প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারত আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে এশিয়ার মঞ্চে। ২০২৬ নারী এশিয়া কাপের শিরোপা জিতে নিয়েছে তারা, শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানার বিধ্বংসী ব্যাটিং এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে। ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে পরাজিত করে ট্রফি ঘরে তোলে ভারত।
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারত আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৮৩ রান সংগ্রহ করে। শ্রীলঙ্কা, যা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, ১১১ রানে গুটিয়ে যায়।
এই জয়ের ফলে টি-টোয়েন্টি নারী এশিয়া কাপে ভারতের শিরোপার সংখ্যা চারটিতে পৌঁছেছে। এর আগে ওয়ানডে সংস্করণের চারটি আসরেও (২০০৪, ২০০৫-০৬, ২০০৬ ও ২০০৮) চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দলটি।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারতীয় ওপেনার শেফালি ও স্মৃতি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। পাওয়ার প্লেতে ৫৭ রান তুলে শ্রীলঙ্কার বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন তারা। চলতি টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো পাওয়ার প্লেতে ৫০ রানের গণ্ডি পেরোয় ভারত।
দ্রুত রান তোলার ধারাবাহিকতায় শেফালি ভার্মা মাত্র ২৪ বলে ক্যারিয়ারের ২১তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি পূর্ণ করেন। এটি নারী এশিয়া কাপের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে দ্রুততম ফিফটি। অন্যদিকে স্মৃতি মান্ধানা ৩৫ বলে নিজের ৩৬তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন।
দুই ওপেনারের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ভারত ১০.৩ ওভারেই দলীয় শতরান পূর্ণ করে। আন্তর্জাতিক নারী টি-টোয়েন্টিতে ১০০ বা তার বেশি রানের জুটি গড়ার সংখ্যায় শীর্ষে ওঠেন শেফালি ও স্মৃতি। তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের এশা ওজা ও থির্থা সতীশের ছয়টি শতরানের জুটির রেকর্ড স্পর্শ করেন।
চামুদি প্রভোদার বলে আউট হওয়ার আগে শেফালি ৩৯ বলে ৫৯ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কা। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ভাঙে ১২৯ রানের উদ্বোধনী জুটি, যা নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ। এটি অন্তত পাঁচটি দল অংশ নেওয়া কোনো নারী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালেও সর্বোচ্চ রানের জুটি।
শেফালির বিদায়ের পরের ওভারেই রানআউট হয়ে ফেরেন স্মৃতি। হারমানপ্রীত কৌরের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে সাজঘরে ফেরার আগে তিনি ৩৯ বলে ৫৯ রান করেন, যেখানে ছিল চারটি চার ও তিনটি ছক্কা। চলতি আসরে এটি ছিল তার তৃতীয় রানআউট।
মধ্যভাগে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফেরায় শ্রীলঙ্কার বোলাররা। হারমানপ্রীত কৌর ১৪ বলে ১৪ রান করে আউট হন। রিচা ঘোষ ১৩ বলে ১৭ রান করেন, আর দীপ্তি শর্মা রানআউট হওয়ার আগে ৭ বলে ৫ রান করেন।
শেষ দিকে গুণালন কমলিনীর মাত্র পাঁচ বলে ১৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে ভারত ২০ ওভারে ১৮৩ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। নারী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের কোনো ফাইনালে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।
শ্রীলঙ্কার হয়ে চামারি আতাপাত্তু, মিথালি আয়োধ্যা ও নীলাক্ষিকা সিলভা একটি করে উইকেট শিকার করেন।
১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা শুরুতেই ধাক্কা খায়। দলীয় চার রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারানোর পর দ্বিতীয় উইকেটে ৫৮ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন বিশমি গুনারত্নে ও চামারি আতাপাত্তু।
তবে ৩৬ রান করে আতাপাত্তু আউট হওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ভারতের হাতে চলে যায়। পরের ওভারেই ২০ রান করা গুনারত্নে ফিরলে ভেঙে পড়ে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা শ্রীলঙ্কা শেষ পর্যন্ত ১১১ রানেই অলআউট হয়।
ভারতের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন শ্রী চরণী। তিনি চার ওভারে ২০ রান দিয়ে চারটি উইকেট নেন। দীপ্তি শর্মা চার ওভারে ১৯ রান খরচায় শিকার করেন তিন উইকেট। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মাধ্যমেই ভারত বড় জয় নিশ্চিত করে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন