বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:০২ পি.এম
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৪১
আধুনিক বিনিয়োগ দুনিয়ায় অন্যতম শক্তিশালী ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় ‘সিটাডেল’ এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কেন গ্রিফিনকে। কিছুদিন আগে এআইয়ের ওপর তার ভরসা ছিল না।
ওয়ালস্ট্রিটে এআই নিয়ে মাতামাতিকে তিনি স্রেফ গার্বেজ মনে করতেন।
চলতি বছরের শুরুতে দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক প্যানেলে তিনি বলেছিলেন, ‘এআই-কে ওপর থেকে দেখতে হয়তো দারুণ লাগতে পারে। কিন্তু আপনি যখনই এর গভীরে যাবেন, দেখবেন সবই আবর্জনা।’
তবে নিজের কম্পানিতে এআইয়ের অসাধারণ গতি এবং উৎপাদনশীলতার এক অভূতপূর্ব নজির দেখে তিনি তার সেই ধারণা বদলে ফেলেছেন।
সম্প্রতি স্ট্যানফোর্ড বিজনেস স্কুলে এক আলাপচারিতার সময় তিনি বলেন, ‘আপনি যখন নিজের চার দেয়ালের মধ্যে এটি ঘটে যেতে দেখবেন, যখন আপনি দেখবেন কাজগুলো করতে আগে বছরের পর বছর মানুষের শ্রম লাগত, সেগুলো এখন মাত্র কয়েক দিন বা সপ্তাহে হয়ে যাচ্ছে, তখন মনে হবে—ওয়াও! এই প্রথম আমি আমাদের চার দেয়ালের ভেতরে বাস্তব এবং বড় কোনো প্রভাব দেখলাম।’
হেজ ফান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘সিটাডেল’ এর প্রধান নির্বাহীর ধারণা বদলে দেওয়া এআই সিস্টেমটি তার অফিসের এক কর্মীর বানানো। এই এজেন্টিক এআই সিস্টেম দেখে মুগ্ধ কেন গ্রিফিন জানিয়েছেন, ‘আমাদের দলের এক সদস্য ফাইন্যান্সের একাডেমিক পেপারগুলো নতুন করে তৈরি করার জন্য একটি এজেনটিক এআই সিস্টেম তৈরি করেছেন। এজেনটিক এআই সিস্টেম মানুষের খুব সামান্য হস্তক্ষেপ বা কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, তরুণ মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের এই একাডেমিক পেপারগুলো নতুন করে তৈরি করতে ছয় থেকে ৮ সপ্তাহ লাগে। আমাদের সহকর্মীর বানানো এআই সিস্টেমের সেই কাজগুলো করতে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টার সময় লাগে।’
এই তুমুল গতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে গ্রিফিন বলেন, ‘এটি কেবল সাধারণ কোনো হোয়াইট কলার চাকরি নয়। এটি মাস্টার্স বা পিএইচডি-পর্যায়ের একটি কাজ।’
তিনি বলেন, ‘মাত্র দুই বা তিন বছর আগেও আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই মনে করতেন যে এই ধরনের কাজ এআই-এর ক্ষমতার বাইরে।’
গ্রিফিন স্বীকার করেছেন যে, এআই-এর এই ধরনের অগ্রগতি ব্যবসা এবং সমাজের ওপর প্রভাব ফেলতে বাধ্য। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই যুগান্তকারী সাফল্যের কারণে সিটাডেল-এ কর্মী ছাঁটাইয়ের কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং তিনি বিশ্বাস করেন, এই সফলতা কম্পানিকে আরো বড় হতে এবং আরো বেশি সমস্যার সমাধান করতে সাহায্য করবে।
গ্রিফিন বলেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানে অত্যন্ত মেধাবী কর্মীরা রয়েছেন। আমাদের সামনে এক বিশাল কর্মক্ষেত্র ও সমস্যা রয়েছে, যা আমরা সমাধান করার চেষ্টা করছি। আমি কর্মদক্ষতা বা উৎপাদনশীলতার এই অভাবনীয় সুযোগটিকে শতভাগ কাজে লাগাবো। কারণ আমাদের যে মেধাবী কর্মীরা রয়েছেন, তাদের নিয়ে আমরা এখন আরো বড় ও নতুন সব লক্ষ্য পূরণ করতে পারব।’
কেন গ্রিফিন হয়তো আপাতত তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ছাটাই করবেন না। তবে খুব শিগগিরই এআই আমাদের অনেক মানুষের চাকরির বাজার ছোট করে ফেলবে, সে আশঙ্কা মিথ্যা নয়।
অ্যামাজনের মেশিন লার্নিং বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজীব রাস্তোগি এ বছরের শুরুতে বিভিন্ন কম্পানির অনেক কাজই এআই দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে বলে আশঙ্কা করেছিলেন, ‘আজ আমরা প্রতিটি কম্পানিতে ম্যানুয়ালি বা হাতে-কলমে অনেক কিছু করি। এর সবই এআই দ্বারা প্রতিস্থাপিত হবে। ফলে একই কাজ অনেক কম খরচে এবং অনেক কম পরিশ্রমে করা সম্ভব হবে।’
কম খরচে, কম পরিশ্রমে হয়তো কাজ হবে। কিন্তু তাতে মানুষ কাজ হারাবে অনেক বেশি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোনও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে তেহরান চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে পুরো অঞ্চলের সমস্ত অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। কারণ, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করে দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী সপ্তাহে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুর মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরই ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দপ্তরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাকারি কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "যদি ট্রাম্প ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালানোর হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তাহলে ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর আঘাতে পুরো অঞ্চলের সব অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাবে।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ ইরানের একটি বড় রেড লাইন এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না। আরো তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবারে আগের চেয়ে আরও তীব্র, ব্যাপক এবং বিধ্বংসী আঘাত হানবে।
অন্যদিকে, কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে বিরোধ মেটাতে পাকিস্তান তাদের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে। গত মাসে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক (MoU) বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে, এমন তথ্যও এসেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দোরাবি ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের বলেন, তারা নানা বাধা সত্ত্বেও প্রতিটি পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করা এবং কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য উৎসাহিত করে যাবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি অনন্য উদাহরণ।" তিনি উল্লেখ করেন যে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা এখন সব সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে সম্প্রীতির মেলবন্ধন সৃষ্টি করেছে।
তিনি আরও বলেন, "চট্টগ্রামের তুলসীধাম ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান।" এখানকার ৩০০ বছরের প্রাচীন কেন্দ্রীয় রথযাত্রা আজকাল একটি সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরের নন্দনকানন রথের পুকুর পাড় এলাকায় কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির আয়োজনে রথপরিক্রমা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথাগুলি উল্লেখ করেন।
ঋষিধাম অধিপতি ও তুলসীধামের মোহন্ত শ্রীমৎ দেবদীপানন্দ পুরী মহারাজের পৌরহিত্যে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, "নন্দনকাননের ঐতিহাসিক রথের পুকুর পাড় আজও রথপরিক্রমার আয়োজন করে ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।" হাজারও ভক্তের উপস্থিতি আজ আবারও প্রমাণ করেছে যে, বাংলাদেশ সত্যিকারের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "এই রথের পুকুর পাড় দখল করে প্রভাবশালীদের স্থাপনা গড়তে দেওয়া হবে না।" দখলদারদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অতিথিদের বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি আবু সুফিয়ান বলেন, "একটি গোষ্ঠী নানা অজুহাতে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।" তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, "বাংলাদেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপি’র কাছে নিরাপদ।"
কেন্দ্রীয় রথযাত্রার উদ্বোধক চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হরিশ কুমার বলেন, "রথযাত্রা হল ভগবানের বিশেষ কৃপার প্রকাশ।" এই সময় ভগবান মন্দির থেকে বেরিয়ে এসে রাজপথে অবতীর্ণ হন। এ কারণেই রথযাত্রাকে বলা হয় সর্বজনীন করুণার উৎসব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিত।
এতে স্বাগত বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির সভাপতি হিরন্ময় ধর এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিধান ধর।
এ সময় অতিথিদের কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
পরে তুলসীধামের মোহন্ত মহারাজের নেতৃত্বে রথের দড়ি টেনে রথপরিক্রমা উদ্বোধন করেন অতিথিরা।
এর আগে ঢোলক বাদ্য, মঙ্গল শঙ্খ ও উলুধ্বনি দিয়ে জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলভদ্রকে রথারোহণ করানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এর পাশাপাশি সংস্থাটি সতর্কতা প্রকাশ করে বলেছে, রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি কারণে দেশের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য চাপের মধ্যে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবের ফলে আমদানি ব্যয় এবং ভর্তুকির চাপ বেড়েছে, যা অর্থনীতির ঝুঁকি বাড়াতে সহযোগিতা করছে।
আইএমএফের মিশন প্রধান আইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর শেষে বৃহস্পতিবার যে বিবৃতি প্রকাশ করেছে, তাতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা এবং সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করা। নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য আকার, শর্ত ও সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও আলোচনা করা হবে।
আইএমএফের মন্তব্য অনুসারে, বাংলাদেশ এখন রাজস্ব, আর্থিক খাত এবং মূল্যস্ফীতি- এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পণ্যমূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ আবারও বেড়ে গেছে। এক্ষেত্রে, ভর্তুকি ব্যয়ের বৃদ্ধি সরকারের সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক লেনদেনেও চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যদিও প্রবাসী আয় শক্তিশালী রয়েছে।
আইএমএফ বলেছে, ব্যাংক খাতের চাপ এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করা প্রয়োজন, পাশাপাশি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর কার্যকর সংস্কার জরুরি। এর মাধ্যমে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগেও উৎসাহিত হবে।
সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের জন্য রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি যৌক্তিক করা এবং সেই অর্থ সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন ব্যয়ে ব্যবহার করা প্রয়োজন। দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠনের জন্য আইএমএফ কঠোর মুদ্রানীতি ও সতর্ক রাজস্বনীতি অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছে। এছাড়া, ২০২৫ সালে চালু হতে যাওয়া 'ক্রলিং পেগ' বিনিময় হার ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যাতে বিনিময় হার আরও নমনীয় হতে পারে এবং বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত না হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। পরবর্তী মধ্যমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশেরও নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, ব্যাংক খাতের সংকট, রাজস্ব চ্যালেঞ্জ এবং বৈদেশিক চাপ একে অপরকে জটিল করে তুলতে পারে। ফলে, অর্থনীতির ঝুঁকি নিম্নমুখী অবস্থায় রয়েছে।
তবে আইএমএফ জানিয়েছে, সফরকালে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। সংস্থাটি আগামী মাসগুলোতে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল। তিনি বলেছেন, ‘দেশে এত সমস্যা এখনও বিরাজমান দেখে আমি বিস্মিত হই। কারণ ১৭ বছরে এসব সমস্যার সমাধান হওয়ার কথা ছিল। যদি সে সময় এগুলো সমাধান করা যেত, তাহলে অনেক কিছুই ঠিক হয়ে যেতে পারত।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আগে এত উন্নয়নের গল্প শুনতাম, সেগুলো তো আসলে কোথায়? এখন সমস্ত চাপ আমাদের সরকারের ওপর এসেছে। জনগণের প্রত্যাশা বিশাল। আমরা চেষ্টা করছি, সেই অবস্থান থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে।’
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি সভায় প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রংসহ ১৭ জেলার ১৮টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা।
সভায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নেতারা তাদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, সমতলের আদিবাসী অনগ্রসর জনগণের জন্য জাতীয় কনভেনশন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে জাতিভিত্তিক পরিচয়ের দাবি, সাংবিধানিক স্বীকৃতি, আইনগতভাবে ভূমির মালিকানা প্রতিষ্ঠা, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ঋণসুবিধা এবং রিজার্ভ ফরেস্টের নামে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বসতি থেকে উচ্ছেদ বন্ধের দাবিও জানান।
এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে বক্তব্য শুনলেন এবং সভায় সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার সরকার একটি বৈষম্যহীন দেশ গড়তে কাজ করছে। সবার জন্য প্রত্যাশিত বাংলাদেশ নির্মাণে তিনি সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান। কাউকে আলাদা মনে করেন না।
তিনি জানাচ্ছেন, ‘আমাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হত। অর্থপাচার না হলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। আমাদের সরকার যে সমস্যাগুলো নিরসনযোগ্য সেগুলো আগে সমাধান করছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। এখানে টিকে থাকতে হলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের দেখতে হবে, আমরা আরও ভালো অবস্থানে কীভাবে থাকতে পারি।’
দেশের সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য ছিল, ‘দেশে এত সমস্যা এখনও বিরাজমান দেখে আমি বিস্মিত হই। ১৭ বছরে এসবের সমাধান হওয়ার কথা ছিল। সে সময় এগুলো সমাধান হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।’
তিনি বলেন, ‘আগে এত উন্নয়নের গল্প শুনতাম, সেগুলো আসলে কোথায়? এখন সব চাপ আমাদের সরকারের ওপর। জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আমরা চেষ্টা করছি, সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে।’
দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলোর কথাও প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘ওরা একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যাত্রা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। তার সময় ৩১ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর যখন আমাদের সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তখনই এর উন্নয়ন হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর সেটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এটিকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘আগের সরকার ইউনিয়নভিত্তিক কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু সেগুলোর কোন কার্যক্রম নেই।’
২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, জরুরি চিকিৎসা সামগ্রীর ওপর কর হ্রাসের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ