ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শেফালির বিশ্বরেকর্ডে ভারতের এশিয়া কাপ পুনরুদ্ধার


শেফালির বিশ্বরেকর্ডে ভারতের এশিয়া কাপ পুনরুদ্ধার

ভারত আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে এশিয়ার মঞ্চে। ২০২৬ নারী এশিয়া কাপের শিরোপা জিতে নিয়েছে তারা, শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানার বিধ্বংসী ব্যাটিং এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে পরাজিত করে ট্রফি ঘরে তোলে ভারত।

দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারত আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৮৩ রান সংগ্রহ করে। শ্রীলঙ্কা, যা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, ১১১ রানে গুটিয়ে যায়।

এই জয়ের ফলে টি-টোয়েন্টি নারী এশিয়া কাপে ভারতের শিরোপার সংখ্যা চারটিতে পৌঁছেছে। এর আগে ওয়ানডে সংস্করণের চারটি আসরেও (২০০৪, ২০০৫-০৬, ২০০৬ ও ২০০৮) চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দলটি।

আরও পড়ুন: এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ক্রিকেটে ফারইস্টকে হারিয়ে সোনারগাঁওয়ের টানা দুই জয়

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারতীয় ওপেনার শেফালি ও স্মৃতি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। পাওয়ার প্লেতে ৫৭ রান তুলে শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন তারা। চলতি টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো পাওয়ার প্লেতে ৫০ রানের গণ্ডি পেরোয় ভারত।

দ্রুত রান তোলার ধারাবাহিকতায় শেফালি ভার্মা মাত্র ২৪ বলে ক্যারিয়ারের ২১তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি পূর্ণ করেন। এটি নারী এশিয়া কাপের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে দ্রুততম ফিফটি। অন্যদিকে স্মৃতি মান্ধানা ৩৫ বলে নিজের ৩৬তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন।

দুই ওপেনারের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ভারত ১০.৩ ওভারেই দলীয় শতরান পূর্ণ করে। আন্তর্জাতিক নারী টি-টোয়েন্টিতে ১০০ বা তার বেশি রানের জুটি গড়ার সংখ্যায় শীর্ষে ওঠেন শেফালি ও স্মৃতি। তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের এশা ওজা ও থির্থা সতীশের ছয়টি শতরানের জুটির রেকর্ড স্পর্শ করেন।

চামুদি প্রভোদার বলে আউট হওয়ার আগে শেফালি ৩৯ বলে ৫৯ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কা। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ভাঙে ১২৯ রানের উদ্বোধনী জুটি, যা নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ। এটি অন্তত পাঁচটি দল অংশ নেওয়া কোনো নারী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালেও সর্বোচ্চ রানের জুটি।

আরও পড়ুন: সাদমানের উপর আস্থা রাখছেন কোচ সালাহউদ্দিন, সেঞ্চুরির আশা

শেফালির বিদায়ের পরের ওভারেই রানআউট হয়ে ফেরেন স্মৃতি। হারমানপ্রীত কৌরের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে সাজঘরে ফেরার আগে তিনি ৩৯ বলে ৫৯ রান করেন, যেখানে ছিল চারটি চার ও তিনটি ছক্কা। চলতি আসরে এটি ছিল তার তৃতীয় রানআউট।

মধ্যভাগে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফেরায় শ্রীলঙ্কার বোলাররা। হারমানপ্রীত কৌর ১৪ বলে ১৪ রান করে আউট হন। রিচা ঘোষ ১৩ বলে ১৭ রান করেন, আর দীপ্তি শর্মা রানআউট হওয়ার আগে ৭ বলে ৫ রান করেন।

শেষ দিকে গুণালন কমলিনীর মাত্র পাঁচ বলে ১৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে ভারত ২০ ওভারে ১৮৩ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। নারী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের কোনো ফাইনালে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।

শ্রীলঙ্কার হয়ে চামারি আতাপাত্তু, মিথালি আয়োধ্যা ও নীলাক্ষিকা সিলভা একটি করে উইকেট শিকার করেন।

আরও পড়ুন: মিরপুরে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টের ফ্লাডলাইটে আগুন, খেলা বন্ধ

১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা শুরুতেই ধাক্কা খায়। দলীয় চার রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে ৫৮ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন বিশমি গুনারত্নে ও চামারি আতাপাত্তু।

তবে ৩৬ রান করে আতাপাত্তু আউট হওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভারতের হাতে চলে যায়। পরের ওভারেই ২০ রান করা গুনারত্নে ফিরলে ভেঙে পড়ে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা শ্রীলঙ্কা শেষ পর্যন্ত ১১১ রানেই অলআউট হয়।

ভারতের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন শ্রী চরণী। তিনি চার ওভারে ২০ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন। দীপ্তি শর্মা চার ওভারে ১৯ রান খরচায় শিকার করেন তিন উইকেট। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মাধ্যমেই ভারত বড় জয় নিশ্চিত করে।

আরও পড়ুন: সাদমানের উপর আস্থা রাখছেন মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আসিফ মাহমুদের দেশে-বিদেশে ও সুইস ব্যাংকে সম্পদ গড়ার অভিযোগ: দুদক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:৫৬ এম


আসিফ মাহমুদের দেশে-বিদেশে ও সুইস ব্যাংকে সম্পদ গড়ার অভিযোগ: দুদক

সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়া বিদেশে বিপুল অর্থপাচার করে পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইস ব্যাংকের সম্পদ গড়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

প্রাপ্ত অভিযোগে আর্থিক অনিয়ম ও লেনদেনের যেসব অঙ্ক উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো যোগ করলে পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, এর মধ্যে দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ সবচেয়ে বড় অঙ্কের। বাকি অর্থের অভিযোগ রয়েছে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিভিন্ন পদে নিয়োগ, প্রকল্প, টেন্ডার এবং ঘুস লেনদেন ঘিরে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪ জনের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বদলি, কেনাকাটা সিন্ডিকেটের মাধ্যমেসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের কথা বলা হয়।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ।

তিনি বলেন, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থপাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার নিয়োগ বদলি এবং পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ও শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে বিপুল অর্থপাচার করে পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইস ব্যাংকের সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া আসিফ মাহমুদের বাবা, এপিএস ও পিওর বিরুদ্ধে ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ঘুষ লেনদেনের তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ যাচাই বাছাই শেষে চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে সংযুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান দুদকের এই কর্মকর্তা।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পার্থকে বক্তব্যে বাড়তি ৮ মিনিট, স্পিকারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ খুনসুটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০১ এম


পার্থকে বক্তব্যে বাড়তি ৮ মিনিট, স্পিকারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ খুনসুটি

জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার জন্য নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে স্পিকার আরও ৮ মিনিট সময় প্রদান করেছেন। এই বিষয়টি অধিবেশনে হাস্যরসের পরিবেশ সৃষ্টি করে। বক্তব্যের এক পর্যায়ে পার্থ স্পিকারের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের কথাও উল্লেখ করেন।

সাধারণত সংসদে সদস্যদের বক্তব্যের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ থাকে। তবে, যদি বক্তব্য শেষ করার প্রয়োজন হয়, তাহলে স্পিকার বিশেষ বিবেচনায় অতিরিক্ত সময় দিতে পারেন। পার্থর বক্তব্যের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের পর তাকে আরও ৮ মিনিট কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

বাড়তি সময় পাওয়ার প্রসঙ্গটি রসিকতার ছলে তুলে ধরে পার্থ জানান, স্পিকার তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দীর্ঘদিনের বন্ধু। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, এই বন্ধুত্বের কারণেই হয়ত তিনি বাড়তি সময় পেয়েছেন।

পার্থর এই মন্তব্যে সংসদে হাসির রোল পড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং উপস্থিত সংসদ সদস্যদের অনেকেই হাসিতে যোগ দেন এবং টেবিল চাপড়ে মুহূর্তটিকে স্বাগত জানান।

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, কোনো সদস্যকে বক্তব্যের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়ার এখতিয়ার স্পিকারের রয়েছে। তবে, পার্থর বক্তব্যের সাবলীলতা এবং স্পিকারের সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ খুনসুটি অধিবেশনের পরিবেশকে কিছুটা প্রাণবন্ত করে তোলে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারিতে দেরির কারণ কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ এম


নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারিতে দেরির কারণ কী?

বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করার প্রায় দুই সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও এখনো প্রজ্ঞাপন (গেজেট) প্রকাশ করা হয়নি। এই অবস্থায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, প্রক্রিয়াটি আবারও কোনো জটিলতায় আটকে পড়েছে কি না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সরকারি কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে গেজেট হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এ কারণে সবাই চিন্তিত।’

গত ৩১ আগস্ট নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেয় সরকার। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত সেটি প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

তবে সাবেক আমলারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার জানান, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের আগে একাধিক প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এসব কাজ শেষ হতে অনেক সময় কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও লাগতে পারে।

কেন সময় লাগছে?

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত করতে হয়। এতে বিভিন্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ বলেন, শুধু জনপ্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, সরকারি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মীদের ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো কীভাবে কার্যকর হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হয়। এসব বিষয় প্রস্তুত করতেই অনেক সময় লাগে।

খসড়া প্রস্তুত হওয়ার পর তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে সংবিধান বা বিদ্যমান আইন-কানুনের সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি আইনি ভাষা ও পরিভাষার যথার্থতাও নিশ্চিত করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো জটিলতা সৃষ্টি না হয়।

এখনও আইন মন্ত্রণালয়ে যায়নি খসড়া

যদিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেটি এখনও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছেই রয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত সপ্তাহে দুই-এক দিনের মধ্যে খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু রোববার পর্যন্ত সেটি তাদের কাছে পৌঁছায়নি।

অন্যদিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এটি আটকে থাকার বিষয় নয়। গেজেট প্রকাশের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কারিগরি কাজ শেষ করতে কিছুটা সময় লাগছে। বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বাস্তবায়নের বিস্তারিত নির্দেশনা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। খুব শিগগিরই খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

অতীতে কত সময় লেগেছিল?

সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। সে সময় ৭ সেপ্টেম্বর অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেলেও চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। অর্থাৎ অনুমোদন থেকে গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় লেগেছিল।

সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হচ্ছে। তাই কিছুটা বিলম্ব অস্বাভাবিক নয়।

কার কত বেতন বাড়ছে?

নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সরকার জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হবে। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জুলাই মাস থেকেই বর্ধিত বেতনের সুবিধা পাবেন। প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।

এর আগে জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশ এবং পরবর্তী পর্যালোচনা কমিটির মতামতের ভিত্তিতেই বর্তমান সরকার নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দিয়েছে.

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আসিফ নজরুলের দুই ছাগলই খাওয়া উচিত ছিল: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১০ এম


আসিফ নজরুলের দুই ছাগলই খাওয়া উচিত ছিল: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের পোষা ছাগল চুরির ঘটনার প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মন্তব্য করেছেন যে, আসিফ নজরুলের দুটি ছাগলই খাওয়া উচিত ছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, "আসিফ নজরুলের একটি ছাগল খাওয়া হয়েছে, অথচ তার দুটিই খাওয়া উচিত ছিল।" একটি বাদ দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি ধিক্কার জানান। একইসঙ্গে, আসিফ নজরুলকে ‘খুব ভালো মানুষ নন’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পাটওয়ারী আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আসিফ নজরুল গরু, ছাগল ও মুরগি পালন শুরু করেছিলেন এবং এসব প্রাণী যেখানে রাখা হতো, সেখানে পুলিশের নিরাপত্তা প্রদান করা হয়েছিল। তিনি সতর্ক করেন যে, ছাগল খাওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সুযোগ পেলে আরেকটি ছাগলও খেতে পারেন।

এর আগে, একটি টকশোতে আসিফ নজরুল নিজের ছোট মেয়ের পোষা ছাগল চুরির ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি এই ঘটনাটিকে তার জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

আসিফ নজরুল জানান, তিনি হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবনে একা থাকতেন। তাই সাড়ে ৯ বছর বয়সী ছোট মেয়ের সঙ্গী হিসেবে ছাগলটি কিনে দেওয়া হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যে মেয়েটির সঙ্গে প্রাণীটির গভীর সখ্যতা গড়ে ওঠে। মেয়ের স্কুলে যাওয়া ও ফিরে আসার সঙ্গে ছাগলটিরও এক ধরনের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। এমনকি, মেয়েটি নিজের ফোনের ওয়ালপেপারে মায়ের ছবির পরিবর্তে ছাগলটির সঙ্গে তোলা ছবিও ব্যবহার করত।

তিনি আরও জানান, ছাগলটি চুরি হয়ে যাওয়ার পর তার মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। কান্নার সময় বমি করে ফেলা এবং প্রায় দেড় দিন খাবার না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

আসিফ নজরুলের মতে, ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও মূলত মজা করার উদ্দেশ্যেই ছাগলটি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে, একটি শিশুর পোষা প্রাণী চুরি করে সেটি খেয়ে ফেলার ঘটনা অত্যন্ত নির্মম ও অমানবিক।

তিনি বলেন, ছাত্রনেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ বা প্রতিবাদের অংশ হিসেবে ছাগলটি চুরি করে খাওয়ার যে কথা বলা হয়েছিল, সেটি সঠিক নয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা থাকাকালে হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন থেকে আসিফ নজরুলের ছোট মেয়ের পোষা ছাগল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%