১১:১৭ পি.এম
আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য নতুন প্রবেশ নির্দেশনা জারি করেছে ভারত। এখন থেকে ভারতে এসে পৌঁছানো সব আন্তর্জাতিক যাত্রীকে, যেকোনো দেশ থেকেই আসুক, ফ্লাইটে ওঠার পূর্বে অনলাইনে স্বাস্থ্য ঘোষণাপত্র পূরণ করতে হবে।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, এই নতুন নিয়ম ২৫ জুন থেকে কার্যকর হচ্ছে এবং এর আওতায় চালু হচ্ছে স্পর্শহীন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এয়ার সুবিধা ২.০। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মধ্য আফ্রিকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার দাবিতে এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনার ভিত্তিতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে ভারতে ভ্রমণকারী সকল আন্তর্জাতিক যাত্রীকে যাত্রার ২৪ ঘণ্টা আগে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে স্বাস্থ্য ঘোষণাপত্রটি পূরণ করতে হবে। বিমানবন্দরে অতিরিক্ত বিড়ম্বনা এড়ানোর জন্য ওয়েব চেকইনের সময়ই ফর্মটি পূরণ করার জন্য কর্তৃপক্ষের পরামর্শ রয়েছে।
আরও পড়ুন: মিশিগানে সিনেটর নির্বাচিত হয়ে ‘হাবিবি প্যাক’ চালু করলেন আব্দুল সাঈদ
এই ঘোষণাপত্রে যাত্রীদের গত ২১ দিনের ভ্রমণ ইতিহাস, ইবোলা আক্রান্ত অঞ্চলে সফরের তথ্য এবং জ্বর, শরীরব্যথা বা রক্তপাতের মতো উপসর্গ রয়েছে কি না, তা উল্লেখ করতে হবে। ভারতে পৌঁছানোর পর আলাদা কোনো কাগজপত্র পূরণ করার প্রয়োজন নেই। অনলাইনে পূরণকৃত ঘোষণাপত্রটি ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দেখাতে হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহারের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের এবং ইমিগ্রেশন বিভাগের কাছে পৌঁছে যাবে।
ভারত সরকারের এই পদক্ষেপের ভিত্তি বিশ্বের স্বাস্থ্য সংস্থার ১৭ মে দেওয়া সতর্কবাণী, যেখানে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ও উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এবারের সংক্রমণ ইবোলার বিরল ধরন বুন্দিবুগিও ভাইরাসজনিত কারণে হচ্ছে, যার জন্য এখনও কোনো অনুমোদিত ভ্যাক্সিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
ডিআরসি, উগান্ডা এবং সীমান্তবর্তী দক্ষিণ সুদানসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশে ভ্রমণের ইতিহাস থাকলে ভারতে পৌঁছে যাত্রীদের অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।
আরও পড়ুন: বৈশ্বিক সংকটে ৪ কোটি মানুষের চরম দারিদ্র্যের ঝুঁকি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দশকে আফ্রিকায় ইবোলা সংক্রমণে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হলেও নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সংস্থাটি এবং আফ্রিকান সিডিস আগামী ছয় মাসের জন্য যৌথভাবে ৫১৮ মিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘোষণা করেছে।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লিমিটেড যাত্রী ও বিমানবন্দর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কন্টাক্টলেস এই ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে।
সূত্রঃ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
আরও পড়ুন: কট্টরপন্থী মিলারকে চিফ অফ স্টাফ পদে নিয়োগ, ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কোনো আপসে না যাওয়ার বার্তা ট্রাম্পের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন