রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৫৪ পি.এম
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে অনুমোদন ছাড়া তেল ও গ্যাসের কাজে যুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে আর্জেন্টিনা।
দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই মন্তব্য করেছেন, ফকল্যান্ডসের ওপর আর্জেন্টিনার দাবির পক্ষে বর্তমানে ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ বইছে।
এটি জানানো হয়েছে সংবাদ সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে। দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জটি ব্রিটেনের একটি বিদেশি ভূখণ্ড হিসেবে পরিচিত। আর্জেন্টাইনরা এই দ্বীপপুঞ্জকে ‘লাস মালভিনাস’ নামে অভিহিত করে থাকে। ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ১০ সপ্তাহের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের দপ্তর শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, ফকল্যান্ডের আশপাশে ‘হাইড্রোকার্বন অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত’ ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে বিবৃতিতে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়নি। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্রিটিশ, মার্কিন, কানাডীয়, ইসরাইলি, ডেনিশ ও ডাচ কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শনিবার বিকেলে তেলক্ষেত্রের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান শ্লামবার্জার, হ্যালিবার্টন ও বেকার হিউজ পৃথক বিবৃতিতে জানায়, তারা ফকল্যান্ডের আশপাশে হাইড্রোকার্বন প্রকল্পে কাজ করে না এবং ভবিষ্যতেও কাজ করবে না।
এরপর মিলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ওই তিন কোম্পানির বক্তব্য নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ শেয়ার করেন। পোস্টের সঙ্গে তিনি এমন একটি সংক্ষিপ্ত শব্দ ব্যবহার করেন, যার অর্থ দাঁড়ায়— ‘সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে।’
ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এবং বর্তমানে ব্রিটেনের প্রশাসনের অধীনে রয়েছে। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ শুরুর ৭৪ দিন পর আর্জেন্টিনা আত্মসমর্পণ করে। ওই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন।
বৃহস্পতিবার এক ভাষণে মিলেই আবারও ফকল্যান্ডের ওপর আর্জেন্টিনার দাবি তুলে ধরেন এবং দ্বীপপুঞ্জটির আশপাশে তেল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন।
মিলেই বলেন, ‘বিশ্বে পরিবর্তনের এমন হাওয়া বইছে, যা আমাদের দাবির পক্ষে অনুকূল।’
মিলেইয়ের এই বক্তব্যের আগে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ফকল্যান্ডস ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান পর্যালোচনা করছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটেন ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয় না বাড়ালে দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জের ওপর ব্রিটিশ সার্বভৌমত্বের বিরোধিতা করার হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
এর জবাবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ফকল্যান্ডসের প্রতি ব্রিটেনের ‘অটুট’ অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশ, কারণ ফকল্যান্ডের বাসিন্দারা ব্রিটিশ হিসেবে থাকতে চান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানা যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত কিছু অভিবাসীকে গ্রহণ করার জন্য সম্মতি প্রদান করেছে। শনিবার, গায়ানার সরকার এ বিষয়ে একটি চুক্তির কথা ঘোষণা করেছে।
হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনঃপ্রবেশের পর, তার প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করে। এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে, অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরানোর পরিবর্তে ‘তৃতীয় কোনো দেশে’ পাঠানোর উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।
এতে খবর প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা এএফপি।
গায়ানা জানায়, যেসব বহিষ্কৃত অভিবাসীর অপরাধের কোনো রেকর্ড নেই, তাদের মধ্যে সীমিতসংখ্যককে তারা গ্রহণ করবে।
গায়ানার প্রেসিডেন্ট ইরফান আলীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রেসিডেন্ট ইরফান আলীর সরকার এই ব্যবস্থাকে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে গায়ানার দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের সম্প্রসারণ হিসেবে দেখছে।’
মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশও যুক্তরাষ্ট্রের এই বহিষ্কার কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০ জন ভেনেজুয়েলানকে এল সালভাদরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারাগার সেকোটে পাঠানো হয়েছে।
তবে গায়ানা তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই ব্যবস্থা ‘সাময়িক এবং এর মাধ্যমে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।’
কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, অভিবাসীদের ‘স্বেচ্ছায় গায়ানায় স্থানান্তর করা হবে’ এবং সেখানে অবস্থান করেই তারা নিজেদের অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থার সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করবেন।
সিদ্ধান্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হয় নিজ দেশে ফিরে যাবেন অথবা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী অন্য কোনো দেশে চলে যাবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রোববার, সাবেক কমিউনিস্ট পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন জার্মানির ভোটাররা। সেখানে অভিবাসনবিরোধী, মস্কোপন্থী ও উগ্র ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) বড় ব্যবধানে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এটি খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
স্যাক্সনি-আনহাল্টে, এএফডি কয়েক মাস ধরে ৪০ শতাংশের বেশি জনসমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছে এবং এবার তারা প্রথমবারের মতো রাজ্য সরকার গঠনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে, সেই সম্ভাবনা এখনো নিশ্চিত নয়।
ছোট এই রাজ্যটি বর্তমানে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের মধ্য-ডানপন্থী দল সিডিইউ ও আরও দুটি ছোট দলের জোট সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সভেন শুলৎস আবারও একাধিক দলের জোট গড়ে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
এএফডির সঙ্গে সহযোগিতা না করার নীতি বজায় রেখেছে জার্মানির অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। তারা এটিকে একটি ‘ফায়ারওয়াল’ বা রাজনৈতিক প্রতিরোধব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন। জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা স্যাক্সনি-আনহাল্ট শাখা এএফডিকে ‘উগ্র ডানপন্থী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।
এএফডির প্রধান প্রার্থী উলরিশ জিগমুন্ড। ৩৫ বছর বয়সী এই জনপ্রিয় প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারে রকস্টারের মতো উচ্ছ্বাস পাচ্ছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার বিশাল অনুসারী রয়েছে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন।
দৈনিক বিল্ডকে তিনি বলেছেন, ‘ফায়ারওয়াল বা রাজনৈতিক প্রতিরোধব্যবস্থা অন্যরাই তৈরি করেছে। কেউ যদি আমাদের সঙ্গে কাজ করতে না চায়, তাহলে আমাদের একাই এগিয়ে যেতে হবে।’
এমন পরিস্থিতি বা ফলাফল জার্মানির রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও হলোকাস্টের ভয়াবহ অতীতের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অনুশোচনা ও দায় স্বীকার করে আসা জার্মানি এখন পর্যন্ত উগ্রপন্থী দলগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
এএফডির বড় জয় হলে চ্যান্সেলর মের্ৎসের ওপর চাপ বাড়বে। স্থবির অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানো এবং অনিয়মিত অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপে তার দল এএফডির কাছে পিছিয়ে পড়েছে।
ক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী উলফগ্যাং শ্রোডার মন্তব্য করেছেন, ‘স্যাক্সনি-আনহাল্টে এএফডি জিতলে মের্ৎসের সমালোচকেরা আরও সোচ্চার হবেন এবং আরও ভালো নেতৃত্বের দাবিও উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. আব্দুর রাজ্জাক (৫৬) নামে এক মুরগির খামারি ও মৎস্য চাষির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চুনকুড়ি এলাকায় নিজ বাড়ির মুরগির খামারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুর রাজ্জাক চুনকুড়ি গ্রামের মৃত আরশাদ আলী গাজীর ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সকালে আব্দুর রাজ্জাক নিজ বাড়ির মুরগির ফার্মের ভেতরে বৈদ্যুতিক লাইনে সংযোগ দেওয়ার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে মুমূর্ষু অবস্থায় আব্দুর রাজ্জাককে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
শ্যামনগর থানার ওসি মোঃ শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জার্মানির একটি বিমানবন্দরে ব্যর্থ ড্রোন হামলার পর রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করতে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটি। জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট জানিয়েছেন, রাশিয়ার হাইব্রিড হামলা এখন দৈনন্দিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে এবং এসব হামলা আরো বাড়তে পারে।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত
এই তথ্য জানা গেছে।
নতুন এই প্রস্তাবিত পরিকল্পনার আওতায় বলা হয়েছে, জার্মান পুলিশ তাদের ড্রোন প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। শহরগুলোতে তৈরি করা হবে বিশেষ ইউনিট, যা পরিবহন কেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের ওপর নিরাপত্তা প্রদান করবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু ড্রোন শনাক্ত করাই নয়, বরং সক্রিয়ভাবে সেগুলো ধ্বংস করার আইনি ক্ষমতা দেওয়ার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি সাইবার হামলা ও গোপন তথ্য চুরি প্রতিরোধে ‘সাইবারডোম’ নামে একটি জাতীয় সুরক্ষাবলয় তৈরি করবে জার্মানি। রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন জনবহুল স্থানে সন্দেহভাজন হামলাকারীদের শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি, বায়োমেট্রিক ফেসিয়াল রেকগনিশন এবং উন্নত ভিডিও নজরদারিব্যবস্থার আওতা বাড়ানো হচ্ছে।
তবে রাশিয়া তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এ ধরনের অভিযোগকে রুশবিরোধী পদক্ষেপ অভিহিত করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব পদক্ষেপের বিপরীতে তারাও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ