যথাযথ মূল্যায়ন প্রয়োজন, তেমনি একটি আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য মানসিকভাবে মুক্ত এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল শিক্ষক প্রয়োজন। মর্যাদা শুধু পকেটের টাকার অঙ্কে মাপা যায় না, ঠিকই। কিন্তু পেটে ভাত না থাকলে গলার জোর থাকে না, তেমনি সামাজিক নিরাপত্তার অভাব থাকলে পেশাগত উৎকর্ষও আশা করা যায় না।

পরিবর্তনশীল বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে। শিক্ষকদের হাতে প্রযুক্তির হাতিয়ার তুলে দিতে হবে। কিন্তু তার আগে তাদের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে হবে। উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে শিক্ষকদের বেতন সমাজের সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি রাখা হয়। দক্ষিণ কোরিয়া বা ফিনল্যান্ডের মতো দেশে শিক্ষক হওয়া মানে সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত ও লোভনীয় পেশার অংশ হওয়া। আমাদের দেশেও যদি মেধাবীদের শিক্ষকতায় আকৃষ্ট করতে হয়, তবে এই কাঠামোগত পরিবর্তন আনতেই হবে। শিক্ষকতার পেশাকে কেবল একটি চাকরি ভাবলে চলবে না, এটি রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।

পাশাপাশি, শিক্ষকতার সামাজিক মর্যাদাকে ফিরিয়ে আনতে হবে শ্রেণিকক্ষ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায় পর্যন্ত। রাজনৈতিক বলয় বা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে শিক্ষকদের মূল্যায়ন করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, শিক্ষক সমাজেও এক ধরনের বিভাজন তৈরি হয়েছে, যা পেশার সম্মিলিত শক্তিকে দুর্বল করে দেয়। শিক্ষকদের নিজেদের মধ্যেও পেশাগত নৈতিকতা, সততা এবং যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মানসিকতা বজায় রাখতে হবে। শুধু অধিকারের কথা বললে চলবে না, দায়িত্বের জায়গাটাও সমানভাবে সততার সঙ্গে পালন করতে হবে। যখন একজন শিক্ষক তার কাজের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে আস্থার জায়গা তৈরি করতে পারেন, তখন আপনাআপনিই তার প্রতি সমাজের শ্রদ্ধা ফিরে আসে।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এই প্রতিপাদ্য আমাদের জন্য কোনো গতানুগতিক স্লোগান নয়, এটি একটি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা। যদি আমরা পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক এবং প্রগতিশীল সমাজ গড়তে চাই, তবে শিক্ষককে কোণঠাসা করে রেখে তা কখনো সম্ভব নয়। আমাদের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—সবাইকে উপলব্ধি করতে হবে যে, শিক্ষকের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়া মানে পুরো জাতির ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া।

আসুন, আজকের এই দিনে আমরা শুধু আনুষ্ঠানিকতা বা শুভেচ্ছাবাণীতে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা এবং পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করি। কারণ, শিক্ষক বাঁচলে শিক্ষা বাঁচবে, আর শিক্ষা বাঁচলে তবেই বাঁচবে আমাদের আগামী প্রজন্ম।

লেখক : জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, মেহেউদ্দিন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জিয়ানগর, পিরোজপুর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%