০৮:৫৩ পি.এম
২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, সাধারণ ও নির্বাহী আদেশের অধীনে মোট ২৯ দিন সরকারি ছুটি থাকবে, যার মধ্যে ৭ দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়েছে। তাই কার্যকর সরকারি ছুটি থাকবে ২২ দিন। এছাড়া, সরকারি কর্মচারীরা ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বছরে সর্বোচ্চ ৩ দিন ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন, যা কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।
সাধারণ ছুটি
২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ৫ মার্চ জুমাতুল বিদা, ১০ মার্চ ঈদুল ফিতর, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, ১৩ এপ্রিল চৈত্র সংক্রান্তি, ১ মে মে দিবস, ১৭ মে ঈদুল আজহা, ২০ মে বুদ্ধপূর্ণিমা (বৈশাখী পূর্ণিমা), ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস, ১৫ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.), ২৫ আগস্ট জন্মাষ্টমী, ১০ অক্টোবর দুর্গাপূজা (বিজয়া দশমী), ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস এবং ২৫ ডিসেম্বর যিশু খ্রিষ্টের জন্মদিন (বড়দিন)।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে চাকরিজীবীদের জন্য ৪ দিনের ছুটির সুযোগ
নির্বাহী আদেশে ছুটি
২৪ জানুয়ারি শবেবরাত, ৭ মার্চ শবেকদর, ৮ ও ৯ মার্চ এবং ১১ ও ১২ মার্চ ঈদুল ফিতরের আগে দুই ও পরে দুদিনসহ মোট চারদিন, ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ, ঈদুল আজহার আগে ১৫ ও ১৬ মে দুদিন এবং পরে ১৮ থেকে ২০ মে পর্যন্ত তিনদিনসহ মোট পাঁচদিন, ১৬ জুন আশুরা এবং ৯ অক্টোবর দুর্গাপূজার মহানবমীর দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে।
ঐচ্ছিক ছুটি
ঐচ্ছিক ছুটির মুসলিম পর্বের মধ্যে রয়েছে- ৬ জানুয়ারি শবে মেরাজ, ১৩ মার্চ ঈদুল ফিতরের পরের তৃতীয় দিন, ২১ ঈদুল আজহার পরের চতুর্থ দিন, ২৮ জুলাই আখেরি চাহার শোম্বা, ১৩ সেপ্টেম্বর ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম এবং ২৬ ডিসেম্বর শবে মেরাজ।
আরও পড়ুন: এইচএসসি পাসে জনবল নেবে কারিতাস এনজিও, অভিজ্ঞতা লাগবে না
হিন্দু পর্বের ঐচ্ছিক ছুটির দিনগুলোর মধ্যে রয়েছে- ১১ ফেব্রুয়ারি সরস্বতী পূজা, ৬ মার্চ শিবরাত্রী ব্রত, ২২ মার্চ দোলযাত্রা, ৪ এপ্রিল হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব, ৩০ সেপ্টেম্বর মহালয়া, ৭ ও ৮ অক্টোবর দুর্গাপূজা (সপ্তমী ও অষ্টমী), ১৪ অক্টোবর লক্ষ্মীপূজা এবং ২৮ অক্টোবর শ্যামাপূজা।
এ ছাড়া ১ জানুয়ারি ইংরেজি নববর্ষ, ১০ ফেব্রুয়ারি ভস্ম বুধবার, ২৫ মার্চ পূণ্য বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ পূণ্য শুক্রবার, ২৭ মার্চ পূণ্য শনিবার, ২৮ মার্চ ইস্টার সানডে এবং ২৪ ও ২৬ ডিসেম্বর যিশু খ্রিস্টের জন্মোৎসব (বড়দিনের আগে ও পরের দিন) হচ্ছে খ্রিস্টান পর্বের ঐচ্ছিক ছুটি।
ঐচ্ছিক ছুটির বৌদ্ধ পর্বের মধ্যে রয়েছে- ২০ ফেব্রুয়ারি মাঘী পূর্ণিমা, ১৩ এপ্রিল চৈত্র সংক্রান্তি (তিনটি পার্বত্য জেলা ছাড়া দেশের অন্যত্র সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য প্রযোজ্য), ১৯ ও ২১ মে বুদ্ধ পূর্ণিমা (পূর্বের ও পরের দিন), ১৮ জুলাই আষাঢ়ী পূর্ণিমা, ১৫ সেপ্টেম্বর মধু পূর্ণিমা এবং ১৪ অক্টোবর প্রবারণা পূর্ণিমা (আশ্বিনী পূর্ণিমা)।
২০২৭ সালের টানা ছুটির সুযোগ কত বার?
আরও পড়ুন: আইসিডিডিআরবি ৯৬ হাজার বেতনে চিকিৎসক পদে নিয়োগ দিচ্ছে, বয়সসীমা নেই
জানুয়ারি : ১ জানুয়ারি (শুক্রবার) খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের ইংরেজি নববর্ষ এবং ৬ জানুয়ারি (বুধবার) মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র শবে মিরাজ উপলক্ষে ঐচ্ছিক ছুটি রয়েছে।
ফেব্রুয়ারি : ১০ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) খ্রিষ্টানদের ভস্ম বুধবার এবং ১১ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সরস্বতী পূজা। ১১ ফেব্রুয়ারি ছুটি নিলে পরবর্তী দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটিসহ (শুক্র ও শনি) টানা ৩ দিন ছুটি কাটানো যাবে। এ ছাড়া ২০ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মাঘী পূর্ণিমা (সাপ্তাহিক ছুটির দিন)।
মার্চ : ৬ মার্চ (শনিবার) শিবরাত্রি ব্রত এবং ১৩ মার্চ (শনিবার) পবিত্র ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিন (উভয় দিনই সাপ্তাহিক ছুটির অন্তর্ভুক্ত)। ২২ মার্চ (সোমবার) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দোলযাত্রা।
খ্রিষ্টানদের জন্য ২৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার) পুণ্য বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ (শুক্রবার) পুণ্য শুক্রবার (স্বাধীনতা দিবসের সাধারণ ছুটি), ২৭ মার্চ (শনিবার) পুণ্য শনিবার এবং ২৮ মার্চ (রবিবার) ইস্টার সানডে। ২৫ ও ২৮ মার্চ ঐচ্ছিক ছুটি নিলে সাধারণ ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা ৪ দিন ছুটির সুযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: মেঘনা গ্রুপে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে জনবল নিয়োগ
এপ্রিল : ৪ এপ্রিল (রবিবার) হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিলে আগের দুদিনের সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ৩ দিন ছুটি কাটানো সম্ভব।
বৈসাবি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উৎসব উপলক্ষে ১২ এপ্রিল (সোমবার) ও ১৫ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) ঐচ্ছিক ছুটি রয়েছে। ১৩ এপ্রিল (মঙ্গলবার) চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে (তিন পার্বত্য জেলা ব্যতীত) দেশের অন্য অঞ্চলে ছুটি প্রযোজ্য।
মে : ১৯ মে (বুধবার) ও ২১ মে (শুক্রবার) বৌদ্ধদের বুদ্ধপূর্ণিমার আগে ও পরের দিনের ঐচ্ছিক ছুটি। ১৭ মে (সোমবার, চাঁদ সাপেক্ষে) ঈদুল আজহার চতুর্থ দিন ২১ মে (শুক্রবার, সাপ্তাহিক ছুটির দিন) মুসলিমদের ঐচ্ছিক ছুটি রয়েছে।
জুন : এই মাসে কোনো ঐচ্ছিক ছুটি নেই।
আরও পড়ুন: সরকারি চাকারি প্রত্যাশীদের জন্য ৩৪৭ জন কর্মী নিয়োগের সুখবর
জুলাই : ১৮ জুলাই (রবিবার, সম্ভাব্য) বৌদ্ধদের আষাঢ়ী পূর্ণিমা। ছুটি নিলে আগের সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ৩ দিন ছুটি পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ২৮ জুলাই (বুধবার) মুসলিমদের আখেরি চাহার শোম্বা।
আগস্ট : এই মাসে কোনো ঐচ্ছিক ছুটি নেই।
সেপ্টেম্বর : ১৩ সেপ্টেম্বর (সোমবার, চাঁদ সাপেক্ষে) ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম। ১৫ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বৌদ্ধদের মধু পূর্ণিমা (সম্ভাব্য)। ৩০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) মহালয়া। ছুটি নিলে পরের দুদিনের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা টানা ৩ দিন ছুটি কাটাতে পারবেন।
অক্টোবর : শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৭ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সপ্তমী ও ৮ অক্টোবর (শুক্রবার) অষ্টমী উপলক্ষে ঐচ্ছিক ছুটি। ৯ অক্টোবর (শনিবার) নবমীর নির্বাহী ছুটি এবং ১০ অক্টোবর (রবিবার) বিজয়া দশমীর সাধারণ ছুটি মিলিয়ে টানা ৪ দিন ছুটির সুযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন: ইনস্টাগ্রামে রিলস দেখলেই বেতন, অদ্ভুত চাকরির বিজ্ঞাপনে নেটদুনিয়ায় ঝড়
১৪ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) লক্ষ্মীপূজা ও বৌদ্ধদের প্রবারণা পূর্ণিমা (সম্ভাব্য)। ছুটি নিলে পরের দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ৩ দিন ছুটি মিলবে।
২৮ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) শ্যামাপূজা। ছুটি নিলে পরের দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ৩ দিন ছুটির সুযোগ থাকবে।
নভেম্বর : এই মাসে কোনো ঐচ্ছিক ছুটি নেই।
ডিসেম্বর : ২৫ ডিসেম্বর (শনিবার) বড়দিন উপলক্ষে ২৪ ডিসেম্বর (শুক্রবার) এবং ২৬ ডিসেম্বর (রবিবার) খ্রিষ্টানদের ঐচ্ছিক ছুটি। ২৬ ডিসেম্বর ছুটি নিলে সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ৩ দিন অবকাশ সম্ভব।
২৬ ডিসেম্বর (রবিবার, চাঁদ সাপেক্ষে) পবিত্র শবে মিরাজ। এই দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিলে মুসলিম কর্মচারীরাও আগের দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা ৩ দিন ছুটি কাটাতে পারবেন।
ঐচ্ছিক ছুটি গ্রহণের নিয়মাবলি
কোনো কর্মচারী বছরে নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ দিন ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন। এই ছুটির জন্য বছরের শুরুতেই উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। অনুমোদন সাপেক্ষে ঐচ্ছিক ছুটি সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশের ছুটি এবং সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত করে ভোগ করা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন