প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কানাডা শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশটির সরকার নতুন একটি বিল উত্থাপন করেছে, যা পাস হলে কানাডা অস্ট্রেলিয়ার পর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দেশগুলোর কাতারে যুক্ত হবে।
‘সেফ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্ট’ নামে প্রস্তাবিত আইনে ১৬ বছরের নিচে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলা কিংবা ব্যবহার সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে এই আইনে অস্ট্রেলিয়ার আইনটির তুলনায় কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি প্রমাণ করতে পারে যে তারা অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষতি কমাতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তাহলে তারা কিছু ক্ষেত্রে ছাড় পেতে পারে।
কানাডার সংস্কৃতিমন্ত্রী মার্ক মিলার বুধবার পার্লামেন্টে বিলটি উত্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, অনলাইন ক্ষতি মোকাবিলায় আইন প্রণয়ন এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
নতুন আইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) চ্যাটবট নিয়ন্ত্রণ ও শিশুদের জন্য ক্ষতিকর কনটেন্ট সীমিত করার বিধানও রাখা হয়েছে। আইন বাস্তবায়নের জন্য একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ডিজিটাল সেফটি কমিশন অব কানাডা’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিলে সাত ধরনের ‘ক্ষতিকর কনটেন্ট’-এর উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে শিশুদের হয়রানি, ঘৃণা ছড়ানো, সহিংসতায় উসকানি দেওয়া এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আইন ভঙ্গ করলে কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সর্বাধিক এক কোটি কানাডিয়ান ডলার অথবা বৈশ্বিক আয়ের ৩ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
প্রস্তাবিত আইনটি নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা কয়েকটি সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, নতুন আইন অনলাইনে সেন্সরশিপের পরিধি বাড়াতে পারে। তাদের মতে, এসব সমস্যা বিদ্যমান ফৌজদারি আইন দিয়েই মোকাবিলা করা সম্ভব।
বিশ্বজুড়ে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে চলছে। ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও নিউজিল্যান্ড এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের আইন বা নীতিমালা গ্রহণ করেছে। আগামী সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ সম্মেলনেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে আসতে পারে বলে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি জানিয়ে দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন