ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
মানবপাচার

চক্রের পেটে ৫ হাজার কোটি টাকা


চক্রের পেটে ৫ হাজার কোটি টাকা

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মুজাহিদপুর গ্রামের কামরুজ্জামান। ২০২৪ সালে ১৫ লাখ টাকায় তাঁকে ইতালি পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু তার পরিণতি ছিল এক ভয়াবহ মানব পাচারকারী চক্রের হাত থেকে জিম্মি হওয়া।

পাচারকারী চক্রের হাতে কামরুজ্জামানকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে জিম্মি করে আদায় করা হয় আরো ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ। সম্প্রূক্তিপণসহ সব মিলিয়ে ওই চক্র থেকে তাঁর কাছে ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত স্বপ্নের দেশ ইতালিতে পৌঁছানোর সুযোগ আর হয়নি।

একইভাবে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জের বাসিন্দা ইমরান হোসেনও মানব পাচারকারী চক্রের ফাঁদে পড়তেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাচারকারী চক্র তাঁকে প্রথমে বিমানে কুয়েতে পাঠায়, পরে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। পাচারকারীদের হাতে তিনি প্রথমে পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। পরে তাঁকে লিবিয়ায় জিম্মি করে পা ফুটো করার মতো নির্যাতন করে আদায় করা হয় ১৯ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

জিম্মি দশায় এক বছর নির্যাতনের পর আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সাহায্যে দেশে ফিরতে সক্ষম হন ইমরান। কামরুজ্জামান বা ইমরান হোসেনের মতো হাজারো যুবক মানব পাচার চক্রের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে। একটি গবেষণা অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৩০ হাজার যুবককে ইতালি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাচারকারীরা লিবিয়ায় নিয়ে যায়। হাতিয়ে নেয়া অর্থের পরিমাণ বছরে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা।

সম্প্রতি ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জার্মানির ‘রবার্ট বোশ স্টিফটুং’ ফাউন্ডেশন 'মিক্সড মাইগ্রেশন সেন্টার (এমএমসি)' আন্তর্জাতিক একটি গবেষণা প্রতিবেদনে লিবিয়া হয়ে বাংলাদেশি অভিবাসীদের ইতালি যাওয়ার পেছনে গা-ভর্তি অর্থের লেনদেনের তথ্য তুলে ধরেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রায় ১৪ হাজার বাংলাদেশি সমুদ্রপথে ইতালি পৌঁছান। পাচারকারী চক্র দ্বারা আদায় করা অর্থের মূল্য ছিল ১৬০ থেকে ১৯০ মিলিয়ন ডলার, যা প্রায় দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের মতে, প্রতিবছর গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় যাবার চেষ্টা করে। তাঁদের মধ্যে কিছু অংশ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইতালি পৌঁছান, বাকিরা লিবিয়ায় জিম্মি থেকে দেশে ফিরে আসেন।

লিবিয়ার বন্দি বাংলাদেশি অভিবাসীদের ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। সম্প্রতি তারা ১৭৪ জন বন্দিকে দেশে ফিরিয়ে আনে। এছাড়া এমএমসির তথ্যানুযায়ী, পাচারকারী চক্র আরো বেশি সংগঠিত হয়ে উঠেছে। তারা সামাজিক অনুষ্ঠান বা চায়ের দোকানে নির্দিষ্ট লোকদের টার্গেট করে সখ্য গড়ে তোলে।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

পাচারকারী চক্র নানা ধরনের ‘প্যাকেজ’ অফার করে, যেমন স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজ এবং অল-ইনক্লুসিভ প্যাকেজ। কিন্তু বাস্তবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নানাবিধ প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও লিবিয়ায় জিম্মি হতে হয়। বিগত সময়ে যে যুবকরা ইতালির উদ্দেশে দেশ ছাড়ছেন, তাঁদের মাত্র ৩০ শতাংশ সফল হয়ে ইতালি পৌঁছান।

এমএমসির প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে কিছু সুপারিশ রয়েছে, যেমন মানব পাচারকারী রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা, সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে যারা পাচার বিজ্ঞাপন দেয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শাখায় পাচারচক্র ভাঙার উদ্যোগ নেয়া।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মানবপাচার রোধে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ইতালিতে মানব পাচার কমেছে এবং আরো কমানোর চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল গঠন ও হটলাইন চালুর অভিযোগ যাচাইয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫০ এম


কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল গঠন ও হটলাইন চালুর অভিযোগ যাচাইয়ে

কওমি মাদ্রাসা-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ, ফ্যাক্ট-চেক, তদারকি কার্যক্রম জোরদার এবং তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন করা হয়েছে এবং অভিযোগ গ্রহণের জন্য বিশেষ হটলাইন চালুর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ থেকে এসেছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকায় আল-হাইআতুল উলয়ার কার্যালয়ে ‘কওমি মাদ্রাসা বিরোধী অপপ্রচার রোধ ও উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আল-হাইআতুল উলয়ার করণীয়’ শীর্ষক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ছয়টি কওমি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এ প্রসঙ্গে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অফিস ব্যবস্থাপক মাওলানা মু. অছিউর রহমানের পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, সভাটি আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশক্রমে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সভায় আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ছয়টি কওমি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আল-হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান, বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল্লামা সাজিদুর রহমান।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিক চরিত্র গঠন এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে কওমি মাদরাসার দীর্ঘদিনের অবদান আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সমগ্র কওমি শিক্ষাব্যবস্থার ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি এবং কওমি মাদরাসা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে বলে সভা থেকে অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে।

সভায় দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয় যে, কোনো সংবাদ, ভিডিও, বক্তব্য অথবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া গ্রহণ বা প্রচার করা উচিত নয়। পাশাপাশি গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল, বস্তুনিষ্ঠ এবং তথ্যনির্ভর সংবাদ পরিবেশন করার আহ্বান জানানো হয়ে।

সভায় বক্তারা বলেন যে, কোনো অপরাধ, অনিয়ম কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে তার সুষ্ঠু তদন্ত এবং আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কোনো ধরনের প্রশ্রয় দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গণমাধ্যমে বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা, লাখ লাখ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-সমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা উদ্বেগের আশঙ্কা প্রকাশ করে।

এই সভায় কওমি মাদরাসা-সংক্রান্ত অভিযোগ, তথ্য-উপাত্ত, ফ্যাক্ট-চেকিং এবং সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট গ্রহণের জন্য ০১৭০০-৭৬৩১৭৮ নম্বরে (হোয়াটসঅ্যাপ) একটি বিশেষ হটলাইন চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ নম্বরের মাধ্যমে মেসেজ, ভয়েস কল, ছবি, ভিডিও এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট পাঠানো যাবে।

সভায় আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ছয়টি বোর্ডের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি বোর্ড নিজ নিজ অধিভুক্ত মাদরাসাসমূহের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য পৃথক ‘মাদরাসা মনিটরিং সেল’ গঠন করবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মাদরাসা পরিদর্শন ও মনিটরিং কার্যক্রমের ক্ষেত্রে আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া কওমি মাদরাসা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা প্রদান ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি ‘লিগ্যাল প্যানেল’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গঠিত কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’র সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আল্লামা সাজিদুর রহমান, আল্লামা মুফতি রুহুল আমীন, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মাওলানা আব্দুল বছীর, মাওলানা মুফতি এনামুল হক, মাওলানা একরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা মুহসিন শরীফ এবং মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আলী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোহাম্মদপুরে বাদশা হত্যায় অস্ত্র সরবরাহকারী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫৪ এম


মোহাম্মদপুরে বাদশা হত্যায় অস্ত্র সরবরাহকারী গ্রেপ্তার

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটির এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আলোচিত নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মনোয়ার হাসান, যিনি ওরফে লেদু হাসান হিসেবে পরিচিত, তাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে যে, লেদু 'মূল হামলাকারী পারভেজের' কাছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেছেন র‌্যাব-২-এর অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান। তিনি বলেছেন, মঙ্গলবার রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানের মাধ্যমে লেদুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজিসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মোট ৩২টি মামলা রয়েছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল আরও জানান, ১ জুলাই রাজধানীর আদাবর থানার নবোদয় হাউজিং এলাকায় জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ছুরিকাঘাতে মারা যান নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা। এই হত্যায় লেদু অন্যতম অভিযুক্ত। মামলা সংক্রান্ত গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন আসামির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে এসেছে যে, লেদুই মূল হামলাকারী পারভেজের কাছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন।

নয়মুল জানিয়েছেন, পিসিপিআর যাচাইয়ে দেখা গেছে, লেদুর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর, আদাবর ও দারুস সালাম থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, বিস্ফোরকদ্রব্য আইন, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া ২০১০ সালের আলোচিত ওহিদুজ্জামান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন।

২০২১ সালে লেদুকে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি সহ র‌্যাব-৪ গ্রেপ্তার করে। একটি অস্ত্র মামলায় তাঁর ১০ বছরের কারাদণ্ডও হয়েছে বলে জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা। তিনি আরো উল্লেখ করেছেন যে, স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে লেদুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং কিশোর গ্যাং পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগ করে আসছিলেন। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জর্দানে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ফের হামলা ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০১ এম


জর্দানে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ফের হামলা ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ভেতরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই হামলার মধ্য দিয়ে কয়েক দিনের সামরিক বিরতির অবসান হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস একটি জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরান জর্দানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একসঙ্গে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সব ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হয়। ফলে ওই হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং হামলার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

সেন্টকম জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীর ওপর এটি ছিল আকস্মিক হামলার চেষ্টা। তাদের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইরানের ভেতর থেকেই ছোড়া হয়েছিল। নিরাপত্তার কারণে তারা লক্ষ্যবস্তু হওয়া ঘাঁটির নাম প্রকাশ করেনি। তবে অ্যাক্সিওসসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম সঠিকভাবে জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল জর্দানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। যুক্তরাষ্ট্র এর আগে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল। সেই বিরতির পর এবারই প্রথম কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে সরাসরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের লক্ষ্য করে যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদস্যদের ওপর হামলা হলে ওয়াশিংটন শক্ত অবস্থান নেবে।

ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদকের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের খুব খারাপভাবে হারাব। আমরা তাদের ওপর জোরালো হামলা চালাব। তারা কঠিন শাস্তি পাবে।’ এদিকে ইরানে হামলার পাশাপাশি মঙ্গলবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের বাহিনী যৌথভাবে ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর ওপরও বিমান হামলা চালায়। ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানিয়েছে, ওই হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।

সেন্টকমের দাবি, পূর্ব ইরাকে থাকা রসদ গুদাম ও অস্ত্র সংরক্ষণাগারে এই যৌথ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য, গত তিন দিনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের সেনা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ৩০টির বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। তারই জবাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর আগে সৌদি আরব জানায়, দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ছোড়া একাধিক ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ এই হামলার জন্য ইরাকভিত্তিক ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার এই হামলার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। তবে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে বিমান অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। তখন মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, কৌশলগত পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং কূটনৈতিক সম্ভাবনা যাচাই করতে কিছু সময়ের জন্য হামলা বন্ধ রাখা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভালো আলোচনা চলছে এবং ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করা হবে। সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের ভালো আলোচনা হচ্ছে। আমার মনে হয়, ভালো কিছু হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। যদি তা না হয়, তাহলে আমরা দুই দিন আগে যা করছিলাম, সেটাই আবার শুরু করব।’ নতুন করে বিমান হামলা শুরুর ঠিক আগে হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বৈঠকে ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা বৈঠকটিকে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বলে বর্ণনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবসর নয়, চিরঅবসরে গেলেন এক পুলিশ কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ এম


অবসর নয়, চিরঅবসরে গেলেন এক পুলিশ কর্মকর্তা

 

অবসরের জন্য আগামী পহেরা আগস্ট যাওয়া কথা ছিল পুলিশ কর্মকর্তা মনোজ কান্তি দাসের (৫৫)। তবে তিনদিন আগে তিনি চিরঅবসরে চলে গেছেন।

গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে সিলেটের বাগবাড়ির নরসিংটিলা এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলার কক্ষে তার মরদেহ উদ্ধার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাঈনুল জাকির জানান, মনোজ কান্তি দাস সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার নারকিলা গ্রামের মৃত মহিম চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) ও জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। ১ আগস্ট থেকে তার অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা ছিল।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বছর একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মনোজ কান্তি দাসের স্ত্রী মারা গেছেন। এরপর, তিনি বাগবাড়ি নরসিংটিলা এলাকার বাসায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও সন্তানদের সাথে বসবাস করতেন। বাসাটির নিচতলায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও সন্তানরা থাকলেও, দ্বিতীয় তলায় একাই থাকতেন মনোজ কান্তি দাস।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে, প্রতিদিনের মতো দায়িত্ব পালন শেষে রাতে তিনি বাসায় ফেরেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে চলে যান। পরবর্তীতে, মঙ্গলবার সারাদিন তার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে, স্থানীয়রা কোতোয়ালী থানা পুলিশকে খবর দেন।

খবর পাওয়ার পর, রাত আনুমানিক ১২টার দিকে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ঘরের মেঝেতে মনোজ কান্তি দাসের মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ওসি খান মোহাম্মদ মাঈনুল জাকির বলেন, বাগবাড়ি এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলার ঘর থেকে এক এসআইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘরটি ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় ফায়ার সার্ভিস দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকালে তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল।

মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, স্ট্রোকের কারণে মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%