ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে যৌথ উদ্যোগের তাগিদ


বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে যৌথ উদ্যোগের তাগিদ

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বাংলাদেশের ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাতে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বৈঠকে নজরুল বর্ষ উদযাপন, শিল্পী ও গবেষক বিনিময়, ধ্রুপদি সংগীত, লোকসংস্কৃতি, তরুণ প্রতিভা বিকাশ এবং সামুদ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের যৌথ উদ্যোগের বিষয়গুলি উঠে এসেছে।

রবিবার সকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রীর দপ্তরে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও সচিব মিজ ইয়াসমিন বেগম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার এবং ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের পরিচালকও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কেবল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্ক নয়, বরং এটি একটি আত্মার সম্পর্ক। দুই দেশের মানুষের ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, লোকঐতিহ্য এবং মানবিক মূল্যবোধের মধ্যে যে গভীর সেতুবন্ধন রয়েছে, সেটিই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের শক্তিশালী ভিত্তি।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন

তিনি আরও বলেন, জাতির প্রকৃত পরিচয় তার সংস্কৃতি। সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে না, বরং ঐক্যবদ্ধ করে। উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী মোহাম্মদ রফি, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, অলকা ইয়াগনিক এবং পণ্ডিত রবিশঙ্করের শিল্পকর্ম দুই দেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে অনুরণিত হয়েছে। তাদের সৃষ্টিশীল অবদান প্রমাণ করে, শিল্প ও সংস্কৃতি সীমান্তের গণ্ডি অতিক্রম করে মানুষের হৃদয়ের ভাষায় কথা বলে।

চলমান নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশে আয়োজিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভারতের খ্যাতিমান নজরুল গবেষক, শিল্পী ও সংস্কৃতিবিদদের অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন শাহ এবং বাংলা লোকসংগীতকে দুই দেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে ধর্মীয় উগ্রবাদ, অসহিষ্ণুতা এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক জাগরণ কার্যকর প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করতে পারে। সাহিত্য, সংগীত, নাটক এবং লোকসংস্কৃতির মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতির চর্চা জোরদারে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

সাক্ষাতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম প্রস্তাব দেন যে, দুই দেশের মধ্যে একটি ধ্রুপদি সংগীত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে ভারত থেকে দুজন ধ্রুপদি সংগীতশিল্পীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বাংলাদেশে কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাবও তিনি দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: দেশে ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা

ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক একটি আত্মার সম্পর্ক। খাদ্যাভ্যাস, ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির বহু ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে গভীর অভিন্নতা রয়েছে।

তিনি বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সংগীত এবং সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দেশ হিসেবে উল্লেখ করে কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থান পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়ায় আরও ব্যাপক পরিসরে আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ওই আয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।

পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিয়মিত যৌথ অনুষ্ঠান আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন হাইকমিশনার। তিনি বলেন, দুই দেশের তরুণ প্রতিভাবানদের জন্য যৌথ প্রশিক্ষণ, আবাসিক কর্মসূচি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম চালু করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও সুদৃঢ় হবে।

বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে সামুদ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ গবেষণা এবং সাংস্কৃতিক উদ্যোগ নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন দীনেশ ত্রিবেদী।

আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি এবং অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও জোরদার ও নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে নিপ্পন ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারের সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ পি.এম


পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে নিপ্পন ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারের সাক্ষাৎ

জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ার ইয়োহেই সাসাকাওয়া ঢাকায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করেছেন।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বৈঠকে ইয়োহেই সাসাকাওয়া বলেন, নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময়ের গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তার মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের সহযোগিতার যাত্রা শুরু হয়।

তিনি বলেন, এরপর থেকে নিপ্পন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের জনগণের পাশে থেকে উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিভিন্ন উদ্যোগে সহযোগিতা করে আসছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটির কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে সাসাকাওয়া আরও জানান, গত ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি ও তার সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), বিভিন্ন সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, এনজিও এবং কুষ্ঠ আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছেন।

বাংলাদেশে কুষ্ঠ রোগীদের সহায়তায় তারা কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও জাপানের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য জাপানের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে জাপানের প্রচেষ্টাকে বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এই দীর্ঘস্থায়ী মানবিক ও আঞ্চলিক সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করতে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফকল্যান্ডের আশপাশে তেল প্রকল্পে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি আর্জেন্টিনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৪ পি.এম


ফকল্যান্ডের আশপাশে তেল প্রকল্পে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি আর্জেন্টিনার

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে অনুমোদন ছাড়া তেল ও গ্যাসের কাজে যুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে আর্জেন্টিনা।

দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই মন্তব্য করেছেন, ফকল্যান্ডসের ওপর আর্জেন্টিনার দাবির পক্ষে বর্তমানে ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ বইছে।

এটি জানানো হয়েছে সংবাদ সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে। দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জটি ব্রিটেনের একটি বিদেশি ভূখণ্ড হিসেবে পরিচিত। আর্জেন্টাইনরা এই দ্বীপপুঞ্জকে ‘লাস মালভিনাস’ নামে অভিহিত করে থাকে। ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ১০ সপ্তাহের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের দপ্তর শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, ফকল্যান্ডের আশপাশে ‘হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত’ ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে বিবৃতিতে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়নি। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্রিটিশ, মার্কিন, কানাডীয়, ইসরাইলি, ডেনিশ ও ডাচ কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শনিবার বিকেলে তেলক্ষেত্রের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান শ্লামবার্জার, হ্যালিবার্টন ও বেকার হিউজ পৃথক বিবৃতিতে জানায়, তারা ফকল্যান্ডের আশপাশে হাইড্রোকার্বন প্রকল্পে কাজ করে না এবং ভবিষ্যতেও কাজ করবে না।

এরপর মিলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ওই তিন কোম্পানির বক্তব্য নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ শেয়ার করেন। পোস্টের সঙ্গে তিনি এমন একটি সংক্ষিপ্ত শব্দ ব্যবহার করেন, যার অর্থ দাঁড়ায়— ‘সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে।’

ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এবং বর্তমানে ব্রিটেনের প্রশাসনের অধীনে রয়েছে। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ শুরুর ৭৪ দিন পর আর্জেন্টিনা আত্মসমর্পণ করে। ওই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন।

বৃহস্পতিবার এক ভাষণে মিলেই আবারও ফকল্যান্ডের ওপর আর্জেন্টিনার দাবি তুলে ধরেন এবং দ্বীপপুঞ্জটির আশপাশে তেল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন।

মিলেই বলেন, ‘বিশ্বে পরিবর্তনের এমন হাওয়া বইছে, যা আমাদের দাবির পক্ষে অনুকূল।’

মিলেইয়ের এই বক্তব্যের আগে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ফকল্যান্ডস ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান পর্যালোচনা করছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটেন ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয় না বাড়ালে দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জের ওপর ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের বিরোধিতা করার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

এর জবাবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ফকল্যান্ডসের প্রতি ব্রিটেনের ‘অটুট’ অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশ, কারণ ফকল্যান্ডের বাসিন্দারা ব্রিটিশ হিসেবে থাকতে চান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত অভিবাসীদের গ্রহণে রাজি গায়ানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৫ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত অভিবাসীদের গ্রহণে রাজি গায়ানা

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত কিছু অভিবাসীকে গ্রহণ করার জন্য সম্মতি প্রদান করেছে। শনিবার, গায়ানার সরকার এ বিষয়ে একটি চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে।

হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনঃপ্রবেশের পর, তার প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করে। এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে, অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরানোর পরিবর্তে ‘তৃতীয় কোনো দেশে’ পাঠানোর উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।

এতে খবর প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা এএফপি।

গায়ানা জানায়, যেসব বহিষ্কৃত অভিবাসীর অপরাধের কোনো রেকর্ড নেই, তাদের মধ্যে সীমিতসংখ্যককে তারা গ্রহণ করবে।

গায়ানার প্রেসিডেন্ট ইরফান আলীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট ইরফান আলীর সরকার এই ব্যবস্থাকে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে গায়ানার দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের সম্প্রসারণ হিসেবে দেখছে।’

মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশও যুক্তরাষ্ট্রের এই বহিষ্কার কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০ জন ভেনেজুয়েলানকে এল সালভাদরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারাগার সেকোটে পাঠানো হয়েছে।

তবে গায়ানা তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই ব্যবস্থা ‘সাময়িক এবং এর মাধ্যমে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।’

কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, অভিবাসীদের ‘স্বেচ্ছায় গায়ানায় স্থানান্তর করা হবে’ এবং সেখানে অবস্থান করেই তারা নিজেদের অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থার সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করবেন।

সিদ্ধান্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হয় নিজ দেশে ফিরে যাবেন অথবা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী অন্য কোনো দেশে চলে যাবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূর্ব জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে এএফডি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:৫৬ পি.এম


পূর্ব জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে এএফডি

রোববার, সাবেক কমিউনিস্ট পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন জার্মানির ভোটাররা। সেখানে অভিবাসনবিরোধী, মস্কোপন্থী ও উগ্র ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) বড় ব্যবধানে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এটি খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

স্যাক্সনি-আনহাল্টে, এএফডি কয়েক মাস ধরে ৪০ শতাংশের বেশি জনসমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছে এবং এবার তারা প্রথমবারের মতো রাজ্য সরকার গঠনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে, সেই সম্ভাবনা এখনো নিশ্চিত নয়।

ছোট এই রাজ্যটি বর্তমানে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের মধ্য-ডানপন্থী দল সিডিইউ ও আরও দুটি ছোট দলের জোট সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সভেন শুলৎস আবারও একাধিক দলের জোট গড়ে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

এএফডির সঙ্গে সহযোগিতা না করার নীতি বজায় রেখেছে জার্মানির অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। তারা এটিকে একটি ‘ফায়ারওয়াল’ বা রাজনৈতিক প্রতিরোধব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন। জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা স্যাক্সনি-আনহাল্ট শাখা এএফডিকে ‘উগ্র ডানপন্থী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।

এএফডির প্রধান প্রার্থী উলরিশ জিগমুন্ড। ৩৫ বছর বয়সী এই জনপ্রিয় প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারে রকস্টারের মতো উচ্ছ্বাস পাচ্ছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার বিশাল অনুসারী রয়েছে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন।

দৈনিক বিল্ডকে তিনি বলেছেন, ‘ফায়ারওয়াল বা রাজনৈতিক প্রতিরোধব্যবস্থা অন্যরাই তৈরি করেছে। কেউ যদি আমাদের সঙ্গে কাজ করতে না চায়, তাহলে আমাদের একাই এগিয়ে যেতে হবে।’

এমন পরিস্থিতি বা ফলাফল জার্মানির রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও হলোকাস্টের ভয়াবহ অতীতের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অনুশোচনা ও দায় স্বীকার করে আসা জার্মানি এখন পর্যন্ত উগ্রপন্থী দলগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

এএফডির বড় জয় হলে চ্যান্সেলর মের্ৎসের ওপর চাপ বাড়বে। স্থবির অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানো এবং অনিয়মিত অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপে তার দল এএফডির কাছে পিছিয়ে পড়েছে।

ক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী উলফগ্যাং শ্রোডার মন্তব্য করেছেন, ‘স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডি জিতলে মের্ৎসের সমালোচকেরা আরও সোচ্চার হবেন এবং আরও ভালো নেতৃত্বের দাবিও উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%