০৮:৫৮ এম
জাতীয় বাজেট ঘোষণার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করছেন। প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি তিনটি বাজেট ঘোষণা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তার প্রথম বাজেটেই তিনি শিক্ষা, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়াকে মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। এর পাশাপাশি, প্রথম বাজেটে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশের ধারণাকে সাথে নিয়ে কৃষি ও উৎপাদনব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিশেষভাবে বিবেচনা করেছিলেন। ১৯৭৬-৭৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ১ হাজার ৯৮৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এর প্রায় ৫০ বছর পর দেশে পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বাজেট উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। এতে তিনি এক বৈষম্যহীন দেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে উপরোক্ত প্রথম বাজেট ঘোষণা করার জন্য এগিয়ে যাচ্ছেন। যেখানে তিনি শিক্ষা খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ খাতে এতো অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার আগে কোনো সরকারও এতো বেশি গুরুত্ব দেয়নি। তিনি একক খাত হিসেবে এই শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ ৫৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। একইসাথে তিনি বিপর্যস্ত অর্থনীতির পুনরুদ্ধার করে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন এবং ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যে অঙ্গীকারবদ্ধ। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি শুরু করেছেন। বিস্তৃত কর্মসৃজনের জন্য সৃজনশীল অর্থনীতির প্রবর্তন করার পরিকল্পনা করছেন লাল-সবুজের বাংলাদেশে। দেশের অর্থনৈতিক সংকট থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সংকোচননীতিকে পাশ কাটিয়ে বিএনপি সরকারের নেতৃত্বে বিশাল বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হবে। সেই সময়, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় আরও দুটি বাজেট ঘোষণা করেছিলেন (১৯৭৭-৭৮ ও ১৯৭৮-৭৯ অর্থবছর) যেখানে শিক্ষা খাতকে প্রধান অগ্রাধিকার দেন। তার পক্ষ থেকে মুক্তবাজার অর্থনীতির ব্যবস্থা প্রবর্তন করার মাধ্যমে স্বনির্ভর বাংলাদেশের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পরবর্তী দুটি বাজেটেও তিনি হন। অধিকন্তু, মুক্তবাজার অর্থনীতির ধারণা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তার ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছিল। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজনীয় বলে মনে করতেন জিয়াউর রহমান। তিনি যে কৃষি উৎপাদনে উন্নতি ঘটান তার জন্য খাল খনন কর্মসূচি কার্যকর পরিকল্পনা করেছিলেন। কারণ তখন যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ খরচ করে কৃষিক্ষেত্রে সেচ দেওয়ার সুবিধা ছিল না। এজন্য তিনি বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এতে কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম হন। রাষ্ট্রব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে কর আদায় ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো (এডিপি) বৃদ্ধি করতে পেরেছিলেন। অর্থনীতিকে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পর্যায় থেকে মুক্তবাজারে প্রবেশ করাতে চেষ্টা করেছিলেন। এক্ষেত্রে, তারেক রহমান কাছাকাছি ভাবনার সঙ্গে নতুন বাজেটে দেশের অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে বিনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি চালু করতে পরিকল্পনা করছেন। অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে অলসভাবে চর্চা করা নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ কমানোর চিন্তাভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন শাসন ও প্রতিবেদনে প্রতিবন্ধকতা হ্রাসের লক্ষ্যে যথাযথ প্রকৌশল প্রয়োগের আশা আছে। ওয়ান-স্টপ পদ্ধতি চালু করা হবে যাতে একাধিক দপ্তরে ঘোরাঘুরি এবং একই নথি বারবার দাখিল করা থেকে পরিহার করা যায়। সঠিক সময় ফাইল এবং প্রস্তাব অনুমোদনের পদ্ধতি পদ্ধতিগতভাবে কর্মসম্পাদনে সহায়ক হতে পারে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের সুবিধার্থে ফর্মের সংখ্যা হ্রাস, রেকর্ডপত্র সহজীকরণ এবং রেজিস্টার একীভূতকরণের কাজ হবে। বিনিয়োগ বৃদ্ধির উপায় হিসেবে ডিজিটাল সেবার প্রসার, সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম, লাইসেন্স প্রক্রিয়ার সময় ও ব্যয় হ্রাসের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজস্ব খাতে কর-ভ্যাট-শুল্ক আধুনিকীকরণ এবং তথ্যভিত্তিক নিরীক্ষা করার ভিত্তির ওপর নির্মাণ হচ্ছে। দেশকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত রাখতে এবং বেকারত্ব দূর করার জন্য সৃজনশীল অর্থনীতির আওতায় নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করা হচ্ছে। প্রান্তিক মানুষকে সেবা দেয়ার জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচি প্রসারের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। সামাজিক সুরক্ষা খাতেও রেকর্ড পরিমাণ ১ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হচ্ছে। জিয়াউর রহমানের বাজেটের মূলনীতি হিসেবে মুক্তবাজার অর্থনীতি, ব্যক্তি খাতের প্রসার ও স্বনির্ভরতা ছিল। দেশের কৃষিতে স্বয়ংসিদ্ধতা অর্জনের জন্য ভর্তুকি, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও উন্নত বীজ ব্যবহারের দিকে লক্ষ্য করা হয়েছে। 'স্বনির্ভর বাংলাদেশ' গড়ার লক্ষ্যে গ্রামের সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের কথা বলা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিরা কাজ পাচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে খাল খনন ও রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে। বর্তমান সরকারের তিন বছরের বাজেট পরিকল্পনায় এসব নীতিগুলোও গ্রহণ করা হয়েছে। জিয়াউর রহমান তার প্রথম বাজেটের আওতায় ব্যক্তিগত আয়করের করমুক্ত সীমা ৮ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করেছিলেন। বর্তমানে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হচ্ছে। শিল্প ও বাণিজ্যে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অনেক খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার লক্ষ্যে উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন শিল্প স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। জাতীয়করণ করা কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। আমদানি-নীতির সংস্কার এবং কাঁচামাল ও শিল্পযন্ত্রপাতি আমদানিতে শিথিলতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য কিছু কর-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক সমন্বয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শিল্প ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করার কাজ চলছে। বাংলাদেশকে কর্মসংস্থানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের উদ্যোগও নেওয়া হবে। দক্ষ জনবল তৈরি করা হবে এবং বিদেশে শ্রমিক পাঠানো হবে। সাবেক পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দীন মাহমুদ বলেন, সরকার একটি বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক অবস্থায় রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচেষ্টা ছিল তা স্বাভাবিক করার কিন্তু বাংলাদেশের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে। তাই বর্তমান সরকারের উচিত হবে একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে নেওয়া। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এটি তাদের নিয়মিত বাজেট। ফলে চাহিদা ও প্রত্যাশা রয়েছে, বিশেষত জিয়াউর রহমানের মুক্তবাজার অর্থনীতির কাজ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকারের হাতে শিক্ষা এবং বেসরকারি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন