ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শুধু প্রশিক্ষণ নয়, নারীর আত্মবিশ্বাস ও অধিকার সচেতনতাও জরুরি: ববি হাজ্জাজ


শুধু প্রশিক্ষণ নয়, নারীর আত্মবিশ্বাস ও অধিকার সচেতনতাও জরুরি: ববি হাজ্জাজ

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ মন্তব্য করেছেন, নারীর টেকসই ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করলেই হবে না। নারীদের আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগদক্ষতা এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনও অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে, গ্রামীণ ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা নারীদের ক্ষমতায়নে তাদের পরিবারকে সম্পৃক্ত করে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচি তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাগুলোকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন। একজন নারীকে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা উচিত নয়। যদি পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা যায়, তাহলে নারীর ব্যক্তিগত সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পথ আরও সহজ হবে।

আরও পড়ুন: যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল, থাকবে রক্তদান ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নকে একটি সাধারণ ধারণা হিসেবে না দেখে বরং ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়গুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত। একজন নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার আগে তার আত্মবিশ্বাস, নিজের অধিকার সম্পর্কে ধারণা এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করাও অপরিহার্য।

যোগাযোগদক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, নারীদের জন্য তাদের দক্ষতা ও সম্ভাবনা অন্যের কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি একজন নারী তার কাজ, পণ্য বা সেবার গুণাগুণ কার্যকরভাবে উপস্থাপন করতে পারে, তাহলে কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এ কারণে নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচিতে যোগাযোগদক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, সামাজিক চাপ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক সময় মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিবারগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে কাজ করতে হবে। মেয়েদের শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পেলে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা বিভাগের প্রধান দীপা শঙ্কর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম।

আরও পড়ুন: জামায়াতের আইজিপির ক্রসফায়ার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লৌহজংয়ে পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধে ধস, স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০২ পি.এম


লৌহজংয়ে পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধে ধস, স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া এলাকায় পদ্মা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের জিও ব্যাগ ধসে পড়ার ফলে ভাঙন শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভাঙনের আশঙ্কায় কিছু লোক তাদের বসতবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কা করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মা নদীর তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণিপাকের কারণে পশ্চিম গাঁওদিয়া ১ নম্বর ওয়ার্ডে ইদ্রিস বেপারীর বাড়ির সামনে নদীর তীর ভাঙছে। তীর রক্ষা বাঁধের বালুভর্তি জিও ব্যাগ ধসে পড়ার ফলে ভাঙন শুরু হয়েছে। অসময়ে ভাঙন দেখা দেয়ায় নদীপাড়ের বসতবাড়ি ও জমিজমা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ভাঙনের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরানোর চেষ্টা করছেন।

স্থানীয়দের মতে, শুক্রবার সকালে হঠাৎ নদীর তলদেশে ভাঙন শুরু হয়। এরপর থেকে তীর রক্ষা বাঁধের জিও ব্যাগ ধসে পড়তে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যে নদীতীরবর্তী প্রায় ২০০ ফুট এলাকা ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে আশপাশের বসতবাড়ি ও জমিজমা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পশ্চিম গাঁওদিয়া এলাকার বাসিন্দা সোরহাব ও আলাউদ্দিন জানান, হঠাৎ পদ্মার তীব্র স্রোতে নদীর পাড়ের জিও ব্যাগ ধসে পড়তে শুরু করেছে। তারা চোখের সামনে জমি নদীতে তলিয়ে যেতে দেখছেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে তাদের ভিটেমাটি হারাতে হবে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

গাঁওদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তোবারক ঢালী বলেন, নদীর তলদেশ দিয়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে জিও ব্যাগ ধসে পড়ছে। এক দিনের ব্যবধানে বেশ কিছু অংশ নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

এ অবস্থায় নদীভাঙন রোধে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বসতবাড়ি ও জমিজমা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

খবর পেয়ে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তারা তাদের সাধ্যমতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

লৌহজং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহাদাত হোসেন জানান, ভাঙন ঠেকাতে ঘটনাস্থলে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাহুল গান্ধীর আহ্বান, ‘জ্ঞানেশ কুমারের ঘুম হারাম’ রাজসাক্ষী হতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০২ পি.এম


রাহুল গান্ধীর আহ্বান, ‘জ্ঞানেশ কুমারের ঘুম হারাম’ রাজসাক্ষী হতে

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রাজসাক্ষী হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার দুপুরে দিল্লির কংগ্রেস দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান।

এ সময় রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেন যে, দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ভয়ের কারণে রাতে ঘুমোতে পারছেন না।

রাহুল বলেন, "জ্ঞানেশ কুমার ভয়ে আছেন। রাতে ঘুমোতে পারছেন না।"

ভারতের সিইসিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "রাজসাক্ষী হয়ে যান। পদত্যাগ করুন। সেটাই হবে আপনার দেশসেবা। আপনি (জ্ঞানেশ) অপরাধ করেছেন। কিন্তু সত্যি বলতে কী, আপনি মূল অপরাধী নন। আপনি ভুল করছেন। কিন্তু এই ভুলের নেপথ্যে আপনার মস্তিষ্ক নেই। আমরা জানি, আপনি কী পরিমাণ চাপের মধ্যে রয়েছেন।"

রাহুলের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং শিল্পপতি গৌতম আদানি জ্ঞানেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।

সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২,৯১৫ মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৩ পি.এম


ঢাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ডিএমপির ২,৯১৫ মামলা

ঢাকা, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৯১৫ টি মামলা দায়ের করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। রোববার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সূত্রে জানা যায়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ৫টি বাস, ৫টি কাভার্ডভ্যান, ১৭টি সিএনজি ও ২৩টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১৬টি বাস, ৫টি ট্রাক, ১৩টি সিএনজি ও ১০১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৭৬টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ২১টি বাস, ১টি ট্রাক, ১৯টি কাভার্ডভ্যান, ৫৮টি সিএনজি ও ২৩৬টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪১৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ২৭টি বাস, ৪০টি ট্রাক, ২৪টি কাভার্ডভ্যান, ৬২টি সিএনজি ও ১৫৯টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪৩২টি মামলা হয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১২টি বাস, ৩টি ট্রাক, ৪টি কাভার্ডভ্যান, ২০টি সিএনজি ও ৭৭টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৬০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ১৩টি বাস, ২৫টি ট্রাক, ৩৪টি কাভার্ডভ্যান, ৪২টি সিএনজি ও ১৪৬টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৪৪টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ২৫টি বাস, ৬টি ট্রাক, ১৬টি কাভার্ডভ্যান, ৫২টি সিএনজি ও ১৬৯টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৩৯৬টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ১০০টি বাস, ১৬টি ট্রাক, ৪৫টি কাভার্ডভ্যান, ৯৯টি সিএনজি ও ২৬৯টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৮৭৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া, অভিযান চলাকালে ৫৭৭টি গাড়ি ডাম্পিং ও ৪৩০টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তারাকান্দায় সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ, রাংসা নদী দূষিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৩ পি.এম


তারাকান্দায় সড়কের পাশে ময়লার স্তূপ, রাংসা নদী দূষিত

একদিকে ব্যস্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক, অন্যদিকে রয়েছে বিশাল ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। এর ওপর ছড়িয়ে আছে পলিথিন ও প্লাস্টিকের বর্জ্য। দেখতে মনে হচ্ছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার স্থান নয়, বরং পুরো বাজারের ময়লার ভাগাড়। উল্লেখ্য, জায়গাটি ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট আঞ্চলিক সড়কের পাশেই অবস্থিত। আর এই বর্জ্যের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে রাংসা নদী।

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় দীর্ঘ সময় ধরে এমন দৃশ্য দেখা গেলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারাকান্দা বাজারের বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা নিয়মিতভাবে এখানে ফেলা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে বর্জ্যের স্তূপ বৃদ্ধি পেয়ে এখন তা সড়ক ও নদীর পরিবেশের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি পরিদর্শনে দেখা যায়, আঞ্চলিক সড়কের এক পাশে দীর্ঘ এলাকা জুড়ে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। পলিথিনের ব্যাগ, প্লাস্টিকের প্যাকেট, খাদ্যপণ্যের মোড়ক, কাগজ, কাপড় ও বিভিন্ন ধরনের পরিত্যক্ত সামগ্রী পুরো জায়গাটি আচ্ছন্ন করে রেখেছে। কোথাও ময়লার স্তূপ এতটাই বড় হয়ে উঠেছে যে, সড়কের পাশের জায়গা এবং নদীর পাড়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ময়লার বড় একটি অংশ পলিথিন ও প্লাস্টিকজাত বর্জ্য। এই ধরনের বর্জ্য সহজে পচে না। বৃষ্টির পানি ও স্রোতের মাধ্যমে এগুলো রাংসা নদীতে গিয়ে পড়ছে। ফলে নদীর পানি এবং জলজ পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মামুন মড়ল (৪৮) বলেন, "তারাকান্দা বাজারের ময়লা দীর্ঘদিন ধরে এখানে ফেলা হচ্ছে। প্রতিদিন ময়লার পরিমাণ বাড়ছে। পলিথিন ও প্লাস্টিকের বর্জ্য বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে রাংসা নদীতে গিয়ে পড়ছে। এতে নদী ও আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসন বিষয়টি দেখেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া দুঃখজনক।"

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুসা মিয়া (৪৯) বলেন, "সড়কের পাশে এভাবে ময়লার স্তূপ থাকায় পথচারী ও যানবাহনে চলাচলকারীরা দুর্ভোগে পড়ছেন। দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে পলিথিন ও প্লাস্টিকের কারণে। এগুলো নদীতে গিয়ে পড়লে রাংসার পরিবেশ আরও ভয়াবহভাবে নষ্ট হবে। দ্রুত ময়লা সরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করা দরকার।"

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নতুন নয়। বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলার ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। ফলে একদিকে জনসাধারণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে দূষণের শিকার হচ্ছে রাংসা নদী।

নদী ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করা স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সড়কের পাশ থেকে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার স্থান, নিয়মিত ময়লা অপসারণ এবং পলিথিনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন।

অন্যথায়, আজকের এই ময়লার স্তূপই আগামী দিনে রাংসা নদীর জন্য আরও বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, চোখের সামনে বছরের পর বছর ধরে নদীর পাড়ে ময়লার পাহাড় গড়ে উঠলেও সংশ্লিষ্টদের নজর কবে পড়বে?

এ বিষয়ে তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, "স্থানীয়ভাবে কোন ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় ময়লা আবর্জনা ফেলতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে অচিরেই কাজ করা হবে। সেখানে সেখানে যেন ময়লা আবর্জনা না ফেলা হয় তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%