বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:১৬ পি.এম
ইরান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সফরের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ও কঠোর হুঁশিয়ারি প্রকাশ করেছে। নেতানিয়াহুকে ‘গাজার কসাই’ বলে উল্লেখ করে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাই মন্তব্য করেছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপের ফলাফল কখনোই ইতিবাচক হতে পারে না।
মহসেন রেজাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তায় জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে, ঠিক তেমনি ‘গাজার কসাইকে’ স্বাগত জানানোও কোনো ইতিবাচক ফলাফল আনবে না।
ইরান ইউএই-কে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংকটের ফলাফল থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। আবু ধাবির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, সংঘাত উসকে দেওয়া এবং ইরানি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ভিত্তিহীন দাবি তোলা থেকে বিরত থাকতে হবে।
এছাড়া, উল্লেখ্য যে, নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ইউএই সফর করেন। এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। খবর অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণের আগে ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ইসরায়েলি নেতাকে একটি বড় ধরনের হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, "যেকোনো পরিবর্তনে অস্ত্রের বদলে মূল হাতিয়ার হওয়া উচিত যুক্তি, আলোচনা, শিক্ষা ও মানবতা।"
আজ তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ (সালেহ শিবলী) এই তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো দেওয়া ভাষণে বিশ্ব শান্তি, মানবতা এবং বিশ্বায়নের যুগে দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে থাকা প্রধান বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছেন।
তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, তিনি জাতিসংঘকে এমন ভূমিকায় দেখতে চান, যেখানে যেকোনো পরিবর্তন আনার হাতিয়ার হবে যুক্তি, আলোচনা, শিক্ষা ও মানবতা; অস্ত্র নয়।"
প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে দেশের নাগরিকদের ক্ষমতায়নের ওপর বারবার গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, "নাগরিকদের ক্ষমতাহীন রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না।" এই একই বার্তা প্রধানমন্ত্রী দেশে এবং জাতিসংঘ উভয় জায়গাতেই প্রদান করেছেন।
এম ছালেহ বলেন, "প্রধানমন্ত্রী জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বর্তমান সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন পরিকল্পিত উদ্যোগের কথা জাতিসংঘে তুলে ধরেন।" ভাষণ শেষ করার সময় তিনি এমন এক স্বপ্নের বাংলাদেশের কথা বলেন- যেখানে তরুণেরা নির্দ্বিধায় স্বপ্ন পূরণ করবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করবে এবং প্রতিটি শিশু নিজের পূর্ণ সম্ভাবনাকে বিকশিত করার সুযোগ পাবে।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, "সবার ওপরে মানুষ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা পাবে।"
প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণটি কেবল গতানুগতিক বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। নিউইয়র্কে চার দিনের সফরে তিনি একাধিক দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় ও সাইডলাইন বৈঠকসহ ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও শান্তিরক্ষা কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি তাঁর সফরসঙ্গীরাও প্রায় ৫০টি অতিরিক্ত কর্মসূচিতে অংশ নেন। ফলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি বক্তব্য বিশ্বমঞ্চে বেশ জোরালোভাবে পৌঁছেছে এবং জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এসব বার্তা পেয়েছেন।
এই সফরে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, এবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি হিসাবে মাত্র ৩৫ জন প্রতিনিধি ছিলেন এবং চার্টার্ড বিমানের বদলে নিয়মিত কমার্শিয়াল ফ্লাইটে তিনি ভ্রমণ করেছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি দেশের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে এনে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে একটি মানবিক সমাজ গড়তে কাজ করছেন।
আব্দুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, "তিনি এমন একটি প্রাণবন্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চান, যেখানে মানুষ একে অপরকে সম্মান করবে, বড়রা ছোটদের স্নেহ ও যত্ন করবেন এবং ছোটরা বড়দের শ্রদ্ধা করবে।"
প্রেস সচিব বলেন, অন্যের সামনে উদাহরণ তুলে ধরার আগে প্রধানমন্ত্রী নিজের আচরণে সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চেয়েছেন।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গিকে সহনশীলতা ও মানবতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকার একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।
দেশের রাজনৈতিক অতীতের প্রসঙ্গ টেনে আব্দুল্লাহ ছালেহ বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ দমনপীড়ন ও ভয়ের সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে গেছে। নতুন একটি পর্যায়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তিনি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতি করতে এবং একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে চান।
প্রেস সচিব বলেন, "একটি সুন্দর রাষ্ট্র ও মানবিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সমাজ গড়ে তোলার যে সুযোগ এসেছে, আমরা যদি তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হই, তাহলে তা আমাদের কারও জন্যই ভালো ফল বয়ে আনবে না।"
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরকে শুধু সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া তাঁর ভাষণ দিয়ে মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। সফরকালে বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি যেসব বিস্তৃত বিষয় উত্থাপন ও আলোচনা করেছেন, সেগুলোর সামগ্রিক প্রেক্ষাপটেই সফরটিকে দেখতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, স্পিচ রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা, সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির ও সহকারী প্রেস সচিব মো. নাজমুল হক খান উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ) থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ দেখিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে শিক্ষা অফিস, হিসাবরক্ষণ অফিস ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি চক্র। এই ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন প্রায় দেড় হাজার শিক্ষক। একই সাথে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে উপজেলার অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও। আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বাগেরহাট জেলা দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কাইয়ুম হাওলাদারের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি মোরেলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিস, হিসাবরক্ষণ অফিস ও সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এবং বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে।
দুদক কর্মকর্তা আবুল কাইয়ুম হাওলাদার বিকেল ৫টার দিকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, "জালিয়াতির আশ্রয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জিপিএফ ফান্ড থেকে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। টাকাগুলো ঋণ হিসেবে বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক থেকে তোলা হয়েছে। এসব লেনদেনের বিষয়ে শিক্ষা অফিস কোনো সঠিক নথি বা রেকর্ড দেখাতে পারেনি।" হিসাবরক্ষণ অফিসের বিষয়ে তিনি বলেন, "শিক্ষকদের জিপিএফ থেকে টাকা তোলা হলেও লেজার ও অনলাইন হিসাবের মধ্যে ব্যাপক অসংগতি পাওয়া গেছে। এমনকি অনেক প্রয়োজনীয় নথিপত্রও তারা উপস্থাপন করতে পারেনি।"
সোনালী ব্যাংকের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি জানান, "জালিয়াতির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক থেকে সরাসরি নগদ টাকা তোলা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এই টাকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা করা হয়নি। তবে এ ক্ষেত্রে শিক্ষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, পরোক্ষভাবে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।" এ ঘটনায় সরকারি কোষাগার থেকে মোট কত টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং কোন দপ্তরের কতজন সদস্য এতে জড়িত, তা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আরও সময় লাগবে বলে জানান এই কর্মকর্তা। এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শেফাইনূর আরেফিন বলেন, "শিক্ষকদের জিপিএফ ফান্ড থেকে টাকা তোলা হলেও তারা সে বিষয়ে কিছুই জানেন না। এখন পর্যন্ত কতজন শিক্ষকের ফান্ড থেকে টাকা সরানো হয়েছে, তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। দিন দিন ভুক্তভোগী শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ছে। বিষয়টি বর্তমানে দুদক তদন্ত করছে।" সোনালী ব্যাংক মোরেলগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, "হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে অনুমোদিত বিল-ভাউচারের মাধ্যমে শিক্ষকদের জিপিএফ ফান্ড থেকে ঋণ হিসেবে টাকা তোলা হয়েছে। এখান থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে জমা এবং সরাসরি নগদ টাকাও তুলে নেওয়া হয়েছে। সকল লেনদেন হিসাবরক্ষণ অফিসের আনুষ্ঠানিক ‘এমবসড’ (ঊসনড়ংংবফ) সিলের মাধ্যমেই সম্পন্ন করা হয়েছে।"
জিপিএফ ফান্ড থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা তোলার বিষয়ে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ জন শিক্ষক ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক ও দুদক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রাথমিক ওই অভিযোগে প্রায় ১ কোটি টাকা বেহাত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও শিক্ষকদের দাবি-কমপক্ষে ৭০ জন শিক্ষকের জিপিএফ থেকে ঋণ দেখিয়ে চক্রটি প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে, যার কিছুই সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানতেন না। উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় গোস্বামী বলেন, "ঘটনার তদন্ত চলছে। এ জালিয়াতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এ অফিসের কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।" আত্মসাৎকৃত টাকার পরিমাণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি টাকার গরমিল পাওয়া গেছে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ না জানিয়ে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিক্ষা অফিস ও হিসাবরক্ষণ অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী শিক্ষকদের ভুয়া স্বাক্ষর জাল করে ঋণের আবেদন জমা দেন এবং ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেন। এই প্রতারক চক্রের সাথে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকাও সরাসরি জড়িত রয়েছেন বলে জোর গুঞ্জন উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারকরণের উদ্দেশ্যে ‘ব্রি অঙ্গ (পার্টনার প্রকল্প) গোপালগঞ্জ’-এর আওতায় ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে চলতি আমন মৌসুমে নতুন ও উচ্চফলনশীল জাতের মেগা ভ্যারাইটি ‘ব্রি ধান-১০৩’ চাষে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে প্রদর্শনীভুক্ত ২০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। নির্বাচিত প্রতিটি কৃষককে উপকরণ সহায়তা হিসেবে ১০ কেজি করে ব্রি ধান-১০৩ এর বীজ এবং প্রয়োজনীয় ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি, জৈব, জিপসাম ও জিংক সার প্রদান করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত এই উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রচলিত অন্য যেকোনো আমন ধানের জাতের তুলনায় ব্রি ধান-১০৩ এর উৎপাদন ক্ষমতা ও ফলন অনেক বেশি। এজন্য এটিকে একটি সম্ভাবনাময় ‘মেগা ভ্যারাইটি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রদর্শনী বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকায় এ জাতের বিস্তার ঘটবে এবং স্থানীয় কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। অনুষ্ঠানে উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রদর্শনীভুক্ত কৃষকবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদক সেবনের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পুলিশের সাথে তাদের পরিবারের মধ্যে বাদানুবাদ ঘটে। গ্রেফতারকৃতদের পরিবারের দাবি, তারা মাদকসেবী নন এবং তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। অপরদিকে, পুলিশের বক্তব্য হলো, তারা মাদকসেবী। এই পরিস্থিতি নিরসনের জন্য এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয় ডোপ টেস্ট করার। সেই অনুযায়ী ডোপ টেস্টের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, তারা গাজা, ইয়াবা এবং ঘুমের বড়ি সেবনকারী। পজিটিভ ফলাফল আসায় পরে আদালতের মাধ্যমে সিরাজুল ইসলাম রাব্বী ও সাদ্দাম হোসেন নামে দুই মাদকসেবীকে কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। ঘটনাটি ঘটেছে, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায়।
পুলিশ জানায়, বিশেষ মাদক বিরোধী অভিযানে সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের কলেজপাড়ার আজগর আলীর পুত্র সিরাজুল ইসলাম রাব্বী (৩০) এবং ঢাকালে পাড়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩২) নামে দুই মাদকসেবীকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে গ্রেফতারকৃতদের মাদকসেবন না করার অভিযোগে পুলিশের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হয়, মাদক সেবনের প্রমাণ হিসেবে ডোপ টেস্ট করানো হবে। সেই অনুযায়ী দুপুরে ওই দুইজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ডোপ টেস্ট সম্পন্ন হলে পজিটিভ ফলাফল আসায় তাদেরকে বিকালে আদালতে নেওয়া হয়। ঝিনাইদহ আদালতের সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট সব্যসাচী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) ধারার ১৬ অনুযায়ী সিরাজুল ইসলাম রাব্বীকে ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। অপরদিকে, সাদ্দাম হোসেনকে চার মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১০ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি জুলফিকার আলী জানান, দুইজন মাদকসেবীকে থানায় নিয়ে আসার পর তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য তিনি ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করেছিলেন। টেস্টের পজিটিভ ফলাফল আসায় আদালত তাদেরকে কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। তিনি আরও জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ