ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভিয়েনায় প্রবাসীদের সভায় ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য: ইসলাম সমাজে শৃঙ্খলা, সাম্য ও ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্ব দেয়


ভিয়েনায় প্রবাসীদের সভায় ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য: ইসলাম সমাজে শৃঙ্খলা, সাম্য ও ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্ব দেয়

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা, যা ইউরোপের সবুজ হৃদয় হিসেবে পরিচিত, সেখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্বক ও যৌনস্বাস্থ্য বিষয়ক ইউরোপের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন ইউরোপিয়ান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি অ্যান্ড ভেনেরিওলজি (ইএডিভি) কংগ্রেস ২০২৬।

এই সম্মেলনটি ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জাতিসংঘের ভিয়েনা সদরদপ্তরের পাশে অবস্থিত অস্ট্রিয়া সেন্টার ভিয়েনায় চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ২১ হাজার চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশি চিকিৎসক, লেখক ও এক্টিভিষ্ট ডা. পিনাকী ভট্টাচার্যও এ সম্মেলনে অংশ নেন। আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনের ব্যস্ততার মাঝেও অস্ট্রিয়ায় বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশগ্রহণ করেন ডা. পিনাকী।

এই উপলক্ষে ঐতিহাসিক দানিউব নদীর তীরে অবস্থিত হোটেল হিলটনে অস্ট্রিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক কফি আড্ডা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বাংলাদেশ, সমকালীন রাজনীতি, সমাজ, ধর্ম, ইসলাম এবং আলেম সমাজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ডা. পিনাকী ভট্টাচার্যের সঙ্গে উপস্থিত অতিথিদের প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ভিয়েনা থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আরও পড়ুন: আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনকে লজ্জাজনক বললেন নেতানিয়াহু

আয়োজনটিতে ভিয়েনাস্থ জাতিসংঘ সদরদপ্তরে কর্মরত কয়েকজন বাংলাদেশি, অস্ট্রিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা, বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং সামাজিক ও পেশাজীবী নারী-পুরুষ নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে, ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য তাঁর লেখা ‘মুক্তিযুদ্ধের বয়ানে ইসলাম’ বই এবং ইসলাম ও ওলামায়ে কেরামের প্রতি তাঁর আগ্রহ ও শ্রদ্ধার বিষয়ে শায়খ ফাহিম বিল্লাহ হাশেমীর এক প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ঘিরে তাঁর অনুসন্ধানের কথা তুলে ধরেন।

ডা. পিনাকী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি নিজেকে নাস্তিক হিসেবে বিশ্বাস করতেন। পরবর্তীতে শাপলা চত্বরের ঘটনাবলি নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও আলেমদের সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ পান। তিনি দাবি করেন, ওই অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে শাহরিয়ার কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে অবগত হন।

তিনি আরও বলেন, সেখানে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে আগে তাঁর ভিন্ন ধারণা থাকলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন সূত্র থেকে শতাধিক মৃত্যুর দাবি সম্পর্কে জানতে পেরে তিনি বিস্মিত ও মর্মাহত হন। ডা. পিনাকী আরও জানান, বিভিন্ন আলেমের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের চিন্তা, দর্শন এবং দেশ ও সমাজ সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি জানার সুযোগ হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলাম সমাজে শৃঙ্খলা, সাম্য ও ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্ব দেয়-এ বিষয়টি তাঁকে ইসলাম সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে।

নিজের বামপন্থী রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সাম্য ও সমতার ধারণা নিয়ে সমাজ গঠনের আকাক্সক্ষা তাঁর মধ্যে আগে থেকেই ছিল। পরবর্তীতে আলেমদের চিন্তাভাবনা, দেশের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা এবং সমাজে ন্যায় ও সাম্য প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষা তাঁকে ইসলাম, আল্লাহর অস্তিত্ব ও বিশ্বাসের বিষয়ে গভীরভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়াই তাঁকে পরবর্তীতে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী হতে সহায়তা করে।

আরও পড়ুন: লুলার বিজয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধাক্কা, ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণ

আলোচনায় তুরস্ক ভ্রমণের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সেখানকার সুমধুর আজানের কথা উল্লেখ করেন ডা. পিনাকী। স্মৃতিচারণের এক পর্যায়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দেশের কথা বলতে গিয়ে তাঁর চোখে পানি চলে আসে। মহান আল্লাহর সৃষ্ট জীবজন্তু, পশু-পাখি, মাছ ও কীটপতঙ্গের প্রতি তাঁর মমত্ববোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁর আবেগঘন বক্তব্যে সভায় এক আবেগপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর ও সরব বক্তব্যের জন্য পরিচিত ডা. পিনাকীকে এ আয়োজনে ভিন্ন এক মানবিক আবহে দেখা গেছে বলে উপস্থিত কয়েকজন মন্তব্য করেন।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ও সমসাময়িক রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। উপস্থিত অতিথিরা বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং ডা. পিনাকী সেগুলোর উত্তর দেন। বাংলাদেশ, ধর্ম, সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা, চিন্তাভাবনা এবং দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা চলে।

অনুষ্ঠানে ভিয়েনাস্থ জাতিসংঘ সদরদপ্তরে কর্মরত প্রকৌশলী আবুল হাশেম সমাপনী বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মতবিনিময় সভার সমাপ্তি ঘটে।

সভায় উপস্থিত অতিথিরা ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য্যের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ, ধর্ম, সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে এ ধরনের মুক্ত ও গঠনমূলক আলোচনা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রকৌশলী এম. এ. হাসিম, মাহেরুল হক শামীম, শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ, হাবিবুর রহমান, শায়খ ফাহিম বিল্লাহ হাশেমী, সাইদুর রহমান বকুল, শায়খ আবু মুসা, শাকিল আহমেদ, রুবেল।

আরও পড়ুন: পুতিনের ‘গোপন তহবিল’ থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলছেন ট্রাম্প, রুশ-মার্কিন সম্পর্কে নতুন মোড়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের চ্যালেঞ্জগুলো ইতিবাচকভাবে সমাধান করতে চাই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৯ পি.এম


ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের চ্যালেঞ্জগুলো ইতিবাচকভাবে সমাধান করতে চাই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ইতিবাচকভাবে সমাধান করতে চান। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করে একটি ইতিবাচক ফলাফল অর্জন সম্ভব হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী সফরের জন্য দিল্লিতে একটি সহায়ক পরিবেশ কিভাবে তৈরি হবে, সেই প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আলাপ-আলোচনা, ডায়ালগ, ডিপ্লোম্যাটিক এনগেজমেন্ট—এগুলো তো আছেই। আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। আমাদের কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। আশা করি এই চ্যালেঞ্জগুলোর একটা সমাধান পজিটিভলি আমরা করতে পারব। যেহেতু ডায়ালগ, এনগেজমেন্ট ইজ সো, লেটস ট্রাই। আই অ্যাম শিওর, উই উইল হ্যাভ আউটকাম।’

শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ বা কোনো সভা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখনো সচিব পর্যায় বা কর্মকর্তা পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে সংলাপ চলছে।

শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ কবে অনুষ্ঠিত হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শীর্ষ পর্যায়ের ডায়ালগ তো হবে যখন ভিজিট হবে। তো এর আগে তো আপনার কনক্লুসিভ এনভায়রনমেন্ট করতে হবে অফিশিয়াল লেভেলের ডায়ালগের মাধ্যমে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুই পক্ষেরই এগিয়ে আসতে হবে। ডায়ালগ তো হচ্ছে, বারবারই হচ্ছে। আমরা চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করার চেষ্টা করছি।’

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা ন্যাশনাল ইন্টারেস্টে এনগেজ করব। আর প্রধান চ্যালেঞ্জ—এটা খুব বেশি কিছু চাওয়া নয় যে, দিল্লিতে একজন সন্ত্রাসীকে সংযত করা। একজন সন্ত্রাসী দিল্লিতে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘ভারতে আরো কিছু অপরাধী রয়েছে। এসব বিষয় দুই দেশের জন্যই বাধা তৈরি করছে। তাই আমরা সংযম দেখাচ্ছি এবং ভারত সরকারের কাছ থেকেও এর প্রতিদান চাই। আমরা চাই ভারত সরকারও এর বিরুদ্ধে থাকুক। কারণ এটা দুই দেশের জন্যই বাধা। আমরা আশা করি, ভারতও তা করবে না।’

দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংযম ও পারস্পরিক সহযোগিতাকে স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবে দেখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটাই দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক হওয়া উচিত। যদি এই সংযম, এই ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ একটা নর্ম হয়, আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’

আঞ্চলিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আঞ্চলিক সহযোগিতা অগ্রাধিকার। আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়গুলো খোলামেলাভাবে দেখি এবং খোলামেলা ডায়ালগ চাই। আমরা কখনো ডায়ালগ ও ডিপ্লোম্যাসির দরজা বন্ধ করিনি। আমরা ডায়ালগ ও ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে এগিয়ে যাব এবং সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে পৌঁছাব।’

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তিনি আশাবাদী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশাবাদী, এটা হবে।’

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তুরস্কে যেতে পারেন কপ সম্মেলনে যোগ দিতে।’

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে পারে ভারতীয় গণমাধ্যমের এমন খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের খবর নিতে হলে বাংলাদেশ থেকেই বাংলাদেশের খবর নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যখন যাবে, বাংলাদেশের জন্য সেটাই হবে ঠিক আছে।’

দেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যে গণতান্ত্রিক ট্রানজিশন হয়েছে, এর জন্য আমাদের মানুষ ত্যাগ স্বীকার করেছে। এখন আমরা দেশের শাসনব্যবস্থার মান উন্নয়নের দিকে তাকাতে চাই। মানুষ মানসম্মত শাসন চায়। আর সরকারের লক্ষ্য জনগণের জন্য কাজ করা।’

তিনি বলেন, ‘সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। আমাদের দেশ যেন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যায়, সেটাই চাই। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস না করে বিশ্বের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে সম্পৃক্ত হতে চাই।’

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার দিক থেকে দেশের লক্ষ্য অর্জনে বিশ্বের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালিয়াকৈরে ঘাটাখালী নদীর মোহনায় কচুরিপানায় ভয়াবহ প্রাণহানির আতঙ্কে হাজারো মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪০ পি.এম


কালিয়াকৈরে ঘাটাখালী নদীর মোহনায় কচুরিপানায় ভয়াবহ প্রাণহানির আতঙ্কে হাজারো মানুষ

গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার টান কালিয়াকৈর এলাকায় অবস্থিত ৪০ বছরের পুরাতন ব্রিজটি বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়ে গেছে। ব্রিজের নিচে ভয়াবহভাবে কচুরিপানা আটকে গিয়ে নদীর মুখ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় ব্রিজটি ধসে পড়লে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টান কালিয়াকৈর ব্রিজের নিচ থেকে শুরু করে তুরাগ নদীর মুখে ঘাটাখালির মোহনা এবং লতিফপুর জোড়া ব্রিজের নিচ পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে কচুরিপানার বিশাল চাদর বিছিয়ে রয়েছে। নদীর দুই পাশে বহুতল ভবন ও নদীর উপর টিনের দোকানপাট রয়েছে, কিন্তু মাঝখানে নদীটি সম্পূর্ণরূপে কচুরিপানায় ভর্তি হয়ে গেছে। পানির কোনো স্রোত নেই। ব্রিজের পিলারের সাথে কচুরিপানার স্তূপ আটকে যাওয়ার কারণে পানির প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কচুরিপানার কারণে যেন কচুরিপানারই যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বর্তমানে টান কালিয়াকৈর ব্রিজের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। কচুরিপানা ভয়াবহভাবে আটকে যাচ্ছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই ব্রিজটি প্রায় ৪০ বছর আগে নির্মিত হয়েছে এবং নির্মাণের পর থেকে বড় ধরনের কোনো সংস্কার হয়নি। প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়ে কালিয়াকৈর বাজার, উপজেলা পরিষদ, স্কুল-কলেজ ও গার্মেন্টসগামী হাজার হাজার মানুষ, শিক্ষার্থী ও যানবাহন চলাচল করে।

১. ভিত্তি দুর্বল- ৪০ বছরের পুরাতন ব্রিজ, পিলারে মরিচা ও ফাটল দেখা দিয়েছে। কচুরিপানার অতিরিক্ত চাপে যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে।

২. জলাবদ্ধতা- কচুরিপানায় পানি আটকে থাকায় বর্ষা মৌসুমে কালিয়াকৈর পৌর এলাকার টান কালিয়াকৈর, বাজার এলাকার তুরাগ নদীর পানি ঘাটাখালীতে ঢুকতে পারছে না আবার ঘাটাখালীর পানি তুরাগে নামতে পারছে না।

৩. পরিবেশ দূষণ ও দুর্গন্ধ- পচা কচুরিপানা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মশার উপদ্রবে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ শাহীন আলম (৪৫) বলেন, "সুস্থ মানুষ এখন ব্রিজের উপর দিয়ে যেতে পারে না। দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসে। কচুরিপানার কারণে ব্রিজের নিচে পানি আটকে ভয়ংকর শব্দ হয়। রাতে ব্রিজ পার হতে ভয় লাগে। কবে না ভেঙে পড়ে।"

আরেক বাসিন্দা দুলাল চন্দ্র রায় (৬০), ব্যবসায়ী: বলেন, "এই ঘাটাখালী নদী আমাদের কৃষকের আশীর্বাদ ছিল। কংসের মতোই আমাদের জীবন ছিল। এখন সংস্কারের অভাবে মৃতপ্রায়। দ্রুত পরিষ্কার না করলে ব্রিজ ভেঙে বড় দুর্ঘটনা ঘটবে।" অটো চালক রফিকুল ইসলাম (৩৮) বলেন, "তুরাগ নদীর মুখ থেকে লতিফপুর জোড়া ব্রিজ পর্যন্ত পুরোটা ব্লক। আগে এই নদীতে নৌকা চলতো, এখন কচুরিপানার জন্য নৌকা তো দূরের কথা, পানিও দেখা যায় না। আমরা চাই দ্রুত নদী পরিষ্কার হোক।"

গৃহিণী আলেয়া বেগম (৪২) বলেন, "আমাদের বাড়ি নদীর পাশে। কচুরিপানা পচে মশা হচ্ছে, বাচ্চারা জ্বরে ভুগছে। দুর্গন্ধে ঘরে থাকা যায় না। পৌরসভা কিছুই করে না।" এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কালিয়াকৈর উপজেলা প্রকৌশলী (LGED) জনাব মাকসুদুন নবী বলেন, "টান কালিয়াকৈর ঘাটাখালী ব্রিজটি ৩০ বছরের পুরাতন, এটা সত্য। তবে এলাকাবাসী এটাকে ৪০ বছরের পুরাতন বলছেন, কারণ রক্ষণাবেক্ষণ দীর্ঘদিন হয়নি। আমরা বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। টান কালিয়াকৈর ব্রিজের নিচে লতিফপুর জোড়া ব্রিজের নিচে প্রায় ২০০ মিটার এলাকায় কচুরিপানা আটকে থাকায় পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ব্রিজের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে কচুরিপানা অপসারণের জন্য পৌরসভা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দিয়েছি। একইসাথে ব্রিজটির স্থায়িত্ব যাচাই করে নতুন করে সংস্কার বা পুনঃনির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।"

এ বিষয়ে গাজীপুর-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য *জনাব মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, "টান কালিয়াকৈর ব্রিজের বিষয়টি আমি শুনেছি। ৩০-৩৫ বছরের পুরাতন একটি ব্রিজ, যার নিচে কচুরিপানায় ভরে গেছে - এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি ইতিমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলী, পৌর প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছি, আগামী কিছুদিনের মধ্যে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে হবে। তুরাগ নদীর মুখ ও লতিফপুর জোড়া ব্রিজের নিচে যে ২০০ মিটার কচুরিপানার যানজট হয়েছে, তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। এই ব্রিজ দিয়ে আমার নির্বাচনী এলাকার হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে এই পুরাতন ব্রিজ ভেঙে নতুন আধুনিক ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। এলাকা বাসীর জোর দাবি, দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ ও ৪০ বছরের পুরাতন এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার বা নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হোক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোরগঞ্জে ৯ মাস পর মাদরাসাছাত্র মুদ্দাছিরের মরদেহ উত্তোলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪০ পি.এম


কিশোরগঞ্জে ৯ মাস পর মাদরাসাছাত্র মুদ্দাছিরের মরদেহ উত্তোলন

কিশোরগঞ্জে আদালতের নির্দেশে ৯ মাস পর কবর থেকে মাদরাসাছাত্র মুদ্দাছিরের (৮) মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে তাড়াইল উপজেলার দামিহা ইউনিয়নের রাহেলা এলাকায় পারিবারিক কবর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এই সময় তাড়াইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট জিসান আলী এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, পিবিআই ঢাকা (দক্ষিণ) এর এসআই নাজিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা (দক্ষিণ)-এর এসআই নাজিম উদ্দিন জানান, ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকায় অবস্থিত মাদরাসাতুল ইতকান উলুমিয়া কোরআন মাদরাসার চতুর্থ তলায় শিক্ষকদের টয়লেটের ভেন্টিলেটরের গ্রিলের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় মুদ্দাছিরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মুদ্দাছির ওই প্রতিষ্ঠানের হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল।

এই ঘটনার পর ওই ছাত্রের বাবা রাহেলা গ্রামের জিয়াউর রহমান বাদী হয়ে ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর যাত্রাবাড়ি থানায় মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা ক্বারী আনিছুর রহমানসহ ৩ শিক্ষককে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।

মামলার তদন্ত চলাকালে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে মামলার বাদী আদালতে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান গত ২৪ আগস্ট কবর থেকে মরদেহ উত্তোলনের আদেশ দেন।

তাড়াইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট জিসান আলী জানান, আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে নমুনা পাঠানো হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতারণার ফাঁদে পড়ে জামালপুরে ৭ লক্ষাধিক টাকা খোয়ানোর অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মুবাশশির আলম রাহুল, জামালপুর প্রতিনিধি

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


প্রতারণার ফাঁদে পড়ে জামালপুরে ৭ লক্ষাধিক টাকা খোয়ানোর অভিযোগ

জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্যা ইউনিয়নের কাষ্টসিংগা গ্রামে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার প্রায় ৪০-৫০ জন মহিলার কাছ থেকে ৫-১০ হাজার বা কারো কাছ থেকে তারও অধিক টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে একই গ্রামের শুক্কুর আলীর স্ত্রী সাবিনা বেগম (২৬)। সে শুধু স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নেয়নি, তার নিজ শ্বশুর বাড়ি থেকেই ৩ লক্ষ নগদ টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের গহনা ও মোবাইল ফোন নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। এ বিষয়ে সাবিনা বেগমের শ্বাশুড়ি মোছাঃ আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে গত ২৫/০৯/২০২৬ইং তারিখে নারায়নপুর তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা যায়, ৭-৮ মাস আগে কাষ্টসিংগা গ্রামের মোঃ শুক্কুর আলীর সাথে শিমুলতলী গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের মেয়ে সাবিনা বেগম (২৬) এর বিয়ে হয়। বিয়ে হওয়ার পর হতে শ্বশুর বাড়িতে সে প্রতারণা করে ৪০-৫০ জন অসহায় মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাত করে নেয়। এছাড়া শ্বশুর বাড়ি থেকেও প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা সহ গহনা নিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা বলেন, সাবিনার বিয়ে হওয়ার পর এলাকায় সে সমাজসেবা অফিসের কর্মচারী বলে পরিচয় দেয়। যার কারনে সমাজসেবার বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অসহায় মহিলাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে তিতপল্যা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম সোহাগ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা এ.এস.আই আব্দুল মালেক বলেন, প্রতারণার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করছি, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ শাহাদৎ হোসেন বলেন, প্রতারক সাবিনা বেগমের সাথে সমাজসেবা অফিসের কোন সম্পৃক্ততা নেই। একটি প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ সাধারণ মানুষকে সমাজসেবা অফিসের নাম বলে প্রতারণা করে আসছে। আমরা এর আগেও সবাইকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছি। প্রতারণার বিষয়ে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। ভাতাভোগী সহ বিভিন্ন সমাজসেবার কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। এখানে অর্থ লেনদেনের কোন সুযোগ নেই। এলাকাবাসী প্রতারক সাবিনা বেগমের আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত সহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%