ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

২০ বছরেও সংস্কার হয়নি বহু সড়ক, কাঁচা ও ভাঙা পথে পাইন্দংবাসীর দুর্ভোগ


২০ বছরেও সংস্কার হয়নি বহু সড়ক, কাঁচা ও ভাঙা পথে পাইন্দংবাসীর দুর্ভোগ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার ও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হওয়ায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন। কিছু স্থানে ইটের সলিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ, আবার কোথাও বছরের পর বছর পড়ে আছে কাঁচা মাটির রাস্তা। গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়কের এমন অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, গত দুই বছরে তাঁর ওয়ার্ডে কোনো প্রকল্প বরাদ্দ করা হয়নি। বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সড়ক উন্নয়নের জন্য প্রকল্প পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এনকে ব্রিকসের উত্তর পাশে খেজুরতলা এলাকার জহুর মেম্বারের বাড়ির সড়কটি প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর আগে ইটের সলিং করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সড়কটির সংস্কার হয়নি। পূর্ব পাশ থেকে পশ্চিম পাশ পর্যন্ত প্রায় তিনশ ফুট অংশ এখনো কাঁচা মাটির রাস্তা হিসেবে রয়ে গেছে। ব্রিকফিল্ড থেকে সড়কে নামার স্থানে প্রায় দুইশ ফুট অংশে পুরোনো ভাঙাচোরা সলিং রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই দশক আগে সংস্কার করা সড়কটির পর আর কোনো উন্নয়ন হয়নি।

আরও পড়ুন: বি আর বি ক্যাবল, ৪৮ বছর বিশ্বাসের পথে সমৃদ্ধির যাত্রা

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবুল ভৌমিকের বাড়ির সংযোগ সড়কটির অবস্থাও নাজুক। স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে, প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফুট দীর্ঘ সড়কটি স্বাধীনতার পর থেকে কাঁচা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের প্রকল্পের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সেখানে ২০ ফুট দীর্ঘ একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও দুই পাশের সংযোগ সড়ক এখনো কাঁচা। ফলে কালভার্ট নির্মাণের সুফল পুরোপুরি পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিম পাশ দিয়ে হেয়াকোঁ সড়ক থেকে হযরত আব্দুল মালেক শাহ সংযোগ সড়কেও ইটের সলিং উঠে গিয়ে বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় তাঁদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

উত্তর হাইদছকিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমানের বাড়ি থেকে চাঁন গাজী মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট সড়ক স্বাধীনতার পর থেকে কাঁচা অবস্থায় রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অন্যদিকে পেলাগাজী দিঘী-হেয়াকোঁ সড়কের সংযোগস্থল সেবাখোলা থেকে কারণ সিকদার বাড়ির সড়কটিরও প্রায় ২০ বছর ধরে সংস্কার হয়নি। ইট উঠে গিয়ে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

জহুর মেম্বারের বাড়ি থেকে আলী আহমেদের বাড়ির মাটির রাস্তার প্রায় ৪০০ মিটার অংশও সম্পূর্ণ কাঁচা। উত্তর হাইদছকিয়ায় নেভি ফজলুল করিমের বাড়ির সড়ক এবং চৌকিদার শফির বাড়ির সড়কেও বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। কোথাও খানাখন্দ ও গর্তের কারণে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, কোথাও কাঁচা রাস্তা দিয়ে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন: ‎রাঙামাটিতে বাস থেকে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার, আটক ২

পাইন্দং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম বলেন, "বিগত দুই বছর ধরে আমার তিন নম্বর ওয়ার্ডে কোনো প্রকল্পই দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন দপ্তরে তদবির করেও কোনো প্রকল্প পাইনি। আমার ওয়ার্ডের প্রায় প্রতিটি সড়কই বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। উত্তর হাইদছকিয়ার নেভি ফজলুল করিম বাড়ির সড়কটি এতটাই অবহেলিত যে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। চৌকিদার শফির বাড়ির সড়কে খানা-খন্দ ও গর্তের কারণে এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।"

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, "এটা আসলে ঠিক নয়। সব ওয়ার্ডেই সমানভাবে কাজ হওয়া উচিত। ইউনিয়ন ভিত্তিক যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, সেখানে সব ওয়ার্ডে সমানভাবে বরাদ্দ নিশ্চিত করার জন্য আমরা চেষ্টা করি। চেয়ারম্যানদেরও সমন্বয় করার কথা। যদি কোনো ওয়ার্ডে কাজ না হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি ঠিক হয়নি। কোনো ওয়ার্ড পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই।"

দীর্ঘদিনের বেহাল সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার ও কাঁচা সড়কগুলো উন্নয়নের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন পাইন্দং ইউনিয়নের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে সড়কগুলোর অবস্থা পরিদর্শন করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করবে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াত নেতার গণজোয়ারের দাবি, নির্বাচনে জনগণের ক্ষোভ প্রকাশের আশাবাদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বনপাড়ায় ১২ মৃত্যু: আরপি পরিবহণের বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ ছিল না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৯ পি.এম


বনপাড়ায় ১২ মৃত্যু: আরপি পরিবহণের বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ ছিল না

বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরপি পরিবহণের বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ ছিল না। বিআরটিএ নাটোর অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বাসটির রুট পারমিটের মেয়াদ ২০২৮ সালের ১৩ মে পর্যন্ত রয়েছে; তবে ফিটনেস সনদের মেয়াদ গত ১৩ মে শেষ হয়ে গেছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং সুপারিশের ভিত্তিতে ফিটনেসবিহীন এই গাড়ির রাস্তায় চলাচলের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নাটোরের বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কটি যেন মৃত্যুর ফাঁদ। এখানে বিপজ্জনক বাঁক, সরু সড়ক, ডিভাইডারের অভাব এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচলে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে।

২০১৪ সালে এই মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৩৮ জনের প্রাণহানির পর সড়কটির চার লেনে উন্নীতকরণ, ডিভাইডার নির্মাণ এবং বিপজ্জনক বাঁকগুলো সোজা করার সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু এক যুগ পার হলেও সেই সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি।

এদিকে, মঙ্গলবার একই মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে আরও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। প্রতিটি বড় দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন এবং বিভিন্ন সুপারিশ এলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে মৃত্যুর মিছিল থামছে না।

গত মঙ্গলবারের দুর্ঘটনার পর আবারও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশ দুই ‘মৃত’ চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাসচাপায় প্রাণ গেল দুই অটোরিকশা যাত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২০ পি.এম


ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাসচাপায় প্রাণ গেল দুই অটোরিকশা যাত্রীর

বিশ্ব নিরাপদ সড়ক দিবসের সকালে মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বরংগাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সেলফি পরিবহণের একটি বাসের ধাক্কায় এক যাত্রী ও চালক নিহত হয়েছেন, যিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন।

এই ঘটনায় আহত হয়েছেন নিহত যাত্রীর বাবা ও মা। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা বাসটিকে ভাঙচুর করে মহাসড়ক অবরোধ করেন, যার ফলে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ঘিওর উপজেলার মৌহালী গ্রামের মো. শাহীনের ছেলে ইয়াসিন আরাফাত (২২) এবং একই গ্রামের মোজাহারের ছেলে অটোরিকশাচালক বাবলু মিয়া (২৮)। আহত ইয়াসিনের বাবা মো. শাহীন মিয়া ও মা রোজিনা আক্তার (৪০) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে ঘিওরের মৌহালী গ্রাম থেকে পরিবারের তিন সদস্যকে নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় বরংগাইল হাটের দিকে যাচ্ছিলেন মো. শাহীন মিয়া। গন্তব্যে নামার ঠিক আগমুহূর্তে পাটুরিয়া থেকে ঢাকাগামী সেলফি পরিবহণের একটি বাস পেছন থেকে অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন যাত্রী ইয়াসিন আরাফাত।

গুরুতর আহত অটোরিকশাচালক বাবলু মিয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যু হয়। আহত শাহীন মিয়া ও রোজিনা আক্তারকে মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শাহীন মিয়ার অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

বরংগাইল হাইওয়ে থানার ওসি হারুন অর রশিদ জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে বাসটির চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সেলফি পরিবহণের বাসটি ভাঙচুর করে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে। দীর্ঘ যানজটে শিশু, নারী ও বয়স্ক যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সেলফি পরিবহণের একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। পরিবহণটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন করেছেন এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। তবে এসব উদ্যোগের পরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

শিবালয় থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, সেলফি পরিবহণের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্ঘটনায় হতাহতের অভিযোগ রয়েছে। অবরোধকারীদের সঙ্গে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ভিডিও কলে কথা বলেন। পরিবহণটির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পেয়ে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত শরীয়তপুরের মারুফ, মরদেহ দেশে ফেরাতে পরিবারের আকুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২১ পি.এম


দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত শরীয়তপুরের মারুফ, মরদেহ দেশে ফেরাতে পরিবারের আকুতি

জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি দিয়েছিলেন মারুফ বেপারি। ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি সেখানে ব্যবসা করে আসছিলেন, কিন্তু চাঁদার টাকার বিরোধের কারণে সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারাতে হলো এই প্রবাসী বাংলাদেশিকে। এখন তার মরদেহ বিদেশের মাটিতে পড়ে আছে। পরিবারের আকুতি, সরকার যেন দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনের বুষ্টার এলাকার কাছে জুলুটেম্বা নামের একটি স্থানে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন মারুফ বেপারি। স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

মারুফ বেপারির বাড়ি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিড্যা গ্রামে। তাঁর বাবা মৃত আব্দুস সোবহান বেপারি। তাঁর মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে।

নিহত মারুফের পরিচিত প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মতে, তিনি দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে জুলুটেম্বা এলাকায় ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। অভিযোগ রয়েছে যে, ওই এলাকায় ব্যবসা করার জন্য স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাঁর কাছে প্রটেকশন মানি বা নিরাপত্তার নামে ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ দক্ষিণ আফ্রিকান র‍্যান্ড দাবি করতেন।

সম্প্রতি চাঁদার অতিরিক্ত টাকা দাবি নিয়ে মারুফের সঙ্গে তাঁদের বাক্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু ঘটে বলে জানিয়েছেন ওই এলাকার প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা।

তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে দক্ষিণ আফ্রিকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহতের স্বজন কামরুজ্জামান বেপারি বলেন, "চাঁদার জন্য বিদেশের মাটিতে আমার কাকা মারুফ বেপারিকে জীবন দিতে হয়েছে। ওখানকার দূতাবাস কি এগুলো দেখে না?"

তিনি আরও বলেন, তাঁদের আশা, সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে তাঁর কাকার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুক। প্রিয়জনকে হারানোর শোকের মধ্যে পরিবারের সদস্যদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ, কীভাবে দ্রুত মরদেহ দেশে এনে শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে পাবেন।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিদেশের মাটিতে একজন বাংলাদেশির এমন মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার মানুষের জন্যও বেদনাদায়ক। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে পরিশ্রম করে পরিবারের জন্য উপার্জন করা মারুফের মৃত্যুতে তাঁর স্বজনেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

নিহতের মরদেহ বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার স্থানীয় একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মরদেহ দেশে পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য সময়সূচি কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্বজনেরা বাংলাদেশ সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বোয়ালখালীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ. লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৩ নেতা গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:২১ পি.এম


বোয়ালখালীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ. লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৩ নেতা গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে পুলিশ তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সদস্য। বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন— উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সোবহান (৫৫), পৌর যুবলীগ নেতা মো. হোসেন (২৪) এবং পোপাদিয়া ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমন (১৯)।

পুলিশের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শাকপুরা এলাকায় আরকান সড়কে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হাসানের নেতৃত্বে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এই মিছিলে আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি মো. দিদারুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জহুরের ছবি সংবলিত ব্যানার ব্যবহার করা হয়। এ ঘটনার পর বোয়ালখালী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, আব্দুস সোবহান পোপাদিয়া ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের আলী দফাদারের বাড়ির মৃত মো. মোহাম্মদ আলী দফাদারের ছেলে। মো. হোসেন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিরাজুর ইসলাম মেম্বারের বাড়ির মৃত নুরুল আলমের ছেলে। আর ইমন পোপাদিয়া ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের কোরবান আলীর বাড়ির মো. তৈয়বের ছেলে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা একটি মামলার আসামি আব্দুস সোবহান। ২০২৫ সালের ৭ মার্চ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

বোয়ালখালী থানার ওসি মোহাম্মদ মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ‘তিনদিন আগে হওয়া মিছিলের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%