প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গে, নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন শিশু চিকিৎসক ডা. ইদ্রিস ইভান্স। ভোরের দিকে হঠাৎ করে একজন ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করে রান্নাঘরের ছুরি দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ৪৬ বছর বয়সী এই চিকিৎসকের মৃত্যু ঘটে। হামলায় তার স্ত্রীও গুরুতর আহত হন।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে পিটসবার্গের উপকণ্ঠ এজউডের একটি বাড়িতে দুইজনকে ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে ডা. ইভান্স ও তার স্ত্রীকে একাধিক ছুরিকাঘাতের আঘাত নিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইভান্সের মৃত্যু ঘটে। তার স্ত্রী বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
ডা. ইদ্রিস ইভান্স ইউপিএমসি চিলড্রেনস হাসপাতাল অব পিটসবার্গের শিশুদের গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসক ছিলেন। তিনি পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ইভান্স ও তার স্ত্রী বিছানায় ঘুমিয়ে থাকার সময় হামলাকারী তাদের ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ইভান্সের স্ত্রী পুলিশকে জানান, হামলাকারী শুধু অন্তর্বাস পরিহিত ছিলেন এবং তিনি ‘আমি ঈশ্বর’ ধরনের কথা বলছিলেন। হামলার সময় তিনি তাদের দুই সন্তানকে দ্রুত প্রতিবেশীর বাড়িতে চলে যেতে বলেন।
পুলিশ পরে হামলার ঘটনায় ৩২ বছর বয়সী এলিয়াহ হেমিংওয়েকে আটক করে। তদন্তকারীরা তাকে কাছের একটি বাড়ির পেছনে খুঁজে পান। তার হাতেও কাটা জখম ছিল এবং চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হত্যা, গুরুতর হামলা, বাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইভান্সের স্ত্রী পুলিশকে জানান, হামলার সময় তার স্বামী হামলাকারীকে ‘এলিয়াহ’ নামে ডাকেন। তবে পুলিশ এখনও নিশ্চিত নয় যে ইভান্স ও সন্দেহভাজন ব্যক্তির মধ্যে পূর্বে কোনো পরিচয় বা সম্পর্ক ছিল কিনা। হামলার উদ্দেশ্যও এখনও জানা যায়নি।
আলেঘেনি কাউন্টি পুলিশের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ভিক্টর জোসেফ জানান, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সহিংস। শোবার ঘরের আসবাবপত্র ও আয়না ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও হামলার উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন