শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:০৮ পি.এম
পাবনার ঈশ্বরদী এলাকায় পুলিশ দুই যুবককে আটক করেছে, যাদের নাম তানজিরুল ইসলাম (৩০) এবং মো. সজিব (২৮)। তাদের কাছে একটি রিভলভার ও ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে পাকশী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে দুপুরে ঈশ্বরদী থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাকশী বাজার এলাকায় তানজিরুলের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সেখানে তানজিরুল ও তার সহযোগী সজিব মাদক ও অস্ত্রসহ অবস্থান করছিলেন। তাদের তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে দুইজনের কাছ থেকে ২০০ পিস করে মোট ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এরপর তানজিরুলের বিছানার বালিশের নিচ থেকে একটি দেশীয় রিভলভার উদ্ধার করা হয়।
ওসি আরও জানান, আটকদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, যদি আরও কেউ জড়িত থাকে তবে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গে, নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন শিশু চিকিৎসক ডা. ইদ্রিস ইভান্স। ভোরের দিকে হঠাৎ করে একজন ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করে রান্নাঘরের ছুরি দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ৪৬ বছর বয়সী এই চিকিৎসকের মৃত্যু ঘটে। হামলায় তার স্ত্রীও গুরুতর আহত হন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে পিটসবার্গের উপকণ্ঠ এজউডের একটি বাড়িতে দুইজনকে ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে ডা. ইভান্স ও তার স্ত্রীকে একাধিক ছুরিকাঘাতের আঘাত নিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইভান্সের মৃত্যু ঘটে। তার স্ত্রী বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
ডা. ইদ্রিস ইভান্স ইউপিএমসি চিলড্রেনস হাসপাতাল অব পিটসবার্গের শিশুদের গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসক ছিলেন। তিনি পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ইভান্স ও তার স্ত্রী বিছানায় ঘুমিয়ে থাকার সময় হামলাকারী তাদের ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ইভান্সের স্ত্রী পুলিশকে জানান, হামলাকারী শুধু অন্তর্বাস পরিহিত ছিলেন এবং তিনি ‘আমি ঈশ্বর’ ধরনের কথা বলছিলেন। হামলার সময় তিনি তাদের দুই সন্তানকে দ্রুত প্রতিবেশীর বাড়িতে চলে যেতে বলেন।
পুলিশ পরে হামলার ঘটনায় ৩২ বছর বয়সী এলিয়াহ হেমিংওয়েকে আটক করে। তদন্তকারীরা তাকে কাছের একটি বাড়ির পেছনে খুঁজে পান। তার হাতেও কাটা জখম ছিল এবং চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যা, গুরুতর হামলা, বাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইভান্সের স্ত্রী পুলিশকে জানান, হামলার সময় তার স্বামী হামলাকারীকে ‘এলিয়াহ’ নামে ডাকেন। তবে পুলিশ এখনও নিশ্চিত নয় যে ইভান্স ও সন্দেহভাজন ব্যক্তির মধ্যে পূর্বে কোনো পরিচয় বা সম্পর্ক ছিল কিনা। হামলার উদ্দেশ্যও এখনও জানা যায়নি।
আলেঘেনি কাউন্টি পুলিশের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ভিক্টর জোসেফ জানান, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সহিংস। শোবার ঘরের আসবাবপত্র ও আয়না ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও হামলার উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের গ্রেটার নয়ডায় একটি যাত্রীবাহী বাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে মা ও ছেলেসহ ৯ জনের মৃত্যু ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে ৪৭ বছর বয়সী সুনীতা গুপ্ত এবং তার ২৮ বছর বয়সী ছেলে শশাঙ্ক অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যারা উত্তরপ্রদেশের মহোবার বাসিন্দা।
যাত্রীরা চিৎকার করে বলছিলেন, "দ্রুত নেমে আসুন। আগুন ছড়াচ্ছে।" কিন্তু সুনীতা গুপ্ত (৪৭) নামতে পারলেন না। তার ছেলে শশাঙ্কও মাকে ছেড়ে নামলেন না। ফলে বাসের ভিতরেই তারা দু’জনের মৃত্যু ঘটে।
শশাঙ্ক কর্মসূত্রে হরিয়ানার গুরুগ্রামে বসবাস করতেন এবং তিনি ইন্ডিগোতে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। প্রায় এক মাস আগে চিকিৎসার জন্য তার কাছে এসেছিলেন সুনীতা, যিনি হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। সম্প্রতি শশাঙ্কের কাকা হৃদরোগে আক্রান্ত হলে মাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফেরার পরিকল্পনা করেন তিনি। ট্রেনের টিকিট না পাওয়ায় তারা একটি এসি বাসের টিকিট কাটেন। মায়ের আরামের কথা ভেবে বাসের পেছনের দিকের আসন বুক করেছিলেন শশাঙ্ক।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে দিল্লির কাশ্মীরি গেট থেকে বাসে ওঠেন মা-ছেলে। যমুনা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যাওয়ার সময় ৩৩ কিলোমিটার মার্কারের কাছে, জেবরের দয়ানতপুর এলাকায় বাসটিতে আগুন ধরে যায়। বাসটিতে দুই চালক ও এক কন্ডাক্টরসহ মোট ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, আগুনের সূত্রপাত হয় চালকের কেবিন থেকে। তদন্তে বাসটির দুটি জরুরি নির্গমনপথ বন্ধ অবস্থায় পাওয়ার কথাও জানা যায়।
আগুন ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকেই জানালার কাচ ভেঙে বাইরে লাফ দেন। স্থানীয়দের সহায়তায় ২৬ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে শশাঙ্ক ও তার মা সুনীতা বাসের পেছনের দিকে ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর শশাঙ্ক মাকে নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু হাঁটুর অস্ত্রোপচারের কারণে সুনীতা দ্রুত হাঁটতে পারছিলেন না। এদিকে বাসের ভেতর ধোঁয়া বাড়তে থাকে। বাইরে থেকে যাত্রীরা দ্রুত নেমে আসার জন্য চিৎকার করছিলেন। কিন্তু শশাঙ্ক মাকে ফেলে একা বেরিয়ে আসেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি বলেছিলেন, "মা না নামতে পারলে আমিও নামব না। মাকে নিয়েই নামব।" শেষ পর্যন্ত দু'জনই বাসের ভেতর আটকা পড়ে যান। ধোঁয়ায় জ্ঞান হারানোর পর আগুনে পুড়ে তাদের মৃত্যু ঘটে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পরিবারের সদস্যরা সুনীতা ও শশাঙ্কের মরদেহ শনাক্ত করেন। সুনীতার উচ্চতা এবং শশাঙ্কের হাতে থাকা আংটি দেখে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
মহোবার চরখড়ির বাড়িতে শশাঙ্কের বাবা নীরজ গুপ্ত এবং তার ছোট ভাই নিখিল, যিনি বর্তমানে কলেজে পড়াশোনা করছেন, রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তিনজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে। আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে আটটার দিকে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধীনস্থ খোসালপুর বিওপির এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পিলার-৬০/৭৪-আর থেকে আনুমানিক ৭০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাঘাডাঙ্গা গ্রামের বাজারসংলগ্ন রাস্তার ওপর হাবিলদার মো. জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছিল। এ সময় সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করার অভিযোগে বিজিবি টহল দল তিন যুবককে আটক করে।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন, বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বড়বাদুরা গ্রামের মো. জাকারিয়া খান (৩০), নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পহরডাঙ্গা গ্রামের মো. ইক্লাস শরিফ (৪০) এবং যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার খেপখালী গ্রামের হৃদয় মন্ডল (২৯)।
মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, আটককৃত পুরুষদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জে নিরাপদ খাদ্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিক্রি এবং মোড়কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে মোট ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) কিশোরগঞ্জের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে নিরাপদ খাদ্য আইনের আওতায় সংক্ষিপ্ত বিচার আদালতের (সামারি ট্রায়াল) মাধ্যমে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এমরান এবং কিশোরগঞ্জ জেলার নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম তালুকদার।
বিচারিক কার্যক্রমে মারিয়া বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত এম এম খান ফুডসকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি, দই ও দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণের দায়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এশিয়া ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরিকে একই অভিযোগে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া, আজহার ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরিকে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বনরুটি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিক্রির দায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
এদিকে, বিচারিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে বিভিন্ন খাদ্যপ্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন ও অভিযান পরিচালনা করা হয়। সুগন্ধা ফুড প্রোডাক্টস, গাংচিল রেস্তোরা, কাচ্চি ভাই, হোটেল খাওয়া দাওয়া, তাজ রেস্টুরেন্ট ও মাটির হাঁড়ি রেস্তোরাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনের সময় অসংগতিগুলো দূর করার জন্য সংশ্লিষ্টদের মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়।
অভিযান ও বিচারিক কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেন জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শংকর চন্দ্র পাল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, কিশোরগঞ্জ র্যাব ও আনসার ব্যাটালিয়নের পৃথক চৌকস দল দায়িত্ব পালন করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ