ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্যারিসে পিএসজি ও বার্সেলোনার ম্যাচের আগে বিক্ষোভের উত্তেজনা


প্যারিসে পিএসজি ও বার্সেলোনার ম্যাচের আগে বিক্ষোভের উত্তেজনা

ফ্রান্সের প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সিসে আজ পিএসজি এবং বার্সেলোনার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মহারণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্যারিস বর্তমানে বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যার ফলে কিছু জায়গায় কারফিউ পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানিয়েছেন, ম্যাচ নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই।

বার্সেলোনা ইতোমধ্যে প্যারিসে পৌঁছেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হতে। যথেষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দলটিকে টিম হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অনুশীলন এবং ম্যাচের সময় পর্যাপ্ত সিকিউরিটি রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, পার্ক দে প্রিন্সিস এবং এর আশপাশের এলাকা কার্ফিউ মুক্ত থাকবে।

লের্কনু বলেছেন, ‘আমি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সম্পূর্ণভাবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জরুরি অবস্থা জারি করা এখন অত্যন্ত গুরুতর একটি পদক্ষেপ, বিশেষ করে তা বাস্তবায়নের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে। প্রয়োজন হলে অবশ্যই আমরা তা করতে পারি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কারফিউ জারি এবং তা কার্যকর করার বিষয়টিই বেশি উপযুক্ত বলে মনে হচ্ছে। এই কারফিউ অবশ্যই নির্দিষ্ট এলাকাভিত্তিক ও আংশিক হতে হবে। পুরো প্যারিসজুড়ে কারফিউ জারির কোনো প্রশ্নই আসে না।’

আরও পড়ুন: ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতের আহ্বান

এদিকে, আন্দোলনের কারণে পরিস্থিতি ঘোলাটে হলেও ভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা কমেনি। দুই দলের লড়াই দেখতে মুখিয়ে আছেন তারা। গেল কয়েক বছরে বার্সেলোনা এবং প্যারিস সেন্ট জার্মাইর মধ্যে লড়াই একটি উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

পিএসজি এবং বার্সেলোনার ঐতিহাসিক ম্যাচটি কারো মনে থাকবেনা। প্যারিস থেকে ৪-০ গোলে হেরে আসার পরও বার্সা ক্যাম্প ন্যুতে প্যারিসিয়ানদের ৬-১ ব্যবধানে হারিয়ে পরের রাউন্ড নিশ্চিত করেছিল। যদিও এই দুই দলের মাঝে আর ধ্রুপদি লড়াই দেখা যায়নি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে পিএসজির আধিপত্যই বেশি। তবে এবার তার পুনরাবৃত্তি হবে না, তা বলাই যায়। কারণ চলতি মৌসুমে হ্যান্সি ফ্লিকের দল রীতিমতো উড়ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঁচ মাস পর রাশিয়া থেকে সহযোদ্ধার ফোন, জানালেন ‘সাগর আর নেই’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ পি.এম


পাঁচ মাস পর রাশিয়া থেকে সহযোদ্ধার ফোন, জানালেন ‘সাগর আর নেই’

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার তরুণ মো. সাগর (২৪) পরিবারের অভাব ঘোচানোর স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটি বেকারিতে কাজ করতেন এবং মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা উপার্জন করতেন। কিন্তু বেশি উপার্জনের আশায় এক বাংলাদেশি দালালের প্রলোভনে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিয়ে তিনি প্রাণ হারান। মৃত্যুর চার-পাঁচ মাস পর সাগরের এক সহযোদ্ধার ফোনে পরিবার জানতে পারে, “সাগর আর নেই।” এইভাবে সাগরের মৃত্যুর খবরটি তাদের কাছে পৌঁছায়। এখন তারা সন্তানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।

নিহত সাগর চান্দিনা পৌরসভার ছায়কোট এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে একসময় তিনি বাবার সবজি ব্যবসায় সাহায্য করতেন এবং কখনো রিকশাভ্যান চালাতেন। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়েই বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করে সাগর রাশিয়ায় যান। সেখানে একটি বেকারিতে কাজ করার সময় তিনি এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে পরিচিত হন। ওই দালাল তাকে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে বেশি অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখান। পরিবারের পক্ষ থেকে নিষেধ করা হলেও, চলতি বছরের মে মাসে যুদ্ধে অংশ নিতে সাগর যান।

এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ চার-পাঁচ মাস ধরে ছেলের কোনো খবর না পাওয়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিলেন স্বজনরা। অবশেষে গত শনিবার এক সহযোদ্ধার ফোনে সাগরের মৃত্যুর খবর পান তারা। তবে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও পরিবারের কাছে নেই।

সাগরের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অসুস্থ বাবা-মা ছেলের মৃত্যুর সংবাদে ভেঙে পড়েছেন। ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তারা। তাদের আশা ছিল, ছেলে উপার্জন করে পরিবারের অভাব দূর করবেন এবং সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু এখন সেই স্বপ্ন গভীর শোকে পরিণত হয়েছে।

নিহত সাগরের বাবা কবির হোসেন ও মা দেলোয়ারা বেগম ছেলের মৃত্যুর খবরে দিশেহারা। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়ে সাগরের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবে।

কীভাবে সাগর রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন, কোন বাংলাদেশি দালালের মাধ্যমে যুদ্ধে গেলেন এবং তার মৃত্যুর বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত হবে, এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা বলে জানিয়েছেন সাগরের বাবা কবির হোসেন। একই সঙ্গে ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তারা স্পষ্ট কোনো তথ্য পাননি।

সাগরের চাচা আবদুল আওয়াল বলেন, “সাগর যখন রাশিয়ার বেকারিতে চাকরি ছেড়ে রুশ সেনাবাহিনীতে চাকরি করার কথা আমাকে জানায়, তখন আমি তাকে বারণ করেছিলাম। কারণ, সাগর লেখাপড়াই জানে না, সে বিদেশে সেনাবাহিনীতে চাকরি করবে কীভাবে? ওই দেশে অবস্থান করা এক বাংলাদেশি দালাল তাকে ভুল তথ্য দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যুক্ত করেছে।”

এ বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানান, সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হলে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে শাহরুখ, সালমান ও কঙ্গনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ পি.এম


ভারতে শাহরুখ, সালমান ও কঙ্গনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন?

রুপালি পর্দায় কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করে থাকেন তারা। কিন্তু পর্দার বাইরের নিরাপত্তা কতটুকু নিশ্চিত? প্রাণনাশের হুমকি, গ্যাংস্টারদের ভীতি এবং হামলার আশঙ্কার কারণে শাহরুখ খান, সালমান খান এবং কঙ্গনা রানাউতের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কে কতটা সুরক্ষা পাচ্ছেন?

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, শাহরুখ খান, সালমান খান এবং কঙ্গনা রানাউত ওয়াই-প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাচ্ছেন। অন্যদিকে, অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমার এবং অনুপম খের এক্স ক্যাটাগরির নিরাপত্তাব্যবস্থায় রয়েছেন। সালমান খানের নিরাপত্তা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে।

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকির পর ২০২২ সালে সালমান খানের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে ওয়াই-প্লাস করা হয়। ২০২৪ সালে বাবা সিদ্দিকির হত্যাকাণ্ডের পর তার নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। একইভাবে, শাহরুখ খানও ২০২৩ সালে প্রাণনাশের হুমকির মুখে ওয়াই-প্লাস নিরাপত্তা পান।

২০২০ সালে হুমকির সম্মুখীন হওয়ার পর কঙ্গনা রানাউতকে ওয়াই-প্লাস নিরাপত্তা প্রদান করে কেন্দ্রীয় সরকার। অন্যদিকে, অমিতাভ বচ্চন, অক্ষয় কুমার এবং অনুপম খের এক্স ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাচ্ছেন। ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ নিয়ে হুমকির আশঙ্কার কারণে নির্মাতা বিবেক অগ্নিহোত্রীকেও ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে টাইগার শ্রফ এবং নির্মাতা রোহিত শেঠির বাসভবনের কাছে গুলির ঘটনায় নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা এবং নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আমির খানের বাসভবনেও হুমকির আশঙ্কায় সাময়িকভাবে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে তারকাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নিরাপত্তা বাড়ানো, কমানো কিংবা প্রত্যাহার করা হয়। তারকাখ্যাতির পাশাপাশি, নিরাপত্তার মাত্রা নির্ধারণ করে হুমকির ধরন ও ঝুঁকির পরিমাণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাটোরে দুর্ঘটনায় নিহত ১৪: বেঁচে ফেরা যাত্রীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ পি.এম


নাটোরে দুর্ঘটনায় নিহত ১৪: বেঁচে ফেরা যাত্রীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

নাটোরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা যাত্রীদের লোমহর্ষক বর্ণনা উঠে এসেছে। বাসটির স্টিয়ারিং ছিল চালকের পরিবর্তে সুপারভাইজারের হাতে। বাসটি ধারণক্ষমতার চেয়ে অধিক যাত্রী নিয়ে চলছিল। বাসটিতে শতাধিক যাত্রী ছিলেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার সরদারপাড়া এলাকায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ৯ জন এবং পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০ জন।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার সহকারী পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ১৪ জন মারা গেছেন।

নিহতদের মধ্যে পরিচয় মিললো আটজনের

নিহতদের মধ্যে আটজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার কাজীরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০), বড়কান্দি গ্রামের জহুর উদ্দিনের ছেলে জুয়েল রানা (৪০), ডুবিসাহেবের গ্রামের জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে সালাম (৪৫), কাজীরহাট গ্রামের শাহিন হোসেন (২৫), আব্দুস সামাদ ফকির, রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার ফরহাদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে ও বাসটির চালক সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ার হক (৩০) এবং পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলামের মেয়ে তাসফিয়া খাতুন (৮)।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী আরপি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে পাবনাগামী বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও উদ্ধারকারীরা ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নাটোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানান, আহতদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল, স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

যাত্রীদের কণ্ঠে লোমহর্ষক বর্ণনা

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বেডে শুয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুবক তামিম। তিনি বলেন, ‘বাসে শতাধিক যাত্রী ছিল। জায়গা না পেয়ে বাসের গেটে বসেছিলাম। দুর্ঘটনার পর বালির মধ্যে পড়েছিলাম। আমার ওপর আরও তিনজন ছিল। আল্লাহ বাঁচাইছে। কী যে ভয়ংকর অবস্থা ছিল, তা ভাষায় বর্ণনা করার মতো না। লোহার সাথে পা আটকে ছিল। ওঠার মতো অবস্থা ছিল না।’

মাদারীপুর থেকে বাসে উঠেছিলেন জানিয়ে তিনি বরেন, মাদারীপুর থেকে বাসে উঠেছিলাম। আমার সঙ্গে শুধু মাদারীপুর থেকেই উঠেছিলেন অন্তত ৫০ জন।

তার দাবি, সব সিটে যাত্রী বসা ছিল। গেট থেকে পেছন পর্যন্ত ঠাসাঠাসি করে অতিরিক্ত যাত্রী নেয়া হয়েছিল।

আহত যাত্রীদের অনেকের ভাষ্য, বরগুনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহনের বাসটিতে শতাধিক যাত্রী ছিলেন। তাদের অভিযোগ, চালকের পরিবর্তে বাসটি চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার।

ওই বাসের যাত্রী ঝিনাইদহ জনতা ব্যাংকে কর্মরত কালীগঞ্জের জুয়েল কিবরিয়া জানান, দুর্ঘটনার পর বাসের হেলপারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। হেলপার তাকে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় চালকের বদলে গাড়ি চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন নওগাঁর আব্দুর নূর ও চিরঞ্জিত, রাজশাহীর শহিদুল ইসলাম, সিয়াম, মজনু ও ফজলু হক ঝিনাইদহের ডা. এস এম মুশফিকুর রহমান, তাওহীদ ও জুয়েল কিবরিয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের তামিম, ববি, শামীম ও ডালিম মাদারীপুরের ইমা ও নার্গিস নাটোরের নেহাল ও জুলফিকার।

চিকিৎসক যা বলছেন

হাসপাতালের চিকিৎসক ও মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ জানান, আহতদের মধ্যে অন্তত চারজনের অবস্থা গুরুতর, বাকিদের অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।

নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা ও তদন্ত কমিটি গঠন

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার ও পুলিশ সুপার শরীফুল হক। এ সময় জেলা প্রশাসক নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দেন। পুলিশ সুপার ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।

জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। নিহতদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে অনুদানের কথাও বলেন তিনি। দুর্ঘটনারোধে পাবনা-বনপাড়া মহাসড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান হুইপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি মতাদর্শীকে সরিয়ে আওয়ামী মতাদর্শীকে সংযুক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাজশাহী প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ পি.এম


বিএনপি মতাদর্শীকে সরিয়ে আওয়ামী মতাদর্শীকে সংযুক্ত
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) প্রধান কার্যালয়ে বিএনপি মতাদর্শী নাহিদ আলীকে সরিয়ে আওয়ামী লীগ মতাদর্শী মইনুদ্দিন সরকারকে সংযুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে।  
জানা গেছে, নাহিদ আলী সহকারী মেকানিক ইলেকট্রিক পদে কর্মরত আছেন।২০০৬ সাল থেকে তিনি শ্রমিক সংগঠনের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক  সম্পাদক ছিলেন। এবং পরে অর্থ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সর্বশেষ সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে  তিনি ২০ বছর নির্যাতিত ও বিভিন্ন জোনে অহেতুক তাকে বার বার বদলি করা হয় এবং বিএনপি জামায়াত বলে পদোন্নতি দেওয়ার পর পদোন্নতি হিলডাপও করে দেয়।তবে তার জুনিয়রদের আওয়ামী লীগের সময়ে পদোন্নতি দেয়া হয়। কিন্ত্ত পদোন্নতি তাকে দেয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী নাহিদের অভিযোগ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নুরুজ্জামান, আপেল ও মজিবুর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়। অথচ ৫ আগষ্টের পরে তারা আবারো বিএনপি লোকের সঙ্গে জড়িত হয় এবং তারা বরেন্দ্রের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি-সম্পাদক সাজে। নাহিদ শ্রমিক দলের মহানগর এবং (রাজ-২৮৮) এর সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হওয়ার পরেও  তাকে ধামইরহাট জোনে  বদলি করে। অথচ তিনি ২১ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সময়ে অনেক বার  বদলি করা হয়েছেন। বিএনপি মতাদর্শীদের তারা বদলি করছে এবং মোটা অংকের টাকায় আপেল ও নুরুজ্জামান  এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। আবার মজিবর নিজেকে সভাপতি দাবী করে তার কোন কাগজপত্র নাই। এবং এখানে কোন সিবিএ  নেই তারা মারডাঙ্গা হিসেবে পরিচিত।  বিএনপি'র লোকজনকে বদলি করে দিচ্ছে  আর আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে আসছে। এর প্রতিকার চাইলে তাকে বদলি করা হয়েছে। নাহিদ ইসলাম তার বদলির
প্রতিবাদ করে তাকে  দ্রুত যে জায়গায় ছিলেন সেই জায়গায় ওয়ার্কশপ রাজশাহী রিজিয়নে বদলী করার দাবি করেছেন।মহানগর শ্রমিক দলের প্রতিটি নেতা তাদের বোর্ড মেম্বার  সমাপ্ত স্যার এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে জানান নাহিদ আলী।
পুঠিয়া থেকে মইনুদ্দিন নামের যে ইলেক্ট্রেশিয়ানকে রাজশাহীতে বদলী করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের সময়ে
প্রতিমন্ত্রীর দাপট দেখিয়ে সে হেড অফিসের ওয়ার্কশপে একটানা ১১ বছর ছিল। তিনি মাত্র ৮ মাস আগে পুঠিয়া গিয়েছেন। অথচ বিএনপি মতাদর্শী  নাহিদকে সরিয়ে সে আবার একই জায়গায় এসেছে। আর বিএনপির লোক হয়েও হেড অফিস থেকে নাহিদকে ধামুইরহাট বদলি হয়েছে।কিন্ত্ত আওয়ামী লীগ করার পরেও তাকে আবার ওয়ার্কশপের দায়িত্ব দিলো মজিবুর, আপেল ও  নুরুজ্জামান বলে গুঞ্জন রয়েছে। 
নাহিদের দাবি বিএনপি নেতা বদলী করে আওয়ামী লীগের নেতাকে পুর্নবাসন করা হলো। আওয়ামী লীগের সময় ১২ বছর ছিলো  মঈনুদ্দিন  ওযাকসপে রাজশাহী রিজিওনে, আবার ১১ মাস পড়ে  বিএনপি নেতা হাত ধরে বিএনপি নেতা হটিয়ে  আওয়ামী লীগ  নেতা মঈনুদ্দিন বসলো রাজশাহী রিজিয়নে ওয়ার্কসপে।এবিষয়ে জানতে চাইলে মইনুদ্দিন সরকার প্রথমে আওয়ামী লীগ করার কথা শিকার করেন।কিন্ত্ত পরে তা অস্বীকার করে বলেন আপনার কাছে কোনো প্রমাণ আছে ? তিনি বলেন,আপনাদের (সাংবাদিক) মনে চাই তাই লিখতে পারেন।#
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%