ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নওগাঁ মান্দা এলাকায় ভুয়া পুলিশ পরিচয় দানকারী ৩ ছিনতাইকারি গ্রেফতার, হ্যান্ডকাফ, স্বর্ণালংকার, মোবাইল উদ্ধার


নওগাঁ মান্দা এলাকায় ভুয়া পুলিশ পরিচয় দানকারী ৩ ছিনতাইকারি গ্রেফতার, হ্যান্ডকাফ, স্বর্ণালংকার, মোবাইল উদ্ধার

অদ্য ২৯/৮/২৬ খ্রিঃ ১১.০০ ঘটিকার দিকে মান্দা থানাধীন ১৪ নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পারইটুঙ্গি গ্রামের এক ব্যক্তি বিপুল কুমারের বাড়িতে ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রবেশ করে আসামিরা। আসামিরা হলেন ১। মোঃ মানিক হোসেন (৩৪), পিতা মফিজ উদ্দন, সাং চাপড়া, ২। মোঃ এনামুল হক, পিতা মৃত তোজাম্জেল হক, সাং দক্ষিণ দাউদপুর, উভয় থানা - বিরামপুর, ৩। মোঃ মাহবুব হাসান মুন্না (৩৯), পিতা মোঃ ইউসুফ খলিফা, সাং মুক্তারপুর, থানা- ফুলবাড়ি, সর্ব জেলা দিনাজপুর। তারা ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বিপুলের বাড়িতে প্রবেশ করে।

প্রতারকরা ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাদী বিপুলের পিতা শুকুমার চন্দ্র এবং চাচা সবুজ কুমারকে হাতকড়া পরিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে। তারা বাদীর স্ত্রী, মা ও শাশুড়ীকে ভয় দেখিয়ে বাড়ির প্রতিটি কক্ষ এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র তল্লাশি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাই করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় বাদী ও স্থানীয় লোকজন তাদের সন্দেহ করে পিছু নিয়ে ধাওয়া করে।

এক পর্যায়ে বাঘমারা থানাধীন সিমলা বাজার এলাকায় অদ্য ২৯/০৮/২০২৬ ইং ১১.৪০ ঘটিকার সময়ে বেশ কিছু জনগণ ছিনতাইকারী ভুয়া পুলিশ পরিচয়দানকারীদের আটক করতে সক্ষম হয়। স্থানীয় জনগণ ছিনতাইকারীদের উত্তম-মাধ্যম দেয়। এই সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ সুপার, নওগাঁ মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জকে ঘটনাস্থলে যেতে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে মান্দা থানা পুলিশ, বাঘমারা থানা পুলিশের সহায়তায় উক্ত আসামিদের আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর নিয়মিত মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন।

আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে বাজার ফান্ডের জমি বন্ধক রেখে ঋণ চালুর দাবিতে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ পি.এম


চট্টগ্রামে বাজার ফান্ডের জমি বন্ধক রেখে ঋণ চালুর দাবিতে বিক্ষোভ

 

পার্বত্য জেলা পরিষদের আওতাধীন বাজার ফান্ড এলাকার জমি বন্ধক রেখে স্থানীয় জনগণের জন্য পুনরায় ঋণ সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়া চালুর দাবিতে রাঙ্গামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ এবং তাদের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসমূহ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় শহরের হ্যাপি মোড় থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিল বনরূপা সেএনজি স্টেশন চত্বরে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মো: মুজিবর রহমান।

সমাবেশের সঞ্চালক ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো: হাবীব আজম। বক্তৃতা প্রদান করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মোঃ রেজাউল করিম মাস্টার, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ রাঙ্গামাটি জেলার সভাপতি মাওলানা আবু বক্কর সিদ্দিক, খাগড়াছড়ি জেলার আহবায়ক আব্দুল মজিদ, বান্দরবান জেলা সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূর হোসেন, মহিলা পরিষদের সভাপতি মোরশেদা আক্তার, পিসিসিপি রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর প্রমুখ।

বক্তারা সমাবেশে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা- রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বাজারফান্ড জমি নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাজারফান্ড জমি বন্ধক দিতে না পারায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা অর্থ সংকটে ভুগছেন। এর ফলে ব্যবসার পরিধি সংকুচিত হচ্ছে, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে না, এবং বেকারত্বের হার বাড়ছে। একই সময়ে এখানকার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা আরো বলেন, ২০১৭ সালে রাঙ্গামাটির তৎকালীন জেলা প্রশাসক প্রথমবার বাজারফান্ড এলাকার ভূমি রেজিস্ট্রির মিউটেশন মামলা স্থগিত করেন। নানা দেন-দরবারের পর তা চালু হলেও ২০১৯ সালে আবার বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ব্যবসায়ীরা ঋণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বক্তারা দাবি করেন, বাজারফান্ড জমি নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা যতদিন অবসান না হবে, ততদিন পাহাড়ের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হতে থাকবে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্বের ন্যায় বাজার ফান্ডের আওতাধীন জমি বন্ধকী কার্যক্রম চালুসহ সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন নেতৃবৃন্দ। যদি দ্রুত এই সমস্যা সমাধান না করা হয়, তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ ও তাদের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ তিন পার্বত্য জেলায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাসিরনগরে বৃক্ষরোপণ ও শিক্ষার্থীদের গাছের চারা বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৪ পি.এম


নাসিরনগরে বৃক্ষরোপণ ও শিক্ষার্থীদের গাছের চারা বিতরণ

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ৫ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। আজ শনিবার নাসিরনগর উপজেলা সমিতি ঢাকা'র আয়োজনে এবং রোটারি ক্লাব অব শান্তিনগর ঢাকার সহযোগিতায় এই কর্মসূচির প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ নাসিরনগর আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ হান্নান। তিনি অনুষ্ঠানে বলেন, "গাছ আমাদের অমূল্য সম্পদ। গাছ আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে, তাই আমাদের বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। যাতে করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যদি সুন্দর একটি পরিবেশ আমরা তৈরি করে দিতে পারি, তখনই দেশ ও জাতির প্রতি আমাদের যে দায়বদ্ধতা রয়েছে তা রক্ষা করতে পারবো।"

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাসিরনগর উপজেলা সমিতি ঢাকা'র সভাপতি প্রফেসর মোহাম্মদ হাফিজ উদ্দিন ভূইঁয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থানার ওসি তদন্ত কৃষ্ণলাল ঘোষ, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ইব্রাহিম ভূইঁয়া রেনু, চাতলপাড় ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ ওমর আলী, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আলী আজম চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী, এবং রোটারি ক্লাব অব শান্তিনগর ঢাকার ফাস্ট প্রেসিডেন্ট সাংবাদিক কামরুল হাসান বাবু।

নাসিরনগর উপজেলা সমিতি ঢাকা'র সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ শাফিন স্বাগত বক্তব্য রাখেন। সমিতির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মুসলেহ উদ্দিন চৌধুরী সোহাগের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি এডভোকেট শামসুল হক লিটন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি নজরুল ইসলাম, সামিরুল ইসলাম চৌধুরী, প্রধান শিক্ষক শহীদুল হক, অধ্যক্ষ মাওলানা ইলিয়াস মিয়া, প্রধান শিক্ষক সাদ্দাম হোসেন, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক সবুজ, এডভোকেট সাদেকুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ জামাল আহমেদ, সাবেক সদস্য সচিব এম নাসির রহমান, নাসিরনগর উপজেলা সমিতি ঢাকা'র সহসভাপতি খন্দকার কাওছার আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাফায়াত মোর্শেদ শুভ, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম পারভেজ, আশফাক আহমেদ রবিন, সহ ক্রীড়া সম্পাদক আব্বাস মিয়া, মহিলা সম্পাদক ও ব্যাংক কর্মকর্তা মেরিন নাজনীন, ঢাকাস্থ যুব এসোসিয়শেনের সভাপতি আবুল হাসান চৌধুরী, সাংবাদিক আশরাফ উদ্দিন, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি ইমরান মিয়া, ঢাকাস্থ ছাত্র কল্যান সমিতির সদস্য সচিব আদনান সাফি ও কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব খাইরুল বাশার রনি।

এ সময় নাসিরনগর উপজেলা সমিতি ঢাকা'র নেতৃবৃন্দসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয় এবং উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি বৃক্ষরোপণ করেন।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খায়রুল আলম সুমন তদন্তের আওতায়, তেল সিন্ডিকেটের অভিযোগে আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা, আলাউদ্দিন আলো কি তদন্তের বাইরে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ পি.এম


খায়রুল আলম সুমন তদন্তের আওতায়, তেল সিন্ডিকেটের অভিযোগে আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা, আলাউদ্দিন আলো কি তদন্তের বাইরে?

বরিশালের বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে নেমেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তদন্তের জন্য গঠিত কমিটি নির্বাচন-সংক্রান্ত অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয়, দুর্গম কেন্দ্রের অতিরিক্ত বরাদ্দ, দুর্গাসাগর দীঘির সংস্কার ও ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও বাণিজ্য মেলার অনুমোদন, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়সহ মোট ১৯ দফা তথ্য ও নথি তলব করেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, সাবেক জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কাছে দাখিল করা অভিযোগ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্যই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তবে সরকারি নথিতে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কথা বলা হয়নি। তদন্ত কমিটি মূলত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ঘটেছিল কি না, তা অনুসন্ধানে তথ্য ও নথি সংগ্রহ করছে।

নির্বাচনী বরাদ্দ ও দুর্গম কেন্দ্রের অর্থ ব্যয়ের হিসাব তলব

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য চেয়ে পাঠানো ১৯ দফার প্রথমেই রয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে বরিশাল জেলায় নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন খাতে দেওয়া বরাদ্দের তথ্য।

একই সঙ্গে নির্বাচন কাজে নিয়োজিত সব এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে দেওয়া অর্থের বিতরণ বিবরণী এবং নির্বাচন কমিশনের বরাদ্দ থেকে সম্মানি ছাড়া অন্যান্য খাতে ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত ভোটকেন্দ্র, ভোটকক্ষ ও দুর্গম কেন্দ্রের তালিকা এবং হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের পাঠানো দুর্গম কেন্দ্রসংক্রান্ত মূল প্রস্তাবও তলব করেছে তদন্ত কমিটি।

দুর্গম কেন্দ্রের প্রস্তাব সংশোধন করে পাঠানো হয়ে থাকলে তার কারণ, অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণাদিও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন থেকে দুর্গম কেন্দ্র বাবদ পাওয়া অতিরিক্ত ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের কপি এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনওদের দেওয়া অতিরিক্ত বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ের বিস্তারিত বিবরণও চাওয়া হয়েছে।

তদন্তে দুর্গাসাগর দীঘির সংস্কার ও ব্যবস্থাপনাও

তদন্তের আওতায় এসেছে বরিশালের ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দীঘির সংস্কার, আধুনিকায়ন ও ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত বিষয়ও।

এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া কোনো প্রস্তাব, সুপারিশ কিংবা নির্দেশনা থাকলে তার কপি চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া দুর্গাসাগর দীঘি পরিচালনায় বর্তমানে কর্মরত ২২ জন কর্মচারীর নিয়োগপ্রক্রিয়া, বেতন কাঠামো এবং আউটসোর্সিং-সংক্রান্ত চুক্তিপত্রও তদন্ত কমিটি তলব করেছে। একই সঙ্গে দুর্গাসাগর দীঘি ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো নীতিমালা থাকলে সেটিও চাওয়া হয়েছে।

শিল্প ও বাণিজ্য মেলার অনুমোদনও তদন্তে

বরিশাল কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘বরিশাল শিল্প ও বাণিজ্য মেলা’র অনুমোদনসংক্রান্ত আবেদনপত্র ও অনুমোদনপত্রও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

মেলা বন্ধে হাইকোর্ট বিভাগের কোনো আদেশ বা নিষেধাজ্ঞার কপি, মেলা আয়োজনের অনুমোদন বাতিলসংক্রান্ত আদেশ এবং মেলা বন্ধের লক্ষ্যে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের আয়োজিত সংশ্লিষ্ট সভার কার্যবিবরণীও চাওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিয়োগে বিলম্বের কারণ অনুসন্ধান

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের পরিদর্শন প্রতিবেদনও চেয়েছে তদন্ত কমিটি।

এছাড়া ফ্রন্ট ডেস্ক স্থানান্তরের নির্দেশনা এবং তা বাস্তবায়নে গৃহীত কার্যক্রমের সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও তলব করা হয়েছে।

তদন্তের আওতায় এসেছে জেলা প্রশাসনের অধীন শূন্যপদ ও নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ও। জেলা প্রশাসন, বরিশালের আওতাধীন শূন্যপদের তালিকা ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কপি চাওয়ার পাশাপাশি ৮৩টি পদে নিয়োগে বিলম্বের কারণও জানতে চেয়েছে তদন্ত কমিটি।

জ্বালানি সংকটের সময় তেল বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে সৃষ্ট যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ার সময় বরিশালে বিপুল পরিমাণ অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের দায়িত্ব পালনের সময় আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন আলোর লাইসেন্সের অনুকূলে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সে সময় বিষয়টি নিয়ে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল তালাশ বিডি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে আলাউদ্দিন আলোকে বরিশালের একজন আলোচিত-সমালোচিত তেল ব্যবসায়ী, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এবং ট্যাংক লরি মালিক সমিতির কথিত সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত এবং তার পূর্বসূরি সাদিক আবদুল্লাহ—উভয় মেয়রের সময়ই নিজের প্রভাব বজায় রেখেছিলেন।

তার বিরুদ্ধে সাবেক মেয়রের প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন তেল কেলেঙ্কারি, অবৈধ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং জেলা প্রশাসকের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

তেল সিন্ডিকেটের অভিযোগে গভীর তদন্তের দাবি

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রেস সোসাইটির বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি রনি সিকদার অভিযোগ করে বলেন, দেশের জ্বালানি সংকটের সময় তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন ও আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন আলোর বিরুদ্ধে তেল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অনৈতিক বাণিজ্য এবং রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

তিনি এ বিষয়ে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের দাবি জানান।

রনি সিকদার বলেন, অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে খায়রুল আলম সুমন, আলাউদ্দিন আলোসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে দেশের কোনো সংকটময় পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ব্যক্তি বা সিন্ডিকেট সরকারি ব্যবস্থাপনাকে ব্যবহার করে জনগণের সম্পদ নিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে, সে জন্য দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

আলাউদ্দিন আলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ কি তদন্তের বাইরে?

তবে তেল বরাদ্দসংক্রান্ত অভিযোগটি বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তদন্তের ১৯ দফা বিষয়বস্তুর মধ্যে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

এ কারণেই প্রশ্ন উঠেছে—সাবেক জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের দায়িত্ব পালনকালীন প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে যখন একের পর এক অভিযোগ তদন্তের আওতায় এসেছে, তখন জ্বালানি সংকটের সময় আলোচিত তেল বরাদ্দ এবং কথিত তেল সিন্ডিকেটের অভিযোগে আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন আলোর ভূমিকা কি তদন্তের বাইরে থেকে যাবে?

একসঙ্গে ১৯ দফা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি তলব এবং পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির দুই সদস্যের বরিশালে এসে বর্তমান জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার ঘটনায় প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে নির্বাচন-সংক্রান্ত অর্থ ব্যয়, দুর্গম কেন্দ্রের অতিরিক্ত বরাদ্দ, দুর্গাসাগর দীঘির সংস্কার ও ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও বাণিজ্য মেলার অনুমোদন, ফ্রন্ট ডেস্ক স্থানান্তর, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং ৮৩টি পদে নিয়োগে বিলম্ব—এমন একাধিক পৃথক বিষয় একই তদন্তের আওতায় আসায় তদন্তের ব্যাপ্তি নিয়েও আলোচনা চলছে।

এখন তদন্ত কমিটির তলব করা নথি, বরিশালে সরেজমিনে নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকদের বক্তব্য, লিখিত, ভিডিও ও মৌখিক বয়ান এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর সাবেক জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বাস্তবতা কতটুকু এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো প্রশাসনিক অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ঘটেছিল কি না—তা তদন্ত প্রতিবেদনে কীভাবে উঠে আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটের সময় বরিশালে আলোচিত তেল বরাদ্দ এবং কথিত তেল সিন্ডিকেটের অভিযোগ তদন্তের আওতায় আসে কি না, সে প্রশ্নও এখন সামনে এসেছে।

এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি.

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার আশ্বাস জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎মোঃ সোহেল রানা, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:০১ পি.এম


ব্যবসায়ীদের পাশে থাকার আশ্বাস জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দীপনের

‎

পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু রাঙামাটির তবলছড়ি বাজারের প্রতিটি দোকান পরিদর্শন করে ব্যবসায়ীদের সমস্যা ও প্রত্যাশার বিষয়ে সরাসরি কথা বলেছেন। তিনি বাজারের সার্বিক পরিবেশ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন।

‎

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে তবলছড়ি বাজার পরিদর্শনকালে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা বাজারের বিভিন্ন সমস্যা, সুযোগ-সুবিধা এবং নিজেদের প্রত্যাশার বিষয়গুলো তার কাছে তুলে ধরেন। চেয়ারম্যান তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।

‎

তবলছড়ি বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির নেতৃত্বে বাজার পরিদর্শনকালে দীপন তালুকদার দীপু বলেন, "স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।" তিনি বাজারের উন্নয়নে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও কামনা করেন।

‎

এ সময় রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বাসেত অপু, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাদাৎ মোহাম্মদ সায়েম, জেলা পরিষদ সদস্য নন্দিতা দাশ, তবলছড়ি বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল করিম, সহসভাপতি হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক মো. হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক আলমগীর, কোষাধ্যক্ষ বরুন চন্দ্র রায়, ৪ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভানেত্রী জরিনা বেগমসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%