০৮:৪১ এম
কানাডার জাতীয় বিমান সংস্থা এয়ার কানাডার এক সাবেক পাইলটের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই প্রায় ১৭ বছর যাত্রীবাহী বিমান পরিচালনা করেছেন। এ ঘটনায় প্রতারণাসহ একাধিক অভিযোগে কানাডার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
কানাডীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানা যায়, অভিযুক্ত পাইলট জিওফ্রি ওয়াল (৫৯) ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এয়ার কানাডায় ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পুলিশ দাবি করেছে, কিন্তু তার কাছে বড় বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স (এটিপিএল) ছিল না।
পিল রিজিওনাল পুলিশ জানিয়েছে, ওই সময়ে ওয়াল দেশি-বিদেশি রুটে ৯০০টির বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন, তিনি ভুয়া লাইসেন্স-সংশ্লিষ্ট নথি ব্যবহার করে নিজেকে একজন যোগ্য পাইলট হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন এবং নিয়োগকর্তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
পুলিশের ডেপুটি প্রধান নিক মিলিনোভিচ এক সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেছেন, ‘বহু বছর ধরে তিনি নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দিয়ে এসেছেন। এটা একজন চিকিৎসকের মতো, যিনি সাধারণ চিকিৎসার অনুমতি নিয়ে মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার করছেন।’
এয়ার কানাডা তাদের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পাইলটকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাটি স্বেচ্ছায় কানাডার পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ট্রান্সপোর্ট কানাডাকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি আর এয়ার কানাডার কর্মী নন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিয়মিত নথি যাচাইয়ের সময় অসঙ্গতি ধরা পড়লে চলতি বছরের জানুয়ারিতে তদন্ত শুরু হয়। অবশেষে গত ১ জুন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তে আরও অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি জালিয়াতির বিষয়ে আড়াল করতে পাইলট-সংক্রান্ত নথি চুরির একটি মিথ্যা অভিযোগও দায়ের করেছিলেন।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
এদিকে এয়ার কানাডার দাবি, উড়োজাহাজ পরিচালনার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের সব পাইলটকে প্রতি ছয় মাস অন্তর দক্ষতা মূল্যায়ন এবং প্রতি বছর অনুমোদিত পরীক্ষকের মাধ্যমে ফ্লাইট পরীক্ষা দিতে হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় ওয়াল প্রায় ২ দশমিক ৯ মিলিয়ন কানাডীয় ডলার আয় করেছেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, জাল নথি ব্যবহার, জাল নথি সংরক্ষণ এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। সূত্র: এপি, আনাদুলু এজেন্সি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন