০৫:৩৮ পি.এম
অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা, যা ইউরোপের সবুজ হৃদয় হিসেবে পরিচিত, সেখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্বক ও যৌনস্বাস্থ্য বিষয়ক ইউরোপের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ইউরোপিয়ান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি অ্যান্ড ভেনেরিওলজি (ইএডিভি) কংগ্রেস ২০২৬।
এই সম্মেলনটি ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জাতিসংঘের ভিয়েনা সদরদপ্তরের পাশে অবস্থিত অস্ট্রিয়া সেন্টার ভিয়েনায় চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২১ হাজার চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশি চিকিৎসক, লেখক ও এক্টিভিষ্ট ডা. পিনাকী ভট্টাচার্যও এ সম্মেলনে অংশ নেন। আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনের ব্যস্ততার মাঝেও অস্ট্রিয়ায় বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশগ্রহণ করেন ডা. পিনাকী।
এই উপলক্ষে ঐতিহাসিক দানিউব নদীর তীরে অবস্থিত হোটেল হিলটনে অস্ট্রিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক কফি আড্ডা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বাংলাদেশ, সমকালীন রাজনীতি, সমাজ, ধর্ম, ইসলাম এবং আলেম সমাজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ডা. পিনাকী ভট্টাচার্যের সঙ্গে উপস্থিত অতিথিদের প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ভিয়েনা থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আরও পড়ুন: আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনকে লজ্জাজনক বললেন নেতানিয়াহু
আয়োজনটিতে ভিয়েনাস্থ জাতিসংঘ সদরদপ্তরে কর্মরত কয়েকজন বাংলাদেশি, অস্ট্রিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা, বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সামাজিক ও পেশাজীবী নারী-পুরুষ নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে, ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য তাঁর লেখা ‘মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম’ বই এবং ইসলাম ও ওলামায়ে কেরামের প্রতি তাঁর আগ্রহ ও শ্রদ্ধার বিষয়ে শায়খ ফাহিম বিল্লাহ হাশেমীর এক প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ঘিরে তাঁর অনুসন্ধানের কথা তুলে ধরেন।
ডা. পিনাকী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি নিজেকে নাস্তিক হিসেবে বিশ্বাস করতেন। পরবর্তীতে শাপলা চত্বরের ঘটনাবলি নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও আলেমদের সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ পান। তিনি দাবি করেন, ওই অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে শাহরিয়ার কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে অবগত হন।
তিনি আরও বলেন, সেখানে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে আগে তাঁর ভিন্ন ধারণা থাকলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন সূত্র থেকে শতাধিক মৃত্যুর দাবি সম্পর্কে জানতে পেরে তিনি বিস্মিত ও মর্মাহত হন। ডা. পিনাকী আরও জানান, বিভিন্ন আলেমের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের চিন্তা, দর্শন এবং দেশ ও সমাজ সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি জানার সুযোগ হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলাম সমাজে শৃঙ্খলা, সাম্য ও ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্ব দেয়-এ বিষয়টি তাঁকে ইসলাম সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে।
নিজের বামপন্থী রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সাম্য ও সমতার ধারণা নিয়ে সমাজ গঠনের আকাক্সক্ষা তাঁর মধ্যে আগে থেকেই ছিল। পরবর্তীতে আলেমদের চিন্তাভাবনা, দেশের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা এবং সমাজে ন্যায় ও সাম্য প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষা তাঁকে ইসলাম, আল্লাহর অস্তিত্ব ও বিশ্বাসের বিষয়ে গভীরভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়াই তাঁকে পরবর্তীতে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী হতে সহায়তা করে।
আরও পড়ুন: লুলার বিজয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা, ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণ
আলোচনায় তুরস্ক ভ্রমণের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সেখানকার সুমধুর আজানের কথা উল্লেখ করেন ডা. পিনাকী। স্মৃতিচারণের এক পর্যায়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দেশের কথা বলতে গিয়ে তাঁর চোখে পানি চলে আসে। মহান আল্লাহর সৃষ্ট জীবজন্তু, পশু-পাখি, মাছ ও কীটপতঙ্গের প্রতি তাঁর মমত্ববোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁর আবেগঘন বক্তব্যে সভায় এক আবেগপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর ও সরব বক্তব্যের জন্য পরিচিত ডা. পিনাকীকে এ আয়োজনে ভিন্ন এক মানবিক আবহে দেখা গেছে বলে উপস্থিত কয়েকজন মন্তব্য করেন।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ও সমসাময়িক রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। উপস্থিত অতিথিরা বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং ডা. পিনাকী সেগুলোর উত্তর দেন। বাংলাদেশ, ধর্ম, সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা, চিন্তাভাবনা এবং দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চলে।
অনুষ্ঠানে ভিয়েনাস্থ জাতিসংঘ সদরদপ্তরে কর্মরত প্রকৌশলী আবুল হাশেম সমাপনী বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মতবিনিময় সভার সমাপ্তি ঘটে।
সভায় উপস্থিত অতিথিরা ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য্যের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ, ধর্ম, সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে এ ধরনের মুক্ত ও গঠনমূলক আলোচনা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী এম. এ. হাসিম, মাহেরুল হক শামীম, শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ, হাবিবুর রহমান, শায়খ ফাহিম বিল্লাহ হাশেমী, সাইদুর রহমান বকুল, শায়খ আবু মুসা, শাকিল আহমেদ, রুবেল।
আরও পড়ুন: পুতিনের ‘গোপন তহবিল’ থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলছেন ট্রাম্প, রুশ-মার্কিন সম্পর্কে নতুন মোড়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন