০৮:২৮ পি.এম
এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ঢাকায় আসেন ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম। পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি মেসে অবস্থান করে ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন তিনি। ১৬ সেপ্টেম্বর বিকালে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে তাকে বাসার বাইরে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর থেকে রাকিব আর বাসায় ফেরেননি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় আসার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে পরিচয় হয় আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকারের (২৪)। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরেই তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ১৬ সেপ্টেম্বর মামুন হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে রাকিবকে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে ডেকে শুক্রাবাদে তার বাসায় নিয়ে যান। সেখানে রাকিবকে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করেন। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় মামুন রাকিবের ঘাড় মটকে দেন, যার ফলে রাকিবের মৃত্যু ঘটে।
এরপর মামুন রাকিবের মরদেহ একটি কার্টনে ভরে স্কচটেপ দিয়ে মুড়িয়ে অটোরিকশায় গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান। সেখান থেকে বাস ও অন্যান্য যানবাহনে নীলফামারীর ডিমলায় পৌঁছান। ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি নিজ বাড়ির সামনে সুপারি বাগানে গর্ত করে কার্টনসহ রাকিবের মরদেহ মাটিচাপা দেন।
আরও পড়ুন: সদরপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে যানজট ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা সভা
বুধবার (৭ অক্টোবর) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ডিএমপির ক্রাইম প্রিভেনশন (উত্তর) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, রাকিব নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের কাছে ফোন ও অনলাইন মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। রাকিবকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট ৪ লাখ টাকা প্রদান করেন।
রাকিবের বড় ভাই জহুরুল ইসলাম জীবন প্রথমে কাফরুল থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মামলা দায়ের করেন।
মহিদুল ইসলাম জানান, মুক্তিপণ দাবিতে ব্যবহৃত দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের ব্যবহারকারী হিসেবে মামুনকে শনাক্ত করা হয়। পরে ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুন: ‘যুবদলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে’- আনোয়ার
গ্রেফতারের পর মামুন পুলিশকে জানান, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে রাকিবকে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে ডেকে নিয়ে যান তিনি। পরে তাকে শুক্রাবাদের বাসায় নিয়ে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেন। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় রাকিবের ঘাড় মটকে দিলে তার মৃত্যু ঘটে।
মহিদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকালে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় মামুনের দেখানো স্থান থেকে কার্টনে ভর্তি অবস্থায় রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার বড় ভাই জীবন মরদেহ শনাক্ত করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মামুনের কাছ থেকে মুক্তিপণের ৫০ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা এবং মুক্তিপণের অর্থ লেনদেনসহ ঘটনার অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে বলে জানান মহিদুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: রিজভী: বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দিয়েছিল আওয়ামী সরকার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন