প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার ও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হওয়ায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন। কিছু স্থানে ইটের সলিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ, আবার কোথাও বছরের পর বছর পড়ে আছে কাঁচা মাটির রাস্তা। গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়কের এমন অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, গত দুই বছরে তাঁর ওয়ার্ডে কোনো প্রকল্প বরাদ্দ করা হয়নি। বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সড়ক উন্নয়নের জন্য প্রকল্প পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এনকে ব্রিকসের উত্তর পাশে খেজুরতলা এলাকার জহুর মেম্বারের বাড়ির সড়কটি প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর আগে ইটের সলিং করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সড়কটির সংস্কার হয়নি। পূর্ব পাশ থেকে পশ্চিম পাশ পর্যন্ত প্রায় তিনশ ফুট অংশ এখনো কাঁচা মাটির রাস্তা হিসেবে রয়ে গেছে। ব্রিকফিল্ড থেকে সড়কে নামার স্থানে প্রায় দুইশ ফুট অংশে পুরোনো ভাঙাচোরা সলিং রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই দশক আগে সংস্কার করা সড়কটির পর আর কোনো উন্নয়ন হয়নি।
ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবুল ভৌমিকের বাড়ির সংযোগ সড়কটির অবস্থাও নাজুক। স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে, প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফুট দীর্ঘ সড়কটি স্বাধীনতার পর থেকে কাঁচা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের প্রকল্পের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সেখানে ২০ ফুট দীর্ঘ একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও দুই পাশের সংযোগ সড়ক এখনো কাঁচা। ফলে কালভার্ট নির্মাণের সুফল পুরোপুরি পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিম পাশ দিয়ে হেয়াকোঁ সড়ক থেকে হযরত আব্দুল মালেক শাহ সংযোগ সড়কেও ইটের সলিং উঠে গিয়ে বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় তাঁদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
উত্তর হাইদছকিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমানের বাড়ি থেকে চাঁন গাজী মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট সড়ক স্বাধীনতার পর থেকে কাঁচা অবস্থায় রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অন্যদিকে পেলাগাজী দিঘী-হেয়াকোঁ সড়কের সংযোগস্থল সেবাখোলা থেকে কারণ সিকদার বাড়ির সড়কটিরও প্রায় ২০ বছর ধরে সংস্কার হয়নি। ইট উঠে গিয়ে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
জহুর মেম্বারের বাড়ি থেকে আলী আহমেদের বাড়ির মাটির রাস্তার প্রায় ৪০০ মিটার অংশও সম্পূর্ণ কাঁচা। উত্তর হাইদছকিয়ায় নেভি ফজলুল করিমের বাড়ির সড়ক এবং চৌকিদার শফির বাড়ির সড়কেও বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। কোথাও খানাখন্দ ও গর্তের কারণে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, কোথাও কাঁচা রাস্তা দিয়ে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয়রা।
পাইন্দং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তাজুল ইসলাম বলেন, "বিগত দুই বছর ধরে আমার তিন নম্বর ওয়ার্ডে কোনো প্রকল্পই দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন দপ্তরে তদবির করেও কোনো প্রকল্প পাইনি। আমার ওয়ার্ডের প্রায় প্রতিটি সড়কই বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। উত্তর হাইদছকিয়ার নেভি ফজলুল করিম বাড়ির সড়কটি এতটাই অবহেলিত যে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। চৌকিদার শফির বাড়ির সড়কে খানা-খন্দ ও গর্তের কারণে এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।"
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, "এটা আসলে ঠিক নয়। সব ওয়ার্ডেই সমানভাবে কাজ হওয়া উচিত। ইউনিয়ন ভিত্তিক যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, সেখানে সব ওয়ার্ডে সমানভাবে বরাদ্দ নিশ্চিত করার জন্য আমরা চেষ্টা করি। চেয়ারম্যানদেরও সমন্বয় করার কথা। যদি কোনো ওয়ার্ডে কাজ না হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি ঠিক হয়নি। কোনো ওয়ার্ড পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই।"
দীর্ঘদিনের বেহাল সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার ও কাঁচা সড়কগুলো উন্নয়নের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন পাইন্দং ইউনিয়নের ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে সড়কগুলোর অবস্থা পরিদর্শন করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন