ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

প্রথমবার মুখোমুখি পর্তুগাল ও কঙ্গো


প্রথমবার মুখোমুখি পর্তুগাল ও কঙ্গো

 

ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ আগে থেকেই তাদের দখলে রয়েছে। এখন পর্তুগালের জন্য বাকি মাত্র বিশ্বকাপ ট্রফি। বর্ণিল এবং সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারের শেষলগ্নে পৌঁছানো প্রিয় সতীর্থ ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্দোকে বিশ্ব শিরোপার স্বাদ উপহার দিতে মরিয়া হয়ে আছে পুরো পর্তুগিজ টিম। তাদের সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাবেক তারকা ফুটবলার ডিয়েগো জোটার স্মৃতিও তাদের প্রেরণা জোগাচ্ছে। বিশ্বকাপের সেই সোনালি ট্রফির সন্ধানে আজ মাঠে নামছে পর্তুগাল। আজ বুধবার রাত ১১টায় পর্তুগালের এবারের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হতে যাচ্ছে। গ্রুপ ‘কে’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে আফ্রিকার পরাশক্তি ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (কঙ্গো ডিআর)। যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে; কেননা আন্তর্জাতিক ফুটবল মঞ্চে এটি প্রথমবারের মতো হবে যে চলমান দুটি দল একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে।

নথিতে-কলমে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নেতৃত্বাধীন পর্তুগাল দল এখানে নিরঙ্কুশ ফেভারিট। যদি কঙ্গো ডিআর কোনো অঘটন ঘটাতে সক্ষম হয়, তবে সেটি এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম বড় চমক হিসেবে বিবেচিত হবে। ‘সেলেসাও দাস কুনাস’ নামকরণ করা পর্তুগাল দলে তারকা ফুটবলারের অভাব নেই। স্কোয়াডের গভীরতা এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতার কারণে এবারের গ্রীষ্মে অনেকেই তাদের ট্রফি জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে মনে করছেন। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাস পর্তুগালের জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। ১৯৬৬ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তাদের সাফল্য ছিল তৃতীয় স্থান অর্জন; এরপর ২০০৬ সালে তারা চতুর্থ স্থান পেয়েছিল এবং সর্বশেষ কাতার বিশ্বকাপে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নিয়েছিল। ২০১৬ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে থাকলেও, বিশ্বকাপের এই সোনালি ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরতে চান দলের মহানায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানি

রবার্তো মার্টিনেজের অধীনে পর্তুগাল দারুণ ফর্মে রয়েছে। বাছাই পর্বে আর্মেনিয়াকে ৯-১ গোলে পরাজিত করার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ের প্রীতি ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র, চিলি এবং নাইজেরিয়াকে হারিয়ে তারা টানা তিন জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে। তবে গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি তারা রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয়েছিল, যা দলের রক্ষণভাগ এবং বড় মঞ্চে চাপ সামলানোর ক্ষমতা নিয়ে কিছু প্রশ্ন রেখেছে।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দীর্ঘ ৫২ বছর পর তারা বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। গত মার্চ মাসে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে আক্সেল তুয়ানজেবের অতিরিক্ত সময়ের গোলে জ্যামাইকাকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে তারা সেবাস্টিয়ান দেসাব্রের দলের জন্য রূপকথার মতো একটি টিকিট নিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ের কঙ্গো ডিআর দলটি বেশ গোছানো ফুটবল খেলছে। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে শেষ ১৬তে পৌঁছানো দলটি তাদের শেষ চার ম্যাচের দুটিতে জয় পেয়েছে এবং মাত্র একটিতে পরাজিত হয়েছে। জুনের শুরুতে তারা একটি প্রীতি ম্যাচে শক্তিশালী ডেনমার্কের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে, যদিও শেষ ম্যাচে তাদের চিলির কাছে ২-১ ব্যবধানে পরাজয় ঘটেছে।

পর্তুগাল এবং কঙ্গো ডিআর ছাড়াও এই গ্রুপে কলম্বিয়া ও উজবেকিস্তান উপস্থিত রয়েছে। বর্ধিত দল নিয়ে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপে কঙ্গো ডিআরের মতো দলের নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ অনেক বেড়ে গেছে। গ্রুপে অন্তত একটি জয় লাভ করলেও তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা দল হিসেবে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বাবা-মেয়ের মৃত্যুর পর পুলিশের গাড়িতে হামলা ও বাসে আগুন

পর্তুগাল অবশ্যই গ্রুপ ‘কে’-এর সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ। তাই কঙ্গোর নকআউট পর্বে যাওয়ার জন্য আসল লড়াইটি হবে আগামী ২৮ জুন ভোরে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে। কিন্তু তার আগে আজ বুধবার হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের সামনে কঙ্গোর রক্ষা প্রাচীর কেমন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধের ক্ষতি সত্ত্বেও পারমাণবিক আলোচনায় আত্মবিশ্বাসী ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ এম


যুদ্ধের ক্ষতি সত্ত্বেও পারমাণবিক আলোচনায় আত্মবিশ্বাসী ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর পারমাণবিক আলোচনা শুরুর আগে নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে তুলে ধরছে ইরান। যুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হলেও দেশটির নেতারা এই সমঝোতাকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন।

যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক সমঝোতার পর ইরানের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সামরিক কর্মকর্তা এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা একে দেশের দৃঢ়তা ও প্রতিরোধ ক্ষমতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ইরান চূড়ান্ত বিজয়ের পথে একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

একই সঙ্গে সরকারের কার্যক্রম তদারককারী শক্তিশালী পরিষদের চেয়ারম্যান সাদেঘ আমোলি লারিজানি বলেন, ইরানিরা নতুন করে প্রতিরোধের চেতনা প্রদর্শন করেছে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে উৎখাতের যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে।

তবে বাস্তবতার দিকে তাকালে, যুদ্ধের সময় ইরান তাদের বেশ কয়েকটি শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাকে হারিয়েছে। দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নৌ অবরোধের কারণে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। তবুও দেশটির নেতৃত্বের বিশ্বাস, চুক্তির শর্তাবলি যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত লক্ষ্য ‘সম্পূর্ণ বিজয়’ এবং ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ থেকে অনেক দূরে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের পর ইরানের ক্ষমতার কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। কিছু বাস্তববাদী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। এর ফলে ভবিষ্যৎ আলোচনায় ইরানের অবস্থান আরও কঠোর হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যও ইরানের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করছে। ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছেন এবং বর্তমান ইরানি নেতৃত্বকে তুলনামূলকভাবে ‘বাস্তববাদী’ বলে উল্লেখ করেছেন।

চুক্তি অনুযায়ী, ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে, ভবিষ্যতে এই প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ফি আদায় করা হতে পারে, যা যুদ্ধের আগে প্রচলিত ছিল না।

মিসৌরি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ইরান বিশেষজ্ঞ মেহরজাদ বোরুজেরদি মন্তব্য করেছেন, সাম্প্রতিক চুক্তি ইরানকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। এত বড় সামরিক ক্ষতির পরও কূটনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার এমন উদাহরণ খুব কম দেখা যায়।

জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের গবেষক হামিদরেজা আজিজি বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ভূমিকা এখন কার্যত স্বীকৃতি পাচ্ছে এবং আঞ্চলিক দেশগুলোও সংঘাতের বদলে সমঝোতার পথ খুঁজছে।

তিনি আরও জানান, ইরান আলোচনায় লেবাননের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। তেহরানের দাবি, চুক্তির আওতায় লেবাননে সংঘাত কমানোর বিষয় রয়েছে, যদিও ইসরাইল এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করছে।

এদিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল ইস্যুগুলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে কী ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ হবে তা পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে নতুন দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আত্মবিশ্বাসী অবস্থান নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়া ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহজে ছাড় দিতে রাজি হবে না। ফলে আসন্ন পারমাণবিক আলোচনা হবে যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্থায়িত্ব এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের প্রকৃত পরীক্ষা।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে স্থায়ীভাবে বদলাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:০৯ এম


ইরান যুদ্ধের প্রভাবে স্থায়ীভাবে বদলাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতা চুক্তি যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানের সম্ভাবনা তৈরি করলেও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ শুরুর আগে যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামো ছিল, সেখানে সহজে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, বাণিজ্যিক সরবরাহব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ভারসাম্যকেও দীর্ঘমেয়াদে পরিবর্তনের পথে ঠেলে দিয়েছে।

যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস সরবরাহ প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। এতে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলো নতুন বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য হয়েছে।

স্বল্পমেয়াদে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো কয়লার ব্যবহার বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌর ও বায়ুশক্তির দিকে ঝুঁকছে বিশ্ব। পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈদ্যুতিক ব্যাটারি প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের সহজলভ্যতা এই রূপান্তরকে আরও ত্বরান্বিত করছে। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ উৎপাদনে বায়ু ও সৌরশক্তি প্রথমবারের মতো গ্যাসকে ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৩ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন, ব্যারেল ৮০ ডলার।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান তেল উৎপাদক দেশগুলোর সম্পর্কেও টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ার পর আমিরাত ওপেক প্লাস জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যা ভবিষ্যতে তেলের বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। যুদ্ধের সময় রাশিয়ার ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার ফলে দেশটি তেল রপ্তানি থেকে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে।

অন্যদিকে ব্রাজিল, ভেনেজুয়েলা, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা ও গায়ানাও তেল উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা যায়।

বিশ্বব্যাপী নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে সবচেয়ে বেশি লাভবান হওয়ার অবস্থানে রয়েছে চীন। সৌর প্যানেল, বায়ু টারবাইন, ব্যাটারি, ট্রান্সফরমার ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার উৎপাদনে দেশটি ইতোমধ্যে বিশ্বে শীর্ষস্থান দখল করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চীনের ভূমিকা বাড়লে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেইজিংয়ের কৌশলগত প্রভাব আরও বৃদ্ধি পাবে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরান একাধিকবার এই নৌপথে চলাচলকারী জাহাজের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, যা ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য ঝুঁকি হিসেবে থেকে যেতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, যুদ্ধ শেষ হলেও এই নৌপথে আগের মতো নিরবচ্ছিন্ন ও নিশ্চিন্ত বাণিজ্যিক চলাচল আর ফিরে নাও আসতে পারে। ফলে পরিবহন ব্যয় ও বীমা খরচ দীর্ঘমেয়াদে বৃদ্ধি পেতে পারে।

যুদ্ধের সময় কাতারের গ্যাসক্ষেত্র, সৌদি আরবের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হামলার শিকার হয়। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে পর্যটন ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাওয়া দেশগুলো বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির গতি কমিয়ে দিয়েছে। সংস্থাটি চলতি বছরের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়েছে।

একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে সুদের হার বৃদ্ধির প্রবণতা আবারও দেখা দিয়েছে। এতে সরকারি ঋণের বোঝা বাড়বে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র হতে পারে। এশিয়ার অনেক দেশ ইতোমধ্যে জরুরি আর্থিক সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর দ্বারস্থ হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ইরান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে এমন এক পথে ঠেলে দিয়েছে যেখানে প্রবৃদ্ধি হবে তুলনামূলক ধীর, মূল্যস্ফীতি থাকবে বেশি এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়বে। যুদ্ধ শেষ হলেও এর অর্থনৈতিক অভিঘাত বহু বছর ধরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি, বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল

ট্রফি তুলে দিতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১০ এম


ট্রফি তুলে দিতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দেখা যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

ট্রাম্পের হাত ধরে বিশ্বকাপের ফাইনাল মঞ্চে এক বর্ণিল আবহ তৈরি হতে যাচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

যৌথ আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে এ মহোৎসবের সমাপনী দিনে ট্রাম্পের উপস্থিতি নিয়ে ফুটবল বিশ্বে এখন দারুণ আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প আগ্রহ প্রকাশ করেন, তবে ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে সোনালি ট্রফিটি তুলে দেওয়ার মূল দায়িত্বে তাকে দেখা যেতে পারে।

বিশ্বফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা এতে কোনো আপত্তি করবে না। ফিফার নিয়মানুযায়ী কেবল বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার এবং রাষ্ট্রপ্রধানদেরই সরাসরি বিশ্বকাপ ট্রফি স্পর্শ করার অধিকার রয়েছে। ফলে ট্রাম্প চাইলে এই বিশেষ সুযোগটি অনায়াসেই লুফে নিতে পারেন।

অনেকেই মনে করছেন যে রাষ্ট্রপ্রধানদের ট্রফি তুলে দেওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘদিনের প্রথার পরিপন্থী। তবে ফুটবল ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফাইনাল শেষে ট্রফি তুলে দেওয়ার মঞ্চে ফিফা সভাপতির পাশাপাশি আয়োজক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের উপস্থিতি অত্যন্ত নিয়মিত একটি ঘটনা।

বিগত ২০২২ বিশ্বকাপে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, ২০১৮ বিশ্বকাপে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ২০১৪ সালে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ—সবাই নিজ দেশের মাটিতে হওয়া ফাইনালে ট্রফি হস্তান্তরের মূল ভূমিকায় ছিলেন।

ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রফি তুলে দিলে তা কোনো শতবর্ষের পুরোনো রীতি ভাঙবে না, বরং বিশ্বকাপের দীর্ঘদিনের চেনা ঐতিহ্যকেই পুনরুজ্জীবিত করবে।

ফাইনালের রাজকীয় এই আসরে কেবল ডোনাল্ড ট্রাম্পই নন, ফিফার পক্ষ থেকে যৌথ আয়োজক বাকি দুই দেশ কানাডা ও মেক্সিকোর রাষ্ট্রপ্রধান, শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ফুটবল কর্তাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন ট্রাম্পই।

ফাইনাল মঞ্চে ট্রাম্পের উপস্থিতি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। কিন্তু ফিফা সূত্রের দাবি, তিনি আগ্রহী হলে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গ্যালারিতে বসে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল দলকে উৎসাহ দিতেও দেখা যেতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে।

বিশ্বকাপের শতবর্ষ ছুঁইছুঁই ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত ধরে ফাইনালের মঞ্চ নতুন এক মাত্রা পাবেÑএমনটাই প্রত্যাশা ফুটবলপ্রেমীদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুঠিয়া রাজবাড়ীর ঐতিহ্যে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত, সংরক্ষণে সহযোগিতার আশ্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:১১ এম


পুঠিয়া রাজবাড়ীর ঐতিহ্যে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত, সংরক্ষণে সহযোগিতার আশ্বাস

রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ী ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসেবে পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। রাষ্ট্রদূত প্রাচীন জমিদারি স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো ঘুরে দেখে তাঁর মুগ্ধতা প্রকাশ করেন এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তিনি পুঠিয়া রাজবাড়ীতে পৌঁছান। সেই সময়ে তিনি রাজবাড়ী প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাদুঘর, রানীরঘাট, গোবিন্দ মন্দির, আন্নিক মন্দির, শিবমন্দিরসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এসব স্থাপনার নির্মাণশৈলী, ইতিহাস এবং বর্তমান সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন।

পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, “পুঠিয়া রাজবাড়ী বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এটি আরও উন্নয়ন ও সংরক্ষণ প্রয়োজন। ভবিষ্যতে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।”

রাষ্ট্রদূতের সফরকে কেন্দ্র করে রাজবাড়ী এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এ সময় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বহু মানুষ তাকে একনজর দেখতে ভিড় করেন। পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূতের মুখে ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর প্রতি আগ্রহ ও উচ্ছ্বাসের ছাপ ছিল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান, পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম, হাইওয়ে থানার ওসি মোজাম্মেল হকসহ রাজবাড়ী রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

স্থানীয়দের মতে, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই সফর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুঠিয়া রাজবাড়ীর পরিচিতি আরও বাড়াবে। পাশাপাশি ঐতিহাসিক এই স্থাপনার সংরক্ষণ ও পর্যটন বিকাশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%