বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:৪৫ এম
আজ বৃহস্পতিবার, তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিশেষ দূত সার্জিও গর। কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফর এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রেক্ষাপটে সফরটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার, আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থান এবং ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, সফরের প্রথম দিনে সার্জিও গর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়েরও সম্ভাবনা রয়েছে। সফরের শেষ দিনে তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন।
কূটনৈতিক সূত্র মতে, সফরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির বর্তমান অগ্রাধিকার, চীন, ভারত এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি আলোচনা করা হবে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়গুলিও গুরুত্ব পেতে পারে।
জেনেভায় জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি মুহাম্মদ সুফিউর রহমান মন্তব্য করেন, নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অভিমুখ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিতেই সার্জিও গরের এই সফর। তাঁর মূল্যায়ন হবে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারণে বাংলাদেশ নিয়ে একটি প্রভাব ফেলতে পারে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, বিশেষ দূত হিসেবে সার্জিও গরের প্রথম বাংলাদেশ সফর দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের আগস্টে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা সার্জিও গরকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন। ওই পদে নিয়োগের পর থেকেই তিনি ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। এ বছরের জানুয়ারিতে তিনি দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ শুরু করেন।
দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে এই বিশেষ দূত হিসেবে তাঁর নিয়োগকে অর্থনৈতিক অংশীদারি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশলকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মুজাহিদপুর গ্রামের কামরুজ্জামান। ২০২৪ সালে ১৫ লাখ টাকায় তাঁকে ইতালি পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু তার পরিণতি ছিল এক ভয়াবহ মানব পাচারকারী চক্রের হাত থেকে জিম্মি হওয়া।
পাচারকারী চক্রের হাতে কামরুজ্জামানকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে জিম্মি করে আদায় করা হয় আরো ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ। সম্প্রূক্তিপণসহ সব মিলিয়ে ওই চক্র থেকে তাঁর কাছে ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত স্বপ্নের দেশ ইতালিতে পৌঁছানোর সুযোগ আর হয়নি।
একইভাবে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জের বাসিন্দা ইমরান হোসেনও মানব পাচারকারী চক্রের ফাঁদে পড়তেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাচারকারী চক্র তাঁকে প্রথমে বিমানে কুয়েতে পাঠায়, পরে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। পাচারকারীদের হাতে তিনি প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। পরে তাঁকে লিবিয়ায় জিম্মি করে পা ফুটো করার মতো নির্যাতন করে আদায় করা হয় ১৯ লাখ টাকা।
জিম্মি দশায় এক বছর নির্যাতনের পর আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সাহায্যে দেশে ফিরতে সক্ষম হন ইমরান। কামরুজ্জামান বা ইমরান হোসেনের মতো হাজারো যুবক মানব পাচার চক্রের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে। একটি গবেষণা অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৩০ হাজার যুবককে ইতালি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাচারকারীরা লিবিয়ায় নিয়ে যায়। হাতিয়ে নেয়া অর্থের পরিমাণ বছরে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা।
সম্প্রতি ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জার্মানির ‘রবার্ট বোশ স্টিফটুং’ ফাউন্ডেশন 'মিক্সড মাইগ্রেশন সেন্টার (এমএমসি)' আন্তর্জাতিক একটি গবেষণা প্রতিবেদনে লিবিয়া হয়ে বাংলাদেশি অভিবাসীদের ইতালি যাওয়ার পেছনে গা-ভর্তি অর্থের লেনদেনের তথ্য তুলে ধরেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রায় ১৪ হাজার বাংলাদেশি সমুদ্রপথে ইতালি পৌঁছান। পাচারকারী চক্র দ্বারা আদায় করা অর্থের মূল্য ছিল ১৬০ থেকে ১৯০ মিলিয়ন ডলার, যা প্রায় দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের মতে, প্রতিবছর গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় যাবার চেষ্টা করে। তাঁদের মধ্যে কিছু অংশ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইতালি পৌঁছান, বাকিরা লিবিয়ায় জিম্মি থেকে দেশে ফিরে আসেন।
লিবিয়ার বন্দি বাংলাদেশি অভিবাসীদের ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। সম্প্রতি তারা ১৭৪ জন বন্দিকে দেশে ফিরিয়ে আনে। এছাড়া এমএমসির তথ্যানুযায়ী, পাচারকারী চক্র আরো বেশি সংগঠিত হয়ে উঠেছে। তারা সামাজিক অনুষ্ঠান বা চায়ের দোকানে নির্দিষ্ট লোকদের টার্গেট করে সখ্য গড়ে তোলে।
পাচারকারী চক্র নানা ধরনের ‘প্যাকেজ’ অফার করে, যেমন স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজ এবং অল-ইনক্লুসিভ প্যাকেজ। কিন্তু বাস্তবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নানাবিধ প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও লিবিয়ায় জিম্মি হতে হয়। বিগত সময়ে যে যুবকরা ইতালির উদ্দেশে দেশ ছাড়ছেন, তাঁদের মাত্র ৩০ শতাংশ সফল হয়ে ইতালি পৌঁছান।
এমএমসির প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে কিছু সুপারিশ রয়েছে, যেমন মানব পাচারকারী রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা, সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে যারা পাচার বিজ্ঞাপন দেয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শাখায় পাচারচক্র ভাঙার উদ্যোগ নেয়া।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মানবপাচার রোধে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ইতালিতে মানব পাচার কমেছে এবং আরো কমানোর চেষ্টা চলছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কওমি মাদ্রাসা-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ, ফ্যাক্ট-চেক, তদারকি কার্যক্রম জোরদার এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন করা হয়েছে এবং অভিযোগ গ্রহণের জন্য বিশেষ হটলাইন চালুর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ থেকে এসেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকায় আল-হাইআতুল উলয়ার কার্যালয়ে ‘কওমি মাদ্রাসা বিরোধী অপপ্রচার রোধ ও উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আল-হাইআতুল উলয়ার করণীয়’ শীর্ষক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ছয়টি কওমি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এ প্রসঙ্গে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অফিস ব্যবস্থাপক মাওলানা মু. অছিউর রহমানের পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সভাটি আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশক্রমে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সভায় আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ছয়টি কওমি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আল-হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান, বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল্লামা সাজিদুর রহমান।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিক চরিত্র গঠন এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে কওমি মাদরাসার দীর্ঘদিনের অবদান আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সমগ্র কওমি শিক্ষাব্যবস্থার ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং কওমি মাদরাসা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে বলে সভা থেকে অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে।
সভায় দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয় যে, কোনো সংবাদ, ভিডিও, বক্তব্য অথবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া গ্রহণ বা প্রচার করা উচিত নয়। পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ এবং তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশন করার আহ্বান জানানো হয়ে।
সভায় বক্তারা বলেন যে, কোনো অপরাধ, অনিয়ম কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে তার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কোনো ধরনের প্রশ্রয় দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গণমাধ্যমে বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা, লাখ লাখ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-সমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা উদ্বেগের আশঙ্কা প্রকাশ করে।
এই সভায় কওমি মাদরাসা-সংক্রান্ত অভিযোগ, তথ্য-উপাত্ত, ফ্যাক্ট-চেকিং এবং সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট গ্রহণের জন্য ০১৭০০-৭৬৩১৭৮ নম্বরে (হোয়াটসঅ্যাপ) একটি বিশেষ হটলাইন চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ নম্বরের মাধ্যমে মেসেজ, ভয়েস কল, ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট পাঠানো যাবে।
সভায় আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ছয়টি বোর্ডের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি বোর্ড নিজ নিজ অধিভুক্ত মাদরাসাসমূহের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য পৃথক ‘মাদরাসা মনিটরিং সেল’ গঠন করবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাদরাসা পরিদর্শন ও মনিটরিং কার্যক্রমের ক্ষেত্রে আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কওমি মাদরাসা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা প্রদান ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি ‘লিগ্যাল প্যানেল’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গঠিত কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’র সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আল্লামা সাজিদুর রহমান, আল্লামা মুফতি রুহুল আমীন, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মাওলানা আব্দুল বছীর, মাওলানা মুফতি এনামুল হক, মাওলানা একরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা মুহসিন শরীফ এবং মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আলী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটির এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আলোচিত নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মনোয়ার হাসান, যিনি ওরফে লেদু হাসান হিসেবে পরিচিত, তাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে যে, লেদু 'মূল হামলাকারী পারভেজের' কাছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেছেন র্যাব-২-এর অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান। তিনি বলেছেন, মঙ্গলবার রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানের মাধ্যমে লেদুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজিসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ৩২টি মামলা রয়েছে।
অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল আরও জানান, ১ জুলাই রাজধানীর আদাবর থানার নবোদয় হাউজিং এলাকায় জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ছুরিকাঘাতে মারা যান নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা। এই হত্যায় লেদু অন্যতম অভিযুক্ত। মামলা সংক্রান্ত গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আসামির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে এসেছে যে, লেদুই মূল হামলাকারী পারভেজের কাছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন।
নয়মুল জানিয়েছেন, পিসিপিআর যাচাইয়ে দেখা গেছে, লেদুর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর, আদাবর ও দারুস সালাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, বিস্ফোরকদ্রব্য আইন, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া ২০১০ সালের আলোচিত ওহিদুজ্জামান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন।
২০২১ সালে লেদুকে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি সহ র্যাব-৪ গ্রেপ্তার করে। একটি অস্ত্র মামলায় তাঁর ১০ বছরের কারাদণ্ডও হয়েছে বলে জানান এই র্যাব কর্মকর্তা। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন যে, স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে লেদুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং কিশোর গ্যাং পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগ করে আসছিলেন। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ভেতরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই হামলার মধ্য দিয়ে কয়েক দিনের সামরিক বিরতির অবসান হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস একটি জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরান জর্দানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একসঙ্গে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সব ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়। ফলে ওই হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং হামলার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
সেন্টকম জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর ওপর এটি ছিল আকস্মিক হামলার চেষ্টা। তাদের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইরানের ভেতর থেকেই ছোড়া হয়েছিল। নিরাপত্তার কারণে তারা লক্ষ্যবস্তু হওয়া ঘাঁটির নাম প্রকাশ করেনি। তবে অ্যাক্সিওসসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম সঠিকভাবে জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল জর্দানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল। সেই বিরতির পর এবারই প্রথম কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে সরাসরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের লক্ষ্য করে যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদস্যদের ওপর হামলা হলে ওয়াশিংটন শক্ত অবস্থান নেবে।
ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদকের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের খুব খারাপভাবে হারাব। আমরা তাদের ওপর জোরালো হামলা চালাব। তারা কঠিন শাস্তি পাবে।’ এদিকে ইরানে হামলার পাশাপাশি মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বাহিনী যৌথভাবে ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর ওপরও বিমান হামলা চালায়। ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।
সেন্টকমের দাবি, পূর্ব ইরাকে থাকা রসদ গুদাম ও অস্ত্র সংরক্ষণাগারে এই যৌথ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য, গত তিন দিনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের সেনা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ৩০টির বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। তারই জবাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর আগে সৌদি আরব জানায়, দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ছোড়া একাধিক ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ এই হামলার জন্য ইরাকভিত্তিক ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার এই হামলার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। তবে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বিমান অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। তখন মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, কৌশলগত পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং কূটনৈতিক সম্ভাবনা যাচাই করতে কিছু সময়ের জন্য হামলা বন্ধ রাখা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভালো আলোচনা চলছে এবং ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করা হবে। সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের ভালো আলোচনা হচ্ছে। আমার মনে হয়, ভালো কিছু হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। যদি তা না হয়, তাহলে আমরা দুই দিন আগে যা করছিলাম, সেটাই আবার শুরু করব।’ নতুন করে বিমান হামলা শুরুর ঠিক আগে হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বৈঠকে ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বৈঠকটিকে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বলে বর্ণনা করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ