ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজশাহীতে ৩১তম জুনিয়র টেনিস চ্যাম্পিয়ন টুর্নামেন্ট শুরু ৫ অক্টোবর


রাজশাহীতে ৩১তম জুনিয়র টেনিস চ্যাম্পিয়ন টুর্নামেন্ট শুরু ৫ অক্টোবর

রাজশাহীতে ৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৩১তম অনূর্ধ্ব ১৮ রাজশাহী ইন্টারন্যাশনাল জুনিয়র টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬। এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১০টি দেশের মোট শতাধিক খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করবেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের সহযোগিতায় রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্স এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী টেনিস কমপ্লেক্সের অর্কিড হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্টের ডিরেক্টর হাসিনুর রহমান টিংকু এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক দূষণ রোধে আলোচনা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

তিনি উল্লেখ করেন, ৫ অক্টোবর সকাল ৯টায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এই প্রতিযোগনার উদ্বোধন করবেন। টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১০ অক্টোবর সকাল ৯টায়। অংশগ্রহণকারী দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, চাইনিজ তাইপে, হংকং, নেপাল, জাপান, চায়না, কোরিয়া ও আমেরিকা। আন্তর্জাতিক এই টুর্নামেন্টে হাসিনুর রহমান টিংকু ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ভারতের জয় মুখার্জী রেফারী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।

সকল খেলোয়াড়, কোচ, অভিভাবক ও অফিসিয়ালদের আবাসনের জন্য রাজশাহী পর্যটন মোটেল, হোটেল এক্স এবং গ্রান্ড রিভার ভিউ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্ট রেফারী জয় মুখার্জী এবং মিডিয়া কমিটির আহবায়ক গোলাম মোস্তফা মামুনও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: সাদমানের ফিফটির পর এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলেন শান্ত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাড়ে ৬ লাখ জেলে পরিবার পাচ্ছে ১৬৫৭ মেট্রিক টন চাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৬ পি.এম


সাড়ে ৬ লাখ জেলে পরিবার পাচ্ছে ১৬৫৭ মেট্রিক টন চাল

প্রজননের ভরা মৌসুমে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত রাখতে সরকার ১ হাজার ৬৫৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করেছে সাড়ে ৬ লাখ জেলে পরিবারকে।

এই বরাদ্দ দেশের ৩৮ জেলার ১৬৮টি উপজেলার ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৯০টি জেলে পরিবারকে মানবিক সহায়তা হিসেবে দেওয়া হচ্ছে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য-২ শাখা থেকে জারি করা এক সরকারি আদেশের মাধ্যমে এই বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়। এতে বলা হয়েছে, পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল প্রদান করা হবে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন (৬ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত) ইলিশ আহরণে বিরত থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট জেলেদের। এই সময়ে তাদের জীবনযাত্রা নির্বাহে মানবিক সহায়তা হিসেবে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হবে।

বরাদ্দের তালিকায় ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি শরীয়তপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ দেশের ইলিশ আহরণ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জেলার জেলে পরিবার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তালিকার উল্লেখযোগ্য বরাদ্দের মধ্যে শরীয়তপুরে ২৬ হাজার ১২৯টি পরিবারকে ৬৫৩ দশমিক ২২৫ মেট্রিক টন, মানিকগঞ্জে ৯ হাজার ২৬২টি পরিবারকে ২৩১ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন এবং রাজবাড়ীতে ৫ হাজার ৫৯২টি পরিবারকে ১৩৯ দশমিক ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগের জন্য মোট ১৯ হাজার ৪১১টি জেলে পরিবারের জন্য ৪৮৫ দশমিক ২৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাবনায় ৩ হাজার ৫০০টি পরিবারকে ৮৭ দশমিক ৫ মেট্রিক টন, বগুড়ায় ১ হাজার ৮৯০টি পরিবারকে ৪৭ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন এবং নাটোরে ৭৫০টি পরিবারকে ১৮ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার জন্য মোট ১৬ হাজার ১২৬টি জেলে পরিবারের জন্য ৪০৩ দশমিক ১৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রামে ৯ হাজার ৬১৬টি পরিবারকে ২৪০ দশমিক ৪ মেট্রিক টন এবং গাইবান্ধায় ৬ হাজার ৫১০টি পরিবারকে ১৬২ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ রয়েছে।

সরকারি নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা প্রশাসকদের বরাদ্দ পাওয়া ভিজিএফ চাল নির্বাচিত ও প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মধ্যে মানবিক সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন নির্দেশিকা অনুসরণ করে বিতরণ করতে হবে। ৭ অক্টোবরের মধ্যে চাল উত্তোলন ও বিতরণ সম্পন্ন করে নিরীক্ষার জন্য হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে।

সময়ের স্বল্পতার কারণে জেলা প্রশাসকদের বরাদ্দ পাওয়ার এক কার্যদিবসের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে উপ-বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উপ-বরাদ্দ পাওয়ার দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের অনুকূলে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বিতরণের সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বা তার প্রতিনিধি এবং ট্যাগ কর্মকর্তার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। নিবন্ধিত বা কার্ডধারী জেলে ছাড়া অন্য কাউকে ভিজিএফ চাল দেওয়া যাবে না বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকাল শুরুর আগে অর্থাৎ ৮ অক্টোবরের মধ্যে ভিজিএফ চাল বিতরণ সম্পন্ন করতে হবে।

বিতরণ শেষে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রকৃত বিতরণকৃত ভিজিএফের বিবরণী মৎস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধের পেছনে চীনের ভূমিকা স্পষ্ট হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৭ পি.এম


ইরান যুদ্ধের পেছনে চীনের ভূমিকা স্পষ্ট হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এখন আর শুধুমাত্র ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই সংঘাতের চারপাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে, যেখানে চীনের ভূমিকা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।

চীন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত নয়। তবে ইরানের সঙ্গে চীনের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। এই সম্পর্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানকে মোকাবিলা করা জটিল হয়ে উঠছে।

অর্থাৎ, সংঘাতটি যদিও সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে, তবে এর প্রভাব এবং স্বার্থের সঙ্গে চীনও জড়িয়ে পড়ছে। ফলে এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে। তা হলো, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত কি বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি পরোক্ষ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে? তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ নেই যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সরাসরি একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছে। বরং ওয়াশিংটনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ট্রাম্প-শি শীর্ষ সম্মেলনে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এবং সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত দুই দেশের স্বার্থকে মুখোমুখি অবস্থানে নিয়ে আসছে। বিশেষ করে জ্বালানি, নিষেধাজ্ঞা, প্রযুক্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য।

এই বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের অবস্থান এবং স্বার্থের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মধ্যপ্রাচ্যে ভবিষ্যতে কোন দেশের প্রভাব কতটা থাকবে, তা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।

তাহলে ইরান সংঘাত সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-চীন যুদ্ধ নয়, তবে এটি দুই দেশের বৃহত্তর কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে জটিল করে তুলতে পারে।

চীন ইরানের অর্থনৈতিক লাইফলাইন

ইরানের যুদ্ধকালীন অর্থনীতিতে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। চীন ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা। যুদ্ধ শুরুর আগে চীনের মোট তেল আমদানির প্রায় ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ ইরান থেকে আসত। সংঘাত শুরু হওয়ার পরও তেহরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে চীন তার অবস্থান ধরে রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চীনের কাছে তেল বিক্রি করে ইরান গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব আয় করছে। এই বাণিজ্যে চীনের স্বাধীন তেল শোধনাগারগুলো বড় ভূমিকা রাখছে। এসব শোধনাগার দেশের বড় রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির তুলনায় পশ্চিমা আর্থিক ব্যবস্থার ওপর কম নির্ভরশীল। ফলে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরানের তেল কেনা তাদের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ।

তবে ইরানের সঙ্গে চীনের এই বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও ব্যবস্থা নিয়েছে। ইরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত চীনা কোম্পানি, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সরবরাহকারী নেটওয়ার্কের ওপর ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে ব্যবহার করা যেতে পারে, এমন প্রযুক্তি সংগ্রহে সহায়তার অভিযোগে চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু নেটওয়ার্ককেও যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে। ফলে ইরান-চীন সম্পর্ক এখন শুধু তেল বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এই সম্পর্ককে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং কৌশলগত স্বার্থের পার্থক্যও আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রকে একটি জটিল কৌশলগত পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে। ইরানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া এক বিষয়। কিন্তু চীনের বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নিলে বিষয়টি জটিল হয়ে উঠতে পারে। এতে ইরানকে ঘিরে সংঘাতের পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিরোধ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের কিছু সরবরাহকারী ইরানে দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ এবং প্রযুক্তি পাঠিয়েছে। এসব পণ্য সাধারণ কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম এবং ড্রোন তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা তদন্ত করছেন।

এছাড়া জর্দানে মার্কিন সেনাদের একটি স্থাপনায় ইরানের হামলার আগে বা পরে ব্যবহৃত কিছু স্যাটেলাইট ছবি চীনা প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে চীন এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে এই অভিযোগকে তেমন গুরুত্ব দেননি। সব মিলিয়ে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সরাসরি কোনো সংঘাত না থাকলেও বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আধুনিক যুদ্ধে বাণিজ্যিক প্রযুক্তি এবং সামরিক সরঞ্জামের পার্থক্য দিন দিন কমে আসছে। নেভিগেশন ব্যবস্থা, স্যাটেলাইট ছবি, যোগাযোগ সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি এবং উন্নত প্রযুক্তি এখন সামরিক কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কোনো দেশকে সরাসরি সেনা বা ক্ষেপণাস্ত্র না পাঠিয়েও সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি এবং যন্ত্রাংশ সরবরাহের মাধ্যমে সহায়তা করা সম্ভব। এসব সরঞ্জাম যুদ্ধের সময় একটি দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

এ কারণেই ইরানের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক এবং প্রযুক্তিগত সম্পর্কের ওপর নজর রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, বাণিজ্যিক কাজে সরবরাহ করা কিছু প্রযুক্তি শেষ পর্যন্ত ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহার হতে পারে।

হরমুজ প্রণালিতে চীন-ইরানের স্বার্থের মিল

চীন মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তাই ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল বন্ধ বা ব্যাহত করলে চীনের তেল সরবরাহ এবং অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রও হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে চায়। চীনও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে উত্তেজনা এবং সামরিকীকরণের বিরোধিতা করে আসছে। ফলে এ বিষয়ে দুই দেশের স্বার্থের কিছুটা মিল রয়েছে।

চীন ইরানের পতন চায় না। একই সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হোক বা তেল সরবরাহে বড় সংকট দেখা দিক, সেটিও বেইজিং চায় না। তবে চীন ইরানের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। বরং চীনা কর্মকর্তারা বারবার সংযম এবং আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের বৈধ অধিকার এবং স্বার্থের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও চীনের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।

তাহলে ইরানকে সমর্থন করলেও চীন এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চায় না, যাতে তার জ্বালানি সরবরাহ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সম্পর্ক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে যুদ্ধ

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাব দেশটির সীমানার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা, সামরিক শক্তি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে চীন ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য এবং জ্বালানি সম্পর্ক চালু রাখছে। ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কিছুটা সীমিত হতে পারে।

হরমুজ প্রণালি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের স্বার্থ জড়িয়ে আছে। দুই দেশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে চায়। তাই এই সংঘাত তাদের নিজেদের অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত দুর্বলতাও সামনে নিয়ে আসছে। তবে ইরান যুদ্ধকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-চীন যুদ্ধ বলা ঠিক হবে না। দুই দেশ ইরানে একে অপরের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই করছে না। কিন্তু সংঘাতের কারণে দুই দেশের স্বার্থ এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্র যেখানে নিষেধাজ্ঞা, সামরিক চাপ এবং আর্থিক প্রভাব কাজে লাগাচ্ছে, সেখানে চীন বাণিজ্য, তেল কেনা, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের প্রভাব ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

এখন বড় প্রশ্ন হলো, ইরান যুদ্ধ কি যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের প্রতিযোগিতাকে বাণিজ্য এবং প্রযুক্তির গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাবে? এই সংঘাত ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় দুই দেশের প্রভাব এবং সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শরীয়তপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা দাবি, অডিও ভাইরাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৭ পি.এম


শরীয়তপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা দাবি, অডিও ভাইরাল

শরীয়তপুরের জাজিরা থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নাজিমের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগকারী মো. রবিন মাদবর (২৩) জাজিরা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি গ্রামের সেলিম মাদবরের ছেলে। রবিন জানান, সম্প্রতি তিনি পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করেন। আবেদনের তদন্তের দায়িত্ব পান জাজিরা থানার এএসআই নাজিম। পরবর্তীতে ওই পুলিশ কর্মকর্তা মোবাইল ফোনে কল করে তাকে থানায় যেতে বলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে রবিন ও এএসআই নাজিমের মধ্যে টাকা নিয়ে কথোপকথন শোনা যায়। অডিওতে রবিনকে টাকার পরিমাণ কমানোর অনুরোধ করতে শোনা যায়। তিনি নিজেকে রাজমিস্ত্রি পরিচয় দিয়ে বলেন, দুই হাজার টাকা দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। একপর্যায়ে অডিওতে এএসআই নাজিমকে এক হাজার টাকা দাবি করতে শোনা যায়।

এ সময় রবিন বলেন, তিনি শুনেছেন ৫০০ টাকায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করা যায়। নাজিমের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া শোনা যায় জবাবে। অডিওর পরবর্তী অংশে রবিনকে বলতে শোনা যায়, স্যার, আপনার ফাইলের নিচে টাকা রাখলাম।

তবে এএসআই নাজিম টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, রবিনের বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিদ্যুৎ বিলের কাগজপত্র ছিল না। তিনি সেসব কাগজ জমা দিতে বলেছিলেন। পরে রবিন সেগুলো জমা দিয়েছেন। টাকা চাওয়া কিংবা ফাইলের নিচে টাকা রাখার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। যদি এরকম কিছু হয়ে থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানকে ফাইনালে হারিয়ে সোনা ধরে রাখল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৮ পি.এম


পাকিস্তানকে ফাইনালে হারিয়ে সোনা ধরে রাখল ভারত

ভারত চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে পরাজিত করে এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সোনা জয়ের গৌরব অর্জন করেছে। অভিষেক শর্মা এবং তিলক ভার্মার ঝোড়ো ফিফটিতে রানের পাহাড় গড়ে ওঠে, যার ফলে হাসান নেওয়াজের লড়াই সত্ত্বেও ভারতীয় দল জয় পায়।

শনিবার জাপানের নিশীনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে ভারত পাকিস্তানকে ১৯ রানে পরাজিত করে। পাকিস্তান ২১২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনার হাসান নেওয়াজের ৯৬ রানের বিস্ফোরক ইনিংস সত্ত্বেও নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯২ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

বিস্তারিত আসছে…

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%