ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শিবচরে সেতুর নিচে আবারও নদীভাঙন, ঝুঁকিতে সেতু


শিবচরে সেতুর নিচে আবারও নদীভাঙন, ঝুঁকিতে সেতু

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার উৎরাইল-শিবচর সড়কের উপর নির্মিত আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা ‘লিটন চৌধুরী’ সেতুর পশ্চিম প্রান্তে নদী ভাঙন আবারও দেখা দিয়েছে। গত বর্ষার সময় একই স্থানে প্রায় ২০০ মিটার নদীতীর ভেঙে গিয়েছিল। চলতি বর্ষার শুরুতে নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় এই সেতুর নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেতুর পশ্চিম প্রান্তের দক্ষিণ পাশে নদীর তীরে তীব্র ঘূর্ণিস্রোত সৃষ্টি হচ্ছে। বালুমাটির পাড় প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, যদি দ্রুত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, ২০২৫ সালের জুন-জুলাই মাসে একই স্থানে ২০০ মিটার নদীতীর ভাঙন দেখা দিয়েছিল। সে সময় সেতুর একটি পিলারের পাশ দিয়ে নদী অনেকটা ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। এবারও একই এলাকায় নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় সেতুর স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১

স্থানীয় বাসিন্দা মেরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর থেকেই সেতুর পাশে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীতে তীব্র ঘূর্ণিস্রোতের কারণে প্রতিবছরই পাড় ভাঙছে। যদি এভাবে ভাঙন চলতে থাকে, তাহলে একসময় সেতুটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।’

আরেক বাসিন্দা মো. এনায়েত হোসেন বলেন, ‘গত বর্ষায় ভাঙনরোধে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে এবং প্রশাসনকে জানিয়েছে। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেতু নির্মাণের সময় দুই পাশে নদীশাসনের প্রতিশ্রুতি ছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। নদীতে কংক্রিটের ব্লক ফেললে ভাঙন অনেকটাই রোধ করা সম্ভব।’

স্থানীয় শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন মীর বলেন, ‘গত বছর বর্ষার শুরুতেই সেতুর নিচে ব্যাপক ভাঙন হয়েছিল। এবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে পুরো বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর যান চলাচলের জন্য ৫৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ দশমিক ৮০ মিটার প্রস্থের ‘লিটন চৌধুরী’ সেতুটি খুলে দেওয়া হয়েছিল। সেতুটি চালু হওয়ার ফলে শিবচর সদরের সঙ্গে দত্তপাড়া, শিরুয়াইল ও নিলখী ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হয়েছে।

আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটিতে ১১টি স্প্যান, ৯টি পিয়ার এবং ১২৩টি পাইল রয়েছে। প্রতিটি পাইলের দৈর্ঘ্য ৪৮ মিটার। এর পাশাপাশি, সেতুর দুই পাশে প্রায় ১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা আছে। নদীভাঙনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। তাদেরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে ইরানের স্পিকারের সাক্ষাৎ, খামেনি হত্যার নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫৬ পি.এম


স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে ইরানের স্পিকারের সাক্ষাৎ, খামেনি হত্যার নিন্দা

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানে তাদের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্পিকার গালিবাফ ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য উপলক্ষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকে অভ্যর্থনা জানান।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি জাতীয় শোকের এই সময়ে ইরান সরকার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের সংহতি প্রকাশ করেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যে শতাব্দী প্রাচীন বন্ধুত্ব এবং গভীর সাংস্কৃতিক ও মানুষে মানুষে সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন।

তিনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তি সমঝোতা স্মারক সহজতর করার ক্ষেত্রে স্পিকার গালিবাফের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে এই চুক্তি ইরানের জনগণ এবং বৃহত্তর অঞ্চলের জন্য স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।

তিনি চলমান শান্তি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর টেকসই সমাধান অর্জনে সব পক্ষ এই গতিবেগ গড়ে তুলবে।

স্পিকার গালিবাফকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে স্পিকার গতকাল তেহরানে পৌঁছেছেন।

ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজী বাবাই বিমানবন্দরে প্রতিনিধি দলকে অভ্যর্থনা জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাভারের বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা সামির কারাগারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫৭ পি.এম


সাভারের বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা সামির কারাগারে

গুরুতর আঘাত, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে সাভার মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সাভার থানা সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামির, যিনি ফেন্সি সামির নামেই পরিচিত, তাকে (৩৫) কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত আদেশ প্রদান করেছেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকালে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত তার জামিন আবেদনের শুনানির জন্য আগামী রোববার একটি নির্ধারিত দিন ধার্য করেছেন।

সংশ্লিষ্ট থানার জিআরও শাখার এসআই বাহাজ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সদরঘাট জংশন রোড এলাকায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালতে আসামির পক্ষে আইনজীবী মো. মহসিন মিয়া জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত তাৎক্ষণিক শুনানি না করে রোববার দিন ধার্য করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চাঁদা না পেয়ে গত ২৪ মে দুপুরে সামির ও তার সহযোগীরা ব্যবসায়ী শামীম রেজার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ভাংচুর চালায় এবং নগদ ৪ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকা লুট করে। পরে তারা শামীম রেজার রিকশা গ্যারেজে গিয়ে ক্যাশবক্স থেকে ৯০ হাজার টাকা এবং প্রায় ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ১২টি ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে যায়। পরবর্তীতে একই গ্যারেজ থেকে আরো প্রায় ৯ লাখ টাকা মূল্যের পাঁচটি ব্যাটারিচালিত রিকশা লুট করার অভিযোগ রয়েছে।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১২ জুন রাতে সামির ও তার সহযোগীরা শামীম রেজার বাসায় গিয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করেন। এ সময় শামীম রেজার খালা সুরাইয়া বেগমের গলা থেকে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বাধা দিতে গেলে একরামুল হককে ধারালো অস্ত্র ও হকিস্টিক দিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ ছাড়া এক নারীকে লাঞ্ছিত করা এবং দুই বছরের এক শিশুকে আছড়ে ফেলে হত্যাচেষ্টারও অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার কারণে মোট ২৯ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকার নগদ অর্থ, রিকশা এবং স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে শামীম রেজার খালাতো বোন লাবনী বেগম গত ২৪ জুন সাভার মডেল থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে সামিরকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।

এর আগে গত ২ জুন রিপন ঋষি নামের এক কিশোরকে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগেও মাহাবুব হোসেন সামিরের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোরে মাদক সেবনের পর বিশৃঙ্খলার অভিযোগে যুবকের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৩ পি.এম


যশোরে মাদক সেবনের পর বিশৃঙ্খলার অভিযোগে যুবকের কারাদণ্ড

যশোরের অভয়নগরে মাদক সেবনের পর বিশৃঙ্খলার কারণে শহিদুল শেখ (১৮) নামক এক যুবককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে উপজেলা গুয়াখোলা গ্রামের প্রফেসরপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়ে তাকে আটক করা হয়।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দীন দিপু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত যুবক শহিদুল শেখ গুয়াখোলা গ্রামের প্রফেসরপাড়া এলাকার আদিল শেখ ও লাভলী বেগমের সন্তান।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার সুব্রত কুমার রায় বলেন, মাদক সেবন করার পর মাতলামি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অভিযোগে রেলবস্তি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় শহিদুলের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় এক পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক সেবনের জন্য সরঞ্জাম।

পরে তাকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করার পর এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ সালাউদ্দীন দিপু বলেন, নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে জনশৃঙ্খলা বিনষ্ট করায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ওই যুবকের বিরুদ্ধে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলাবদ্ধতা ও যানজটমুক্ত চট্টগ্রাম গড়তে চসিকের ১২টি প্রকল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৩ পি.এম


জলাবদ্ধতা ও যানজটমুক্ত চট্টগ্রাম গড়তে চসিকের ১২টি প্রকল্প

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন(চসিক) নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, স্মার্ট সিটি গঠন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ১২টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পগুলো সংস্থাটির পাইপলাইনে রয়েছে এবং কয়েকটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব(ডিপিপি) প্রণয়নের কাজ চলছে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্দেশ্যে ২১টি খালসহ অন্যান্য খাল খননের সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম একটি আধুনিক, টেকসই, যানজটমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব স্মার্ট নগরীতে রূপান্তরিত হবে।

চসিকের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানালেন, প্রকল্পগুলোর মধ্যে যাবতীয় অগ্রাধিকার চট্টগ্রামের চিরচেনা যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২২০০ কোটি টাকা, ৩৫০০ কোটি টাকা এবং ২৮০০ কোটি টাকার তিনটি বড় প্রকল্প, যা নগরের প্রধান সমস্যা সমাধানে কাজ করবে। এছাড়া সড়ক সম্প্রসারণ, ফুটপাত আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পৃথক পৃথক প্রকল্প রয়েছে, যার ব্যয় ৪০০ কোটি, ৪৫০ কোটি এবং ১০০০ কোটি টাকা। পরিবেশ সুরক্ষায় ৩০০ কোটি টাকা ও ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ের দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম গড়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন মেয়র।

বন্দরনগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে চসিকের আওতায় প্রাথমিক সড়কসমূহের উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যার আনুমানিক ব্যয় ২,২০০ কোটি টাকা। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে দুটি বিশাল প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১টি প্রধান খালসহ অন্যান্য খাল খনন প্রকল্পের ব্যয় ধারণা করা হয়েছে ৩,৫০০ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের(সিডিএ) বাস্তবায়িত ৩৬টি খালের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা প্রকল্পের জন্য ২,৮০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। নগরীকে একটি নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তিগত কাঠামোর আওতায় আনতে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক সিসিটিভি সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম এবং সৌর ও সাধারণ শক্তির সমন্বয়ে ‘স্মার্ট লাইটিং’ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।

এছাড়া, নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ উন্নয়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোরিয়ান সরকারের অর্থায়নে একটি আধুনিক ল্যান্ডফিল নির্মাণ প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিক যান ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহের জন্য আরও ২৯৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।

নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় চসিকের উন্মুক্ত স্থানসমূহের আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও সবুজিয়ান প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যার বাজেট ৪৫০ কোটি টাকা। যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যান্য প্রকল্পের মধ্যে রেল ক্রসিং-এর ওপর ওভারপাস নির্মাণে ১,০০০ কোটি টাকা এবং নগরীর দেওয়ানহাট সেতু নির্মাণে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ‘কিচেন মার্কেট কাম বাণিজ্যিক ভবন’ নির্মাণ করছে করপোরেশন।

সংস্থাটির প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ২০৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক ‘নগর ভবন’ নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমানে, সংস্থাটির নিজস্ব অর্থায়নে প্রাথমিক পর্যায়ে ২৭ কোটি টাকার নির্মাণ কাজ পুরোদমে চলছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি এবং পরিকল্পিত টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে এই নতুন মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রকল্পগুলোর আওতায় চট্টগ্রামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যানজট নিরসন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।

১২টি প্রকল্পের মধ্যে ১১টির সুনির্দিষ্ট প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা। বাকি প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ নকশা ও ব্যয় চূড়ান্তকরণের কাজ চলছে, যা যুক্ত হলে মোট ব্যয় ১২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%