মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৫৬ পি.এম
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার তরুণ মো. সাগর (২৪) পরিবারের অভাব ঘোচানোর স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটি বেকারিতে কাজ করতেন এবং মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা উপার্জন করতেন। কিন্তু বেশি উপার্জনের আশায় এক বাংলাদেশি দালালের প্রলোভনে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়ে তিনি প্রাণ হারান। মৃত্যুর চার-পাঁচ মাস পর সাগরের এক সহযোদ্ধার ফোনে পরিবার জানতে পারে, “সাগর আর নেই।” এইভাবে সাগরের মৃত্যুর খবরটি তাদের কাছে পৌঁছায়। এখন তারা সন্তানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।
নিহত সাগর চান্দিনা পৌরসভার ছায়কোট এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে একসময় তিনি বাবার সবজি ব্যবসায় সাহায্য করতেন এবং কখনো রিকশাভ্যান চালাতেন। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়েই বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করে সাগর রাশিয়ায় যান। সেখানে একটি বেকারিতে কাজ করার সময় তিনি এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে পরিচিত হন। ওই দালাল তাকে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে বেশি অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখান। পরিবারের পক্ষ থেকে নিষেধ করা হলেও, চলতি বছরের মে মাসে যুদ্ধে অংশ নিতে সাগর যান।
এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ চার-পাঁচ মাস ধরে ছেলের কোনো খবর না পাওয়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিলেন স্বজনরা। অবশেষে গত শনিবার এক সহযোদ্ধার ফোনে সাগরের মৃত্যুর খবর পান তারা। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও পরিবারের কাছে নেই।
সাগরের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অসুস্থ বাবা-মা ছেলের মৃত্যুর সংবাদে ভেঙে পড়েছেন। ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তারা। তাদের আশা ছিল, ছেলে উপার্জন করে পরিবারের অভাব দূর করবেন এবং সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু এখন সেই স্বপ্ন গভীর শোকে পরিণত হয়েছে।
নিহত সাগরের বাবা কবির হোসেন ও মা দেলোয়ারা বেগম ছেলের মৃত্যুর খবরে দিশেহারা। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়ে সাগরের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবে।
কীভাবে সাগর রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন, কোন বাংলাদেশি দালালের মাধ্যমে যুদ্ধে গেলেন এবং তার মৃত্যুর বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত হবে, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা বলে জানিয়েছেন সাগরের বাবা কবির হোসেন। একই সঙ্গে ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তারা স্পষ্ট কোনো তথ্য পাননি।
সাগরের চাচা আবদুল আওয়াল বলেন, “সাগর যখন রাশিয়ার বেকারিতে চাকরি ছেড়ে রুশ সেনাবাহিনীতে চাকরি করার কথা আমাকে জানায়, তখন আমি তাকে বারণ করেছিলাম। কারণ, সাগর লেখাপড়াই জানে না, সে বিদেশে সেনাবাহিনীতে চাকরি করবে কীভাবে? ওই দেশে অবস্থান করা এক বাংলাদেশি দালাল তাকে ভুল তথ্য দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যুক্ত করেছে।”
এ বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানান, সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হলে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রুপালি পর্দায় কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করে থাকেন তারা। কিন্তু পর্দার বাইরের নিরাপত্তা কতটুকু নিশ্চিত? প্রাণনাশের হুমকি, গ্যাংস্টারদের ভীতি এবং হামলার আশঙ্কার কারণে শাহরুখ খান, সালমান খান এবং কঙ্গনা রানাউতের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কে কতটা সুরক্ষা পাচ্ছেন?
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, শাহরুখ খান, সালমান খান এবং কঙ্গনা রানাউত ওয়াই-প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাচ্ছেন। অন্যদিকে, অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমার এবং অনুপম খের এক্স ক্যাটাগরির নিরাপত্তাব্যবস্থায় রয়েছেন। সালমান খানের নিরাপত্তা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।
লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকির পর ২০২২ সালে সালমান খানের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে ওয়াই-প্লাস করা হয়। ২০২৪ সালে বাবা সিদ্দিকির হত্যাকাণ্ডের পর তার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। একইভাবে, শাহরুখ খানও ২০২৩ সালে প্রাণনাশের হুমকির মুখে ওয়াই-প্লাস নিরাপত্তা পান।
২০২০ সালে হুমকির সম্মুখীন হওয়ার পর কঙ্গনা রানাউতকে ওয়াই-প্লাস নিরাপত্তা প্রদান করে কেন্দ্রীয় সরকার। অন্যদিকে, অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমার এবং অনুপম খের এক্স ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাচ্ছেন। ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ নিয়ে হুমকির আশঙ্কার কারণে নির্মাতা বিবেক অগ্নিহোত্রীকেও ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে টাইগার শ্রফ এবং নির্মাতা রোহিত শেঠির বাসভবনের কাছে গুলির ঘটনায় নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা এবং নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমির খানের বাসভবনেও হুমকির আশঙ্কায় সাময়িকভাবে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে তারকাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নিরাপত্তা বাড়ানো, কমানো কিংবা প্রত্যাহার করা হয়। তারকাখ্যাতির পাশাপাশি, নিরাপত্তার মাত্রা নির্ধারণ করে হুমকির ধরন ও ঝুঁকির পরিমাণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা যাত্রীদের লোমহর্ষক বর্ণনা উঠে এসেছে। বাসটির স্টিয়ারিং ছিল চালকের পরিবর্তে সুপারভাইজারের হাতে। বাসটি ধারণক্ষমতার চেয়ে অধিক যাত্রী নিয়ে চলছিল। বাসটিতে শতাধিক যাত্রী ছিলেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার সরদারপাড়া এলাকায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৯ জন এবং পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০ জন।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার সহকারী পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ১৪ জন মারা গেছেন।
নিহতদের মধ্যে পরিচয় মিললো আটজনের
নিহতদের মধ্যে আটজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), বড়কান্দি গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবিসাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে সালাম (৪৫), কাজীরহাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫), আব্দুস সামাদ ফকির, রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ও বাসটির চালক সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০) এবং পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাসফিয়া খাতুন (৮)।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী আরপি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে পাবনাগামী বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও উদ্ধারকারীরা ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নাটোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানান, আহতদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল, স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
যাত্রীদের কণ্ঠে লোমহর্ষক বর্ণনা
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বেডে শুয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুবক তামিম। তিনি বলেন, ‘বাসে শতাধিক যাত্রী ছিল। জায়গা না পেয়ে বাসের গেটে বসেছিলাম। দুর্ঘটনার পর বালির মধ্যে পড়েছিলাম। আমার ওপর আরও তিনজন ছিল। আল্লাহ বাঁচাইছে। কী যে ভয়ংকর অবস্থা ছিল, তা ভাষায় বর্ণনা করার মতো না। লোহার সাথে পা আটকে ছিল। ওঠার মতো অবস্থা ছিল না।’
মাদারীপুর থেকে বাসে উঠেছিলেন জানিয়ে তিনি বরেন, মাদারীপুর থেকে বাসে উঠেছিলাম। আমার সঙ্গে শুধু মাদারীপুর থেকেই উঠেছিলেন অন্তত ৫০ জন।
তার দাবি, সব সিটে যাত্রী বসা ছিল। গেট থেকে পেছন পর্যন্ত ঠাসাঠাসি করে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া হয়েছিল।
আহত যাত্রীদের অনেকের ভাষ্য, বরগুনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহনের বাসটিতে শতাধিক যাত্রী ছিলেন। তাদের অভিযোগ, চালকের পরিবর্তে বাসটি চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার।
ওই বাসের যাত্রী ঝিনাইদহ জনতা ব্যাংকে কর্মরত কালীগঞ্জের জুয়েল কিবরিয়া জানান, দুর্ঘটনার পর বাসের হেলপারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। হেলপার তাকে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় চালকের বদলে গাড়ি চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নওগাঁর আব্দুর নূর ও চিরঞ্জিত, রাজশাহীর শহিদুল ইসলাম, সিয়াম, মজনু ও ফজলু হক ঝিনাইদহের ডা. এস এম মুশফিকুর রহমান, তাওহীদ ও জুয়েল কিবরিয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের তামিম, ববি, শামীম ও ডালিম মাদারীপুরের ইমা ও নার্গিস নাটোরের নেহাল ও জুলফিকার।
চিকিৎসক যা বলছেন
হাসপাতালের চিকিৎসক ও মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ জানান, আহতদের মধ্যে অন্তত চারজনের অবস্থা গুরুতর, বাকিদের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা ও তদন্ত কমিটি গঠন
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার ও পুলিশ সুপার শরীফুল হক। এ সময় জেলা প্রশাসক নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন। পুলিশ সুপার ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।
জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে অনুদানের কথাও বলেন তিনি। দুর্ঘটনারোধে পাবনা-বনপাড়া মহাসড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান হুইপ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ হলো মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষের আবাস। সুতরাং, সকল ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে রংপুরে দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় পাগলাপীর এলাকায় এক পথসভায় তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে যেভাবে সব ধর্মের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, সেভাবেই আমাদের লক্ষ্য হলো সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, "আজ থেকে আমরা অঙ্গীকার করি, এই দেশ আমাদের সবার—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সবার। আমরা সবাই মিলে পরিশ্রম করে দেশকে আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব।"
তারেক রহমান জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করেছে।
সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলছে, বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর অংশ হিসেবে, প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি চালু করেছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক ভাতা চালু করেছে। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সহায়তা করার চেষ্টা চলছে, বলেন তিনি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি চান সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে দেশের উন্নয়নে কাজ করুক।
এর আগে, ঢাকা থেকে বিমানবাহিনীর একটি বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান।
তাকে স্বাগত জানাতে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরসহ সড়কের দুই পাশে বিএনপির শত শত নেতাকর্মী ও সমর্থক অবস্থান নেন।
প্রধানমন্ত্রী তার গাড়িবহর থেকে তাদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং দুই স্থানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ