০৮:৪২ পি.এম
হেফাজতে নির্যাতন, মৃত্যু এবং গুম রোধের উদ্দেশ্যে একটি ‘জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা (এনপিএম)’ ইউনিট গঠনের বিধান সম্বলিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে মন্ত্রিসভা দ্বারা। একই সাথে বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটন আকর্ষণের জন্য ‘ভিসা নীতিমালা-২০২৬’ এবং ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন লাভ করেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৬তম বৈঠকে এসব অনুমোদনগুলো দেয়া হয়। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় কমিশন গঠনের বিধান ও মেয়াদকাল সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, একজন চেয়ারপারসন এবং চারজন কমিশনারের সমন্বয়ে এই কমিশন তৈরি হবে, যেখানে অন্তত একজন নারী সদস্যের থাকতে হবে। পাশাপাশি, বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নৃ-গোষ্ঠী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগণের যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী
বাছাই কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, নাগরিক প্রতিনিধি এবং নৃ-গোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত হবে। এছাড়া, জাতিসংঘের ‘নির্যাতন বিরোধী সনদের ঐচ্ছিক প্রটোকল’-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, হেফাজতে নির্যাতন, মৃত্যু বা গুম রোধে একটি ‘জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা (এনপিএম)’ ইউনিট গঠনের বিধানও খসড়া আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। খসড়ায় কমিশনের কার্যপরিধি স্পষ্ট করা হয়েছে এবং অভিযোগ গ্রহণের পদ্ধতি সহজ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ক্ষতি রোধে তদন্ত চলাকালে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেবার ক্ষমতাও কমিশনকে প্রদান করা হয়েছে।
এদিনের বৈঠকে ‘ভিসা নীতিমালা-২০২৬’ এর খসড়াও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। বিদেশিদের বাংলাদেশে আসা ও কার্যক্রমকে সহজ এবং সুশৃঙ্খলভাবে করার জন্য; বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), ব্যবসা কার্যক্রম এবং দক্ষ মানবসম্পদ আকর্ষণ করার লক্ষ্যে এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০০৬ সালের পুরানো নীতিমালায় ভিসার ক্যাটাগরি ছিল ৩৩টি, নতুন নীতিমালায় তা বাড়িয়ে ৩৪টি করা হয়েছে।
নতুন এই নীতিমালার ভিত্তিতে পূর্ববর্তী সকল ভিসাসংক্রান্ত পরিপত্র (সার্কুলার) বাতিল হবে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে একটি সমন্বিত আধুনিক ভিসা কাঠামো তৈরি করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বহির্গমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
এছাড়া, বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার কথা জানানো হয়।
আরও পড়ুন: শামা ওবায়েদের স্পেন ও ইইউর সহযোগিতার প্রশংসা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়
বৈঠকে বলা হয়, তফসিলি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট ও দেউলিয়াত্ব প্রতিরোধে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ পাস করা হয়েছিল। ওই আইনে রেজল্যুশনের আওতাধীন ব্যাংকগুলো অবস্থানরত রেখে পুনর্গঠন, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারি আর্থিক সংশ্লেষ কমানোর জন্য ১৮(ক) ধারা সংযুক্ত করে একটি বাজারভিত্তিক বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু এই ধারাটির শর্ত মেনে কেউ আবেদন না করায়, সেই কারণে বিলুপ্ত করার উদ্দেশ্যে নতুন এই সংশোধনী আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন