প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গুরুতর আঘাত, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে সাভার মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সাভার থানা সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামির, যিনি ফেন্সি সামির নামেই পরিচিত, তাকে (৩৫) কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত আদেশ প্রদান করেছেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকালে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত তার জামিন আবেদনের শুনানির জন্য আগামী রোববার একটি নির্ধারিত দিন ধার্য করেছেন।
সংশ্লিষ্ট থানার জিআরও শাখার এসআই বাহাজ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সদরঘাট জংশন রোড এলাকায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালতে আসামির পক্ষে আইনজীবী মো. মহসিন মিয়া জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত তাৎক্ষণিক শুনানি না করে রোববার দিন ধার্য করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চাঁদা না পেয়ে গত ২৪ মে দুপুরে সামির ও তার সহযোগীরা ব্যবসায়ী শামীম রেজার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ভাংচুর চালায় এবং নগদ ৪ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকা লুট করে। পরে তারা শামীম রেজার রিকশা গ্যারেজে গিয়ে ক্যাশবক্স থেকে ৯০ হাজার টাকা এবং প্রায় ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ১২টি ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে যায়। পরবর্তীতে একই গ্যারেজ থেকে আরো প্রায় ৯ লাখ টাকা মূল্যের পাঁচটি ব্যাটারিচালিত রিকশা লুট করার অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১২ জুন রাতে সামির ও তার সহযোগীরা শামীম রেজার বাসায় গিয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন। টাকা না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করেন। এ সময় শামীম রেজার খালা সুরাইয়া বেগমের গলা থেকে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বাধা দিতে গেলে একরামুল হককে ধারালো অস্ত্র ও হকিস্টিক দিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ ছাড়া এক নারীকে লাঞ্ছিত করা এবং দুই বছরের এক শিশুকে আছড়ে ফেলে হত্যাচেষ্টারও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার কারণে মোট ২৯ লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকার নগদ অর্থ, রিকশা এবং স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে শামীম রেজার খালাতো বোন লাবনী বেগম গত ২৪ জুন সাভার মডেল থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে সামিরকে কারাগারে রাখা প্রয়োজন।
এর আগে গত ২ জুন রিপন ঋষি নামের এক কিশোরকে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগেও মাহাবুব হোসেন সামিরের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন