ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইয়েমেনে তীব্র যুদ্ধ, মানবিক সংকট গভীর হচ্ছে


ইয়েমেনে তীব্র যুদ্ধ, মানবিক সংকট গভীর হচ্ছে

লাহিজ গভর্নরেটের আল-মাকাতিনাহ রণাঙ্গনে তীব্র সংঘর্ষের ফলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অনুগত আটজন সেনা সদস্য নিহত হয়েছে বলে শনিবার সরকার সমর্থিত ‘তুর আল-বাহাহ’ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

তাজ গভর্নরেটে ইয়েমেনী সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা তাইজের উপকণ্ঠে কয়েক দিনের প্রচণ্ড লড়াইয়ের পর আল-আকরুদে ১২ জন হুতি যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। সেখানে সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনী হুতিদের অগ্রগতি রুখে দিয়েছে এবং তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে বলে দাবি করেছে।

তাইজের অন্যত্র সরকারি বাহিনী জানায়, তারা আল-শাকাব রণাঙ্গনে হুতিদের একটি আক্রমণ ব্যর্থ করে দিয়েছে। অপরদিকে সরকার সমর্থিত ‘হোমল্যান্ড শিল্ড ফোর্সেস’ আল-ওয়াজিয়াহ এলাকায় একটি ড্রোনের সাহায্যে হুতিদের একটি রসদবাহী যান ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া ‘সাউদার্ন জায়ান্টস ব্রিগেডস’ লাহিজ সীমান্তের কাছে আল-মাদারিবাহ এলাকায় হুতিদের আস্তানায় লক্ষ্যভিত্তিক নিখুঁত হামলা চালানোর দাবি করেছে।

আরও পড়ুন: মুসলিমরা এখন নেতা বানাবে না, নিজেরাই নেতৃত্ব দেবে: ওয়াইসি

এদিকে, আল-জাওফ ও মারিবে সরকারি সেনা ও মিত্র 'পপুলার রেজিস্ট্যান্স' যোদ্ধারা তাদের আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। সামরিক কর্মকর্তারা জানান, আল-জাওফে হুতিদের সামরিক ঘাঁটি, ব্যারাক ও সেনা সমাবেশের ওপর কামান থেকে গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, সামরিক জোটের বিমানগুলো হুতিদের কমান্ড সেন্টার ও রসদ ডিপোতে বোমাবর্ষণ করেছে।

মারিবেও হুতিদের প্রতিরোধ লাইনে সরকারি বাহিনীর কামান ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলো ধারাবাহিকভাবে গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। গত মাসে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা (যাঁরা আনসারুল্লাহ নামেও পরিচিত) লোহিত সাগর উপকূলে সরকারের অনুগত বাহিনীর কাছ থেকে কৌশলগত এলাকা দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনের এই গৃহযুদ্ধ নতুন করে ভয়াবহ রূপ নেয়।

সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনী ক্ষয়ক্ষতির জবাবে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে এবং পরবর্তীতে ‘ডন অব ইয়েমেন’ (ইয়েমেনের ভোর) অভিযান শুরু করে। এর মূল লক্ষ্য হলো ২০১৪ সালে হুতিদের দখলে চলে যাওয়া রাজধানী সানাসহ সমস্ত এলাকা পুনরুদ্ধার করা।

হেলিকপ্টার ধ্বংসের দাবি ও পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা নীতি ফাঁকা বুলি, দাবি বিরোধীদলীয় নেতা গাডি আইজেনকট

আকাশপথের যুদ্ধের বিষয়ে হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী হাজ্জাহ গভর্নরেটের আকাশে একটি সৌদি গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করেছে। বিমানটিকে তুর্কি নির্মিত ‘লেনটাটেক কারায়েল’ ড্রোন হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর থেকে এটি এ ধরনের চতুর্থ ড্রোন যা তারা ধ্বংস করল।

হুতিরা আরও দাবি করে যে, তারা সৌদি আরবের সীমান্তপ্রদেশ নাজরানে একটি সৌদি ‘অ্যাপাচি’ হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নাজরানে একটি এএইচ-৬আই স্কাউট হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে এবং এতে দুই জন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া হুতি নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমগুলো সাদা গভর্নরেটের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ১০টি সৌদি বিমান হামলার খবর দিয়েছে।

অন্যদিকে আল-মুকাল্লা উপকূলের কাছে ‘ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স’ (ইউকেএমটিও) সংস্থা জানিয়েছে, একটি স্পিডবোটে করে আসা অন্তত সাতজন সশস্ত্র ব্যক্তি একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এল এন জি)বাহী ট্যাংকারে হামলা চালায়। তারা ট্যাংকারটিকে লক্ষ্য করে দুটি গুলি ছুড়লে জাহাজের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা জবাবে সতর্কতামূলক দুটি ফাঁকা গুলি চালায়, যার ফলে হামলাকারীরা গতিপথ পরিবর্তন করে চলে যেতে বাধ্য হয়।

আরও পড়ুন: শিক্ষা, ব্যয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ: যুবসমাজ ইউরোপজুড়ে ফুঁসে উঠেছে

ঘনীভূত মানবিক বিপর্যয়

যুদ্ধক্ষেত্রের সংঘাতের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো বেসামরিক নাগরিকদের জীবন নিয়ে ঘোর সতর্কবার্তা জারি করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্যমতে, ইয়েমেনে যুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ার পর থেকে ২,৩৩,০০০-এরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যার মধ্যে কেবল তাইজ গভর্নরেটেই প্রায় ১,২১,০০০ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়েছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) সতর্ক করে বলেছে, তাইজ শহরটি বর্তমানে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখানকার ১২টি হাসপাতালে মাত্র চার দিনের জ্বালানি অবশিষ্ট রয়েছে এবং সার্জিক্যাল সামগ্রী পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। ক্রমবর্ধমান কলেরা প্রাদুর্ভাবের মধ্যে অক্সিজেন ও জরুরি ওষুধের সংকট সেখানে চরম আকার ধারণ করেছে।

এই বাস্তুচ্যুতির সংকট এখন পূর্ব আফ্রিকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) নিশ্চিত করেছে যে ৪,০০০-এরও বেশি ইয়েমেনি শরণার্থী ইতোমধ্যেই ওই অঞ্চলে পৌঁছেছেন—যার মধ্যে জিবুতিতে ৩,৮০০ জন এবং সোমালিয়ায় প্রায় ২০০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। জিবুতির মার্কাজি শরণার্থী শিবিরে চিকিৎসকরা কলেরা প্রাদুর্ভাবের চিকিৎসা দিচ্ছেন বলেও জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর, যেখানে এখন পর্যন্ত ৩১ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফের অশান্ত ভারতের মণিপুর, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে নিহতদের লাশ রেখে বিক্ষোভ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুমিন হিসেবে পরিচয় দিতে হলে নিজের ভুল-ত্রুটি উপলব্ধি করতে শিখতে হবে: এটিএম মা’ছুম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ পি.এম


মুমিন হিসেবে পরিচয় দিতে হলে নিজের ভুল-ত্রুটি উপলব্ধি করতে শিখতে হবে: এটিএম মা’ছুম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম মন্তব্য করেছেন যে, একজন মুমিন হিসেবে পরিচয় দিতে হলে নিজের ভুল-ত্রুটি উপলব্ধি করা শিখতে হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার জন্য প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত হতে হবে। এই লক্ষ্যে নিয়মিত আত্মসমালোচনা, কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

কুষ্টিয়া শহরের মোল্লা তেঘরিয়ায় আব্দুল ওয়াহিদ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে জেলার উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের আমির ও সেক্রেটারিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাওলানা এটিএম মা’ছুম আরও বলেন, প্রত্যেক মুমিনের দায়িত্ব হলো কথা ও কাজে সততা, ন্যায়নিষ্ঠা এবং আমানতদারির পরিচয় দেওয়া। ব্যক্তিগত জীবনে আত্মশুদ্ধির পাশাপাশি সমাজের মানুষের অধিকার রক্ষা এবং নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই সে সফলকাম হয়েছে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে।’ প্রকৃত আত্মশুদ্ধি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যক্তিজীবন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও আল্লাহভীতি প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হতে হবে। এর মাধ্যমে প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. এনামুল হকের সঞ্চালনায় শিক্ষা শিবিরে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসাইন এবং যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের টিম সদস্য আব্দুল মতিন উপস্থিত ছিলেন।

দুই দিনব্যাপী এই শিক্ষা শিবিরে সাংগঠনিক কার্যক্রম, দাওয়াতি কাজ, নেতৃত্বের গুণাবলি, নৈতিক ও আদর্শিক উন্নয়ন এবং সংগঠন পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি দায়িত্বশীলদের সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা এবং আদর্শিক উন্নয়নে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

শিক্ষা শিবিরে ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক জীবনে সততা, দায়িত্বশীলতা, আত্মসমালোচনা এবং নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ায় ১ হাজারেরও বেশি ড্রোন হামলা চালালো ইউক্রেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ পি.এম


রাশিয়ায় ১ হাজারেরও বেশি ড্রোন হামলা চালালো ইউক্রেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইউক্রেন চলতি বছরে অন্যতম বৃহৎ ড্রোন হামলা পরিচালনা করেছে, যা রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। শনিবার গভীর রাতে ইউক্রেনীয় বাহিনী এই হামলা সম্পন্ন করে, যা রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সেন্ট পিটার্সবার্গ তেল টার্মিনালে আঘাত হানে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তারা ১,০১৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে। তবে হামলার ফলে সেন্ট পিটার্সবার্গের ওই প্রধান তেল টার্মিনালে আগুন লেগে যায়। এছাড়াও, একটি লজিস্টিক সেন্টার এবং একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ডেটা সেন্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, এই ড্রোন হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন।

এই ঘটনার ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প সম্প্রতি ইউক্রেনের রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলাকে অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন এবং দাবি করেছেন যে দুই দেশ জ্বালানি খাতে হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে কিয়েভ কিংবা মস্কো—কোনো পক্ষই এমন চুক্তির কথা স্বীকার করেনি।

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তথাকথিত ওই আলোচনার পরও রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি ও গ্যাস খাতে অন্তত ৭৬ বার হামলা চালিয়েছে। ফলে ইউক্রেনও পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, রাশিয়াকে সমর্থন দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক ভুল’ হবে। ট্রাম্প সম্প্রতি রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় জেলেনস্কি বলেন, এটি রাশিয়ার যুদ্ধ ও আগ্রাসনকে আরও উৎসাহিত করবে। মার্কিন চাপ ও গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা বাঁধা সত্ত্বেও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় ড্রোন হামলা চালিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ইউক্রেন।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

করের আওতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ পি.এম


করের আওতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ মন্তব্য করেছেন, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে করদাতাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বর্তমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে নতুন করদাতাদের করের আওতায় আনতে হবে, যা অর্থনীতিতে অধিক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে এবং দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য রাজস্ব আহরণকে সহজ করবে। তিনি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে টেকসই করতে পেশাজীবীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমটিএম (মাস্টার অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ‘৩য় অভিষেক অনুষ্ঠান ও এমটিএম নাইট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। এটি কেবল অর্থনীতির আকার বৃদ্ধির লক্ষ্য নয়, বরং উৎপাদনমুখী, বিনিয়োগবান্ধব, কর্মসংস্থানসমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রতিটি পেশাজীবীর নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রের ছোট ছোট অবদান সম্মিলিতভাবে জাতীয় সাফল্যে রূপ নেয়। তিনি বলেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি কেবল উৎপাদন ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করে না। কার্যকর রাজস্ব আহরণ, সুশৃঙ্খল আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও এর গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এ ক্ষেত্রে কর ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা পেশাজীবীদের দায়িত্ব অনেক বেশি।

কর-জিডিপি অনুপাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে ভারত ও চীনে তা যথাক্রমে প্রায় ১২ ও ২০ শতাংশ। বাংলাদেশে কর প্রদানকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। উন্নত দেশের মতো রাষ্ট্রীয় সেবা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হলে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি কর ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সংস্কার আনতে হবে। করদাতাদের হয়রানিমুক্ত সেবা প্রদান করতে হবে এবং কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় কর দিতে উৎসাহিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক দর্শন তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।

উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত সুফল বা রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (জঙও) বিবেচনা করা প্রয়োজন। সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থ ও বাস্তব ফলাফলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণের বিষয়টি উল্লেখ করে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি নাগরিকের উৎপাদনশীল সক্ষমতাকে কাজে লাগানো। আর্থিক খাতের পেশাজীবীদের দায়িত্ব হলো মানুষের এই সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা এবং উদ্যোক্তা ও উৎপাদনশীল উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করা। এমটিএম অ্যালামনাই সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে পেশাগত সততা, স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার পরিচয় দিতে হবে। করসংক্রান্ত জটিলতা কমানো, ডিজিটাল করব্যবস্থা সম্প্রসারণ, রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধ এবং করদাতাদের সেবার মান উন্নয়নে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে কর বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে অ্যালামনাই সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিকস ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার কর প্রশাসনকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে পারে। এ জন্য পেশাগত প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমটিএম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন পর্যায়ের অ্যালামনাই সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লুই আই কানের মাস্টার প্ল্যানে শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় স্থাপন : নাসিমুল গনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৮ পি.এম


লুই আই কানের মাস্টার প্ল্যানে শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় স্থাপন : নাসিমুল গনি

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা, যা লুই আই কানের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী বাস্তবায়িত হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৯ সালে নতুন স্থানে অফিস কার্যক্রম শুরু হবে।

আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে ৩১ একর জমির উপর নির্মাণ করা হবে নতুন সচিবালয়। এই প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে সম্পন্ন হবে।

রোববার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়। পরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তিনি আরও জানান, নকশা অনুযায়ী শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠের প্রায় ৩১.৫৮ একর জায়গায় মোট ৩৩.১৬ লাখ বর্গফুট স্পেসসহ ৩টি বেজমেন্ট নির্মাণ হবে, যার মধ্যে থাকবে ২০০টি ভূ-উপরিস্থ পার্কিংসহ ৩,৮০০টি গাড়ি পার্কিং। ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ২টি মাল্টিপারপাস হল, ১টি ক্যাফেটেরিয়া এবং ১টি ডাকঘর থাকবে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গায় সবুজায়ন ও জলাধারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বর্তমানে সচিবালয় ১৭ একর জায়গার উপর নির্মিত।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, লুই আই কানের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ঢাকার শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থাপনের লক্ষ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তর কর্তৃক ধারণাগত স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে।

সভায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভায় বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাসসহ বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ কমবে। অধিকতর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে। আগামী গ্রীষ্মের আগে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সরকার ইতোমধ্যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%