মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৫৬ পি.এম
রুপালি পর্দায় কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করে থাকেন তারা। কিন্তু পর্দার বাইরের নিরাপত্তা কতটুকু নিশ্চিত? প্রাণনাশের হুমকি, গ্যাংস্টারদের ভীতি এবং হামলার আশঙ্কার কারণে শাহরুখ খান, সালমান খান এবং কঙ্গনা রানাউতের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কে কতটা সুরক্ষা পাচ্ছেন?
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, শাহরুখ খান, সালমান খান এবং কঙ্গনা রানাউত ওয়াই-প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাচ্ছেন। অন্যদিকে, অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমার এবং অনুপম খের এক্স ক্যাটাগরির নিরাপত্তাব্যবস্থায় রয়েছেন। সালমান খানের নিরাপত্তা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।
লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকির পর ২০২২ সালে সালমান খানের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে ওয়াই-প্লাস করা হয়। ২০২৪ সালে বাবা সিদ্দিকির হত্যাকাণ্ডের পর তার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। একইভাবে, শাহরুখ খানও ২০২৩ সালে প্রাণনাশের হুমকির মুখে ওয়াই-প্লাস নিরাপত্তা পান।
২০২০ সালে হুমকির সম্মুখীন হওয়ার পর কঙ্গনা রানাউতকে ওয়াই-প্লাস নিরাপত্তা প্রদান করে কেন্দ্রীয় সরকার। অন্যদিকে, অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমার এবং অনুপম খের এক্স ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাচ্ছেন। ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ নিয়ে হুমকির আশঙ্কার কারণে নির্মাতা বিবেক অগ্নিহোত্রীকেও ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে টাইগার শ্রফ এবং নির্মাতা রোহিত শেঠির বাসভবনের কাছে গুলির ঘটনায় নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা এবং নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমির খানের বাসভবনেও হুমকির আশঙ্কায় সাময়িকভাবে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে তারকাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নিরাপত্তা বাড়ানো, কমানো কিংবা প্রত্যাহার করা হয়। তারকাখ্যাতির পাশাপাশি, নিরাপত্তার মাত্রা নির্ধারণ করে হুমকির ধরন ও ঝুঁকির পরিমাণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা যাত্রীদের লোমহর্ষক বর্ণনা উঠে এসেছে। বাসটির স্টিয়ারিং ছিল চালকের পরিবর্তে সুপারভাইজারের হাতে। বাসটি ধারণক্ষমতার চেয়ে অধিক যাত্রী নিয়ে চলছিল। বাসটিতে শতাধিক যাত্রী ছিলেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার সরদারপাড়া এলাকায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৯ জন এবং পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০ জন।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার সহকারী পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ১৪ জন মারা গেছেন।
নিহতদের মধ্যে পরিচয় মিললো আটজনের
নিহতদের মধ্যে আটজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), বড়কান্দি গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবিসাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে সালাম (৪৫), কাজীরহাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫), আব্দুস সামাদ ফকির, রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ও বাসটির চালক সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০) এবং পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাসফিয়া খাতুন (৮)।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী আরপি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে পাবনাগামী বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও উদ্ধারকারীরা ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নাটোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানান, আহতদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল, স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
যাত্রীদের কণ্ঠে লোমহর্ষক বর্ণনা
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বেডে শুয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুবক তামিম। তিনি বলেন, ‘বাসে শতাধিক যাত্রী ছিল। জায়গা না পেয়ে বাসের গেটে বসেছিলাম। দুর্ঘটনার পর বালির মধ্যে পড়েছিলাম। আমার ওপর আরও তিনজন ছিল। আল্লাহ বাঁচাইছে। কী যে ভয়ংকর অবস্থা ছিল, তা ভাষায় বর্ণনা করার মতো না। লোহার সাথে পা আটকে ছিল। ওঠার মতো অবস্থা ছিল না।’
মাদারীপুর থেকে বাসে উঠেছিলেন জানিয়ে তিনি বরেন, মাদারীপুর থেকে বাসে উঠেছিলাম। আমার সঙ্গে শুধু মাদারীপুর থেকেই উঠেছিলেন অন্তত ৫০ জন।
তার দাবি, সব সিটে যাত্রী বসা ছিল। গেট থেকে পেছন পর্যন্ত ঠাসাঠাসি করে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া হয়েছিল।
আহত যাত্রীদের অনেকের ভাষ্য, বরগুনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহনের বাসটিতে শতাধিক যাত্রী ছিলেন। তাদের অভিযোগ, চালকের পরিবর্তে বাসটি চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার।
ওই বাসের যাত্রী ঝিনাইদহ জনতা ব্যাংকে কর্মরত কালীগঞ্জের জুয়েল কিবরিয়া জানান, দুর্ঘটনার পর বাসের হেলপারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। হেলপার তাকে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় চালকের বদলে গাড়ি চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নওগাঁর আব্দুর নূর ও চিরঞ্জিত, রাজশাহীর শহিদুল ইসলাম, সিয়াম, মজনু ও ফজলু হক ঝিনাইদহের ডা. এস এম মুশফিকুর রহমান, তাওহীদ ও জুয়েল কিবরিয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের তামিম, ববি, শামীম ও ডালিম মাদারীপুরের ইমা ও নার্গিস নাটোরের নেহাল ও জুলফিকার।
চিকিৎসক যা বলছেন
হাসপাতালের চিকিৎসক ও মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ জানান, আহতদের মধ্যে অন্তত চারজনের অবস্থা গুরুতর, বাকিদের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা ও তদন্ত কমিটি গঠন
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার ও পুলিশ সুপার শরীফুল হক। এ সময় জেলা প্রশাসক নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন। পুলিশ সুপার ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।
জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে অনুদানের কথাও বলেন তিনি। দুর্ঘটনারোধে পাবনা-বনপাড়া মহাসড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান হুইপ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশ হলো মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষের আবাস। সুতরাং, সকল ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী উপলক্ষে রংপুরে দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় পাগলাপীর এলাকায় এক পথসভায় তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে যেভাবে সব ধর্মের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, সেভাবেই আমাদের লক্ষ্য হলো সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, "আজ থেকে আমরা অঙ্গীকার করি, এই দেশ আমাদের সবার—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সবার। আমরা সবাই মিলে পরিশ্রম করে দেশকে আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব।"
তারেক রহমান জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করেছে।
সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলছে, বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এর অংশ হিসেবে, প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি চালু করেছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক ভাতা চালু করেছে। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সহায়তা করার চেষ্টা চলছে, বলেন তিনি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি চান সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে দেশের উন্নয়নে কাজ করুক।
এর আগে, ঢাকা থেকে বিমানবাহিনীর একটি বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান।
তাকে স্বাগত জানাতে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরসহ সড়কের দুই পাশে বিএনপির শত শত নেতাকর্মী ও সমর্থক অবস্থান নেন।
প্রধানমন্ত্রী তার গাড়িবহর থেকে তাদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান এবং দুই স্থানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে ক্ষমতায় ফিরে আসা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তার নেতৃত্বাধীন জোট ও বিরোধী জোটের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে কোনো পক্ষ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। দুর্নীতির মামলায় বিচার চলমান অবস্থায় নির্বাচনে লড়ছেন নেতানিয়াহু, যিনি ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ এবং লেবানন ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে এটি দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন।
ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রায় ৭৩ লাখ নাগরিক এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য যোগ্য। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার সময় যারা লাইনে থাকবেন, তারাও ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচনের দিন দেশটিতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
নেসেটে প্রবেশের জন্য কোনো দলকে জাতীয় ভোটের অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ অর্জন করতে হয়। পার্লামেন্টের মেয়াদ চার বছর হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদের কোনো সীমা নেই।
ইসরাইলে ভোটাররা নির্দিষ্ট প্রার্থীকে নয়, রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। কোনো দলই এখন পর্যন্ত এককভাবে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেই কোনো দল সরকার গঠন করতে পারে না। নির্বাচনের পর দলগুলোকে জোট গঠন করে অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে হয়। এ জন্য প্রথমে ২৮ দিনের সময় দেওয়া হয়, যা প্রয়োজন হলে আরো ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে। এই সময়ের মধ্যে কোনো পক্ষ সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে পুনরায় নির্বাচন আয়োজন করতে হয়।
জাতীয় নির্বাচনে প্রতিটি দলের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন করা হয়। কোনো দল ৩০ শতাংশ ভোট পেলে সাধারণত প্রায় ৩০ শতাংশ আসন পায়। তবে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটের সীমা অতিক্রম করতে না পারা দলগুলোর ভোট আসন বণ্টনের হিসাব থেকে বাদ পড়ে। এ কারণে ছোট দলগুলো প্রায়ই নির্বাচনের আগে একীভূত হয় বা জোট গঠন করে।
ভোটাধিকার নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ
এ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য প্রায় ৭৩ লাখ ইসরাইলি নাগরিক। তবে দেশটির সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা সব প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ভোট দিতে পারেন না।
গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসকারী প্রায় ৩০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ফিলিস্তিনি এমন একটি সরকারের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না, যে সরকার তাদের সীমান্ত, চলাচল ও আইনি অবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
ইহুদি ইসরাইলি নাগরিকদের পাশাপাশি প্রায় ১২ লাখ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলি নাগরিকও ভোট দিতে পারেন। অধিকৃত পশ্চিম তীর ও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসকারী ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ইসরাইলি বসতির বাসিন্দারাও ভোট দিতে পারেন। তারা এমন পার্লামেন্ট নির্বাচন করেন, যে পার্লামেন্ট তাদের বসবাসের এলাকার ওপর আইন প্রণয়ন করে।
অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের অধিকাংশ ফিলিস্তিনির ইসরাইলি নাগরিকত্ব নেই; তাদের রয়েছে বসবাসের অনুমতি। তারা জেরুজালেমের নগর পরিষদের নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন, কিন্তু নেসেট নির্বাচনে পারেন না।
এর ফলে অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি বৈষম্য দেখা যায়। সেখানে কোনো ইসরাইলি বসতির বাসিন্দা ভোট দিতে পারেন, অথচ কাছাকাছি বসবাসকারী ফিলিস্তিনি পরিবার একই সামরিক কর্তৃপক্ষের অধীনে থেকেও সেই অধিকার পায় না।
বিদেশে বসবাসকারী অধিকাংশ ইসরাইলি নাগরিকও ভোট দিতে পারেন না। কারণ, দেশটিতে সাধারণভাবে ডাকযোগে বা অনুপস্থিত অবস্থায় ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। নির্বাচনের দিন ভোটারকে শারীরিকভাবে ইসরাইলে থাকতে হয়। তবে কূটনীতিক ও রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে বিদেশে দায়িত্ব পালনকারীরা ব্যতিক্রম। তারা ২০ অক্টোবর ইসরাইলি মিশনগুলোতে ভোট দেন।
নির্বাচনে যেসব বিষয় প্রভাব ফেলতে পারে
এবারের নির্বাচনে ইসরাইলিদের সামনে রয়েছে একাধিক অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ইস্যু। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতা, অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ থেকে অব্যাহতি, বিচারব্যবস্থার সংস্কার, যুদ্ধ ও নিরাপত্তা এবং জীবনযাত্রার ব্যয়।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়। ঘটনার তিন বছর পরও সরকার এ বিষয়ে তদন্তের জন্য রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেনি। ওই হামলার পর গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু হয়। এতে অন্তত ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অবরুদ্ধ উপত্যকাটির অধিকাংশ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টিও বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। এই সুবিধার সমর্থকেরা বলেন, এর মাধ্যমে পূর্ণকালীন ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ রক্ষা করা হয়।
তবে সমালোচকদের যুক্তি, এতে অন্য নাগরিকদের ওপর সামরিক দায়িত্বের অসম বোঝা চাপানো হয়।
বিচারব্যবস্থার সংস্কার নিয়েও মতবিরোধ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা কমানোর জন্য নেতানিয়াহুর উদ্যোগ যুদ্ধ শুরুর আগে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। সমালোচকেরা এটিকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি বলে মনে করেন। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, আদালত নিজের ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
যুদ্ধ ও নিরাপত্তার বিষয়টিও ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণ মানুষ স্থিতিশীলতা চান। তবে গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নেতানিয়াহু ‘পূর্ণ বিজয়ের’ প্রতিশ্রুতি দিলেও হামাস ও হিজবুল্লাহ এখনো সক্রিয় রয়েছে।
জীবনযাত্রার ব্যয়ও বড় ইস্যু। পণ্যের উচ্চমূল্যের সঙ্গে সাধারণ মানুষের তুলনামূলক কম মজুরি আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে। ২০২৩ সাল থেকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাজেট দ্বিগুণ হয়েছে। এতে সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ আরো বেড়েছে।
বিদায়ী সরকারের আসনসংখ্যা
জুলাইয়ে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সময় নেতানিয়াহুর জোটের হাতে নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে ৬০টি ছিল। জোটে লিকুদের ৩২টি, শাসের ১১টি, রিলিজিয়াস জায়োনিজমের সাতটি, ইতামার বেন গভিরের ওতজমা ইয়েহুদিতের ছয়টি এবং নিউ হোপের চারটি আসন ছিল। শাস ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সরকার ছেড়ে গেলেও জোটে থেকে যায়। আর নিউ হোপ এবারের নির্বাচনে লিকুদের সঙ্গে একীভূত হবে।
বিরোধী দলগুলোর হাতে ছিল ৫৯টি আসন। এর মধ্যে ইয়েশ আতিদের ২৪টি, ব্লু অ্যান্ড হোয়াইটের আটটি, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের সাতটি, ইসরাইল বেইতেনুর ছয়টি, হাদাশ-তাআল ও রা'আমের পাঁচটি করে এবং লেবার পার্টির চারটি আসন ছিল। নোআমের একটি আসন কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত ছিল না।
কারা নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী
দুর্নীতির অভিযোগে বিচার চললেও আবার নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার নেতৃত্বাধীন উগ্রডানপন্থী জোটের বিপরীতে রয়েছে ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন চারটি বড় বিরোধী দলের জোট। এসব দলের নেতারা নির্বাচনের আগে একে অপরের বিরুদ্ধে আক্রমণ না করার এবং ভোটের পর সরকার গঠনে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন।
সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটকে বিরোধীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পদের সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার নতুন দল ইয়াশার জনমত জরিপে লিকুদের সঙ্গে সমানে সমানে লড়ছে।
বিরোধী জোটে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন টুগেদার তালিকা, আভিগদর লিবারম্যানের ইসরাইল বেইতেনু এবং ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস পার্টি।
নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন উগ্রডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন গভির ও বেজালেল স্মোতরিচ, অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের দলগুলো এবং আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারদের প্রতিনিধিত্বকারী রা'আম ও জয়েন্ট লিস্ট।
গত মাসে ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি রা'আম ও জয়েন্ট লিস্টকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার পক্ষে ভোট দিয়েছিল। তবে ২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মতভাবে সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেন। আদালতের মতে, দল দুটিকে বাদ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি মানদণ্ড পূরণ করার মতো প্রমাণ ছিল না।
জয়েন্ট লিস্টের অন্যতম দল বালাদের নেতা এবং ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলি নাগরিক সামি আবু শাহাদেহ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান। আদালত ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, অধিকাংশ বিচারক তাঁর অযোগ্যতার সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে পারেন।
নির্বাচনের পর আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে ইহুদিদের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের অধিকাংশ নেতা এসব দলের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
সাত বছরে ষষ্ঠ নির্বাচন
আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন ২০১৯ সালের পর ইসরাইলের ষষ্ঠ জাতীয় নির্বাচন। তবে ৩৮ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম নেসেটের পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতার শুরু ২০১৯ সালের এপ্রিলে। ওই সময় নেতানিয়াহুর লিকুদ ও বেনি গান্টজের ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টি ৩৫টি করে আসন পেয়েছিল। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় নির্বাচনেও অচলাবস্থা তৈরি হয়। ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট ৩৩টি এবং লিকুদ ৩২টি আসন পায়। দুই নির্বাচনেই কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে পারেনি।
২০২০ সালের মার্চে তৃতীয় নির্বাচনে লিকুদ ৩৬টি এবং ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট ৩৩টি আসন পায়। এরপর নেতানিয়াহু ও গান্টজের নেতৃত্বে ঐক্য সরকার গঠিত হলেও এক বছরের মধ্যে তা ভেঙে পড়ে।
২০২১ সালের মার্চে লিকুদ ৩০টি এবং ইয়েশ আতিদ ১৭টি আসন পায়। এরপর নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বে আট দলের জোট সরকার গঠিত হয়। ওই জোটে আরব দল রা'আমও ছিল। এর মধ্য দিয়ে নেতানিয়াহুর টানা ১২ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। তবে সেই সরকারও এক বছর টিকেছিল।
২০২২ সালের নভেম্বরে আবার ক্ষমতায় ফেরেন নেতানিয়াহু। ওই নির্বাচনে লিকুদ ৩২টি এবং ইয়েশ আতিদ ২৪টি আসন পায়। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে গঠিত সরকারকে ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে ডানপন্থি সরকার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে কোনো জোটকেই ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে দেখা যাচ্ছে না।
ইসরাইলের দীর্ঘতম সময়ের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু
১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর দেশটিতে মোট ১৪ জন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় ছিলেন নেতানিয়াহু। তিন দফায় তার প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ মোট ১৯ বছর—১৯৯৬ থেকে ১৯৯৯, ২০০৯ থেকে ২০২১ এবং ২০২২ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত।
তার কাছাকাছি রয়েছেন ডেভিড বেন-গুরিয়ন। তিনি ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৪ সাল এবং পরে ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে যে ফলই আসুক, নতুন সরকার শপথ নেওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ