ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লুই আই কানের মাস্টার প্ল্যানে শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় স্থাপন : নাসিমুল গনি


লুই আই কানের মাস্টার প্ল্যানে শেরেবাংলা নগরে নতুন সচিবালয় স্থাপন : নাসিমুল গনি

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ : রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে নতুন সচিবালয় স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা, যা লুই আই কানের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী বাস্তবায়িত হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৯ সালে নতুন স্থানে অফিস কার্যক্রম শুরু হবে।

আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে ৩১ একর জমির উপর নির্মাণ করা হবে নতুন সচিবালয়। এই প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে সম্পন্ন হবে।

রোববার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়। পরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি

তিনি আরও জানান, নকশা অনুযায়ী শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠের প্রায় ৩১.৫৮ একর জায়গায় মোট ৩৩.১৬ লাখ বর্গফুট স্পেসসহ ৩টি বেজমেন্ট নির্মাণ হবে, যার মধ্যে থাকবে ২০০টি ভূ-উপরিস্থ পার্কিংসহ ৩,৮০০টি গাড়ি পার্কিং। ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ২টি মাল্টিপারপাস হল, ১টি ক্যাফেটেরিয়া এবং ১টি ডাকঘর থাকবে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গায় সবুজায়ন ও জলাধারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বর্তমানে সচিবালয় ১৭ একর জায়গার উপর নির্মিত।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, লুই আই কানের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ঢাকার শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থাপনের লক্ষ্যে স্থাপত্য অধিদপ্তর কর্তৃক ধারণাগত স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে।

সভায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভায় বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাসসহ বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ কমবে। অধিকতর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ প্রণয়ন করেছে। আগামী গ্রীষ্মের আগে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সরকার ইতোমধ্যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে।

আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রংপুরে নেসকোর প্রিপেইড মিটার অপসারণের দাবিতে হরতালের ডাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৮ পি.এম


রংপুরে নেসকোর প্রিপেইড মিটার অপসারণের দাবিতে হরতালের ডাক

বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরাম রংপুরে নেসকোর প্রিপেইড মিটার অপসারণ, প্রকল্প বাতিল, নতুন গ্রাহকদের ডিজিটাল পোস্টপেইড মিটার প্রদান, দুর্নীতি ও সেবার নামে হয়রানি বন্ধ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে অর্ধদিবস হরতালের ঘোষণা দিয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) রংপুর প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৩০ নভেম্বর এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরাম রংপুর জেলার আহ্বায়ক অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন। সংগঠনের সদস্যসচিব আহসানুল আরেফিন তিতু সঞ্চালনা করেন। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের উপদেষ্টা আনোয়ার হোসেন বাবলু।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গ্রাহক ফোরামের উপদেষ্টা মীরজা বাবর বাবলু, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান সোহেল, সদস্য শফিউল আযম, শহিদুল ইসলাম সুমন ও নুরপুর অঞ্চল কমিটির আহ্বায়ক শান্ত মিয়া সহ অন্যান্য নেতারা।

বক্তারা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জনস্বার্থবিরোধী প্রিপেইড মিটার বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ গ্রাহক ফোরামের নেতৃত্বে রংপুরবাসী আন্দোলন করে আসছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি, মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করা হয়েছে।

তারা আরও বলেন, সর্বশেষ ‘স্তব্ধ রংপুর’ প্রতীকী কর্মসূচি ও নেসকোর প্রধান কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হলেও নেসকো কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের গণদাবি উপেক্ষা করে একগুঁয়েমি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

রংপুর একটি দরিদ্রপীড়িত অঞ্চল। মানুষের সীমিত আয়ে বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের নানা অনিয়ম, অব্যাহত লোডশেডিং ও ভুতুড়ে বিলের কারণে প্রিপেইড মিটার গ্রাহকদের জন্য বাড়তি ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

দাবিগুলোর বিষয়ে কোনো সমাধান না আসায় আগামী ৩০ নভেম্বর অর্ধদিবস হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাড্ডা ক্লিনিক ভাঙচুর: জামায়াতের ৭ দিনের আলটিমেটাম জড়িতদের গ্রেপ্তারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ পি.এম


রাড্ডা ক্লিনিক ভাঙচুর: জামায়াতের ৭ দিনের আলটিমেটাম জড়িতদের গ্রেপ্তারে

রাজধানীর মিরপুরে ‘রাড্ডা-এমসিএইচ-এফপি ক্লিনিক’ ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার জন্য জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন। তাঁরা নেপথ্যের মদদদাতাদের চিহ্নিত করতে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় না আনা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

রোববার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা সেন্টারের সামনে ঢাকা-১৪ আসনের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে প্রধান ও বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তাঁরা এ কথা বলেন।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন উল্লেখ করেন, "আমরা এখানে কোনো ব্যক্তিগত কিংবা রাজনৈতিক দাবি নিয়ে আসিনি। রাড্ডা হাসপাতাল থেকে আমাদের শত শত মা ও শিশু দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে আসছে। মানুষের ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকার কারও কেড়ে নেওয়ার অধিকার নেই।"

তিনি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, "এত দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও কেন পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে না? গণমাধ্যমে এসেছে, যারা এই হামলা চালিয়েছে, তাদের পেছনেও প্রভাবশালী মদদদাতা রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় যেন কোনোভাবেই অপরাধীদের ঢাল হয়ে না দাঁড়ায়।"

রাড্ডার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা সফল হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, "ঘটনার নেপথ্যে যারা রয়েছে, তাদের নাম-পরিচয় জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে। সরকার যদি তা করতে ব্যর্থ হয়, তবে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে।"

হাসপাতালের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, "হাসপাতাল থেকে লুট হওয়া একটি ওষুধও বাদ দেওয়া যাবে না, সবকিছু ফিরিয়ে দিতে হবে। হাসপাতালটিকে একটি অত্যাধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং এর আইনগত কর্তৃত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। কোনো দালালচক্রের হাতে এই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া যাবে না।"

চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। জনগণ রাস্তায় নেমে এলে আবারও জুলাইয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পুলিশি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হাসপাতালটি ভাঙচুর করা হয়েছে—আমরা সেই দৃশ্য দেখেছি। প্রশাসনের এমন চরম ব্যর্থতার কারণও তদন্ত করতে হবে।"

জ্বালানি তেল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, "যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছেন বলে অজুহাত দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারার কারণ কী? আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।" সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, "আপনারা যদি সঠিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে আইনগত পদক্ষেপ নেন, তবে ভালো। কিন্তু কোনো তালবাহানা করা হলে আপনাদেরও দায়বদ্ধতার আওতায় আনা হবে।"

মানববন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, "মিরপুরে সুলভ মূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হলো এই রাড্ডা হাসপাতাল। শত শত মা ও শিশু এখান থেকে নিয়মিত সেবা নিতো। অথচ এই হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আমাদের সাংবাদিক ভাইয়েরা নিয়মিত এ বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন, তাঁদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই।"

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের স্পষ্ট আশঙ্কা, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে টালবাহানা করছে। প্রশাসন যদি আগামী সাত দিনের মধ্যে এই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয়, তবে এর চেয়েও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।"

তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "আমাদের পরিষ্কার কথা, কোনো গড়িমসি চলবে না। গডফাদার পাবেল এবং লেনিন, শুভ্র, রাসেল ও সজীবসহ যারা সরাসরি জড়িত, তাদের সাত দিনের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।"

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন, জামায়াত নেতা ডা. মঈন উদ্দিন, মনিরুল ইসলাম মৃধা ও জি এম হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে রাড্ডা-এমসিএইচ-এফপি ক্লিনিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, লুট হওয়া ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী বুঝিয়ে দেওয়া, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং নেপথ্যের মদদদাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশে প্রস্তুত, শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষা মাউশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:০৯ পি.এম


শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশে প্রস্তুত, শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষা মাউশি

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুমোদন পেলে যে কোনো মুহূর্তে বদলির ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) মাউশির একটি সূত্র জানিয়েছে, বদলি সফটওয়্যারে কোনো জটিলতা নেই। প্রার্থীদের আবেদন বাতিল ও সংশোধন নিয়ে কিছু দাবি রয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের। মাউশির করণীয় এখানে কিছু নেই। শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদন পেলে যে কোনো সময় বদলির ফল প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মাউশি মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী দেশের বাহিরে রয়েছেন। তিনি দেশে ফেরার পর বদলির ফল প্রকাশের বিষয়ে আলোচনা করা হবে।’

এদিকে, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বদলির আদেশ জারি না হলে আগামী ৪ নভেম্বর থেকে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের আয়োজনে এ কর্মসূচি পালন করা হবে।

শনিবার, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক কর্মচারী ফোরামের সভাপতি অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী এক ফেসবুক পোস্টে একটি ব্যানার শেয়ার করে এ তথ্য জানান।

ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বদলির আদেশ জারি না হলে আগামী ৪ নভেম্বর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ সেপ্টেম্বর এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বদলি আবেদন শেষ হয়েছে। বদলির জন্য ১৩ হাজার ৬৭৮টি আবেদন জমা পড়েছে। তবে একজন প্রার্থী একাধিক প্রতিষ্ঠান পছন্দ দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় আবেদনকৃত প্রকৃত প্রার্থীর সংখ্যা জানা যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রকে বিপাকে ফেলতে হুথিদের সহায়তা করছে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৪ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রকে বিপাকে ফেলতে হুথিদের সহায়তা করছে চীন

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে চীন ইরান-সমর্থিত হুথিদের সহায়তা প্রদান করছে। একটি গবেষণা প্রতিবেদন অনুসারে, এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি একটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, যা চীনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে নির্মিত হবে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক অনুসন্ধানমূলক সংস্থা ‘কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চ’—যারা সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অস্ত্রের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করে—তাদের তথ্যমতে, হুথিরা ইরানের ‘খাইবার শেকান’ সিরিজের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত কিছু অংশ তৈরির চেষ্টা করছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পাল্লা ১ হাজার কিলোমিটারের (৬২০ মাইল) বেশি।

গবেষণা সংস্থাটি হুথিদের উদ্দেশ্যে পাঠানো সাম্প্রতিক চালানগুলোতে বিশেষভাবে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ, কাঁচামাল, সরঞ্জাম এবং পরীক্ষার যন্ত্রপাতি শনাক্ত করেছে। এছাড়া, এসব যন্ত্রাংশের সাথে পাওয়া নথিপত্রে একজন চীনা সরবরাহকারীর নামও উল্লেখ রয়েছে।

হুথিরা দীর্ঘদিন ধরেই তাদের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে নতুন তথ্যগুলো তাদের সক্ষমতায় বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়, কারণ বিশ্বের খুব অল্প কয়েকটি দেশেরই এত দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিগত দক্ষতা রয়েছে। এটি তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানের ওপর থেকে তাদের ক্রমবর্ধমান স্বাধীনতারও ইঙ্গিত দেয়।

ইয়েমেনের কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আটক করা চালানগুলো থেকে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ইয়েমেনেই হুথিদের মূল ঘাঁটি এবং তারা দেশটির বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন এবং অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের গবেষণা অনুযায়ী, হুথিদের উদ্দেশ্যে পাঠানো যেসব চালান জব্দ করা হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পণ্য এসেছে চীনা কোম্পানিগুলো থেকে।

চীন প্রকাশ্যে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি তারা ইরানকে অনুরোধ করেছে যেন হুথিদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়, যাতে তারা লোহিত সাগরে- যা হরমুজ প্রণালীর মতোই বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ- হামলা চালানো থেকে বিরত থাকে।

কিন্তু একই সময়ে, চীন হুথিদের এমন সব পণ্য সরবরাহ করছে যা সামরিক ও বেসামরিক- উভয় উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা যেতে পারে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের সময়ও বেইজিং একইভাবে অস্ত্র তৈরির প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম পাঠিয়ে রাশিয়াকে সহায়তা করেছিল।

এই কৌশলের ফলে বেইজিং চাইলে সহজেই দায় অস্বীকার করতে পারে; কারণ তারা দাবি করতে পারে যে, এসব পণ্য কেবল সাধারণ বাণিজ্যিক লেনদেনের অংশ। হুথিদের প্রতি ইরানের সমর্থনের পাশাপাশি চীনও তাদের সহায়তা দিয়ে আসছে। ইরানের সহায়তা মূলত গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ, কৌশল নির্ধারণ, প্রশিক্ষণ প্রদান এবং সরাসরি অস্ত্র পাঠানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। অন্যদিকে, চীন ড্রোন তৈরির সরঞ্জাম ও রকেট জ্বালানির উপাদান সরবরাহ করে এবং নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল কিনে ইরানকে সহায়তা করেছে।

এসব সহায়তা ইরানকে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে এবং তাদের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন জোগানোর সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে। এর ফলে একটি চক্র পূর্ণ হয়েছে, যেখানে চীন সরাসরি ইরানের মদতপুষ্ট বিভিন্ন অ-রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীকে- যেমন হুথিদের- সহায়তা দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ঝুঁকি বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘বাশা রিপোর্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আল-বাশা বলেন, “হুথিদের প্রতি চীনের সমর্থনকে কূটনৈতিক সুরক্ষা, বাছাইকৃত প্রয়োগ (নিয়মকানুন শিথিল রাখা) এবং কৌশলগত সুযোগ সন্ধানের একটি সংমিশ্রণ হিসেবে দেখা যেতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “মনে হচ্ছে, হুথিরা যে চীনের বাণিজ্যিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি, চীনা সরকারের সাথে সম্পর্কযুক্ত কোম্পানির স্যাটেলাইট পরিষেবা এবং ইয়েমেনে ক্রমাগত ‘দ্বৈত ব্যবহারের উপযোগী’ (সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে এমন) সরঞ্জাম নিয়ে আসছে- এসব বিষয়ে চীন চোখ বন্ধ করে আছে।”

আল-বাশা জানান, এসব সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে অস্ত্র তৈরির জন্য নিখুঁত যন্ত্রাংশ, প্রচুর পরিমাণে সার (যা ক্ষেপণাস্ত্রের জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে), ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশের জন্য বিশেষ ধাতু এবং ড্রোন তৈরির কাজে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের সাথে চীনে যে সম্পর্ক রয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হুথিরা চীনের সাথে নিজেদের সম্পর্ক জোরদার করেছে। এমনকি সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি তাদের কিছু সদস্যকে ম্যান্ডারিন ভাষা শেখার জন্যও পাঠিয়েছে।

এর বিনিময়ে, চীন হুথিদের কাছ থেকে তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা আদায় করে নিয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে চীনের অর্থনীতির ধারাবাহিক সচলতার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া, হুথিদের সাথে এই সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে বেইজিং এমন একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে যোগাযোগ ধরে রাখছে, যা ভবিষ্যতে কাজে আসতে পারে। বিশেষ করে, চীন যদি কখনো তাইওয়ান—যে দ্বীপটিকে বেইজিং নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে—আক্রমণ করে, তবে এই গোষ্ঠীটি তাদের জন্য সহায়ক হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, হুথিরা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোরকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে এবং মার্কিন নৌ-সম্পদ ও রসদকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করতে পারে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সামরিক সহায়তা পাঠানো কঠিন হয়ে পড়বে।

তবে হুথিদের বিষয়ে চীন যেন আগুনের সঙ্গে খেলছে। যদিও হুথিদের সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে বেইজিং আপাতত লোহিত সাগরে নির্বিঘ্নে চলাচলের সুবিধা পাচ্ছে, কিন্তু এ পরিস্থিতি চিরস্থায়ী নাও হতে পারে।

তবুও, তাদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা বজায় রাখা। চীন এমন কোনো ধারণা তৈরি হতে দিতে চায় না যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে রয়েছে। তাই, ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে বেইজিংকে তাদের প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে হবে।

মি. বাশা বলেন, চীনের কর্মকাণ্ডকে ‘মহাশক্তিগুলোর মধ্যকার প্রতিযোগিতার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে বুঝতে হবে’।

‘বেইজিংয়ের কাছে হুথিরা এমন একটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী মাধ্যম হতে পারে, যার সাহায্যে তারা সরাসরি নিজেদের সামরিক বাহিনীকে জড়ানো বা ওয়াশিংটনের সাথে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে না জড়িয়েই যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করতে পারে’। ‘ইরানের সাথে সম্পর্কের মতোই, চীন এক্ষেত্রেও সরাসরি সম্পৃক্ততা ও ব্যয় সীমিত রেখে কৌশলগত সুবিধা অর্জন করতে পারে’।

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%