০৪:০৮ পি.এম
প্রায় ৯০ বছর আগে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে বিমান চালানোর সময় কিংবদন্তি বিমানচালক অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। সিএনএন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের একটি প্রত্যন্ত দ্বীপে নতুন একটি অনুসন্ধান অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, সেখান থেকেও ইয়ারহার্টের বিখ্যাত ‘লকহিড ১০ই ইলেক্ট্রা’ বিমানের ধ্বংসাবশেষের কোনো অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনভিত্তিক ‘আর্কিওলজিক্যাল লিগ্যাসি ইনস্টিটিউট’ এবং ইনডিয়ানার ‘পারডিউ বিশ্ববিদ্যালয়’-এর গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের ১৭ সদস্যের একটি যৌথ দল গত ১২ অক্টোবর নিকুমারোরো নামক নির্জন দ্বীপটিতে পৌঁছায়। এর আগে ২০২০ সালে স্যাটেলাইট ছবিতে নিকুমারোরো দ্বীপের একটি লেগুনে বিমান-আকৃতির একটি ঝাপসা বস্তু দেখা যায়, যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘তারাইয়া অবজেক্ট’। গবেষকরা ধারণা করেছিলেন, এটি হয়তো ইয়ারহার্টের নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ। তবে উচ্চপ্রযুক্তির ম্যাগনেটোমিটার ব্যবহার করে পুরো এলাকা অনুসন্ধানের পর তারা নিশ্চিত হন যে সেটি কোনো বিমানের অবশেষ নয়—বরং উপকূলে জমা হওয়া বড় বড় গাছের গুঁড়ির সমষ্টি ছিল।
অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট ১৯৩৭ সালের ২ জুলাই প্রথম নারী হিসেবে বিমানে বিশ্ব প্রদক্ষিণের ঐতিহাসিক উদ্দেশ্যে রওনা হন তার সহ-চালক ফ্রেড নুনানের সঙ্গে। নিউ গিনির লায়ে থেকে প্রশান্ত মহাসাগরের ক্ষুদ্রতম ভূখণ্ড হাওল্যান্ড দ্বীপের উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের পর তারা হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান।
আরও পড়ুন: ঢাকায় আসছেন জার্মান ভাইস মিনিস্টার ড. বারবেল কফলার
প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার যাত্রাপথে তাদের বিমানের জ্বালানি ফুরিয়ে যায় এবং গন্তব্যের কাছাকাছি মহাসাগরেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। তবে অন্য এক দলের গবেষকদের ধারণা ছিল, বিমানটি হাওল্যান্ড দ্বীপের প্রায় ৪০০ মাইল দক্ষিণে নিকুমারোরো দ্বীপে জরুরি অবতরণ করেছিল এবং সেখানেই আটকে পড়ে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় তাদের মৃত্যু হয়।
নিকুমারোরো দ্বীপে এ পর্যন্ত ১৫ বার অনুসন্ধান চালানো হলেও প্রতিবারই গবেষকদের খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। এমনকি ২০১৯ সালে বিখ্যাত সমুদ্রবিজ্ঞানী বব ব্যালার্ড এবং ২০২৪ সালে অনুসন্ধানকারী সংস্থা ‘ডিপ সি ভিশন’-এর সোনার ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেও কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি।
প্রশান্ত মহাসাগরের দুর্গম এই অ্যাটলটিতে সাম্প্রতিক মিশনটি ব্যর্থ হলেও গবেষকদের দাবি, এই তত্ত্ব যাচাই করাই তাদের মূল লক্ষ্য ছিল। অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্টের রহস্যময় অন্তর্ধানের সত্য উন্মোচনে ভবিষ্যতে গভীর সমুদ্রে আরো নতুন প্রযুক্তি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বিজ্ঞানীরা।
আরও পড়ুন: ইউরোপজুড়ে বিক্ষোভের নেতৃত্বে জেন-জি, কেন তারা ক্ষুব্ধ?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন