ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লাইসেন্স ছাড়াই ১৭ বছর বিমান চালিয়ে অবশেষে গ্রেপ্তার পাইলট


লাইসেন্স ছাড়াই ১৭ বছর বিমান চালিয়ে অবশেষে গ্রেপ্তার পাইলট

কানাডার জাতীয় বিমান সংস্থা এয়ার কানাডার এক সাবেক পাইলটের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই প্রায় ১৭ বছর যাত্রীবাহী বিমান পরিচালনা করেছেন। এ ঘটনায় প্রতারণাসহ একাধিক অভিযোগে কানাডার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

কানাডীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানা যায়, অভিযুক্ত পাইলট জিওফ্রি ওয়াল (৫৯) ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এয়ার কানাডায় ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পুলিশ দাবি করেছে, কিন্তু তার কাছে বড় বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স (এটিপিএল) ছিল না।

পিল রিজিওনাল পুলিশ জানিয়েছে, ওই সময়ে ওয়াল দেশি-বিদেশি রুটে ৯০০টির বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন, তিনি ভুয়া লাইসেন্স-সংশ্লিষ্ট নথি ব্যবহার করে নিজেকে একজন যোগ্য পাইলট হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন এবং নিয়োগকর্তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

পুলিশের ডেপুটি প্রধান নিক মিলিনোভিচ এক সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেছেন, ‘বহু বছর ধরে তিনি নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে এসেছেন। এটা একজন চিকিৎসকের মতো, যিনি সাধারণ চিকিৎসার অনুমতি নিয়ে মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার করছেন।’

এয়ার কানাডা তাদের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পাইলটকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাটি স্বেচ্ছায় কানাডার পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ট্রান্সপোর্ট কানাডাকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি আর এয়ার কানাডার কর্মী নন।

পুলিশ জানিয়েছে, নিয়মিত নথি যাচাইয়ের সময় অসঙ্গতি ধরা পড়লে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তদন্ত শুরু হয়। অবশেষে গত ১ জুন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্তে আরও অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি জালিয়াতির বিষয়ে আড়াল করতে পাইলট-সংক্রান্ত নথি চুরির একটি মিথ্যা অভিযোগও দায়ের করেছিলেন।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

এদিকে এয়ার কানাডার দাবি, উড়োজাহাজ পরিচালনার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের সব পাইলটকে প্রতি ছয় মাস অন্তর দক্ষতা মূল্যায়ন এবং প্রতি বছর অনুমোদিত পরীক্ষকের মাধ্যমে ফ্লাইট পরীক্ষা দিতে হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় ওয়াল প্রায় ২ দশমিক ৯ মিলিয়ন কানাডীয় ডলার আয় করেছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, জাল নথি ব্যবহার, জাল নথি সংরক্ষণ এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। সূত্র: এপি, আনাদুলু এজেন্সি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামালপুরে চাচা হত্যা মামলার প্রধান আসামি গাজীপুরে গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৬ এম


জামালপুরে চাচা হত্যা মামলার প্রধান আসামি গাজীপুরে গ্রেপ্তার

জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে চাচাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা মামলার প্রধান আসামী আব্দুস সালাম (৩৯) কে গাজীপুরের গাছা এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বুধবার (১০ জুন) সকালে তাকে গ্রেফতার করে দুপুরে জামালপুরে নিয়ে আসা হয়েছে।

আব্দুস সালাম জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর মধ্যপাড়া এলাকার মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার (৬ জুন) জামালপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকায় পৈতৃক কৃষি জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে চাচা আব্দুল হকের ওপর লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান ভাতিজা আব্দুস সালাম। এ সময় ভাতিজা সালামের আঘাতে চাচা আব্দুল হক ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জামালপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলা দায়ের হওয়ার পরে জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গাজীপুরের গাছা এলাকা থেকে প্রধান আসামী আব্দুস সালামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব বলেন, 'হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর পুলিশ সুপার ফারহানা ইয়াসমিনের নির্দেশে দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলা গ্রহণ করা হয়। আমরা আসামি গ্রেফতারে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাজীপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।'

তিনি আরও বলেন, 'আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিগারেট-মদসহ যেসব পণ্যের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৯ এম


সিগারেট-মদসহ যেসব পণ্যের দাম বাড়ছে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য জাতীয় বাজেট আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে পেশ করার পরিকল্পনা করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি হলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট।

বাজেটটি পাস হলে এটি দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট হিসেবে বিবেচিত হবে। পাশাপাশি, এটি বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীরও প্রথম বাজেট হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।

জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।

এই বাজেটে মোট রাজস্ব আয় অর্জনের লক্ষ্য ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ঘাটতি বাজেট হতে পারে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

বাজেটে বিভিন্ন ধরনের পণ্যে করছাড়ের কথা ভাবছে সরকার, যা মোট ৬০টিরও বেশি নিত্যপণ্যসহ অন্তর্ভুক্ত। তবে কিছু পণ্যের ওপর বাড়তি ভ্যাট আরোপ করা হবে, ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে যারা নতুন অর্থবছরে বাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য কিছুটা দুঃসংবাদ রয়েছে। আবাসন খাতের প্রধান উপাদান এমএস রডে এবং এ জাতীয় পণ্যের উৎপাদন স্তরে সুনির্দিষ্ট কর ও ভ্যাট প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে রডের দাম বৃদ্ধি পাবে।

এমনকি ধূমপায়ীরাও এই পরিবর্তনের আওতা থেকে মুক্ত নন। সিগারেটের ফিল্টার তৈরির কাঁচামালের ওপর ৩০০ শতাংশ এবং নিকোটিনের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এছাড়া, নিকোটিন পাউচের ওপর ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হচ্ছে। উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের দাম ১৮৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

দেশে উৎপাদিত অ্যালকোহল বা মদের ওপর লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপ করার প্রস্তাব আসতে পারে, যা মদের দাম বৃদ্ধি করবে।

উচ্চমূল্যের বিলাসী খাবার এবং নতুন করে ১০টি পণ্যের আমদানিতে ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিদেশ থেকে আমদানি করা উচ্চ মূল্যের হিমায়িত মাছে ১৫ শতাংশ নতুন ভ্যাট আরোপ হতে পারে।

দেশীয় চাষীদের সুরক্ষার জন্য কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্কহার ৫ শতাংশ থেকে একলাফে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যে কারণে হাইতিকে জার্সি পরিবর্তনের নির্দেশ দিল ফিফা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫৪ এম


যে কারণে হাইতিকে জার্সি পরিবর্তনের নির্দেশ দিল ফিফা

বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে প্রতিটি দলের জার্সি। অনেক সময়, একটি দেশের পরিচয়, ইতিহাস ও সংস্কৃতি সেই জার্সির নকশার মাধ্যমে ফুটে ওঠে। তবে বিশ্বকাপের শুরুতে মাত্র একদিন আগে, জার্সির কারণে বিপাকে পড়েছে হাইতি।

ফিফা মনে করছে, হাইতির জার্সিতে রাজনৈতিক বার্তার ইঙ্গিত রয়েছে। এই কারণেই বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা দলটির জার্সির নকশায় পরিবর্তন আনার অনুরোধ করেছে।

হাইতির জার্সি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সায়েতা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফিফার অনুরোধ মেনে জার্সির নকশায় কিছু পরিবর্তন আনার বিষয়টি তারা ভাবনা-চিন্তা করছে। তাদের দাবি হলো, জার্সিতে কোনো রাজনৈতিক বার্তা বা অবস্থান তুলে ধরা হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, হাইতির নারী ও পুরুষদের সংগ্রাম, স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অগ্রগতিকে সামনে রেখেই এই জার্সির নকশা করা হয়েছে। কিন্তু জার্সির নিচের অংশে ব্যবহৃত বিশেষ নীল ও লাল রঙের বিন্যাস ফিফা রাজনৈতিক বার্তার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।

এবারের জার্সির মূল ভাবনা ছিল হাইতির ইতিহাস ও জাতীয় গৌরব। নকশার ধারণা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সায়েতা জানিয়েছে, দুই শতাব্দীরও বেশি জন্ম নেওয়া একটি জাতির নতুন অধ্যায়ের প্রতীক হিসেবে এই জার্সিটি তৈরি করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি শুধু একটি খেলার পোশাক নয়, বরং দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবের বহিঃপ্রকাশ।

তবে ফিফার আপত্তির কারণে, বিশ্বকাপের ঠিক আগে জার্সির নকশায় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে হাইতিকে। ফলে মাঠে নামার পূর্বেই আলোচনা কেন্দ্রে এসে পড়েছে দলটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাবার দেখানো পথেই এগোচ্ছেন তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫৮ এম


বাবার দেখানো পথেই এগোচ্ছেন তারেক রহমান

জাতীয় বাজেট ঘোষণার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করছেন। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি তিনটি বাজেট ঘোষণা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তার প্রথম বাজেটেই তিনি শিক্ষা, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়াকে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। এর পাশাপাশি, প্রথম বাজেটে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশের ধারণাকে সাথে নিয়ে কৃষি ও উৎপাদনব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিশেষভাবে বিবেচনা করেছিলেন। ১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ১ হাজার ৯৮৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এর প্রায় ৫০ বছর পর দেশে পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বাজেট উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। এতে তিনি এক বৈষম্যহীন দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে উপরোক্ত প্রথম বাজেট ঘোষণা করার জন্য এগিয়ে যাচ্ছেন। যেখানে তিনি শিক্ষা খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ খাতে এতো অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার আগে কোনো সরকারও এতো বেশি গুরুত্ব দেয়নি। তিনি একক খাত হিসেবে এই শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ ৫৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। একইসাথে তিনি বিপর্যস্ত অর্থনীতির পুনরুদ্ধার করে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন এবং ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যে অঙ্গীকারবদ্ধ। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি শুরু করেছেন। বিস্তৃত কর্মসৃজনের জন্য সৃজনশীল অর্থনীতির প্রবর্তন করার পরিকল্পনা করছেন লাল-সবুজের বাংলাদেশে। দেশের অর্থনৈতিক সংকট থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সংকোচননীতিকে পাশ কাটিয়ে বিএনপি সরকারের নেতৃত্বে বিশাল বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হবে। সেই সময়, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় আরও দুটি বাজেট ঘোষণা করেছিলেন (১৯৭৭-৭৮ ও ১৯৭৮-৭৯ অর্থবছর) যেখানে শিক্ষা খাতকে প্রধান অগ্রাধিকার দেন। তার পক্ষ থেকে মুক্তবাজার অর্থনীতির ব্যবস্থা প্রবর্তন করার মাধ্যমে স্বনির্ভর বাংলাদেশের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পরবর্তী দুটি বাজেটেও তিনি হন। অধিকন্তু, মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারণা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছিল। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজনীয় বলে মনে করতেন জিয়াউর রহমান। তিনি যে কৃষি উৎপাদনে উন্নতি ঘটান তার জন্য খাল খনন কর্মসূচি কার্যকর পরিকল্পনা করেছিলেন। কারণ তখন যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ খরচ করে কৃষিক্ষেত্রে সেচ দেওয়ার সুবিধা ছিল না। এজন্য তিনি বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এতে কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম হন। রাষ্ট্রব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে কর আদায় ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো (এডিপি) বৃদ্ধি করতে পেরেছিলেন। অর্থনীতিকে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পর্যায় থেকে মুক্তবাজারে প্রবেশ করাতে চেষ্টা করেছিলেন। এক্ষেত্রে, তারেক রহমান কাছাকাছি ভাবনার সঙ্গে নতুন বাজেটে দেশের অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে বিনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি চালু করতে পরিকল্পনা করছেন। অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে অলসভাবে চর্চা করা নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ কমানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন শাসন ও প্রতিবেদনে প্রতিবন্ধকতা হ্রাসের লক্ষ্যে যথাযথ প্রকৌশল প্রয়োগের আশা আছে। ওয়ান-স্টপ পদ্ধতি চালু করা হবে যাতে একাধিক দপ্তরে ঘোরাঘুরি এবং একই নথি বারবার দাখিল করা থেকে পরিহার করা যায়। সঠিক সময় ফাইল এবং প্রস্তাব অনুমোদনের পদ্ধতি পদ্ধতিগতভাবে কর্মসম্পাদনে সহায়ক হতে পারে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের সুবিধার্থে ফর্মের সংখ্যা হ্রাস, রেকর্ডপত্র সহজীকরণ এবং রেজিস্টার একীভূতকরণের কাজ হবে। বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপায় হিসেবে ডিজিটাল সেবার প্রসার, সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম, লাইসেন্স প্রক্রিয়ার সময় ও ব্যয় হ্রাসের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজস্ব খাতে কর-ভ্যাট-শুল্ক আধুনিকীকরণ এবং তথ্যভিত্তিক নিরীক্ষা করার ভিত্তির ওপর নির্মাণ হচ্ছে। দেশকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত রাখতে এবং বেকারত্ব দূর করার জন্য সৃজনশীল অর্থনীতির আওতায় নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা হচ্ছে। প্রান্তিক মানুষকে সেবা দেয়ার জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি প্রসারের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। সামাজিক সুরক্ষা খাতেও রেকর্ড পরিমাণ ১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হচ্ছে। জিয়াউর রহমানের বাজেটের মূলনীতি হিসেবে মুক্তবাজার অর্থনীতি, ব্যক্তি খাতের প্রসার ও স্বনির্ভরতা ছিল। দেশের কৃষিতে স্বয়ংসিদ্ধতা অর্জনের জন্য ভর্তুকি, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও উন্নত বীজ ব্যবহারের দিকে লক্ষ্য করা হয়েছে। 'স্বনির্ভর বাংলাদেশ' গড়ার লক্ষ্যে গ্রামের সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের কথা বলা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিরা কাজ পাচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে খাল খনন ও রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে। বর্তমান সরকারের তিন বছরের বাজেট পরিকল্পনায় এসব নীতিগুলোও গ্রহণ করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান তার প্রথম বাজেটের আওতায় ব্যক্তিগত আয়করের করমুক্ত সীমা ৮ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করেছিলেন। বর্তমানে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হচ্ছে। শিল্প ও বাণিজ্যে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অনেক খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার লক্ষ্যে উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন শিল্প স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। জাতীয়করণ করা কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। আমদানি-নীতির সংস্কার এবং কাঁচামাল ও শিল্পযন্ত্রপাতি আমদানিতে শিথিলতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য কিছু কর-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক সমন্বয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শিল্প ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করার কাজ চলছে। বাংলাদেশকে কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের উদ্যোগও নেওয়া হবে। দক্ষ জনবল তৈরি করা হবে এবং বিদেশে শ্রমিক পাঠানো হবে। সাবেক পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দীন মাহমুদ বলেন, সরকার একটি বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক অবস্থায় রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচেষ্টা ছিল তা স্বাভাবিক করার কিন্তু বাংলাদেশের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে। তাই বর্তমান সরকারের উচিত হবে একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে নেওয়া। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এটি তাদের নিয়মিত বাজেট। ফলে চাহিদা ও প্রত্যাশা রয়েছে, বিশেষত জিয়াউর রহমানের মুক্তবাজার অর্থনীতির কাজ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকারের হাতে শিক্ষা এবং বেসরকারি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%