ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

বাবা-দাদার নামে জমির তথ্য কোথায় কতটুকু আছে, জানবেন যেভাবে


বাবা-দাদার নামে জমির তথ্য কোথায় কতটুকু আছে, জানবেন যেভাবে

জমি সংক্রান্ত তথ্য জানার জন্য একসময় ভূমি অফিসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। বিশেষ করে বাবা-দাদার নামে কোথায় কত জমি রয়েছে, তা খুঁজে বের করা ছিল একটি কঠিন কাজ। তবে বর্তমানে দেশের ভূমিসেবা ডিজিটাল হয়ে যাওয়ার ফলে সাধারণ জনগণ ঘরে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে জমির খতিয়ান ও দাগসংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য জানার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি, ঝামেলা ছাড়াই অনলাইনে খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপির জন্য আবেদন করা সম্ভব হয়েছে।

অনলাইনে জমির তথ্য জানার সহজ উপায়

জমির তথ্য জানার জন্য প্রথমে স্মার্টফোনের ব্রাউজার থেকে ‘ই-পর্চা’ লিখে অনুসন্ধান করতে হবে। এরপর সরকারি ই-পর্চা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে মেন্যু থেকে ‘খতিয়ান’ অপশন নির্বাচন করতে হবে। পরবর্তী ধাপে জমির বিভাগ, জেলা, খতিয়ানের ধরন, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট রেকর্ড অনুযায়ী খতিয়ানের ধরন হিসেবে বিএস, সিএস, আরএস বা এসএ নির্বাচন করার সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: ইনোভার: আধুনিক জীবনের প্রযুক্তি, নকশা ও নির্ভরযোগ্যতার সমন্বয়

এরপর খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা মালিকের নাম ব্যবহার করে জমির তথ্য খোঁজা যাবে। প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ক্যাপচা পূরণের পর ‘অনুসন্ধান করুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। সার্চ সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডে জমির মালিকের নাম, দাগ ও খতিয়ানসংক্রান্ত তথ্য এবং জমির পরিমাণ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে।

খতিয়ানের কপির জন্য অনলাইনে আবেদন

জমির তথ্য পাওয়ার পর খতিয়ানের কপির জন্য সংশ্লিষ্ট রেকর্ডের ‘আবেদন করুন’ অপশন থেকে আবেদন করা যাবে। এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, ই-মেইল, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দিয়ে ফরম পূরণের পর তথ্য যাচাই করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ফি অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে।

শুধু নাম দিয়েই কী সব জমির তথ্য পাওয়া যাবে?

আরও পড়ুন: প্রযুক্তির অগ্রগতির চেয়ে সেবার মানোন্নয়ন জরুরি: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম

অনলাইনে শুধুমাত্র নাম দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জমির পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া সম্ভব নয়। জমির রেকর্ডের নির্দিষ্ট এলাকা ও দাগ নম্বরের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় বাবা বা দাদার সম্পত্তি খুঁজতে সংশ্লিষ্ট এলাকার কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা প্রয়োজন।

অনলাইনে প্রাপ্ত তথ্য কেবল প্রাথমিক যাচাইয়ের কাজে ব্যবহার করা উচিত। জমি কেনাবেচা বা মালিকানা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে খতিয়ান, দলিল ও নামজারিসহ সকল বৈধ নথি ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি, বিশেষ করে পুরনো জমির ক্ষেত্রে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০ টাকার আলু ১১ টাকায় বিক্রি, তবু ক্রেতার অভাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৫ এম


২০ টাকার আলু ১১ টাকায় বিক্রি, তবু ক্রেতার অভাব

হিমাগারে আলু সংরক্ষিত থাকলেও ক্রেতার অভাব দেখা দিয়েছে। পাইকারি বাজারে আলুর দাম কমে ১১ থেকে ১২ টাকায় নেমে এসেছে। তবে, হিমাগারে সংরক্ষণ করতে খরচ হয়েছে ৯ টাকার বেশি। উৎপাদন এবং সংরক্ষণ মিলিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ব্যয় ২০ টাকারও বেশি পড়েছে। ফলে, আলু বিক্রি করলেও কেজিপ্রতি বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে। বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে লোকসান মেনে বিক্রি করতে চাইলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে কুড়িগ্রাম ও রাজারহাট উপজেলার ছয়টি হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু অবিক্রীত থাকার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

রাজারহাটের কৃষক আব্দুল্লাহ, যিনি আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেছেন, জানান, "লাভের আশায় আলু হিমাগারে রেখেছিলাম। এখন কেজি ১১-১২ টাকায় বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই উঠছে না।" তিনি আরও বলেন, "হিমাগার ভাড়া ও অন্যান্য খরচ যোগ করে লোকসান আরও বাড়ছে।" রাজারহাটের চাষি রোকন মিয়া বলেন, "কৃষক আলু উৎপাদন করতে ঋণ করেছেন, হিমাগারে রাখতেও খরচ হয়েছে। এখন কম দামে বিক্রি করলে ঋণের টাকা পরিশোধ করাই কঠিন হবে।"

কুড়িগ্রাম সদরের বাবর কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শরিফ আল মাসুদ জানান, চলতি বছর তাদের হিমাগারে ১১ হাজার টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছয় হাজার টন বিক্রি হয়েছে। এখনও পাঁচ হাজার টন অবিক্রীত রয়েছে। নতুন মৌসুম শুরুর আগে বাকি আলু আগামী দুই মাসের মধ্যে বিক্রি করা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। রাজারহাটের এ হক হিমাগার, রাবেয়া কোল্ড স্টোরেজ এবং কুড়িগ্রাম সদরের মোস্তফা কোল্ড স্টোরেজ থেকেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, "উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় কৃষকরা ব্যাপকভাবে আলু চাষ করেন।" তিনি আরও জানান, "একই সময়ে বেশি উৎপাদন হওয়ায় সরবরাহ বেড়ে দাম কমে যায়। বর্তমানে হিমাগারে থাকা আলুর সঠিক ব্যবস্থাপনা করা গেলে বাজারদর বাড়তে পারে। এতে কৃষকদের ভোগান্তি কমবে এবং হিমাগারে থাকা আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পোল্যান্ডের ক্রাকোর প্রধান চত্বরে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬, আহত ১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৬ এম


পোল্যান্ডের ক্রাকোর প্রধান চত্বরে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬, আহত ১৭

পোল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ক্রাকোর কেন্দ্রীয় চত্বরে বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলির ফলে ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় আরও ১৭ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সংঘটিত হামলার পর পুলিশ গুলি চালিয়ে হামলাকারীকে আটক করে। হামলাকারীর বাড়ি থেকে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী ২৪ বছর বয়সী একজন পোলিশ নাগরিক। তার হামলায় নিহতদের মধ্যে চারজন নারী এবং দুইজন পুরুষ রয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজন পুলিশ সদস্যও অন্তর্ভুক্ত। নিহতদের মধ্যে একজন যুক্তরাজ্যের নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া আহত পাঁচজন বিদেশি নাগরিক অস্ট্রিয়া, জার্মানি, পর্তুগাল, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারচিন কিয়ারভিনস্কি জানিয়েছেন, হামলাকারী উগ্র ডানপন্থি মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন। বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। হামলাকারী সামরিক পোশাক পরে এআর-১৫ রাইফেল ব্যবহার করেছেন। তার গাড়ি থেকেও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানিয়েছেন, হামলাকারীর বাড়ি থেকে দুইজন নারী এবং একজন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বাড়িতে আরও অস্ত্র থাকার আশঙ্কায় নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়েছে।

পুলিশ জানায়, হামলার খবর পাওয়ার মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এর ফলে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। একাধিক অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও স্থিতিশীল।

এই ঘটনায় ৮ ও ৯ নভেম্বর জাতীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি। হামলায় হতাহতদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতারা।

সূত্র: রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন, নতুন মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৬ এম


গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন, নতুন মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর

কয়েকদিন ধরে চলা উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর, মালিক ও শ্রমিকের সম্মতির ঘোষণায় মজুরি বোর্ড কর্তৃক বেতন বৃদ্ধির সুপারিশে শ্রমিকরা কাজে ফিরে এসেছেন। শ্রমিকদের খুশি মনে কাজে ফিরে যাওয়ার ফলে কলকারখানার চাকা আবার ঘুরতে শুরু করেছে, এবং উৎপাদন পুরোদমে চলছে। ফলে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সকালবেলা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শ্রমিকরা কাজে যোগদান করেছেন।

এদিন সকাল থেকেই গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে, যেমন কোনাবাড়ি, শফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ, চন্দ্রা, বাসন সড়ক, টঙ্গী, সালনা, বাংলা বাজারসহ শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সরকারের গঠন করা মজুরি বোর্ডের বেতন বৃদ্ধির আশ্বাসে শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে ফিরে এসে কাজে যোগ দিয়েছেন। নতুন মজুরি ডিসেম্বর মাস থেকে কার্যকর হবে এবং শ্রমিকরা জানুয়ারি মাস থেকে তা পাবেন।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানিয়েছেন, গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর খবর পাওয়া যায়নি। শিল্প পুলিশের সদস্যরা মহাসড়কের প্রতিটি পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন জানিয়েছেন, আজও শিল্প কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ঠেকাতে ১২ প্লাটুন, এসআরবি ৮ প্লাটুন ও ৫ প্লাটুন আনসার মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি শিল্প পুলিশ, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ ও গাজীপুর জেলা পুলিশের সদস্যরাও মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে অবস্থান করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পোশাকশিল্পকে রাজনৈতিক সংঘাতের বাইরে রাখতে হবে: বিশেষজ্ঞরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ এম


পোশাকশিল্পকে রাজনৈতিক সংঘাতের বাইরে রাখতে হবে: বিশেষজ্ঞরা

উদ্যোক্তারা কারখানা নির্মাণ করেন, কিন্তু রাজনৈতিক ঐক্য, নীতির ধারাবাহিকতা এবং অভিন্ন জাতীয় লক্ষ্য একটি দেশকে শিল্পোন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করে। অর্থনীতির উন্নত দেশগুলোতে দলীয় রাজনৈতিক সংঘাতের অবসান ঘটে কারখানার প্রবেশদ্বারে। কারণ, রাজনীতিকেরা উপলব্ধি করেন—দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতগুলোই জাতীয় অর্থনীতির প্রাণশক্তি। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে এসব খাতকে ব্যবহার করা মানে নিজের অর্থনৈতিক ভিত্তিকেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া। সরকার পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক শক্তিগুলোকে অবশ্যই সব ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হস্তক্ষেপের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। সম্প্রতি ডেইলি অবজার্ভারের এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়।

বাংলাদেশ বর্তমানে এক গভীর উদ্বেগজনক বাস্তবতার সম্মুখীন। দেশের অর্থনৈতিক অস্তিত্বের অন্যতম প্রধান ভিত্তি তৈরি পোশাকশিল্প ক্রমেই এক বিপজ্জনক রাজনৈতিক সংঘাতের ময়দানে পরিণত হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলের চলমান অস্থিরতার নেপথ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি অভিযোগ করেছেন, সীমান্তের ওপার থেকে সক্রিয় কিছু শত্রুভাবাপন্ন চক্র তৈরি পোশাকশ্রমিকদের উসকে দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, পরিকল্পিতভাবে শিল্পাঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা এবং দেশের অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করাই তাদের উদ্দেশ্য।

এটি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে দাবি করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শিল্পাঞ্চলে নাশকতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পেছনে একটি পরিকল্পিত নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এবং পুলিশের সাবেক দুই অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের বিরুদ্ধে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতা উসকে দেওয়া ও অর্থায়নের অভিযোগ উঠেছে।

শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনকে একটি মহল নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ব্যবহার করেছে এবং সহিংসতা ও নাশকতার আড়াল হিসেবে দাঁড় করিয়েছে—এমন অভিযোগ সামনে এসেছে। মিরপুরে গত ৩ নভেম্বর এক পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তদন্তের দাবি।

শিল্পাঞ্চলগুলোতে যখন উত্তেজনা ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ছে, তখন এই রাজনৈতিক সংঘাতের ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে সমাজবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ ও আইনপ্রণেতাদের মধ্যে এক বিরল উদ্বেগ ও ঐকমত্য তৈরি হচ্ছে।

দেশের অধিকাংশ শিল্পকারখানা, বিশেষ করে বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রসমৃদ্ধ নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ নেপথ্যে কলকাঠি নাড়াদের উদ্দেশে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, শ্রমিকদের মাসিক ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিকে কোনো ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে পারবে না।

শিবু মার্কেট ও কাথারপুল এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে, যখন শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, তখন আজাদ জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেন—সরকার ও কারখানার মালিকপক্ষ শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির অধিকারের প্রতি সমর্থন জানালেও একটি অদৃশ্য মহল সেই ন্যায্য আন্দোলনকে জাতীয় বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

দলীয় রাজনৈতিক সংঘাত থেকে এই শিল্পকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার পরিণতি হবে ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী। বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে তৈরি পোশাকশিল্প থেকে। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এ খাতের অবদান ১০ শতাংশেরও বেশি। রাজনৈতিক নাশকতা ও অস্থিরতার কারণে মাত্র ৯০ দিনের জন্যও যদি এই শিল্পের উৎপাদনব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ে, তাহলে দেশের অর্থনীতি এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, টানা তিন মাস উৎপাদন বন্ধ থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হবে। জ্বালানি ও খাদ্যপণ্য আমদানির সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং অতিমূল্যস্ফীতির চাপে টাকার বিনিময়মূল্য ভয়াবহভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

তবে এই বিপর্যয়ের ভয়াবহতা কেবল অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর আঘাত গিয়ে পড়বে কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর। ৯০ দিনের জন্য পোশাকশিল্প বন্ধ হয়ে গেলে সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে ৪০ লাখের বেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান, যাঁদের অধিকাংশই নারী। তাঁদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল ২ কোটিরও বেশি পরিবারের সদস্য চরম খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা ও দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়বেন। এর ফলে মিরপুর, গাজীপুর, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক সামাজিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিরোধ মীমাংসার জন্য আন্তর্জাতিক ফ্যাশনবাজার অপেক্ষা করবে না। উৎপাদন ও সরবরাহে একটি মৌসুমের ব্যর্থতাই আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোকে তাদের শত শত কোটি ডলারের ক্রয়াদেশ স্থায়ীভাবে ভিয়েতনাম, ভারত ও কম্বোডিয়ার মতো দেশে সরিয়ে নিতে প্ররোচিত করতে পারে। এমন ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশের এক দশকও লেগে যেতে পারে।

একই সঙ্গে পোশাকশিল্পের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত দেশের ব্যাংকিং খাতও বড় ধরনের সংকটে পড়বে। কারখানাগুলোর সঙ্গে ব্যাংকের বিপুল ঋণ ও অর্থায়ন সম্পর্ক রয়েছে। উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে ব্যাপক ঋণখেলাপির ঝুঁকি তৈরি হবে, ব্যাংকের তারল্য সংকট বাড়বে এবং পুরো বেসরকারি অর্থনীতির স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়তে পারে।

তিন মাসের অচলাবস্থা কোনো সাময়িক বিরতি নয়; এটি হতে পারে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কয়েক দশকের শিল্পোন্নয়নের অর্জনকে স্থায়ীভাবে বিপর্যস্ত করার সূচনা।

সরকার যখন শ্রমিকদের প্রকৃত সমস্যা ও ন্যায্য দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়ে নতুন মজুরি কমিশনের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছে, তখন দেশের স্বার্থে সব রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।

জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় বিপর্যস্ত বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পকে রাজনৈতিক সংঘাতের বাইরে রাখা এখন আর নিছক কোনো বিকল্প নয়। এটি দেশের অর্থনৈতিক অস্তিত্ব, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা রক্ষার অন্যতম শেষ প্রতিরক্ষা প্রাচীর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%