ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

হরমুজে আবারও হামলা! যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি কি ইরানের আরেকটি ভুল হিসাব?


হরমুজে আবারও হামলা! যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি কি ইরানের আরেকটি ভুল হিসাব?

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত নতুন করে একটি পুরনো প্রশ্ন সামনে এনেছে—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনো ধরনের সমঝোতা কি সত্যিই ইরানের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে, নাকি এটি কেবল আরও বড় সংঘাতের আগে সাময়িক বিরতি? যেখানে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার কথা প্রতি মুহূর্তে বদল করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বদল করেন বিশেষ করে ইরানে হামলার পর থেকে পশ্চিমা মিডিয়া তথা তার নিজ দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়ায় তার এই কোন কথা স্থির না থাকার বিষয়টি সংখ্যা ধরে হিসেব করে তুলে ধরেছে। এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে এবং বিশ্বের একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বস্ত মিত্র ইসরাইলকে পাশ কাটিয়ে ইরানের সাথে চুক্তিকে কি ইরান সত্যিই চুক্তি বলে মনে করছে?

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল কর্তৃক ইরানে ভয়াবহ হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের শুরু থেকে যুদ্ধবিরতি পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—যে, ইরান দীর্ঘ কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুপার পাওয়ার তথা পশ্চিমা পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোটের বিরুদ্ধে এমন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, যা বিশ্বের কোন রাষ্ট্র আজ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরাইলের বিরুদ্ধে দেখাতে পারেনি। যা শুধু ইসরাইল নয়, যুক্তরাষ্ট্রকেও নতুন বাস্তবতা বিবেচনা করতে বাধ্য করে।

দীর্ঘ সংঘাত, বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ,  এর ফলে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক হিসাব, আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং সামরিক ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপ, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ক্ষতি এবং সামরিক সরঞ্জাম ক্রমাগত ফুরিয়ে যাওয়া —সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের জন্য বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ভয়াবহ ছিল অথবা পরিস্থিতি ততটা সহজ ছিল না।

এই বাস্তবতায় ইসরাইলকে সামনে রেখে পরম মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক যে কৌশল দীর্ঘদিন অনুসরণ করা হয়েছে, তা সাময়িকভাবে পরিবর্তিত হয়ে আলোচনার পথে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ডিজিটাল আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ও পরবর্তী চুক্তির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়, সেটিকে অনেকেই কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখলেও এখানে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের  প্রশ্ন ভিন্ন।

ইরান কি ইতিহাস থেকে যথেষ্ট শিক্ষা নিয়েছে?
যে পশ্চিমা শক্তি তথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে ইরানের আঞ্চলিক শক্তিকে সীমিত রাখার দিকে, তাদের ঐতিহাসিক বিপ্লবী সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনের দিকে, তাদের সামরিক সক্ষমতা ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংসের লক্ষ্যে কার্যকর, সেই রাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি কতটা স্থায়ী হতে পারে কিংবা ইরান কোন বিশ্বাসে এই চুক্তি করতে পারে? ইতিহাস কি বলে যে, প্রতিটি চুক্তি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়েছে? নাকি বহু ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক প্রয়োজন শেষ হলে চুক্তিও গুরুত্ব হারিয়েছে? আশঙ্কা এখানেই।

যদি এই যুদ্ধবিরতি কেবল সময় সংগ্রহের কৌশল হয়ে থাকে, তবে সেই সময় কে কীভাবে ব্যবহার করবে? ইরান কি নিজেদের প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করবে, নাকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি আরও বাড়াবে? ভবিষ্যৎ সংঘাতের জন্য কে বেশি লাভবান হবে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আজই হয়তো পাওয়া যাবে না। কিন্তু যুদ্ধবিরতির অল্প সময়ের মধ্যেই হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনা ও হামলার ঘটনাকে অন্তত সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা মনে হয় অস্বাভাবিক কিছু নয়। যদি ভার্সাই চুক্তি বৃহত্তর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের কৌশলের অংশ হয়ে থাকে, তবে ইরানের নীতিনির্ধারকদের জন্য নতুন করে পরিস্থিতি মূল্যায়নের সময় এসেছে।

যুদ্ধক্ষেত্রে যে শক্তি ইরান প্রদর্শন করেছে, তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। যে পরাশক্তির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সামরিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা একসময় অকল্পনীয় মনে করা হতো, সেই শক্তিকেই দীর্ঘ সংঘাতের পর আলোচনার টেবিলে বসতে হয়েছে—এটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা।
কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আলোচনার টেবিলে বসা আর স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কি একই বিষয়? এটি বিশ্বাস করা অত্যন্ত কঠিন একটি বিষয়।
কারণ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধু বা স্থায়ী শত্রু বলে কিছু নেই; আছে কেবল স্থায়ী স্বার্থ। আর সেই স্বার্থের কাছে চুক্তি, প্রতিশ্রুতি কিংবা কূটনৈতিক ভাষা অনেক সময়ই গৌণ হয়ে যায়।

তাই ইরানের সামনে আজ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ যুদ্ধ জয় নয়; বরং প্রতিপক্ষের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল সঠিকভাবে বোঝা। যদি এই চুক্তিকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে ধরে নেওয়া হয়, তবে সেটি হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের সিংহ খ্যাত ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত ভুল। আর যদি এটিকে সাময়িক বিরতি ধরে ভবিষ্যতের জন্য সামরিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়, তবে ইতিহাস হয়তো ভিন্নভাবে লেখা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখনো শেষ হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় আসেনি। বরং যুদ্ধবিরতির আড়ালে নতুন সংঘাতের প্রস্তুতি চলছে কি না, সেটিই আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ইরানের উচিত অতীতের অভিজ্ঞতা, বর্তমানের বাস্তবতা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকি—সবকিছুকে নতুন করে মূল্যায়ন করা। তা না হলে পারস্য তথা ইরানি জাতি যে কারো কাছে কখনোই মাথা নত করে না- এই কথার যে বাস্তবতা কিংবা হাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য ধরে রাখার যে সাফল্য সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া যুদ্ধে দেখিয়েছে তা ভবিষ্যতে ধাক্কা খেতে পারে এমন আশঙ্কা করা আজকের দিনে অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

‘দলে মেসি থাকতেই পারেন, আমরা ভয় পাই না’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:২২ পি.এম


‘দলে মেসি থাকতেই পারেন, আমরা ভয় পাই না’

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে একটি রীতিমতো রূপকথার গল্প বুনছে কেপ ভার্ডে। এমন একটি দল, যাকে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কেউই বড় হিসাবের মধ্যে রাখেনি, সেই দলটি এখন জায়গা বানিয়েছে শেষ ৩২-এ। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচে ড্র করেও অসাধারণ লড়াইয়ের মানসিকতা প্রদর্শন করে নকআউট পর্বে পৌঁছেছে আফ্রিকার এই ছোট্ট দেশটি।

মাত্র দুটি গোল করেও কেপ ভার্ডে প্রমাণ করেছে, দলগত ঐক্য, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। প্রতিটি ম্যাচেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তারা সাহসী ফুটবল খেলে। এবং সেই পারফরম্যান্সের জন্যই এখন ফুটবল বিশ্ব কেপ ভার্ডের দিকে নজর দিচ্ছে।

এবার তাদের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দাঁড়িয়ে আছে। নকআউট পর্বে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে কেপ ভার্ডে। লিওনেল মেসির দল ইতোমধ্যেই নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে অবস্থান মজবুত করেছে।

কিন্তু কেপ ভার্ডের কোচ বুবিস্তার আর্জেন্টিনাকে নিয়ে কোনও ভয় অনুভব করছেন না। সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচের পর সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি জানিয়েছেন, ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে পারা আমাদের জন্য গর্বের। তাদের দলে মেসির মতো একজন খেলোয়াড় আছে, যাকে অনেকেই ইতিহাসের সেরা বলে মনে করেন। কিন্তু আমরা কাউকেই ভয় পাই না।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিপক্ষেও আমরা সাহস নিয়ে খেলেছি। সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজা ইস্যুতে মোদি সরকারের সমালোচনায় সোনিয়া গান্ধী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:২৪ পি.এম


গাজা ইস্যুতে মোদি সরকারের সমালোচনায় সোনিয়া গান্ধী

গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ এবং মানবিক সংকট নিয়ে মোদি সরকারের অবস্থানকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তাঁর অভিযোগ হল যে, ভারত ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের প্রতি যে অবস্থান নিয়েছে, বর্তমান সরকার এ থেকে সরে গিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

একটি নিবন্ধে সোনিয়া গান্ধী জানান, গাজায় বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগের বিষয়ে নয়াদিল্লি কার্যত নীরব। এই নিঃশব্দতা শুধু নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ নয়, বরং ভারতের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি জাতিসংঘের ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব ইনকোয়ারির একটি প্রতিবেদনের কথা বলে দাবি করেন যে, সেখানে গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। যুদ্ধের ভয়াবহ মানবিক ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ২০ হাজারের বেশি শিশু নিহত হয়েছে এবং ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকাকেও সমালোচনা করেন সোনিয়া গান্ধী। তাঁর ভাষ্য হল, পর্যাপ্ত তথ্য ও আইনগত প্রক্রিয়া থাকার সত্ত্বেও বিশ্ব এই সংঘাত থামাতে ব্যর্থ হয়েছে।

এরপর কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ে তিনি বলেন, গাজা ইস্যুতে ভারত প্রায় সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখেছে এবং বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগের বিরুদ্ধে কোনো শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেনি। ভারত ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের মিত্র হিসেবেও ইঙ্গিত করে তিনি সরকারকে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানান।

সোনিয়া গান্ধীর এই বক্তব্যের উপর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ক্ষমতাসীন বিজেপি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলের মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা অভিযোগ করেন যে, কংগ্রেস পররাষ্ট্রনীতিকে ভোটব্যাংক রাজনীতির সঙ্গে একত্রিত করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

পুনাওয়ালার দাবি, ভারত গাজা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে বহুবার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির পক্ষে ভোট দিয়েছে এবং নিয়মিত মানবিক সহায়তাও পাঠিয়েছে। তিনি আরো বলেন, ফিলিস্তিনের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননাও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পেয়েছেন।

কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বিজেপির মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা বলেন, দলটি সবসময় পররাষ্ট্রনীতির চেয়ে ভোটব্যাংককে বেশি গুরুত্ব দেয়। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস ইসরাইলের ওপর হামাসের হামলা নিয়ে কখনোই সরব হয় না।

সূত্রঃ দ্যা হিন্দু

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাভারে এনসিপির দুই শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:২৬ পি.এম


সাভারে এনসিপির দুই শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান

বিএনপির কেন্দ্রিয় নেতা ডাক্তার দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেছেন ঢাকা জেলা উত্তর এনসিপির যুব শক্তির আহ্বায়ক সেঁজুতি হোসাইনসহ দুই শতাধিক নেতা-কর্মী।

শুক্রবার দুপুরে দুই শতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে যোগদান উপলক্ষে সাভারের ব্যাংককলোনী এলাকায় সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের বাসায় সংবর্ধণা সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে ডাক্তার দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বিএনপিতে তাদের স্বাগত জানিয়ে বক্তৃতা করেন। তিনি বললেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। জুলাই যোদ্ধারা যদি এই দলে যোগদান করতে চান, তাদেরকে স্বাগতম জানানো হবে। সেঁজুতি হোসাইন বক্তব্যে জানান, দেশের বৃহৎ দলে যোগদান অনুষ্ঠানে বিএনপি’র হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেছেন। এছাড়া, হেলেন জাহান রিফা ও সুজন আহমেদও বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দেওয়ান বিএনপি নেতা দেওয়ান মইন উদ্দিন বিপ্লব, সাভার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বদীর, পৌর বিএনপির সহসভাপতি ফেরদৌস আহমেদ প্রদীপ, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহমান প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরীক্ষায় নকলে যেভাবে সাহায্য করছে এআই স্মার্ট গ্লাস, ব্যবহারের শীর্ষে এশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৭শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:২৮ পি.এম


পরীক্ষায় নকলে যেভাবে সাহায্য করছে এআই স্মার্ট গ্লাস, ব্যবহারের শীর্ষে এশিয়া

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নকলের কৌশলে এসেছে নতুন মাত্রা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করে পরীক্ষায় নকলের ঘটনা বাড়তে থাকায় উদ্বেগে পড়েছেন বিভিন্ন দেশের শিক্ষা প্রশাসকরা। বিশেষ করে পূর্ব এশিয়ার পরীক্ষাকেন্দ্রিক সমাজগুলোতে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সেখানে একটি মাত্র পরীক্ষার ফল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, চাকরি ও সামাজিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় ইংরেজি ভাষা দক্ষতা মূল্যায়নের পরীক্ষায় দুজন পরীক্ষার্থীকে এআই স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করে নকল করতে গিয়ে আটক করা হয়েছে। এই পরীক্ষার ফল দেশটিতে চাকরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে, তাইওয়ানের একটি শীর্ষ মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় এক শিক্ষার্থীর অস্বাভাবিক আচরণ দেখে পরীক্ষা পর্যবেক্ষকরা সন্দিহান হন। পরবর্তীতে পরীক্ষা করে দেখা যায়, তার ব্যবহৃত স্মার্ট গ্লাসের ফ্রেম থেকে তাপ নির্গত হচ্ছিল, যা নকলের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করে নকলের ঘটনা নতুন নয়। তবে এআই প্রযুক্তিনির্ভর পরিধানযোগ্য ডিভাইসগুলো আরও ছোট, সহজলভ্য ও উন্নত হওয়ায় প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতি এবং মূল্যায়ন ব্যবস্থা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে, বিভিন্ন দেশ পরীক্ষাকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করছে। চলতি মাসে চীনের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক কোটিরও বেশি পরীক্ষার্থীর সব ধরনের চশমা বাধ্যতামূলকভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধানও সতর্ক করে বলেছেন, এআই স্মার্ট গ্লাস ও স্মার্ট ইয়ারপিস পরীক্ষায় নকলের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কলেজ ভর্তি পরীক্ষার প্রশাসন জানিয়েছে, পরীক্ষার হলে সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস আগে থেকেই নিষিদ্ধ থাকলেও এআই স্মার্ট গ্লাস ঠেকাতে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, তাইওয়ানের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ও পরীক্ষায় এআই স্মার্ট গ্লাস ব্যবহারের বিষয়ে নতুন নীতিমালা ও পরিচালনা পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে।

তবে গবেষকদের আশঙ্কা, প্রকাশ্যে আসা কয়েকটি ঘটনা বৃহত্তর সমস্যারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক থমাস করবিনের ভাষায়, যে কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি ঘটনা হয়তো প্রকাশ পাচ্ছে না।

এআই প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে স্মার্ট গ্লাস এখন আরও পাতলা, কম দৃশ্যমান এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে এআই মডেলের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে কাজ করতে সক্ষম। ফলে শুধু পরীক্ষার স্বচ্ছতাই নয়, ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও নতুন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা ২০২৩ সালের শেষ দিকে রে-ব্যানের সঙ্গে যৌথভাবে প্রথম এআই-সমৃদ্ধ স্মার্ট গ্লাস বাজারে আনে। এরপর একাধিক সংস্করণ উন্মোচন করা হয়েছে। গত বছরই বিশ্বজুড়ে এ ধরনের ৭০ লাখের বেশি স্মার্ট গ্লাস বিক্রি হয়েছে।

এদিকে, হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এইচকেইউএসটি) গবেষক মেং জিলি ও অধ্যাপক ঝাং জুন পরিচালিত একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে, বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া এআই স্মার্ট গ্লাস পরীক্ষার প্রশ্ন স্ক্যান করে এআই ভাষা মডেলে পাঠাতে পারে এবং সেখান থেকে পাওয়া উত্তর গ্লাসের লেন্সেই প্রদর্শন করতে সক্ষম। পরীক্ষায় এই প্রযুক্তির মাধ্যমে পাওয়া নম্বর ১০০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে শীর্ষ পাঁচের মধ্যে স্থান করে নেয়, যা গড় নম্বরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল।

গবেষকদের মতে, এই বাস্তবতা শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। শিক্ষার্থীদের মুখস্থবিদ্যার ওপর নির্ভর না করে কীভাবে চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা মূল্যায়ন করা যায়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

হংকং এডুকেশন ইউনিভার্সিটির এআই ও ডিজিটাল কম্পিটেন্স এডুকেশন সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক কং সিউ চিয়াং মনে করেন, এআইকে নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি ও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তার ভাষায়, প্রযুক্তি ব্যবহার করতেই হবে, তবে চিন্তা করার ক্ষমতা কখনোই প্রযুক্তির কাছে সমর্পণ করা উচিত নয়।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%