ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাকার জেলা প্রশাসকের ছাদে পাখিদের জন্য ‘আকাশ নীড়’ গড়ে উঠেছে


ঢাকার জেলা প্রশাসকের ছাদে পাখিদের জন্য ‘আকাশ নীড়’ গড়ে উঠেছে

ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদে গড়ে তোলা হয়েছে ‘আকাশ নীড়’, যা ইট-পাথরের ব্যস্ত নগরে পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও সবুজের পরশ নিয়ে এসেছে। ছাদটি সাজানো হয়েছে সবুজ গাছপালা, ফুল-ফল, জলাধার, পাখির খাবার ও কৃত্রিম আশ্রয়ের মাধ্যমে।

‘পাখির রাজ্যে স্বাগতম’ স্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকা জেলা প্রশাসন এই ছাদ বাগানটি তৈরি করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নগরে কমে আসা পাখি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা, পাশাপাশি সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ‘আকাশ নীড়’ নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম। এ সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: কোনো অবস্থাতেই আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান হবে না: বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম মন্তব্য করেন, "ইট-পাথরের ব্যস্ত নগরে সবুজের জন্য একটু জায়গা, নির্মল বাতাসের জন্য অবকাশ এবং পাখির কিচিরমিচির শোনার মতো পরিবেশ দিন দিন দুর্লভ হয়ে উঠছে। তবে উদ্যোগ, ভালোবাসা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে কংক্রিটের শহরেও সবুজ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।"

তিনি আরও বলেন, ‘আকাশ নীড়’ শুধুমাত্র একটি ছাদ বাগান নয়; এটি নগরজীবনে সবুজ, জীববৈচিত্র্য ও পাখির নিরাপদ আবাস ফিরিয়ে আনার একটি প্রয়াস। এখানে পাখির খাবার, পানি ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে তারা নিরাপদে থাকতে ও বিচরণ করতে পারে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ‘আকাশ নীড়ে’ মোট ৪১৮টি গাছ রয়েছে, যার মধ্যে ৫৮ প্রজাতি অন্তর্ভুক্ত। পাখির খাদ্যের উৎস ও পরাগায়নের জন্য ৩০ প্রজাতির ২২৯টি ফুলের গাছ রয়েছে। এছাড়া ১৪ প্রজাতির ৪১টি ফলের গাছ এবং ১১ প্রজাতির ৪৪টি অর্নামেন্টাল গাছ রয়েছে।

পাখিদের জন্য পদ্ম ও শাপলায় সাজানো জলাধার এবং বার্ডস বাথ রাখা হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বাঁশের কৃত্রিম ঝোপঝাড় ও পাখির ঘর তৈরি করা হয়েছে। বড় ক্যানোপিযুক্ত গাছও রাখা হয়েছে, যা তাদের স্বাভাবিক বিচরণের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা সামনে রেখে পাইকগাছায় পুলিশের অভিযান, ৯ জন আটক

শুধু পাখি নয়, স্থানীয় খরগোশ, বানর ও কাঠবিড়ালীর জন্যও নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ফরিদা খানম বলেন, "ঢাকার প্রতিটি ভবনের ছাদ যদি একটু একটু করে সবুজ হয়ে ওঠে এবং মানুষ নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী গাছ লাগান, তাহলে শহরটি আরো বাসযোগ্য ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। প্রকৃতি রক্ষা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি প্রত্যেক নাগরিকেরও দায়িত্ব।"

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, "নগরায়ণের কারণে সবুজ এলাকা ও জীববৈচিত্র্যের পরিসর ক্রমেই কমছে। এ অবস্থায় ছাদ বাগান শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয় নয়, নগরের পরিবেশ রক্ষায়ও এটি কার্যকর উদ্যোগ।"

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ভবনের ছাদে সবুজায়ন করে এবং পাখির জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে, তাহলে সম্মিলিতভাবে নগরের পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

আরও পড়ুন: গুজব ও বিশৃঙ্খলা রোধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালকের

বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন, ‘আকাশ নীড়’ মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্ক আরো কাছাকাছি আনার পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতন করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

‘আকাশ নীড়’ শুধুমাত্র পাখিদের জন্য নয়, নগরবাসীর জন্যও একটি স্বস্তির জায়গা হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। ব্যস্ত নগরজীবন থেকে কিছুটা দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্য এখানে বিশ্রামস্থল তৈরি করা হয়েছে। রয়েছে ছাতা ও কাঠের চেয়ার। ফুলের সুবাস, সবুজ গাছপালা ও পাখির ডাক মিলিয়ে ছাদটি হয়ে উঠেছে ব্যস্ত শহরে একটু প্রশান্তির জায়গা।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ‘আকাশ নীড়’কে শুধু একটি ছাদ বাগান হিসেবে নয়, একটি ধারণা হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়াই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। ঢাকার আরো ভবনের ছাদে এমন সবুজায়ন ও পাখিবান্ধব পরিবেশ তৈরি হলে কংক্রিটের নগরেও বাড়তে পারে সবুজের পরিসর এবং জীববৈচিত্র্যের সুযোগ।

 

আরও পড়ুন: হঠাৎ ঢাকায় আসছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেদারল্যান্ডসের তারকা না থাকার পরও খুশি আর্সেনাল কোচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২৯ পি.এম


নেদারল্যান্ডসের তারকা না থাকার পরও খুশি আর্সেনাল কোচ

আর্সেনাল, কারাবাও কাপের প্রতিযোগিতায় প্রিমিয়ার লিগের প্রতিদ্বন্দ্বী ইপ্সউইচের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হয়েছিল। আর্তেতার দল ৪-২ গোলের জয় নিয়ে পরবর্তী রাউন্ডে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। তবে, ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের তারকা ডিফেন্ডার জুরিয়েন টিম্বার উপস্থিত ছিলেন না। এ নিয়ে শুরু হয়েছে বিভিন্ন আলোচনা।

কুঁচকির সমস্যার কারণে কয়েক মাস ধরে মাঠের বাইরে ছিলেন এই তারকা ডিফেন্ডার। যদিও সম্প্রতি তিনি সুস্থ হয়ে ফিরেছেন, কিন্তু দলে তাকে রাখা হয়নি। এ বিষয়ে কোচ মিকেল আর্তেতা জানিয়েছেন, এটি নতুন কোনো সমস্যার কারণে নয়, বরং তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। খবর মিরর।

আর্সেনালের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে আর্তেতা আরও মন্তব্য করেছেন: ‘ইপ্সউইচের বিপক্ষে আমরা যে কিছু করেছি, তার অনেক কিছু নিয়ে আমি সত্যিই খুব সন্তুষ্ট—আমরা ম্যাচটিতে যেভাবে আক্রমণাত্মক খেলেছি, শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে কতটা আধিপত্য, সাবলীল ও আক্রমণাত্মক ছিলাম, যাতে ম্যাচের ফলাফল আমাদের পক্ষে আসে।

আমরা খেলার শুরুতেই দুটি গোল করে একটি দারুণ ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলাম এবং ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজন দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। ম্যাচে কয়েকজনের অভিষেকও হয়েছে, যা দেখতে খুব ভালো লেগেছে। তাই, এই ম্যাচটি থেকে আমরা অনেক ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছি বলে তিনি যোগ করেন।

টিম্বার না থাকা সত্ত্বেও, আর্তেতা দলে একজনকে ডেকেছিলেন, তিনি হলেন বিশ্বকাপজয়ী মিকেল মেরিনো, যাকে এই মৌসুমে প্রথমবারের মতো প্রথম একাদশে সুযোগ দেওয়া হয়। আর্সেনালের প্রধান কোচ তার পারফরম্যান্সে দারুণভাবে মুগ্ধ হয়েছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভুটানের গ্যালেফু প্রকল্পে জনশক্তি রপ্তানিতে আগ্রহী বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩০ পি.এম


ভুটানের গ্যালেফু প্রকল্পে জনশক্তি রপ্তানিতে আগ্রহী বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ভুটানের গ্যালেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি (জিএমসি) প্রকল্পে জনশক্তি রপ্তানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, বিশেষ করে পেশাজীবী এবং দক্ষ ও আধাদক্ষ জনশক্তি সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশ এ প্রকল্পে সহযোগিতা করতে চায়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কার্মা হামু দর্জির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন।

সাক্ষাৎকালে, ভুটানের রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়।

 

বৈঠকে হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ভুটানের গ্যালেফু মাইন্ডফুলনেস সিটির উন্নয়নে অবদান রাখতে আগ্রহী। বিশেষ করে পেশাজীবী এবং দক্ষ ও আধাদক্ষ জনশক্তি সরবরাহের মাধ্যমে এ প্রকল্পে সহযোগিতা করা যেতে পারে।

এ সময় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আঞ্চলিক সহযোগিতার উদ্যোগের কথা স্মরণ করে সার্ক পুনরুজ্জীবনে ভুটানের সহযোগিতা কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সার্ক পুনরুজ্জীবিত হলে এ অঞ্চলের দেশ ও জনগণ সম্মিলিতভাবে উপকৃত হবে।

 

সাক্ষাৎকালে ভুটানের রাষ্ট্রদূত গত ২৬ আগস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভুটানের রাজাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বাংলাদেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ওই সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে ভুটানের রাজাকে অভ্যর্থনা জানান।

এ ছাড়া বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ভুটানের রাষ্ট্রদূত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত ৬০ শ্রমিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩০ পি.এম


দক্ষিণ সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত ৬০ শ্রমিক

দক্ষিণ সুদানের একটি সোনার খনি ধসে অন্তত ৬০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া দুই শ্রমিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। মঙ্গলবার পশ্চিম কর্দোফান অঞ্চলের এল-নাহুদ শহরের কাছে আল-জারা সোনার খনিতে একের পর এক খনির সুড়ঙ্গ ধসে পড়তে শুরু করে। পরদিন সকাল পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে খনির ভেতরে আরও কতজন আটকা পড়ে আছেন, তা এখনো জানা যায়নি। নিখোঁজ শ্রমিকদের অনেকেই মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বেঁচে যাওয়া শ্রমিক খায়ের আল-সাইয়েদ জাবারা এএফপিকে জানান, তারা রাতভর সহকর্মী শ্রমিকদের সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালিয়েছেন। খনি থেকে সোনা উত্তোলনে যে সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়, সেগুলো দিয়েই তারা উদ্ধারকাজ চালান।

উদ্ধারকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ বা জীবিত কাউকে উদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তবে পাথর ও মাটি সরানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ জন্য ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এই সংঘাতে দুই পক্ষের যুদ্ধ পরিচালনার অর্থের একটি বড় অংশ সোনা শিল্প থেকে আসে। পাশাপাশি তারা বিদেশি সহায়তাও পেয়ে থাকে।

দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত সুদানের আগে থেকেই দুর্বল অর্থনীতিকে আরো বিপর্যস্ত করেছে। দেশটির বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় অনেকেই জীবিকার সন্ধানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে সোনা উত্তোলনের কাজে জড়িয়ে পড়েছেন। সুদান থেকে পাচার বা রপ্তানি হওয়া সোনার প্রায় পুরোটাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মাধ্যমে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আরএসএফকে ব্যাপকভাবে অস্ত্র সরবরাহ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউএই।

আল-জারার মতো পরিত্যক্ত খনি বা অনানুষ্ঠানিক এলাকায় স্থানীয় ও ক্ষুদ্র পরিসরে সোনা উত্তোলনের কাজ হয়। দেশটিতে উত্তোলন করা সোনার বেশিরভাগই এই ধরনের ক্ষুদ্র ও কারিগরি খনি থেকে আসে।

আল-জারা খনির বাইরে মঙ্গলবার কাজ করছিলেন আরেক শ্রমিক আল-আমিন সুলাইমান। তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এখানকার সবগুলো খনির সুড়ঙ্গ একে অপরের খুব কাছাকাছি। একটি সুড়ঙ্গ ধসে পড়লে পাশের সুড়ঙ্গগুলোও ধসে পড়ে।’

তিনি বলেন, ‘এখানেও সেটিই ঘটেছে। এখন পর্যন্ত ৬০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গতকাল থেকে আরো অনেকে মাটির নিচে আটকা পড়ে আছেন। তারা বেঁচে আছেন বলে আমার মনে হয় না।’

পশ্চিম কর্দোফান বর্তমানে আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সেখানে বড় পরিসরে উদ্ধার অভিযান চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর পাশের দারফুর অঞ্চলও আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই বাহিনীর বিরুদ্ধে সেখানে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। আরএসএফ একটি সমান্তরাল সরকার গঠনের ঘোষণা দিলেও তাদের প্রশাসনিক সক্ষমতা এখনও সীমিত। ফলে পশ্চিম সুদানের মানুষ বেঁচে থাকার জন্য মূলত মানবিক সহায়তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল।

যুদ্ধের কারণে সুদানের প্রায় ২ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়ার আগেও দেশটির ক্ষুদ্র পরিসরের সোনা খনি শিল্পে ২০ লাখের বেশি মানুষ কাজ করতেন বলে শিল্পসংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম দেশ সুদান মহাদেশের অন্যতম প্রধান সোনা উৎপাদনকারী দেশ। দেশটি জানিয়েছে, গত বছর সুদানে ৭০ টন সোনা উৎপাদিত হয়েছে, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উৎপাদন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিগারেট কারখানায় কর্মকর্তার প্রবেশ, ৭২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৩১ পি.এম


সিগারেট কারখানায় কর্মকর্তার প্রবেশ, ৭২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন

ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সিগারেট উৎপাদনে ব্যান্ডরোলের অপব্যবহার এবং ভ্যাট চালান ছাড়া পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সরকারের প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করেছে।

গাজীপুরের কাউলতিয়ায় অবস্থিত ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেডের কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে এই ফাঁকির তথ্য পাওয়া যায়। অভিযানের সময় প্রায় ৫০ লাখ শলাকা জাল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে ফেলার ঘটনাও ধরা পড়ে।

গত ২ সেপ্টেম্বর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর, ঢাকার একটি প্রতিরোধী দল কারখানাটিতে অভিযান চালায়। একই সময়ে কারখানা ও কাছের একটি গুদামে দুটি দল অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকারী দল গিয়ে দেখতে পায়, বাইরে থেকে গেট বন্ধ রেখে ভেতরে সিগারেট উৎপাদন চলছে। বারবার গেট খুলতে বলা হলেও কেউ সাড়া দেয়নি। পরে কর্মকর্তারা দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল ও জাল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছিল। প্রতিষ্ঠানটি এগুলো ধ্বংসের অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পরে প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক লিখিতভাবে প্রায় ৫০ লাখ শলাকা জাল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে ফেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পোড়া ব্যান্ডরোলের অবশিষ্টাংশ জব্দ করা হয়।

তল্লাশির সময় কারখানা ও সংলগ্ন গুদাম থেকে ব্যবহৃত স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল, সিগারেট তৈরির কাঁচামাল এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। কিছু বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেটের নমুনা ও খালি প্যাকেটও পাওয়া যায়।

জব্দ করা মোবাইল ফোনের বার্তা, বিক্রির তথ্য ও হিসাবের ছবি বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দারা দেখতে পান, উৎপাদিত সিগারেটের একটি বড় অংশ ভ্যাট চালান বা মূসক-৬.৩ ছাড়াই বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছিল। এসব তথ্য মূল হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

প্রাথমিক হিসাবে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ১৪ সেপ্টেম্বর মামলা করা হয়েছে। মামলার নম্বর ১৭/২০২৬। জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহার ও রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%