০৫:৫৪ পি.এম
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার উৎরাইল-শিবচর সড়কের উপর নির্মিত আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা ‘লিটন চৌধুরী’ সেতুর পশ্চিম প্রান্তে নদী ভাঙন আবারও দেখা দিয়েছে। গত বর্ষার সময় একই স্থানে প্রায় ২০০ মিটার নদীতীর ভেঙে গিয়েছিল। চলতি বর্ষার শুরুতে নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় এই সেতুর নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেতুর পশ্চিম প্রান্তের দক্ষিণ পাশে নদীর তীরে তীব্র ঘূর্ণিস্রোত সৃষ্টি হচ্ছে। বালুমাটির পাড় প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, যদি দ্রুত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, ২০২৫ সালের জুন-জুলাই মাসে একই স্থানে ২০০ মিটার নদীতীর ভাঙন দেখা দিয়েছিল। সে সময় সেতুর একটি পিলারের পাশ দিয়ে নদী অনেকটা ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। এবারও একই এলাকায় নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় সেতুর স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১
স্থানীয় বাসিন্দা মেরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর থেকেই সেতুর পাশে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীতে তীব্র ঘূর্ণিস্রোতের কারণে প্রতিবছরই পাড় ভাঙছে। যদি এভাবে ভাঙন চলতে থাকে, তাহলে একসময় সেতুটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।’
আরেক বাসিন্দা মো. এনায়েত হোসেন বলেন, ‘গত বর্ষায় ভাঙনরোধে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে এবং প্রশাসনকে জানিয়েছে। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেতু নির্মাণের সময় দুই পাশে নদীশাসনের প্রতিশ্রুতি ছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। নদীতে কংক্রিটের ব্লক ফেললে ভাঙন অনেকটাই রোধ করা সম্ভব।’
স্থানীয় শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন মীর বলেন, ‘গত বছর বর্ষার শুরুতেই সেতুর নিচে ব্যাপক ভাঙন হয়েছিল। এবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে পুরো বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর যান চলাচলের জন্য ৫৫০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ দশমিক ৮০ মিটার প্রস্থের ‘লিটন চৌধুরী’ সেতুটি খুলে দেওয়া হয়েছিল। সেতুটি চালু হওয়ার ফলে শিবচর সদরের সঙ্গে দত্তপাড়া, শিরুয়াইল ও নিলখী ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর হয়েছে।
আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটিতে ১১টি স্প্যান, ৯টি পিয়ার এবং ১২৩টি পাইল রয়েছে। প্রতিটি পাইলের দৈর্ঘ্য ৪৮ মিটার। এর পাশাপাশি, সেতুর দুই পাশে প্রায় ১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা আছে। নদীভাঙনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে। তাদেরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন