০৪:০৩ এম
আধুনিক বাড়ির বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এখন শুধুমাত্র প্রয়োজন মেটানোর উপকরণ নয়; বরং জীবনযাপনের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও নান্দনিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এই ধারণাকে সামনে রেখে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ আকিজ রিসোর্সের ফ্ল্যাগশিপ ব্র্যান্ড ইনোভার বৈদ্যুতিক পণ্য ও গৃহস্থালি সরঞ্জামের বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে চায়।
একটি নতুন বাড়ি সাজানোর সময় দেয়ালের রং, রান্নাঘরের টাইলস, আসবাবের নকশা কিংবা ঘরের আলোকসজ্জা—সবকিছুর ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ও ব্যক্তিগত পছন্দের ছাপ থাকে। তবে ঘরের সুইচ, সকেট, বাতি কিংবা অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় সেই যত্ন দেখা যায় না।
প্রতিদিনের জীবনযাপনে এসব সরঞ্জামের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। এই বাস্তবতা থেকেই ইনোভার বৈদ্যুতিক সরঞ্জামকে নতুনভাবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। আকিজ রিসোর্সের এই ব্র্যান্ডের লক্ষ্য হলো দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্যগুলোকে কার্যকারিতা, আধুনিক নকশা, প্রযুক্তি ও নির্ভরযোগ্যতার সমন্বয়ে উপস্থাপন করা। ব্র্যান্ডটির স্লোগান ডিজাইনড ফর নাও (‘Designed for Now’) অর্থাৎ, বর্তমান সময়ের মানুষের চাহিদা ও জীবনযাত্রার উপযোগী করে পণ্য নকশা করা।
আরও পড়ুন: প্রযুক্তির অগ্রগতির চেয়ে সেবার মানোন্নয়ন জরুরি: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম
ইনোভার নামের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এনার্জি, ইনোভেশন ও রিলায়েবিলিটির ধারণা—যার অর্থ শক্তি, উদ্ভাবন ও নির্ভরযোগ্যতা। এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে ব্র্যান্ডটির পণ্যসম্ভার সাজানো হয়েছে। সুইচ, সকেট, লাইটিং, পানির পাম্প, হার্ডওয়্যার টুলস ও গৃহস্থালি সরঞ্জাম রয়েছে ইনোভারের পণ্যসম্ভারে। এই পণ্যের মাধ্যমে বাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনার দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে ব্র্যান্ডটির।
আকিজ রিসোর্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আকিজ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড-এর ব্র্যান্ড ইনোভার ২০২৫ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। শুরুতে এলইডি লাইটিং ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হলেও, যাত্রা শুরুর এক বছরের মধ্যেই হোম অ্যাপ্লায়েন্স, পাম্প, হার্ডওয়্যার ও পাওয়ার টুলসসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে পণ্য সম্প্রসারিত হয়েছে। পাশাপাশি এসব পণ্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।
একটি নতুন ব্র্যান্ডের জন্য বাজারে জায়গা করে নেওয়া সহজ নয়। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মতো পণ্যে ক্রেতারা সাধারণত দাম, স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেন। তাই শুধু পণ্যের বৈচিত্র্য নয়, মানের ধারাবাহিকতা ও ক্রেতার আস্থা অর্জনও গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে আকিজ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসুদ আল আমিন রাজিব বলেন, “আমরা মনে করি, আধুনিক বৈদ্যুতিক পণ্য শুধু দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো মানুষের জীবনযাত্রার মান, নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত। ইনোভারের মাধ্যমে আমরা আধুনিক নকশা, প্রযুক্তি, গুণগত মান ও নির্ভরযোগ্যতার সমন্বয়ে এমন পণ্য দিতে চাই, যা বর্তমান সময়ের গ্রাহকদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমাদের লক্ষ্য শুধু পণ্য সরবরাহ করা নয়, বরং গ্রাহকের আস্থা অর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা।”
আরও পড়ুন: মোবাইলেই জানুন বাবা-দাদার নামে জমির বিস্তারিত তথ্য
আলোয় স্বাচ্ছন্দ্য, সাশ্রয়ে গুরুত্ব
ঘরের পরিবেশ তৈরিতে আলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পড়ার টেবিল, রান্নাঘর, শোবার ঘর কিংবা বাড়ির বাইরের অংশ—প্রতিটি জায়গায় আলোর প্রয়োজন আলাদা। তাই শুধু উজ্জ্বলতা নয়, আলোর দক্ষতা, স্থায়িত্ব ও ব্যবহারের উপযোগিতাও বিবেচনায় নিতে হয়।
ইনোভারের লাইটিং পণ্যের ক্ষেত্রে এসব বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্র্যান্ডটির কিছু লাইটিং পণ্যে প্রতি ওয়াটে সর্বোচ্চ ১২০ লুমেন রয়েছে। এসব পণ্যের লাইফ টাইম ২৫ হাজার ঘণ্টা এবং ওই সময়জুড়ে আলো ৯০ শতাংশ বজায় থাকে।
সুইচেও নকশার বৈচিত্র্য
আরও পড়ুন: সাইবার সিকিউরিটি ও তথ্য সুরক্ষা সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন
একসময় সুইচ বা সকেট কেনার ক্ষেত্রে কার্যকারিতা ও দামই ছিল প্রধান বিবেচ্য। কিন্তু আধুনিক বাড়ির নকশায় ছোট ছোট উপকরণের উপস্থিতিও সামগ্রিক সৌন্দর্যে প্রভাব ফেলে। দেয়ালের রং, আসবাবের ধরন এবং ঘরের সাজসজ্জার সঙ্গে মিলিয়ে সুইচ বেছে নেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে।
ইনোভারের সুইচের নকশায় এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ব্র্যান্ডটির সুইচ পণ্যের ছয়টি সিরিজ রয়েছে। প্রতিটি বিভাগে আলাদা নান্দনিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
আধুনিক রান্নাঘরে ব্যবহারিক সমাধান
বর্তমান জীবনযাত্রায় রান্নাঘরের ভূমিকা বদলাচ্ছে। সময়ের সীমাবদ্ধতা, পরিবারের দৈনন্দিন ব্যস্ততা এবং সুবিধাজনক জীবনযাপনের প্রত্যাশা—সবকিছু মিলিয়ে রান্নাঘরের সরঞ্জামের ক্ষেত্রেও বাড়ছে নতুন চাহিদা।
আরও পড়ুন: অনলাইনে সেবা দিলেই ডিজিটাল রূপান্তর হয় না: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী
এখন ক্রেতারা শুধু কোনো পণ্যে খাবার তৈরি করতে পারে কিনা, তা দেখেন না; বরং সেটি ব্যবহার করা কতটা সহজ, বিদ্যুৎ ব্যবহারে কতটা সাশ্রয়ী এবং রান্নাঘরের সামগ্রিক নকশার সঙ্গে কতটা মানানসই, সেসব বিষয়ও বিবেচনা করেন। পণ্যের নকশা ও ফিনিশে আধুনিকতার ছাপ রাখার পাশাপাশি দৈনন্দিন কাজ সহজ করা এবং রান্নার অভিজ্ঞতাকে আরো স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলাই এ ধরনের সরঞ্জামের উদ্দেশ্য।
পাম্প ও হার্ডওয়্যার পণ্যে নির্ভরযোগ্যতা
বাড়ির বিভিন্ন সরঞ্জামের মধ্যে কিছু পণ্য এমন রয়েছে, যেগুলো সচরাচর চোখে পড়ে না; কিন্তু দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পানির পাম্প ও বিভিন্ন হার্ডওয়্যার সরঞ্জাম তার উদাহরণ।
পানির সরবরাহে ধারাবাহিকতা, প্রয়োজনীয় চাপ বজায় রাখা এবং বিভিন্ন সংযোগের কার্যকারিতা—এসব ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সরঞ্জামের প্রয়োজন হয়। কোনো পণ্য প্রত্যাশিতভাবে কাজ না করলে তা দৈনন্দিন ব্যবহারে অসুবিধা তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুন: ক্যানভা ১৩ বছরে সবচেয়ে বড় সংকটে, ২২ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই
ইনোভারের পাম্প ও হার্ডওয়্যার পণ্যের লক্ষ্য হলো আবাসিক ব্যবহারের এসব প্রয়োজন পূরণে কার্যকর সমাধান দেওয়া। দীর্ঘদিন ধরে নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করতে পারে, এমন পণ্যের গুরুত্ব এখানে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
উৎপাদন অবকাঠামোয় গুরুত্ব
বৈদ্যুতিক পণ্যের বাজারে একটি ব্র্যান্ডের সুনাম গড়ে ওঠে শুধু তার নকশা বা প্রচারের মাধ্যমে নয়; এর পেছনে থাকে উৎপাদনপ্রক্রিয়া, মান নিয়ন্ত্রণ এবং পণ্যের কার্যকারিতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা।
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইনোভারের কারখানা অবস্থিত। কারখানাটির আয়তন প্রায় দুই লাখ বর্গফুট। এখানে বিভিন্ন উৎপাদন লাইনের পাশাপাশি মিনিয়েচার সার্কিট ব্রেকার বা এমসিবি তৈরির জন্য কাঁচামাল থেকে চূড়ান্ত সংযোজন পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘বিজনেস ব্রেইন’ ও ‘জয়া’ দিয়ে ব্যবসা সামলাবে বিটোপিয়া
বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব পণ্যের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সরাসরি ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে সুইচ, সকেট ও সার্কিট ব্রেকারের মতো পণ্যের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মান বজায় রাখা জরুরি।
গ্রাহকের চাহিদা বুঝে ব্র্যান্ড গড়ে তোলা
একটি ব্র্যান্ডের পণ্য যত উন্নতই হোক, গ্রাহকের কাছে তার মূল্য তৈরি হয় তখনই, যখন পণ্যটি বাস্তব প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। তাই পণ্যের নকশা ও প্রযুক্তির পাশাপাশি বাজারের পরিবর্তন, ক্রেতার পছন্দ এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে ইনোভারের জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, “ইনোভারের ‘Designed for Now’ দর্শনের মূল কথা হলো, বর্তমান সময়ের মানুষের জীবনযাত্রা ও পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে পণ্য তৈরি করা। আমরা পণ্যের নকশা, ব্যবহারিক সুবিধা এবং গ্রাহকের অভিজ্ঞতার মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে চাই। পাশাপাশি গ্রাহকের চাহিদা বোঝা, বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা এবং পণ্য সম্পর্কে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো, ইনোভারকে এমন একটি ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলা, যার পণ্য গ্রাহকের দৈনন্দিন জীবনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”
ভবিষ্যতের বাড়ি হবে আরো স্মার্ট
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে বাড়ির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনাও পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত সুইচের পাশাপাশি এখন আলো নিয়ন্ত্রণ, যন্ত্রপাতি পরিচালনা এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব রাখার ক্ষেত্রে স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে।
এই পরিবর্তনের পরবর্তী ধাপ হতে পারে এমন একটি বাড়ি, যেখানে বিভিন্ন যন্ত্র একে অন্যের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করবে।
ইনোভার ভবিষ্যতে ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি-সংযুক্ত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, স্মার্ট সুইচ, আধুনিক রান্নাঘরের সরঞ্জাম এবং স্মার্ট ওয়াটার হিটারের মতো প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের দিকে এগোনোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠার লক্ষ্য
একটি বাড়ি কেবল দেয়াল, ছাদ ও আসবাবের সমষ্টি নয়। সেখানে আলো জ্বালানো, পানি সরবরাহ, রান্না করা এবং বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারের মধ্য দিয়েই দৈনন্দিন জীবন এগিয়ে চলে।
এই ব্যবস্থাগুলো সাধারণত তখনই সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করে, যখন ব্যবহারকারীকে বারবার সেগুলো নিয়ে ভাবতে হয় না। অর্থাৎ, সরঞ্জামগুলো নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করবে, প্রয়োজন মেটাবে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনে অযথা বাধা সৃষ্টি করবে না।
ইনোভারের ব্র্যান্ড দর্শনেও এই ধারণা গুরুত্ব পেয়েছে। পণ্যকে শুধু আলাদা কোনো সরঞ্জাম হিসেবে নয়, বরং বাড়ির সামগ্রিক অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন