মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:২৫ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করে সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ইশরাক হোসেন। এর আগে, অস্ত্র হাতে মাদক প্রতিরোধে নামতে গিয়ে তিনি বিতর্কের মুখে পড়েন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, "ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের কারণ সরকারকে ব্যাখ্যা করতে হবে।" নাহিদ ইসলামের ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এবার তাকে উদ্দেশ্য করে কড়া বার্তা প্রদান করেছেন ইশরাক হোসেন।
নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেন, "ইশরাক হোসেনের অপরাধ কী, তাও পরিষ্কার করা হয়নি। ফলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে কারও অপরাধ থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া জরুরি সেখানে পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়।"
পরে নাহিদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন ইশরাক হোসেনও। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক স্ট্যাটাসে ইশরাক বলেন, "জনাব নাহিদ ইসলামকে একটু হলেও নতুন বন্দোবস্তের ধারক ভাবতাম। আমার প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে সে মাদকের মহামারী ও এর প্রতিকার সম্পর্কে শূন্য শতাংশ কথা বলে একশ শতাংশ আমার ফৌজদারি অপরাধ খুঁজে বের করার পরামর্শ দিল। তাহলে নাকি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পাবে, ইতাদি। আগে মাদকের ইস্যুটা এড্রেস করলে ভালো হত না? তারপরে আমারে ফাঁসিতে ঝুলাইতি। দুঃখিত জেন-জি, কোনো নতুন বন্দোবস্ত এদের মাধ্যমে পাচ্ছেন না।"
সমসাময়িক ইস্যুতে আরেকজন ফোন করেছিলেন ইশরাককে। সাবেক মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রীর মত, "নাম বললাম না, তবে আরেকটি ছেলে যার থেকে মানসিক সমস্যা ছাড়া কিছুই আশা করিনি, কোথা থেকে নম্বর নিয়ে ফোন করে বললো, ভাই এরপর গেলে আমাকে নিয়েন, এই মাদক আমাদের ধ্বংস করে যাচ্ছে।"
এরপরই এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়ে কড়া ভবিষ্যদ্বাণী করেন ইশরাক, "এই পার্টির ভবিষ্যৎ জিরো। মাদক নির্মূল করতে গিয়ে ফৌজদারি মামলা খেয়ে আসতে হবে, তাও বৈধ উপায়ে, আইন প্রণেতা হয়ে, পুলিশ সাথে করে নিয়ে যাওয়ার পর। নাহিদকে বলবো কোনও ফাঁকফোকর দিয়ে ফৌজদারি অপরাধ বের করে একটা মামলা করে দেন আমার নামে। আমি নিজে গিয়ে সারেন্ডার করে জেলে চলে যাবো। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা বলে কথা! এইভাবে ঘোড়ার ডিম রাজনীতি এরা করে যাবে। কিছুই পরিবর্তন করতে পারবে না।"
মাদকের বিরুদ্ধে নিজের শক্ত অবস্থান আবারও ঘোষণা করেন ইশরাক, "অন্য স্টাইলে প্রতিকার করতে হবে। যেমন কুকুর তেমন মুগুর। শীঘ্রই আসিতেছে। বড় ডিলার বা বিক্রেতারা অপেক্ষা করো।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোরে ৭৫ বছর বয়সী আছিয়া বেগমের গলাকাটা মরদেহের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তার ঘরে জমির দলিল, স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকা লুটের অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে অভয়নগর উপজেলার রামনগর গ্রামে নিজ ঘরের খাটের ওপর থেকে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আছিয়া বেগম ওই গ্রামের মৃত আবু দাউদ শেখের স্ত্রী।
নিহতের মেয়ে পান্না বেগম জানান, ‘বাবার মৃত্যুর পর মা ও খালা দুজনে ওই বাড়িতে বসবাস করতেন। গতকাল সোমবার খালা তার এক মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ায় মা বাড়িতে একা ছিলেন। আজ সকালে প্রতিবেশীরা মাকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে একপর্যায়ে দেখতে পান খাটের ওপর মায়ের গলাকাটা মরদেহ পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘরের ভেতরের সব মালামাল এলোমেলো ছিল। জমির দলিল, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা কিছুই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমার মাকে খুন করে সব নিয়ে গেছে।’
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনার কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফ্রান্সের প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সিসে আজ পিএসজি এবং বার্সেলোনার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মহারণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্যারিস বর্তমানে বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যার ফলে কিছু জায়গায় কারফিউ পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানিয়েছেন, ম্যাচ নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই।
বার্সেলোনা ইতোমধ্যে প্যারিসে পৌঁছেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হতে। যথেষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দলটিকে টিম হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অনুশীলন এবং ম্যাচের সময় পর্যাপ্ত সিকিউরিটি রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, পার্ক দে প্রিন্সিস এবং এর আশপাশের এলাকা কার্ফিউ মুক্ত থাকবে।
লের্কনু বলেছেন, ‘আমি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সম্পূর্ণভাবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জরুরি অবস্থা জারি করা এখন অত্যন্ত গুরুতর একটি পদক্ষেপ, বিশেষ করে তা বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে। প্রয়োজন হলে অবশ্যই আমরা তা করতে পারি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কারফিউ জারি এবং তা কার্যকর করার বিষয়টিই বেশি উপযুক্ত বলে মনে হচ্ছে। এই কারফিউ অবশ্যই নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক ও আংশিক হতে হবে। পুরো প্যারিসজুড়ে কারফিউ জারির কোনো প্রশ্নই আসে না।’
এদিকে, আন্দোলনের কারণে পরিস্থিতি ঘোলাটে হলেও ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা কমেনি। দুই দলের লড়াই দেখতে মুখিয়ে আছেন তারা। গেল কয়েক বছরে বার্সেলোনা এবং প্যারিস সেন্ট জার্মাইর মধ্যে লড়াই একটি উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
পিএসজি এবং বার্সেলোনার ঐতিহাসিক ম্যাচটি কারো মনে থাকবেনা। প্যারিস থেকে ৪-০ গোলে হেরে আসার পরও বার্সা ক্যাম্প ন্যুতে প্যারিসিয়ানদের ৬-১ ব্যবধানে হারিয়ে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছিল। যদিও এই দুই দলের মাঝে আর ধ্রুপদি লড়াই দেখা যায়নি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে পিএসজির আধিপত্যই বেশি। তবে এবার তার পুনরাবৃত্তি হবে না, তা বলাই যায়। কারণ চলতি মৌসুমে হ্যান্সি ফ্লিকের দল রীতিমতো উড়ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার তরুণ মো. সাগর (২৪) পরিবারের অভাব ঘোচানোর স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটি বেকারিতে কাজ করতেন এবং মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা উপার্জন করতেন। কিন্তু বেশি উপার্জনের আশায় এক বাংলাদেশি দালালের প্রলোভনে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়ে তিনি প্রাণ হারান। মৃত্যুর চার-পাঁচ মাস পর সাগরের এক সহযোদ্ধার ফোনে পরিবার জানতে পারে, “সাগর আর নেই।” এইভাবে সাগরের মৃত্যুর খবরটি তাদের কাছে পৌঁছায়। এখন তারা সন্তানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।
নিহত সাগর চান্দিনা পৌরসভার ছায়কোট এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে একসময় তিনি বাবার সবজি ব্যবসায় সাহায্য করতেন এবং কখনো রিকশাভ্যান চালাতেন। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়েই বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করে সাগর রাশিয়ায় যান। সেখানে একটি বেকারিতে কাজ করার সময় তিনি এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে পরিচিত হন। ওই দালাল তাকে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে বেশি অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখান। পরিবারের পক্ষ থেকে নিষেধ করা হলেও, চলতি বছরের মে মাসে যুদ্ধে অংশ নিতে সাগর যান।
এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ চার-পাঁচ মাস ধরে ছেলের কোনো খবর না পাওয়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিলেন স্বজনরা। অবশেষে গত শনিবার এক সহযোদ্ধার ফোনে সাগরের মৃত্যুর খবর পান তারা। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও পরিবারের কাছে নেই।
সাগরের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অসুস্থ বাবা-মা ছেলের মৃত্যুর সংবাদে ভেঙে পড়েছেন। ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তারা। তাদের আশা ছিল, ছেলে উপার্জন করে পরিবারের অভাব দূর করবেন এবং সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু এখন সেই স্বপ্ন গভীর শোকে পরিণত হয়েছে।
নিহত সাগরের বাবা কবির হোসেন ও মা দেলোয়ারা বেগম ছেলের মৃত্যুর খবরে দিশেহারা। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়ে সাগরের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবে।
কীভাবে সাগর রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন, কোন বাংলাদেশি দালালের মাধ্যমে যুদ্ধে গেলেন এবং তার মৃত্যুর বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত হবে, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা বলে জানিয়েছেন সাগরের বাবা কবির হোসেন। একই সঙ্গে ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তারা স্পষ্ট কোনো তথ্য পাননি।
সাগরের চাচা আবদুল আওয়াল বলেন, “সাগর যখন রাশিয়ার বেকারিতে চাকরি ছেড়ে রুশ সেনাবাহিনীতে চাকরি করার কথা আমাকে জানায়, তখন আমি তাকে বারণ করেছিলাম। কারণ, সাগর লেখাপড়াই জানে না, সে বিদেশে সেনাবাহিনীতে চাকরি করবে কীভাবে? ওই দেশে অবস্থান করা এক বাংলাদেশি দালাল তাকে ভুল তথ্য দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যুক্ত করেছে।”
এ বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানান, সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হলে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ