প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ইতিবাচকভাবে সমাধান করতে চান। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করে একটি ইতিবাচক ফলাফল অর্জন সম্ভব হবে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী সফরের জন্য দিল্লিতে একটি সহায়ক পরিবেশ কিভাবে তৈরি হবে, সেই প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আলাপ-আলোচনা, ডায়ালগ, ডিপ্লোম্যাটিক এনগেজমেন্ট—এগুলো তো আছেই। আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। আমাদের কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। আশা করি এই চ্যালেঞ্জগুলোর একটা সমাধান পজিটিভলি আমরা করতে পারব। যেহেতু ডায়ালগ, এনগেজমেন্ট ইজ সো, লেটস ট্রাই। আই অ্যাম শিওর, উই উইল হ্যাভ আউটকাম।’
শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ বা কোনো সভা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এখনো সচিব পর্যায় বা কর্মকর্তা পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে সংলাপ চলছে।
শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ কবে অনুষ্ঠিত হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শীর্ষ পর্যায়ের ডায়ালগ তো হবে যখন ভিজিট হবে। তো এর আগে তো আপনার কনক্লুসিভ এনভায়রনমেন্ট করতে হবে অফিশিয়াল লেভেলের ডায়ালগের মাধ্যমে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুই পক্ষেরই এগিয়ে আসতে হবে। ডায়ালগ তো হচ্ছে, বারবারই হচ্ছে। আমরা চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করার চেষ্টা করছি।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা ন্যাশনাল ইন্টারেস্টে এনগেজ করব। আর প্রধান চ্যালেঞ্জ—এটা খুব বেশি কিছু চাওয়া নয় যে, দিল্লিতে একজন সন্ত্রাসীকে সংযত করা। একজন সন্ত্রাসী দিল্লিতে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘ভারতে আরো কিছু অপরাধী রয়েছে। এসব বিষয় দুই দেশের জন্যই বাধা তৈরি করছে। তাই আমরা সংযম দেখাচ্ছি এবং ভারত সরকারের কাছ থেকেও এর প্রতিদান চাই। আমরা চাই ভারত সরকারও এর বিরুদ্ধে থাকুক। কারণ এটা দুই দেশের জন্যই বাধা। আমরা আশা করি, ভারতও তা করবে না।’
দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সংযম ও পারস্পরিক সহযোগিতাকে স্বাভাবিক নিয়ম হিসেবে দেখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটাই দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক হওয়া উচিত। যদি এই সংযম, এই ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ একটা নর্ম হয়, আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’
আঞ্চলিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আঞ্চলিক সহযোগিতা অগ্রাধিকার। আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়গুলো খোলামেলাভাবে দেখি এবং খোলামেলা ডায়ালগ চাই। আমরা কখনো ডায়ালগ ও ডিপ্লোম্যাসির দরজা বন্ধ করিনি। আমরা ডায়ালগ ও ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে এগিয়ে যাব এবং সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে পৌঁছাব।’
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তিনি আশাবাদী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশাবাদী, এটা হবে।’
নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তুরস্কে যেতে পারেন কপ সম্মেলনে যোগ দিতে।’
নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হতে পারে ভারতীয় গণমাধ্যমের এমন খবরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের খবর নিতে হলে বাংলাদেশ থেকেই বাংলাদেশের খবর নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যখন যাবে, বাংলাদেশের জন্য সেটাই হবে ঠিক আছে।’
দেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যে গণতান্ত্রিক ট্রানজিশন হয়েছে, এর জন্য আমাদের মানুষ ত্যাগ স্বীকার করেছে। এখন আমরা দেশের শাসনব্যবস্থার মান উন্নয়নের দিকে তাকাতে চাই। মানুষ মানসম্মত শাসন চায়। আর সরকারের লক্ষ্য জনগণের জন্য কাজ করা।’
তিনি বলেন, ‘সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। আমাদের দেশ যেন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যায়, সেটাই চাই। জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে আপস না করে বিশ্বের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে সম্পৃক্ত হতে চাই।’
রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তার দিক থেকে দেশের লক্ষ্য অর্জনে বিশ্বের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন