ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

মোবাইলেই জানুন বাবা-দাদার নামে জমির বিস্তারিত তথ্য


মোবাইলেই জানুন বাবা-দাদার নামে জমির বিস্তারিত তথ্য

জমি সংক্রান্ত তথ্য জানার জন্য অনেক সময় ভোগান্তির শিকার হতে হয়। ভূমি অফিসে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। তবে এখন আর ভূমি অফিসে যেতে হবে না আপনার বাবা-দাদার নামে কোথায় কত জমি আছে তা জানার জন্য। ভূমি সেবা ডিজিটাল হয়ে যাওয়ার ফলে এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করে ঘরে বসে জমির খতিয়ান ও দাগসংক্রান্ত প্রাথমিক তথ্য জানা সম্ভব। অনলাইনে খতিয়ানের কপির জন্য আবেদনও করা যাবে।

জমির তথ্য খোঁজার পদ্ধতি

প্রথমে স্মার্টফোনের ব্রাউজারে গিয়ে ‘ই-পর্চা’ লিখে সার্চ করতে হবে। এরপর সরকারি ই-পর্চা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে মেনু থেকে ‘খতিয়ান’ অপশন নির্বাচন করতে হবে।

আরও পড়ুন: সাইবার সিকিউরিটি ও তথ্য সুরক্ষা সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন

পরবর্তী ধাপে জমির বিভাগ, জেলা, খতিয়ানের ধরন, উপজেলা ও মৌজা নির্বাচন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট রেকর্ড অনুযায়ী খতিয়ানের ধরন হিসেবে বিএস, সিএস, আরএস বা এসএ নির্বাচন করার সুযোগ থাকবে।

এরপর খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর অথবা মালিকের নাম ব্যবহার করে জমির তথ্য খোঁজা সম্ভব। প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর ক্যাপচা পূরণ করে ‘অনুসন্ধান করুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।

সার্চ সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডে জমির মালিকের নাম, দাগ ও খতিয়ানসংক্রান্ত তথ্য এবং জমির পরিমাণ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে।

খতিয়ানের কপির আবেদন

আরও পড়ুন: অনলাইনে সেবা দিলেই ডিজিটাল রূপান্তর হয় না: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

অনলাইনে তথ্য দেখার পর প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট তথ্যের পাশে থাকা ‘আবেদন করুন’ অপশন থেকে খতিয়ানের কপির জন্য আবেদন করা যাবে। আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, ই-মেইল, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন করা যাবে।

আবেদন ফরম পূরণের পর তথ্য যাচাই করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে। নির্ধারিত ফি থাকলে সেবায় প্রদর্শিত অনুমোদিত পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করে অনলাইনে তা পরিশোধ করা যাবে।

শুধু নাম দিয়ে সব জমির তথ্য মিলবে?

অনলাইনে জমির তথ্য খোঁজার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একজনের নাম লিখে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার নামে থাকা সব জমির পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া যাবে না। জমির রেকর্ড নির্দিষ্ট বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা, খতিয়ান ও দাগের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই বাবা, দাদা বা পরিবারের অন্য কারও নামে থাকা জমি খুঁজতে সংশ্লিষ্ট এলাকার কিছু তথ্য জানা থাকলে অনুসন্ধান সহজ হয়।

আরও পড়ুন: ক্যানভা ১৩ বছরে সবচেয়ে বড় সংকটে, ২২ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই

অনলাইনে পাওয়া তথ্য মূলত প্রাথমিক যাচাইয়ের কাজে ব্যবহার করা উচিত। জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার বা মালিকানা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খতিয়ান, দলিল, নামজারি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে পুরোনো জমির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ের খতিয়ানে তথ্যের পরিবর্তন থাকতে পারে। তাই কোনো জমির বর্তমান মালিকানা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব বৈধ নথি মিলিয়ে দেখা জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবিপ্রবিতে পানির ট্যাপ চুরির অভিযোগে বৃদ্ধা আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১০ পি.এম


পাবিপ্রবিতে পানির ট্যাপ চুরির অভিযোগে বৃদ্ধা আটক

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) চুরির অভিযোগে এক বৃদ্ধাকে আটক করা হয়েছে। তাকে পরে পাবনা সদর থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হস্তান্তর করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম কালু মালিথা (৬০)। তিনি পাবনা সদর উপজেলার আটুয়া মহল্লার লাইব্রেরি বাজার এলাকার বাসিন্দা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২ ও ৩-এর বিভিন্ন বিভাগের ওয়াশরুম থেকে দীর্ঘদিন ধরে পানির ট্যাপ চুরির ঘটনা ঘটছিল বলে জানা যায়। এসব ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে কালু মালিথাকে শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গত বুধবার (৪ নভেম্বর) ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ওয়াশরুম থেকে পানির ট্যাপ চুরির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চুরির ঘটনা তদন্তের জন্য বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয় এবং অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়। পরে তার ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরে সরবরাহ করা হয় এবং পুনরায় ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে অভিযুক্ত কালু মালিথা পুনরায় ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা তাকে শনাক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে আটক করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আনসার সদস্যদের প্লাটুন কমান্ডার (পিসি) মো. হান্নান বলেন, "ট্যাপ চুরির ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা হাসিব স্যার আমাদের নিরাপত্তা জোরদার এবং সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।" আনসার সদস্যদের নিয়ে তাদের যে গ্রুপ রয়েছে, সেখানে অভিযুক্তের ছবি শেয়ার করা হয় এবং সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়। আজ তাকে গেটে আটক করার পর নিরাপত্তা কর্মকর্তা হাসিব স্যারকে ফোনে বিষয়টি জানানো হয়। পরে তিনি এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা এস এম হাসিবুর রহমান বলেন, "বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন বিভাগের ওয়াশরুম থেকে পানির ট্যাপ চুরির অভিযোগ পাচ্ছিলাম।" বিষয়টি তদন্ত করে তারা ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন। আজও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন। আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে ফোন দিলে তিনি ক্যাম্পাসে আসেন। পরে ঘটনার তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, "আমি এই মুহূর্তে পাবনায় নেই। তবে কিছুক্ষণ আগেই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছি।" এর আগেও বেশ কয়েকবার ট্যাপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরাতে মাইকিং করছেন পোশাকশ্রমিক কবির মিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১০ পি.এম


কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরাতে মাইকিং করছেন পোশাকশ্রমিক কবির মিয়া

এক মাস আগে সড়কের উপর পাঁচ অঙ্কের টাকা কুড়িয়ে পেয়েছিলেন পোশাকশ্রমিক কবির মিয়া। প্রকৃত মালিকের খোঁজ করার পরও তিনি সন্ধান পাননি। অবশেষে এক হাজার টাকা খরচ করে এলাকায় মাইকিং করার সিদ্ধান্ত নেন এই শ্রমিক।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়ন ও ঘোড়াশাল পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করেন কবির। তিনি উপজেলার হাসনহাটা গ্রামের মো. আকবর আলীর পুত্র।

কবির জানান, গত ৩ অক্টোবর বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ঘোড়াশাল-ডাঙ্গা সড়কের হাসনহাটা এলাকায় কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে টাকাগুলো পড়ে থাকতে দেখেন। কুড়িয়ে নেওয়ার পর রাত ৯টা পর্যন্ত এলাকাবাসীর সহায়তায় মালিকের খোঁজ করেন। পরে স্থানীয় মসজিদের ইমামের পরামর্শে অপেক্ষা করতে থাকেন। প্রতিদিন কর্মস্থলে যাওয়া-আসার পথে সহকর্মী, অটোরিকশাচালক ও স্থানীয়দের কাছেও খোঁজ নেওয়া হয়। ঘটনার দিন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চরকা কারখানার শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হয়েছিল বলে জানার পর সেখানেও বিষয়টি প্রচার করেন। তবে এক মাস পার হলেও কেউ টাকা নিতে আসেননি।

শুক্রবার মাইকিংয়ের সময় টাকার সঠিক বিবরণ দিয়ে যোগাযোগের জন্য পূর্ব হাসনহাটার বাইতুন নূর জামে মসজিদের ইমামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। এ সময় নিজের মুঠোফোন নম্বরও প্রচার করেন কবির।

তিনি বলেন, "হয়ত টাকাগুলো কারও অনেক কষ্টের উপার্জন। অন্যের টাকা নিজের কাজে খরচ বা দান করতে পারেন না।" আগামী সাত দিনের মধ্যে যদি কেউ মালিকানা দাবি না করেন, তাহলে টাকাগুলো এতিমখানায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

মসজিদের ইমাম নাজমুল হাসান বলেন, প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পেয়ে কবির মাইকিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছেন। অন্যের সম্পদ ফেরত দিতে তার এই প্রচেষ্টা সততার একটি দৃষ্টান্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পার্বত্য অঞ্চলে কফি ও কাজুবাদাম চাষের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১১ পি.এম


পার্বত্য অঞ্চলে কফি ও কাজুবাদাম চাষের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অনাবাদি ও টিলা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কফি এবং কাজুবাদাম চাষের সম্ভাবনা ব্যাপকভাবে দেখছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী। তিনি মন্তব্য করেন, "এর মাধ্যমে পাহাড়ি কৃষকদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও ভাগ্যোন্নয়ন সম্ভব।" এই লক্ষ্যে কফি ও কাজুবাদাম চাষ সম্প্রসারণে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বান্দরবান জেলায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানকালে চিম্বুক রেঞ্জের বাবুপাড়ায় স্থানীয় এক কৃষক উদ্যোক্তার কফি প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী কৃষকদের প্রযুক্তিগত ও নীতিগত সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বলেন, "স্থানীয় পাহাড়ি কৃষকদের কফি ও কাজুবাদাম, রাম্বুটান গবেষণা, উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে চাষাবাদ থেকে শুরু করে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত সমন্বিত প্রযুক্তি ও সার্বিক সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।" তিনি আরও জানান, পার্বত্য অঞ্চলের অনাবাদি ও টিলা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে কফি, কাজুবাদাম ও রাম্বুটান বাগান গড়ে তুলতে চাষিদের নিরবচ্ছিন্নভাবে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

পাহাড়ে কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পানির সংকট সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরে সাচিং প্রু জেরী জানান, ন্থানীয় পাড়াগুলোতে পানির সংকট নিরসনে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে পানির ট্যাংক সরবরাহ করা হয়েছে।

মন্ত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকেও পানিবাহী ট্রাকের মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে এবং এই কার্যক্রম সারা বছর অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে মন্ত্রী রুমা উপজেলার লংবাইতং পাড়া বৌদ্ধবিহার প্রাঙ্গণে আয়োজিত সীমা বিহার উৎসর্গ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঝিরি থেকে পাথর তুলে উন্নয়ন প্রকল্পে যাচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:১২ পি.এম


ঝিরি থেকে পাথর তুলে উন্নয়ন প্রকল্পে যাচ্ছে

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম অঞ্চল রেমাক্রী ও বড় মদক এলাকা প্রাকৃতিক পাথরের সৌন্দর্যের জন্য পর্যটকদের কাছে পরিচিত। দীর্ঘ সময় ধরে পাথরের রাজ্য হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলের ঝিরি থেকে অবাধে পাথর তোলার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, পাথর তোলার ফলে একদিকে পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ঝিরির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা সৃষ্টি করছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, গত দুই বছর ধরে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় পাথর ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের একটি চক্র রেমাক্রী ও বড় মদক এলাকার প্রাকৃতিক পাথর তুলে তা সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারদের কাছে বিক্রি করছে।

তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, ঝিরি থেকে পাথর তোলার জন্য লামা এলাকার জকির নামের একজন ব্যক্তি শ্রমিক নিয়োগ করেছেন। পাথর তোলার পর সেগুলো ভেঙে খোয়া তৈরি করা হচ্ছে এবং পরে বিভিন্ন নির্মাণকাজে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে জাকিরের বিস্তারিত পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বড় মদক এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাথর তোলার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালালে বড় মদক ঝিরি থেকে পাথর তোলার সত্যতা উঠে আসে।

বড় মদক পাড়ার বাসিন্দা অংতুয়াই সিং মারমা, অনুমং মারমা, চিংহলা মং মারমাসহ স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, গত এক মাস ধরে লামা এলাকার পাথর ব্যবসায়ী জকির প্রায় ২০-৩০ জন শ্রমিক দিয়ে ঝিরি থেকে পাথর তুলছেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই রোহিঙ্গা। তাদের দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ থেকে সাত হাজার পিচ পাথর তোলা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝিরি থেকে পাথর তুলে তা ক্রাশিং মেশিনের সাহায্যে ভাঙা হয়। পরে ওই ভাঙা পাথর বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও সড়ক নির্মাণের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।

তারা বলছেন, অবৈধ পাথর তোলা বন্ধে গত কয়েক সপ্তাহে একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে, কিন্তু শনিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা চলামং থোয়াই নু প্রু মারমার ভাষ্য, পাথর তোলায় বাধা দিতে গেলে ব্যবসায়ী জকির স্থানীয়দের হুমকি-ধমকি দেন। জাকিরের দাবি, উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েই তিনি এ কাজ করছেন।

তবে পাথর তোলার বৈধ অনুমতিপত্র কিংবা সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র দেখাতে চাইলে জাকির তা দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ ঘটনার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, দুর্গম এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব যাদের, তাদের সহযোগিতায় কীভাবে দিনের পর দিন পাথর তোলা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জকিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি।

রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুই সৈ থুই মারমা বলেন, "পাথর তোলার বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে নদী বা ঝিরি থেকে পাথর না তুলতে বলা হয়েছিল স্থানীয়দের।"

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সালকে একাধিকবার কল দেওয়া হলে তিনি তা ধরেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাতে সাড়া দেননি তিনি।

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম হাসান বলেন, "পাথর তোলার বিষয়ে আগে কোনো অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%