শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:২২ এম
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধানখালীতে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে ভূমিহীন এবং স্থানীয় ভুক্তভোগী অসংখ্য পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধন করেছেন। সরকারের দ্বারা বন্দোবস্তকৃত ভূমির অবৈধ দখল প্রতিরোধ এবং মালিকানা নিশ্চিত করার দাবিতে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় মেম্বারসহ বিভিন্ন শ্রেণির অসংখ্য মানুষ অংশগ্রহণ করেন। বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য মো: শাহীন মৃধা, ভূমিহীন পরিবারের সদস্য (কার্ডধারী) নুরজাহান বেগম, খোকন চৌকিদার, হানিফ মৃধা, শাহআলম হাওলাদার, জবুনা বেগম, সোহেল হাওলাদার, জাহাঙ্গীর হাওলাদার, রুবেল সিকদার, রুহুল আমিন হাওলাদার এবং স্থানীয় বাসিন্দা তানিয়া আক্তার প্রমুখ।
বক্তারা জানান, ১৯৯৭ সালে আমতলীর পূর্বচিলা ও ধানখালীর মধ্য ধানখালী মৌজার জমি ভূমিহীন হিসেবে বন্দোবস্ত পেয়েছেন। তবে, ওই জমি দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছে ধানখালীর প্রভাবশালী রহিম সিকদার ও খোকন মৃধাসহ একটি চক্র। এমনকি সরকারি খাস জমি পর্যন্ত দখল করা হয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান চেয়ে এই মানববন্ধন আয়োজন করা হয়।
ভূক্তভোগী খোকন চৌকিদার জানান, তারা খাস জমি সরকারের কাছ থেকে পেয়েছেন। কিন্তু দখলদার চক্রের কবল থেকে জমিজমা উদ্ধার করতে স্থানীয় মেম্বার শাহীন মৃধা ভূমিহীনদের পক্ষে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, ভূমিহীনদের ন্যায্যতা রক্ষায় কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার নির্দেশনা দিয়েছেন। তবুও ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে দখলদার মহলটি তাঁদের জমিজমা দখল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা নানা ধরনের অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করছে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা এখন মধ্য ধানখালীতে নাশকতার শঙ্কা প্রকাশ করছেন। কারণ, একটি হত্যা মামলার দণ্ডিত সাজাপ্রাপ্ত আসামি এর পেছনে কাজ করছে বলেও বক্তারা জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের মুলাদীতে বড় পীর আব্দুল কাদির জিলানীর (রহ.) জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির মুলাদী উপজেলা শাখার উদ্যোগে আজ বুধবার বেলা ১১টায় মুলাদী প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে এ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদার।
এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জাতীয় ইমাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুফতি মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুলাদী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা আব্দুল হক, প্রভাষক মাওলানা মো. নিজাম উদ্দীন, উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মডেল কেয়ারটেকার মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসাঈন, মুলাদী দারুল হিকমাহ মডেল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মো. নাজমুল আকন, মুলাদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রোকনুজ্জামান মোল্লা এবং সহসভাপতি নজিবুর রহমান ভুইয়া কামাল। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনেরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বড় পীর হযরত আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর জীবন, কর্ম এবং ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বক্তারা উল্লেখ করেন, সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ সুসংহত করার জন্য বড় পীর হযরত আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর শিক্ষা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। আলোচনা সভার শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলের জেলেরা সাগরে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ শিকারে বাড়তি ব্যয়ের চাপ অনুভব করছেন। তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় আলিপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দর থেকে সাগরে যাওয়া মাছ ধরার ট্রলারের জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অবস্থায় জেলে ও ট্রলার মালিকরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আলিপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দর পরিদর্শন করে জেলে, ট্রলার মালিক ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, আলিপুর ও মহিপুর দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য অবতরণকেন্দ্র। এই বন্দর থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রলার বঙ্গোপসাগরে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকারে যায়। সাগরে যাওয়ার আগে প্রতিটি ট্রলারে প্রয়োজন অনুযায়ী হাজার হাজার লিটার জ্বালানি তেল মজুত করতে হয়। সাগরে অবস্থানকালীন জ্বালানি খরচই অন্যতম প্রধান ব্যয়।
জেলেরা জানিয়েছেন, সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার পূর্বে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি বরফ, খাবার, পানি, জাল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি ক্রয় করতে হয়। এর সাথে রয়েছে মাঝি ও জেলেদের মজুরি। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছ ধরার শুরুতেই বাড়তি খরচ যুক্ত হচ্ছে। পাশাপাশি সাগরে প্রত্যাশিত পরিমাণ মাছ না পেলে অথবা বাজারে মাছের দাম কম থাকলে লোকসানের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে।
মৎস্য শিকারী আব্দুল কলিম মাঝি বলেন, "সাগরে মাছ ধরতে গেলে একটি ট্রলারে বিপুল পরিমাণ তেল লাগে। তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সাগরে যাওয়ার আগেই আমাদের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। মাছ ভালো না পেলে এই বাড়তি খরচ তুলে আনা কঠিন হয়ে যাবে। ফলে আমরা এখন চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি।"
মৎস্য ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন জানান, আলিপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দর থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রলার সাগরে মাছ ধরতে যায়। প্রতিটি ট্রলারে হাজার হাজার লিটার জ্বালানি তেল প্রয়োজন হয়। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মাছ আহরণের খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব মাছের বাজারদর এবং জেলে ও ব্যবসায়ীদের ওপর পড়ছে। ট্রলার মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাগরে মাছ ধরার অভিযানে জ্বালানি খরচ বড় ব্যয়। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি ট্রলারে সাগরে পাঠাতে আগের তুলনায় বেশি মূলধন প্রয়োজন হচ্ছে। মাছ আহরণ কম হলে অথবা কাঙ্খিত দামে বিক্রি করা সম্ভব না হলে, বাড়তি ব্যয়ের কারণে লোকসানের ঝুঁকিও বাড়বে।
মহিপুরের এফবি সাইমুন ট্রলারের মালিক রেজাউল মাতুব্বর বলেন, "আগে ২০০ লিটারের এক ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ছিল ২৩ হাজার ৫০০ টাকা, এখন তা কিনতে ২৭ হাজার ৫০০ টাকা লাগছে। একটি ট্রলারে সাগরে যেতে প্রায় চার ব্যারেল তেল প্রয়োজন হয়। শুধু জ্বালানি তেলেই এখন বাড়তি প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ সাগরে আগের তুলনায় মাছও কম পাওয়া যাচ্ছে। আগে কিছু টাকা সঞ্চয় থাকতো, এখন সেটাও নেই। এর সাথে স্টাফের বেতন, জাল, বরফ, খাবারসহ সবকিছুর দাম বেড়েছে। এভাবে খরচ বাড়তে থাকলে মাছ কম পাওয়ার মৌসুমে ট্রলার চালানো আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।"
কুয়াকাটা ঝাউবন এলাকার জেলে নুরুল হক বলেন, "প্রতিবছর সাগরে মাছ ধরতে নামার আগে একটি ট্রলারে দুই থেকে তিন লাখ টাকার জাল, দড়ি, বরফসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্রয় করতে হয়। এরসাথে দিন দিন জ্বালানি তেলের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। মাছের দাম বা আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। এখন আমাদের চিন্তা, ট্রলারের জন্য তেল কিনবো, নাকি সেই টাকা দিয়ে সংসার চালাবো? এভাবে খরচ বাড়তে থাকলে সংসার চালাবো কীভাবে?"
মহিপুরের মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি রাজু আহম্মেদ রাজা বলেন, "জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু জেলে ও ট্রলার মালিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; মাছ আহরণ থেকে শুরু করে ঘাটে আনা, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ, পুরো মৎস্য সরবরাহ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়ছে। শেষপর্যন্ত এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে মাছের দামেও পড়ছে।"
কুয়াকাটা মেয়র বাজারের ক্রেতা রেদওয়ানুল ইসলাম রাসেল বলেন, "জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অযুহাতে মাছের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যেকারণে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে।" তিনি আরও বলেন, "আমরা সাধারণ পরিবারের মানুষ। প্রতিবছর অন্তত বর্ষার সময়ে ইলিশ মাছ ক্রয় করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এবছর একদিকে ইলিশের আকার তুলনামূলক ছোট, অন্যদিকে দাম আকাশচুম্বী। আবার জেলেরাও প্রত্যাশিত পরিমাণ মাছ পাচ্ছেন না। সবমিলিয়ে মনে হচ্ছে, ধীরে ধীরে আমাদের রিজিক থেকে ইলিশ উঠে যাচ্ছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারজান সোহেলকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা। ১৫০ পিস ইয়াবাসহ তাকে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন কাপড়িয়াপট্টি কালীবাড়ি রোড এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার দিবাগত রাতে জেলা গোয়েন্দা শাখার সূত্রে জানা গেছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহাবুবুর রহমানের নির্দেশনায় ডিবির একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় মারজান সোহেলকে আটক করা হয় এবং তার কাছ থেকে ১৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেছে। এ সময় একটি পটকা বিস্ফোরিত হয়। বুধবার বিকেলে নগরীর কাশিপুরের বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের নিকটবর্তী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, এসআরবি ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা খবর পেয়ে ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ২০/২৫ জনের একটি গ্রুপ কাশিপুর মার্কাস মসজিদ এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের ব্যানার নিয়ে ঝটিকা মিছিল বের করে। তারা সরকার বিরোধী বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় ২/৩টি মোটরসাইকেলে এসে কয়েক যুবক একটি পটকা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে মিছিলকারী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভাগীয় কমিশনার অফিসের পশ্চিম পাশের সড়ক দিয়ে দ্রুত চলে যায়।
বরিশাল মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার জানান, "কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে একটি পটকা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে"। তিনি বলেন, "খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ