০৯:০৯ পি.এম
রাজধানীর মিরপুরে ‘রাড্ডা-এমসিএইচ-এফপি ক্লিনিক’ ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার জন্য জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন। তাঁরা নেপথ্যের মদদদাতাদের চিহ্নিত করতে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় না আনা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
রোববার বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা সেন্টারের সামনে ঢাকা-১৪ আসনের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে প্রধান ও বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তাঁরা এ কথা বলেন।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন উল্লেখ করেন, "আমরা এখানে কোনো ব্যক্তিগত কিংবা রাজনৈতিক দাবি নিয়ে আসিনি। রাড্ডা হাসপাতাল থেকে আমাদের শত শত মা ও শিশু দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে আসছে। মানুষের ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকার কারও কেড়ে নেওয়ার অধিকার নেই।"
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সমাজের কার্যকর ভূমিকা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তিনি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, "এত দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও কেন পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে না? গণমাধ্যমে এসেছে, যারা এই হামলা চালিয়েছে, তাদের পেছনেও প্রভাবশালী মদদদাতা রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় যেন কোনোভাবেই অপরাধীদের ঢাল হয়ে না দাঁড়ায়।"
রাড্ডার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা সফল হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, "ঘটনার নেপথ্যে যারা রয়েছে, তাদের নাম-পরিচয় জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে। সরকার যদি তা করতে ব্যর্থ হয়, তবে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে।"
হাসপাতালের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, "হাসপাতাল থেকে লুট হওয়া একটি ওষুধও বাদ দেওয়া যাবে না, সবকিছু ফিরিয়ে দিতে হবে। হাসপাতালটিকে একটি অত্যাধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং এর আইনগত কর্তৃত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে। কোনো দালালচক্রের হাতে এই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া যাবে না।"
চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। জনগণ রাস্তায় নেমে এলে আবারও জুলাইয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পুলিশি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হাসপাতালটি ভাঙচুর করা হয়েছে—আমরা সেই দৃশ্য দেখেছি। প্রশাসনের এমন চরম ব্যর্থতার কারণও তদন্ত করতে হবে।"
আরও পড়ুন: ঢাকা-সৌদি রুটে ১২৬ ফ্লাইট বাতিল, ১৯৩৭৭ যাত্রী ভোগান্তিতে
জ্বালানি তেল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, "যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছেন বলে অজুহাত দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারার কারণ কী? আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির দায় এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।" সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, "আপনারা যদি সঠিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে আইনগত পদক্ষেপ নেন, তবে ভালো। কিন্তু কোনো তালবাহানা করা হলে আপনাদেরও দায়বদ্ধতার আওতায় আনা হবে।"
মানববন্ধনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান বলেন, "মিরপুরে সুলভ মূল্যে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হলো এই রাড্ডা হাসপাতাল। শত শত মা ও শিশু এখান থেকে নিয়মিত সেবা নিতো। অথচ এই হাসপাতাল ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আমাদের সাংবাদিক ভাইয়েরা নিয়মিত এ বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন প্রকাশ করছেন, তাঁদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই।"
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের স্পষ্ট আশঙ্কা, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে টালবাহানা করছে। প্রশাসন যদি আগামী সাত দিনের মধ্যে এই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয়, তবে এর চেয়েও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।"
তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "আমাদের পরিষ্কার কথা, কোনো গড়িমসি চলবে না। গডফাদার পাবেল এবং লেনিন, শুভ্র, রাসেল ও সজীবসহ যারা সরাসরি জড়িত, তাদের সাত দিনের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।"
আরও পড়ুন: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন, জামায়াত নেতা ডা. মঈন উদ্দিন, মনিরুল ইসলাম মৃধা ও জি এম হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে রাড্ডা-এমসিএইচ-এফপি ক্লিনিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, লুট হওয়া ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী বুঝিয়ে দেওয়া, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং নেপথ্যের মদদদাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন